এইসব সোনালি শব্দশস্য >> দ্বিতীয় দশকের নির্বাচিত কবিতা >> কাজী মেহেদী হাসান >> স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠকবিতা >> অতিথি সম্পাদক : সুবর্ণ আদিত্য

0
292

সম্পাদকীয়

আদতে সাহিত্যে দশকওয়ারি হিসাবটা নাকচ করে দেয়া যায় না। নানা কারণে এই বিন্যাস হয়ে এসেছে, ভবিষ্যতেও হবে। সেই আলোচনা থাকুক। বাংলাদেশে সদ্যই দ্বিতীয় দশক শেষ করে আমরা তৃতীয় দশকে পদার্পন করলাম। কবিতায় এই দশকের কবিতা, কবিতার সুর, স্বর, কবিতায় যাপন, আচরণ, শব্দ ব্যবহার/গ্রহণ/বর্জন, নির্মাণ, প্রক্ষেপণ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং একইসাথে প্রত্যেকের কবিতায় নিজস্বতা আছে। ব্যাপকভাবেই আছে। সেই সুত্র ধরেই বলা যায়, এই দশকের কবিরা বিশিষ্টতা অর্জন করতে যাচ্ছে। কী অর্থে বিশিষ্ট, তা হয়তো তর্কযোগ্য বিষয়। আমরাও চাই এ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা হোক। করোনাদূর্যোগ হওয়াতে সংখ্যাটি অনলাইনে করতে হলো এবং এমন কাজ অনলাইনেও এটাই প্রথম। হয়তো আজকের এই সংখ্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে খুঁজে পাওয়া যাবে সমকালের বিচরণ। দেখা যাবে কারও কারও গন্তব্যও। এমন অভিপ্রায় নিয়েই এই সংকলন। তাছাড়া দ্বিতীয় দশকের গুরুত্বপূর্ণ কোনও সংকলনও নাই যা পরিপূর্ণভাবে এই দশকের আয়না। সংকলন করতে গিয়ে ভালো কবিতার ভিত্তিতে কবিকে বাছাই করা গেছে। কাজটা কঠিন ছিল। পঁচিশ জন কবির স্বনির্বাচিত পাঁচটি করে কবিতা দিয়ে সাজলো সংকলনটি। তালিকাটা ৩০ হলেও হতে পারতো, কয়েকজন স্বেচ্ছায় অন্তর্ভুক্ত হননি আর কয়েকজনকে আদর্শগত অবস্থানের কারণে বাদ দিয়েছি। তীরন্দাজে ‘এইসব সোনালি শব্দশস্য’ শিরোনামে এই অনলাইন সংখ্যাটি আমাজন থেকে পিডিএফ সংস্করণ করতে যাচ্ছি, কয়েকটি ভাষায় অনূদিতও হবে। গ্রন্থাকারেও আসবে আরেকটি সংখ্যা, বড় পরিসরে। যারা এই সংখ্যায় নির্বাচিত হয়েছেন তারা তাদের কবিতার জন্যই হয়েছেন। আমরা আনন্দিত তাদেরকে যুক্ত করতে পেরে। এমন একটি কাজ করতে পারা তৃপ্তিরও। যারা পাশে ছিলেন, একটু দূরে ছিলেন, কিংবা ছিলেন না – সবাই ভালোবাসার মানুষ। পৃথিবীর সূচনা থেকে আমরাই হেঁটে যাচ্ছি এক সত্তায়, আমাদের গন্তব্য একটাই, আমাদের মিছিল একটাই। লক্ষ্যও অভিন্ন। কবিতার জয় হোক।
সুবর্ণ আদিত্য
অতিথি সম্পাদক
বাংলাদেশের দ্বিতীয় দশকের কবিতা সংখ্যা : ‘এইসব সোনালি শব্দশস্য’
তীরন্দাজ
ঢাকা
১০ জানুয়ারি ২০২১

কাজী মেহেদী হাসান >> স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠকবিতা

চিহ্ন

পোশাকের ভেতর নিজেকে ঠিকঠাক বুঝে পেয়েছি
লাইটার-ওয়ালেট-সেলফোন — ফেলে গেলাম কিছু?
সহজ কণ্ঠস্বর বলেছিল — স্মৃতি।

হাঁটতে গেলে এক পা অন্য পা’কে ছাড়িয়ে যাবে স্বাভাবিক
তাই চুপচাপ চৌকাঠ পেরিয়ে আসি
ভারি শরীর — বাড়ি ফিরে খুলে রাখি
খবর আসে, বাঘের মুখোশ পরা মেয়েটি ঘরে নেই
তার সমস্ত নিয়ে চলে এসেছি।

বেহালা বাদক

আমারে ক্যান ভালোবাসবার পারো নাই?
পরান বিছায়া যে উঠান তোমারে দিছি
তার ভিত্রে ছবির লাহান নাইচা ওঠে
পিরিতের চুমা খাওয়া পাও; তার থিকা বেশি
তোমারে চাইছি; কইলজার ভিতর থিকা
যে ডাক দিবার পারে মানুষ; তার থিকা বেশি
কইছি মাইনসের গলায় —
পাখির বিদ্যা জানো তাই শুনবার পারো নাই।

আমারে ক্যান ছুঁয়া দেখবার চাও নাই?
রাইতের রুমাল থিকা যে আগুন ছিটকা পড়ে
তার ভিত্রে ঢুইকা জানছি —
খোদা জাহান্নাম বইলা কিচ্ছু তৈয়ার করে নাই;
তোমার বন্ধ চোখ আমার মনে আছে
নখের দাগগুলা মেশে নাই
এহনও ছবি আছে কিছু যাদুমন্ত্রের ভিতর, চেহারা মনে নাই।

আমারে ক্যান থুয়া যাইবার পারো নাই?
ঘরে আর ভিড়ে যেইহানে যাই, যার লগে কথা কই
তোমার সমান আদর ফেরত দিবার চাই
তার গায়ের পশম, তোমার শরীল হয়া কাঁটা দ্যায়।
কবিতা লিখবার বইলে আঙুলে দেহি
ভাত খাইবার গেলে এক লহমার দাবি
রাস্তার স্মