আনিসুজ্জামান > “আমি নিজেকে উদারনৈতিক এবং একইসঙ্গে বাঙালি ও বিশ্ববাসী বলে মনে করি…” >> সাক্ষাৎকার

0
644

আনিসুজ্জামান >> শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ

শুভব্রত : একদিকে নবীন একটি রাষ্ট্রের অভ্যুদয়, অন্যদিকে সারস্বতচর্চায় নিবিষ্ট এক গবেষকের কর্তব্যের আহ্বান, এর মধ্য দিয়েই মননশীল চিন্তাধারা — অধ্যাপক, গবেষক আনিসুজ্জামানের জীবন মুখর এভাবেই, আপনার উপলব্ধি কী?
আনিসুজ্জামান : আমি নিজেকে ভাষা-আন্দোলনের প্রজন্মভুক্ত বলে জানি। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনের সময়ে আমি আই এ পড়ি, প্রথম বর্ষে। ওই আন্দোলন যে আমাকে নিভৃত জীবন থেকে রাজনৈতিক আলোড়নের মধ্যে নিয়ে এল তারপর আর তার থেকে বেরোতে পারিনি। কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিই নি, তবু দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমি যুক্ত হয়েছিলাম। ভাষা-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে যে সামান্য ভূমিকা পালন করেছিলাম, তা আমার কাছে গর্বের বিষয়। আমার সারস্বতচর্চা অনেক সময়ে এই সামাজিক কর্তব্যবোধের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে। তাই সাম্প্রদায়িকতা ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে আন্দোলন করেছি, লিখেওছি। আবার একথাও সত্য যে, সাহিত্য এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ে আমি এমন অনেক লেখা লিখেছি, যা সমকালীন সামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে নিঃসম্পর্কিত। আপনার কথাটা তাই স্বীকার করে নিই।

আপনার জন্ম অবিভক্ত বাংলায়, কলকাতায়, শৈশবের স্মৃতি বলতে স্মৃতিপটে কী ভেসে ওঠে?
আমার জীবনের প্রথম সাড়ে দশ বছর একটানা কেটেছে কলকাতায়। পিছন ফিরে দেখতে পাই দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও দেশভাগের ছবি। সেই সঙ্গে রশিদ আলী দিবসে হিন্দু-মুসলমানের একসঙ্গে মিলে ইংরেজ শাসনবিরোধী আন্দোলনও মনে পড়ে। তবে চল্লিশের দশকে আমরা পাকিস্তান-আন্দোলনের প্রভাববলয়ে ছিলাম, একথাও সত্য।

আপনার অন্তরঙ্গ স্মৃতিকথায় বারবার এসেছে বৃহত্তর বাংলার ভূখণ্ডের রাজনীতি, সমাজ সংস্কৃতির কথা, ব্যক্তিজীবনেও আপনি বহু স্বনামখ্যাত ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে এসেছেন, এ প্রসঙ্গে অনিবার্যভাবে এসে পড়ে দেশভাগের কথা, দেশভাগের স্মৃতি আপনাকে আজ কী ভাবতে শিখিয়েছে?
যে-দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ, সেটা যে ভ্রান্ত ছিল, পঞ্চাশের দশকেই তা বুঝেছি। তবু বলতে হবে, আমি এবং আমার আগে-পরের প্রজন্ম দেশভাগ থেকে বৈষয়িকভাবে উপকৃত হয়েছি। পূর্ব বাংলায় মুসলিম মধ্যবিত্তের বিকাশ ত্বরান্বিত হয়েছে দেশভাগের কারণে—এদের অধিকাংশই অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করেছে। পূর্ব বাংলার নিম্নশ্রেণির হিন্দুরাও দেশভাগ থেকে একইভাবে উপকৃত হয়েছে। তবু যে-সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধি দেশভাগকে অনিবার্য করে তুলেছিল, অল্প বয়স থেকেই আমি তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছি।
হিন্দু-মুসলমান মিলিতভাবে অবিভক্ত বাংলাকে এগিয়ে নেবে—১৯৪৭ সালে এমন সম্ভাবনা দেখা না দিলেও, তা অলীক কল্পনা ছিল না। আর দেশভাগের কালে মানুষে-মানুষে হানাহানি এবং উন্মুল মানুষের অবর্ণনীয় দুর্দশা যে-কলংকজনক অধ্যায় রচনা করেছিল, তা থেকে আত্মরক্ষা করতে পারাও একটা বড় ব্যাপার হত।

সাতচল্লিশ-পরবর্তী সময় থেকেই তো তৎকালীন পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা—রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, আপনার ভাষা-চেতনার জন্মলগ্ন কি এখান থেকে শুরু হয়েছিল?
আমাদের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্কের শুরু ১৯৪৮ সালে। আমার ভাষা-চেতনার শুরু আর-একটু পরে, ১৯৫০-৫১ সালের দিকে।

ভাষা-চেতনা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে, এক নবীন রাষ্ট্রের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্মচনেও তার অসীম অবদান, ভাষা-আন্দোলনের পুরোভাগে এক সক্রিয় অংশগ্রহণকারী রূপে আপনার মূল্যায়ন কি?
পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার জন্ম দেয়। সেই পথ ধরেই পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ধারণা বিকশিত হয়। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন, সরকারি বাধা অগ্রাহ্য করে ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র-জন্মশতবর্ষ উদযাপন, কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ১৯৬২ সালে ছাত্র-আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ছ’-দফা দাবি উপস্থাপন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের পথ তৈরি করে দেয়। ১৯৫২ সালে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের কথা কেউ ভেবেছিলেন বলে মনে হয় না, তবে ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন তার বীজ বপন করেছিল। আর অনেকগুলো ধাপের কথা যে বললাম, তার মধ্য দিয়ে নবীন রাষ্ট্রের সামাজিক-অর্থনৈতিক রূপের (মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সরকার ঘোষিত তিন নীতি—গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র) ধারণাও গণমানসে প্রতিষ্ঠা পায়।

উত্থান-পতনের স্বাভাবিক ছন্দে আপনার জীবনধারা আন্দোলিত হয়েছে। স্মৃতিতে নিশ্চয়ই আসেন আপনার পরিবার-স্বজন-বন্ধুবর্গ। আপনার জীবনে এঁদের অবদানের কথা একটু বিশদে বলুন।
জীবনে চলার পথে পরিবার (প্রথমে পৈতৃক, পরে নিজের) থেকে নিরঙ্কুশ সমর্থন পেয়েছি। শিক্ষকদের স্নেহ এবং পথপ্রদর্শন ছিল জীবনের আলোকবর্তিকার মতো। বন্ধুদের সাহায্য ও সহযোগিতা আমাকে আলোকিত করেছে। নিতান্ত অল্প বয়সে বামপন্থার সঙ্গে পরিচয় জীবন ও জগৎ সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে স্থায়ীভাবে সাহায্য করে। তবে আমি নিজেকে উদারনৈতিক বলে মনে করি এবং একইসঙ্গে বাঙালি ও বিশ্ববাসী বলে বিবেচনা করি।

গৌরব-অগৌরব, সাফল্য-ব্যর্থতা জীবনধারার বাঁকে বাঁকে এসবও নিশ্চয়ই এসেছে?
অবশ্যই। আমার জীবনে সাফল্য এসেছে, ব্যর্থও হয়েছি কখনো। আঘাত পেয়েছি, তবে আনন্দ লাভ করেছি তার চেয়ে বেশি। তাই বলতে পারি, আমার কোনোও খেদ নেই।

