শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৬৬]

0
252

সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> পর্ব ৬৬

ভাঙনের শেষ মুহূর্তটি বড়ো ভয়ঙ্কর। এত জল এত জল সামাল দিয়ে এসেছে যে একা একা আজ মরুভূমির কয়েক ফোঁটা জল সামলাতে মনস্বিতার এতটা নিঃসহায় কেন মনে হচ্ছে? নিজেকে সামাল দিতে এই মুহূর্তে মনস্বিতার একজন মানুষের প্রয়োজন কেন হচ্ছে। এই মুহূর্তের সেই মানুষটি কি টুলটুল?

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত এমন দাঁড়ায় যে মনস্বিতার কাছেই রয়ে যায় চক্রবর্তী বাড়ির মূল দলিলটি। মনস্বিতা আর তমালকৃষ্ণরাজ চক্রবর্তী ছাড়া এ পৃথিবীর আর কেউ জানে না সে-কথা। টুলটুলের মনে একটা সন্দেহের বীজ রোপিত হয়। বীজ থেকে তার অঙ্কুরোদগম হতে থাকে। সেদিন হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সোজা মনস্বিতার বাসায় তমালকৃষ্ণের যাওয়াটা আসলে খুব স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি টুলটুল আর মাধবী। টুলটুল কি মায়ের কাছে বলবে তার সন্দেহের কথা? নাকি নিজে নিজেই খুঁজবে তার সন্দেহের বীজটা সঠিক জায়গায় রোপিত কি না? মাধবী টুলটুল দুজনই মারাত্মক এক অস্তিত্বের সংকটে ভুগতে থাকেন। তমালকৃষ্ণ মনে মনে খানিকটা নিশ্চিন্ত বোধ করলেও মনস্বিতার ভাবনায় অধীরও হয়ে ওঠেন প্রায়-প্রায়ই। আরও মাস দুই পার হয়ে যায়, মনস্বিতা একা। ওর হাতে দুই কোটি টাকা। ওর হাতে রাজচক্রবর্তী বাড়ির মূল দলিল। চাইলে সে কী না করতে পারে এখন! কিন্তু মনস্বিতা কিছু্ই করতে পারে না। দিনরাত একা-ঘরে-একার জীবনে ভীষণ নিঃসঙ্গতা এসে ঘুরে-ফিরে পাক খায়। তবু ফারুকের অমানবিকতা সে এড়াতে পারে না। মনস্বিতা কী করবে এবার? ফিরে যাবে? ফারুক কেমন আছে? কী করছে? কী খায়? কেমন করে ধারদেনা পরিশোধ করছে এই ভাবনাগুলো এখনো মাথা থেকে সরাতে পারে না সে। মা মারা যাবার পর মনস্বিতা তিনটি মাস বাবার বাড়িতে ছিল। কই একবারও তো যায়নি ফারুক তার বাবার বাড়ি? যদিও ফোন করেছিল বেশ ক’বার। ফোনে তার মায়ের মৃত্যুর পর বাড়ির কে কেমন আছে, মনস্বিতা কেমন আছে, তা জানতে চেয়েছে যতটা না, তার চেয়ে ঢের বেশিবার জানিয়েছে বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ে রয়েছে কত মাসের। বাড়িওয়ালা তাগাদা দিচ্ছে ভাড়ার টাকা পরিশোধ করার। জানিয়েছে ব্যাংকের লোনের টাকা পরিশোধের কিস্তি দেয়া শুরু না করতে পারলে মামলা হয়ে যাবে বলে ব্যাংক চিঠি পাঠিয়েছে। হাতে হাতকড়া পরিয়ে নাকি ধরে নিয়ে যাবে তাকে;
-হা হা হা…

মনস্বিতা নিজের মনেই হেসে ওঠে। ফারুক তাকে এখনো সেই আগের মতোই বেদনাবিধুর অন্তর্দাহে প্রজ্জ্বলিত, অথচ সমব্যথী আর সহমর্মী ভেবে ব্ল্যাকমেইল করেই চলেছে।

মনস্বিতাও প্রায়ই ছিটকে পড়ছে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে। কিন্তু পুরোনো দুঃসহ যাতনাগুলো থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়া রক্তস্রোত রাতের পর রাত তাকে জাগিয়ে রাখে। ফিরতে দেয় না। ফিরতে দেয় না তাকে আর ফারুকের কাছে। অনেকবার ফোন করার পর একদিন বাড়ি এসে মনস্বিতার মুখোমুখি দাঁড়ায় ফারুক। উস্কোখুস্কো চুল। এত অভাব-অনটনেও পরিপাটি করে চুল আঁচড়াতে তো কখনো ভুল হতো না ফারুকের! আনন্দে উচ্ছ্বসিত দেখেছে সে যে ফারুককে চাকরি না-থাকা অবস্থাতেও। আজ কোথায় সেই শান্ততা? কোথায় মনস্বিতার কষ্টের টাকায় কেনা দামী সুগন্ধি তার গায়ে? সব শেষ? বেকার ফারুকের পরিপাটি ছিমছাম বেশ আজ উধাও কেন? মনস্বিতা আজ পাশে নেই বলে? মনস্বিতার পাঁচ মাসের অনুপস্থিতি ফারুকের চেহারায় এতটা প্রৌঢ়ত্ব এনে দিয়েছে? গালের মাংসপেশীগুলো শুকিয়ে চোয়ালের হাড়গুলো গোনা যায়। তার চোখের উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টিও আজ মনস্বিতা আর ভেদ করতে পারে না। ঘাড়ের ব্যথাটাতে কি আজও ভুগছে? ডাক্তারের নিষেধ সত্বেআরও খুব ক্যামেরা চালাচ্ছে? এসব জানতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আজ আর প্রশ্ন করা যায় না। নিজের ভালোবাসার দুর্বলতাকে আর প্রশ্রয় দিতে চায় না মনস্বিতা। তবু মনস্বিতার বুকের ভেতর প্রলয় চলে। দুঃসহ এ যাতনার কালানল। বুকের ভেতর কোথায় যে বেদনা বাজে। মৌন নির্বাক হয়ে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হতে থাকে সে-বেদনার অনুরণন, বুকের কোমল পলিমাটির জমিনে। ফারুকরে কথায় মনস্বিতার ভাবনাটা খানিক টাল খায়;
-তুমি কি আর ফিরবে না? আমার এই ঘোর বিপদের দিনেও কোনরকম সাহায্য তুমি করবে না?
মনস্বিতা বেশি কথা বলবে না ঠিক করেছে। কথা বলতে গেলেই ভেসে উঠবে তার কণ্ঠে কান্নার জল। তা সে জানে। কথা বলতে গেলেই পারগেশন হয়ে যাবে সব যাতনার। আবার হয়ে উঠবে সে আগের নরম কোমল ক্ষমাশীল মনস্বিতা। তাই খুব সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রিত তার শব্দের প্রক্ষেপণ;
-না।
-অনুরোধ করছি। আমাকে কিছু টাকা দিয়ে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করো। চলো, ঘরে ফিরে চলো।
-না
-আমার সব ভুল হয়েছে। নতুন করে আবার শুরু করি চলো।
-না।
-এভাবেই থাকবে?
-হুম।
-খুব ভালো আছো এভাবে?
-হ্যাঁ, খুব ভালো আছি আমি এভাবেই।
-ফিরে যাবে না তুমি?
-না।

এই কথাটি ফারুক নিতে পারে না। মনস্বিতা ভালো আছে একা-একা এ সে মেনে নিতেই পারে না। ফারুকের সেই পুরোনো চেহারাটি আবার মূর্ত হতে শুরু করে। ফারুকের কোনো কথায় না বললেও যেমন হতো এতকাল, ঠিক তেমনি। চোয়াল শক্ত হতে শুরু করে। হাতের মুঠিটা এতকাল সামলাতে হয়নি ফারুককে।

