আকিল মোস্তফা >> কবিতাগুচ্ছ

0
1027

আর ফেরা হয়নি

সেদিন আর ঘরে ফেরা হয়নি
ফিরব না বলে রাস্তা মাপতে থাকি।
মাপতে মাপতে আঙুল অবশ হয়ে এলে
দাঁড়িয়ে যাই নিভৃত মোড়ে;
এখানে কিছুটা অন্ধকার আমাকে বুঝিয়ে দিল
আলোর কোন প্রচার লাগে না।
বাহ! বেশ বেশ! নিজেকেই বাহবা দিয়ে বলি
সরে যা অকৃতজ্ঞ;
আমি তোর মতন অকারণ দীর্ঘ নই।

মুখের নামাঙ্কিত

বিভিন্ন দূরত্ব পার হয়ে চলে আসি
সময়ের গহ্বরে।
তারপর একাধিক আমরা দ্রুত অতিক্রম করি
পারস্পরিক বিন্যাস।
আমাদের খোঁদিত নামফলক
দিগন্তের উজ্জলতম রেখা হয়ে
বিষাদ ছুঁয়ে যায় অধিক নির্জন কোন বন।
সেখানে প্রতিটি পাতা প্রতিটি মুখের নামাঙ্কিত।
তবুও ভুল করে আমরা কুয়াশার কাছে যাই
ভুলে যাই কুয়াশা হয় না ধ্বনিত।

নৈরাশ্য

প্রশস্ত রাস্তা ক্রমাগত উঠে যাচ্ছে উপরের দিকে
আকাশ সেখানে মেঘহীন নির্ভার
ধ্বনিহীন শূন্যতা ছেয়ে যাচ্ছে চারপাশ।
কিছু একটা পাওয়ার নেশা
অস্থির করে তুলছে গোপন শৈশব।
সেখানে ঢাকের আওয়াজ
সেখানে প্রত্নতাত্বিক বিশালতা।
ছায়া ছায়া মনে আসে এক ধূসর জগত
একটা বিলীয়মান শব্দ
আমি জাগব না বলে শক্ত হয়ে থাকি
কেউ ডাকবে না জানি
তবুও অপেক্ষা নৈরাশ্যের অধিক।

রক্তদাগ

মশাটা লেপ্টে গেল বইয়ের পাতায়
মুহূর্তেই পাতা রঙিন হয়ে গেল
আমিতো রক্তের লালকে এমনই জানি।
শুধু জানি না রক্তটা কার ছিল?

যারই হোক পাতাটা এখন
ধূসরতাকে অতিক্রম করেছে; এটাই সত্য।

এমন অনেক সত্য আছে যা জেনেছি গহীনে
তবুও বইয়ের পাতায় থাকা দৃশ্যগুলো
দুপুরের স্বপ্ন মনে হয়;

আমার ক্লান্ত লাগে।

ফিরে আসি রক্তলাগা বইয়ের পাতায়
শুকিয়ে যাওয়া রক্তে ঘ্রাণ খুঁজে দেখি
কোন পরিচিতের হয় কিনা।
কারও অট্টহাসি বেজে গেল
নিজেকে শদহীন ভেবেছিলাম; কিন্তু
রক্তদাগ আমাকে সজীব করে তুলল।

চেয়ার

পাশের ঘর থেকে চেয়ারটা দেখা যায়
পরিপূর্ণ শূন্যে ভাসছে যেন কেউ
ডাক দিলেই ফিরে তাকাবে।
ভয় কাজ করছে বা ভয়েরও অধিক
অথচ একাকীত্ব সঙ্গী চেয়েছিল কোন
দিন এবং রাত ভেসে যাবে
শব্দ থেকে শব্দে।

অতঃপর
প্রেতহীন অস্তিত্বের সাথে
বাঁকবদল-

চেয়ারটা নড়ে উঠল
না- এটা হতেই পারে না।
ওখানে কেউ নেই
ওখানে একটা মৃত সেগুন গাছ।
নিজেকে ক্রমাগত বোঝাতে থাকি
দুচোখ ছোট হয়ে আসে।

চেয়ারটা হাত-পা মেলে দিচ্ছে
ঘুরে যাচ্ছে অস্তিত্বের দিকে
অবিশ্বাস ফানাফানা হয়ে উঠে যাচ্ছে
বিলীয়মান বাষ্পের মতো
অথচ চেয়ারটা নিশ্চল, মূক ও বধির।