আপনার সাম্প্রতিকতম আত্মস্মৃতি ‘বিপুলা পৃথিবী’ গ্রন্থে দেখতে পাই ইতিহাসের বহু ঘটনাকে আপনি প্রত্যক্ষ করেছেন নির্মোহ এক দৃষ্টিতে, এই দৃষ্টিভঙ্গি কি আপনার মনকে সঞ্জীবিত করেছে?
ছেলেবেলা থেকে পরিবারের সদস্যদের দেখতে পারতাম নির্মোহ দৃষ্টিতে। তা আমাকে কেউ শেখায়নি, আপনা থেকেই অমন করে দেখা আয়ত্ত করেছিলাম। পরে বইপত্র পড়ে, দশজনের সঙ্গে মিশে, সেই অভ্যাস শক্তিসঞ্চয় করে। নিশ্চয়ই এই দৃষ্টিভঙ্গি আমার মনকে সঞ্জীবিত করেছে। সবচেয়ে বড় কথা, তা আমাকে নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হতে সাহায্য করেছে।

আপনার সাহিত্যচর্চার সূচনাপর্ব সম্পর্কে যদি আলোকপাত করেন…
স্কুলজীবনে ছোটগল্প দিয়ে আমার লেখালেখির সূত্রপাত। ঢাকার একটি সাহিত্য-পত্রিকায় আমার প্রথম গল্প ছাপা হয় যখন, আমি তখন দশম শ্রেণির ছাত্র। যখন এম এ পড়ি, তখন মনে হল, আমি গল্প না লিখলেও কোনও ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। তাই সচেতনভাবে গল্প লেখা ছাড়লাম। তার আগেই প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেছিলাম। তারপর তো গবেষণায় প্রবৃত্ত হলাম। এখন কিছু গবেষণামূলক লেখা লিখি, কিছু সর্বজনপাঠ্য প্রবন্ধের চর্চা করে।

আপনার গদ্যরীতি অনুসরণ করলে দেখতে পাই সেখানে গাম্ভীর্যপূর্ণ হাস্যরস, সম্ভ্রমমিশ্রিত এক জীবনবোধ এবং সরল অথচ তাৎপর্যপূর্ণ শব্দচয়নের সমাহার—এই আপাত বৈপরীত্য বজায় রাখেন কী করে?
শিক্ষকেরা আমাকে শিখিয়েছিলেন সরল এবং সংক্ষিপ্ত বাক্য লিখতে। গাম্ভীর্য ও হাস্যরসের সংমিশ্রণ বোধহয় আমার স্বভাবের অন্তর্গত—ওটা শিখতে হয়নি, আপনা থেকে পাওয়া। শব্দচয়নের ক্ষেত্রেও আমাকে তেমন ভাবতে হয় না, যা বলতে চাই, তার উপযুক্ত শব্দ সহজেই কলমের ডগায় চলে আসে। আমার মনে হয়, ভাবনাটা স্পষ্ট হলে তার প্রকাশ সহজ ও স্পষ্ট না হয়ে পারে না।

বিশ্বের নানা স্বনামখ্যাত প্রতিষ্ঠান এবং স্বদেশে আপনি অধ্যাপনা করেছেন এবং এরই পাশাপাশি চলেছে আপনার নিরলস সাহিত্যচর্চা। এই বয়সে এসে কাকে অধিক সফল ভাবছেন—অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, নাকি সাহিত্যিক আনিসুজ্জামান?
আমার মনে হয়, প্রথমে আমি শিক্ষক, তারপরে লেখক।