আজ মনস্বিতার ঘরে দাঁড়িয়ে মুঠি সামলাতে কষ্ট হয়। ভাবতে হয় আজ। তারপর বলে;
-আমাকে কিছু টাকা দাও। আমি সময়মতো ফিরিয়ে দেব তোমায়।
মনস্বিতা এতক্ষণে হেসে ওঠে জোরে। এতক্ষণে বুঝতে পারে ফারুকের ওর কাছে আসার হেতু। তাতে অবশ্য বেদনার দহন সামলাতে তার খানিকটা সুবিধা হয়। যে কান্নার জলটা কণ্ঠ রোধ করে রেখেছিল এতটা সময়, সেটা উবে গিয়ে একটা মরুভূমির রুক্ষতা আসে;
-হা হা! টাকা? আমার সাথে তোমার টাকার সম্পর্কটা এখনো তুমি কেটে ফেলতে পারলে না ফারুক? হা হা!
ফারুক খানিকটা অপ্রস্তুত হয়। কয়েক সেকেন্ড ভেবে বলে;
-মনস্বিতা, ব্যাংকের কিস্তি দিতে না পারলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করবে ব্যাংক।
-আচ্ছা, করুক। তুমি বীরপুরুষ। এইতো তোমার হাতের মুঠিটা এখনো পুরোপুরি খুলতে পারোনি। অন্য সময় হলে মুঠিটা এতক্ষণে আমাকে আঘাত করে বসতো। এমন বীরপুরুষ, তুমি দু’একদিন জেল খেটে দেখো না? আমিতো বহুদিন তোমাকে টানলাম?
-মনস্বিতা!
ফারুকের আজীবনের পৌরুষে আঘাত লাগে। ক্রোধান্বিত হয়। চোখে এসে জমাট বাঁধে উত্তপ্ত রক্তের স্রোত।
-এভাবে তাকাচ্ছ কেন ফারুক? আমি টাকা পাবো কোথায়?
-টাকা তোমার আছে। আমি জানি।
-তুমি জানো?
একমুহূর্তের জন্য ভাবনায় পড়ে যায় মনস্বিতা। ফারুকের তো জানবার কথা নয়। তাহলে কি অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে বের করতে চাইছে ফারুক! মনস্বিতার মনে সন্দেহটি খুব দ্রুতই দূর করে ব্যাংকের দুই কোটি টাকা জমার বইয়ের পাতাটি ফারুক খুলে ধরে মনস্বিতার সামনে। হঠাৎ বেল বাজে। মনস্বিতা দরজা খুলতে যাবার আগেই ফারুক দরজা খোলে। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে টুলটুল। বিস্মিত চোখে ফারুক দরজা আগল ছেড়ে দাঁড়ায়। তারপর ক্রূর একটা হাসি ঠোঁটের কোণে ঝুলিয়ে তাকায় মনস্বিতার দিকে। মনস্বিতার চোখও বিস্ফারিত। মনস্বিতার যে-কোনো জটিল পরিস্থিতিতে তমালকৃষ্ণ এসে দাঁড়িয়েছেন সামনে, এটা হয়েছে বহুবার। কিন্তু আজ এ কী? টুলটুল? এই সময়ে! মনস্বিতা পূর্বাপর ঘটনার কথা ভেবে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়ে প্রশ্ন করে;
-এ কী? আপনি?
মনস্বিতা স্তব্ধবাক। এই অবস্থায় কি সে টুলটুলকে ভেতরে আসতে বলবে? এটা ভাবতে ভাবতেই ফারুক কথা বলে ওঠে। তার কন্ঠে শ্লেষ। ঠোঁটের কোণে বিদ্রূপের হাসি। মনস্বিতার অপমানের মোক্ষম জবাব দেবার একটা দারুণ কূটনৈতিক সুযোগ এসে গেল বলে মনে মনে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেয়;
-আসুন আসুন। আচ্ছা আচ্ছা। ঘটনা তাহলে এই?
মনস্বিতার মুখ গম্ভীর। কণ্ঠ ধীর;
-কী ঘটনা?
-হা হা! মনস্বিতা। হা হা!
ফারুকের হাসি যেন আজ আর থামতেই চায় না। অট্টহাসিতে ঘরটাকে তোলপাড় করে তোলে। বীভৎস শোনায় সে হাসির দমক। মনস্বিতার বুকের ভেতর জ্বালা করে। ফারুক বাকি কথাটাও সারে ততক্ষণে;
-তাহলে তো টাকা পয়সা তোমার হাতে আরও অনেক বেশি আসার কথা। আরও বেশি বেশি থাকার কথা। হা হা!
আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে হাসে ফারুক। টুলটুলের খুব একটা বিকার নেই। আরও একবার সে দেখেছে এ মানুষটাকে। সেই হাসিতে অপমানের চূড়ান্ত হয় মনস্বিতা। এটাইতো চাইছিল ফারুক। কিন্তু মনস্বিতার অপমানিত মুখটা দেখে কি ফারুকের জ্বালা জুড়ায়? না। বরং তার আকাশে একটা কালো মেঘের ছায়া উড়ে আসে প্রচণ্ড বেগে ঝরো বাতাসকে সাথে করে। শুকনো বিবর্ণ পাতাঝরা একটা গাছ কোনমতে দাঁড়িয়েছিল এতদিন ফারুকের রুক্ষ শুষ্ক উষর জমিনে। সেই গাছটাকে এক মুহূর্তে উড়িয়ে ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে চলে কালো মেঘের ঝড়। আর কালক্ষেপণ করে না সে। বুঝে যায় মনস্বিতা এখন আর একা নয়। যা ঘটেনি কিন্তু হয়তো সম্ভাবনাময়, সেটাই অনুমান করে। মনস্বিতা যদিও জানে না তার সব। কেবল ফারুক বুঝতে পারে মনস্বিতাকে আর ফেরানো যাবে না। একাকীত্ব কেটে যাবে খুব সহসাই। হয়তো প্রেম মায়া ভালোবাসা স্নেহ সবই পাবে মনস্বিতা যা ফারুক কোনদিনও দিতে পারেনি মনস্বিতাকে। এই হয়তো তাকে আরও দূরে সরিয়ে নেবে মনস্বিতার কাছ থেকে, দূরে আরও দূরে। তবু হাসে ফারুক। হাসতে হাসতে বের হয়ে যেতে চায়। আবার কী ভেবে খানিক থামে। ব্যাংকের বইয়ের পাতাটা মনস্বিতার মুখের ওপর ছুঁড়ে দিয়ে চলে যেতে যেতে বলে;
-নাও, তোমার দুই কোটি টাকার প্রমাণ, দলিল। তোমার মা দিয়ে গেছেন সেদিন, এটা অবশ্য আমার অনুমান। এ টাকাটা আমাকে দিলে আমার ব্যাংকের ঋণটা শোধ করা যেত। কিন্তু তোমার মা কেবল তোমাকেই দেখলেন। তুমিও কেবল তোমাকেই দেখলে। হা হা।
জমা বইয়ের পাতাটি মাটিতে পড়ে থাকে। সেদিকে খেয়াল নেই মনস্বিতার। ফারুকের শেষের হাসির শব্দে শব্দে মনস্বিতার অন্তর্গত ধূসর মরুভূমিতে জল ঝরে টুপটাপ। মৌন। নিবিড় হয়ে কান পাতলে হয়তো কান্নার শব্দ শোনা যাবে। ফারুকের জন্য তার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত ভালোবাসা এখনো গুমরে গুমরে কাঁদে। বুকের গভীরে কী এক ভয়ঙ্কর শূন্যতার বোধ। কী এক আতঙ্ক।
ফারুক কি আর কোনোদিন আসবে না? আর কোনোদিন আসবে না মনস্বিতাকে ফিরিয়ে নিতে?
মাটিতে পড়ে থাকা পাতাটি কুড়িয়ে তোলে টুলটুল। একপলক তাকিয়ে পড়ে টাকার অঙ্কটি। তারপর ফিরিয়ে দেয় মনস্বিতাকে;
-আমি বরং যাই।
ভাঙনের শেষ মুহূর্তটি বড়ো ভয়ঙ্কর। এত জল এত জল সামাল দিয়ে এসেছে যে একা একা আজ মরুভূমির কয়েক ফোঁটা জল সামলাতে মনস্বিতার এতটা নিঃসহায় কেন মনে হচ্ছে? নিজেকে সামাল দিতে এই মুহূর্তে মনস্বিতার একজন মানুষের প্রয়োজন কেন হচ্ছে। এই মুহূর্তের সেই মানুষটি কি টুলটুল?
টুলটুলের বাড়ানো হাতটা অকস্মাৎ মনস্বিতা দুহাতে স্পর্শ করে। কী এক অদ্ভুত মিনতি তার কণ্ঠে;
-প্লিজ, যাবেন না। এক্ষুনি যাবেন না। একটু বসে যান।
টুলটুল এই প্রথম মনস্বিতার চোখের দিকে পূর্ণদৃষ্টিতে তাকায়। বুঝতে চেষ্টা করে মনস্বিতার চাপা বেদনার গভীরতাটুকু। টানাটানা দুই চোখের তারায় টুলটুল দেখে সূর্যের উজ্জ্বলতর রূপ। জ্বলজ্বলে। ঘন আইল্যাশে ছাওয়া চোখের পল্লব। জলে ভরো-ভরো চোখ দুটোতে এতটা মায়া ছড়িয়ে আছে! টলমল করছে তাতে অশ্রুকণা। অদ্ভুত গাঢ় আর গভীর তার চাহনি। নির্লজ্জের মতো কোনো রাখঢাক না করেই টুলটুলের দিকে চেয়ে আছে চশমার কাঁচের ভেতর দিয়ে, যদিও উদাস, আনমনা, অস্থির, বিভ্রান্ত, ভীত, লক্ষ্যহীন। সেদিনের সেই রণরঙ্গিনী মেয়েটি আজ কোথায় হারালো? সেদিন যে মনস্বিতা ফারুকের কলার চেপে ধরে তাকে বারবার গাড়ি ড্রাইভ করে যত দ্রুত সম্ভব বের হয়ে যেতে নির্দেশ দিচ্ছিল। সেই মনস্বিতা আজ যেন কচি কলাপাতার মতো নরম। রোমে রোমে তার কোমলতা কেবলই বিভা ছড়ায়। এই রোরুদ্যমানা জলসিঞ্চিত নারীটি যেন নতুন কেউ?

কিছুতেই কিছু মেলাতে পারে না টুলটুল। মনস্বিতার আচমকা আনমনা স্পর্শে তার সমস্ত পৌরুষ এক অদ্ভুত কামনার শিহরণ নিয়ে জেগে উঠছে ভেতরে ভেতর। বহুকালের অস্থিরতা নারীসঙ্গহীন শরীর-মন আজ ভয়ানক জৈবিক তৃষ্ণা নিয়ে অস্থির হয়ে উঠলো এক মুহূর্তের নারীস্পর্শ পেয়েই?

মনস্বিতার চোখে বেদনাবাহিত রোদন। ফারুকের বিদায়ের বেদনায় একাকার সে চোখের জলের ভাষা। তবু সে চোখে রয়েছে কী যে এক গভীর সম্মোহন! টুলটুলের পৌরুষের শক্তি নেই তাকে ফেরাবে। টলটলে জলের ফোঁটা এক্ষুনি বুঝি গড়িয়ে পড়বে চোখের কাজল ধুয়ে। টুলটুলের লোভ হয় খুব। দ্বিধা থরোথরো হাতে মনস্বিতার চোখ থেকে চশমাটা খুলে নেয়। মনস্বিতার নির্বাক দৃষ্টি টুলটুলের চোখে স্থির নীরব। টুলটুল মনস্বিতার চোখের পাতার নিচে ডান হাতের তর্জনীটা রাখতে না রাখতেই ঝরে পড়ে এক ফোঁটা জল। পরম আদরে যেন আঙুলের ডগায় তুলে নেয় উজ্জ্বলতর এক টুকরো হীরা, যা কেবলই বিভা ছাড়ায়।
[চলবে]

আগের পর্বের লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-57/

পরবর্তী পর্বের (৬৭) লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-58/