ভাষা-আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এক ভাষাপ্রেমী মানুষের কাছে জানতে চাই—বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গে এবং গোটা বিশ্বেই, বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ কী?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা, কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা ঘটেনি। যেমন, উচ্চ আদালতে বাংলার ব্যবহার—বাংলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বা রায় লেখা—বিরল। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলার ব্যবহার সীমাবদ্ধ। উচ্চশিক্ষার উপযোগী পাঠ্যবইয়ের অভাব এর একটা কারণ। পাকিস্তান আমলে খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা স্নাতক পর্যায়ের রসায়ন বা ভেষজবিজ্ঞানের বই লিখেছিলেন বাংলায় উচ্চশিক্ষার পথ উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরিভাষা তৈরির কাজটা সুচারুভাবেই সম্পন্ন হল, কিন্তু চাহিদা থাকা সত্ত্বেও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই বাংলায় যথেষ্ট সংখ্যায় লেখা হলো না। ফলে, মুখস্থবিদ্যার উপর সামূহিক নির্ভরতার কারণে, ইংরেজি বই-ই হল ভরসা। বাংলাদেশ নিম্নপর্যায়ের শিক্ষার দ্রত বিস্তার ঘটেছে। কিন্তু ওই স্তরে ভাষা শিক্ষাদানের—ইংরেজি ও বাংলা উভয় ক্ষেত্রেই—উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব এবং ভাষাশিক্ষাদানপদ্ধতির ত্রুটির জন্য ইংরেজি বই পড়ে বাংলায় পড়ানো বা পরীক্ষায় উত্তর দেওয়ার সামর্থ্য তৈরি হল না।
অন্যদিকে বাংলাদেশে শিক্ষিত নাগরিক মধ্যবিত্তের কিছু বাড়তি ধনাগম হওয়ায় তারা ছেলেমেয়েদের ইংল্যান্ড-আমেরিকায় পড়াতে এবং সেখানে তারা যাতে থেকে যেতে পারে, সে ব্যাপারে উৎকন্ঠিত হলেন। ফলে, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা বড় জায়গা জুড়ে বসল। ইংরেজি মাধ্যমের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে উদাসীন। আবার পৃথিবীর নানা দেশে বাংলাদেশের মানুষ এখন ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের সন্তানদেরও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যোগ থাকছে না। পশ্চিমবঙ্গেও হয়তো শিক্ষাক্ষেত্রে এবং অভিবাসনের ক্ষেত্রে সমস্যা একই। তবু বাংলা ভাষা সম্পর্কে এদেশের মানুষের যে গভীর অনুরাগ রয়েছে, তার সম্পূর্ণ অভাব কখনো ঘটবে না।
তবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় আসন লাভ করতে না পারলে অন্যদের কাছে সে দেশের ভাষার কদর হয় না। আরবি ও চীনা ভাষার আন্তর্জাতিক সমাদর তার উদাহরণ। ওরকম জায়গায় পৌঁছনোর আশা আমি করি না। তবে সারা বিশ্বে বাংলাভাষীর সংখ্যা যেভাবে বেড়ে চলেছে এবং অনেক দেশে শিক্ষাক্ষেত্রেও বাংলা যেমন স্থান করে নিচ্ছে, তাতে এই আশা জাগে যে, এ ভাষা অবজ্ঞেয় হবে না।

সমাজে একজন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় বা ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কীভাবে নির্ণীত হওয়া উচিত বলে আপনার মনে হয়?
মানুষের তো অনেকগুলি পরিচয় থাকে—জাতীয় পরিচয় তার একটি। নৃতাত্ত্বিক জাতিত্বের পরিচয়টা বড় এজন্য যে, চাইলেও তা বদল করতে পারিনা। তারপর আসে রাষ্ট্রিক জাতীয়তা।

আপনার প্রিয় সাহিত্যিকের তালিকায় বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, বনফুল, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ নামের উল্লেখ পেয়েছি। এই সময়ের কাদের লেখা আপনাকে ছুঁয়ে যায়?
প্রিয় সাহিত্যিক আরো অনেকে আছেন ওঁদের আগে-পরের। সমকালীন সাহিত্যিকদের মধ্যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, নবনীতা দেব সেন, সমরেশ মজুমদার, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেনের লেখার আমি অনুরাগী।

শিক্ষা, ধর্ম, ইতিহাস, সমাজসংস্কার আপনার লেখার প্রধান উপজীব্য। এখন কোন ভাবনায় আপনি নিয়োজিত?
বাংলাদেশ যে তার ঘোষিত আদর্শ বাস্তবায়িত করতে পারল না, এই সত্য আমাকে অহরহ পীড়া দেয়। সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে এখনও যুদ্ধ করতে হচ্ছে আমাদের। কী করে তার হাত থেকে রেহাই পাব, এই চিন্তা অহর্নিশ ঘিরে রাখে আমাকে।

সৌজন্যে : বইয়ের দেশ, জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০১৭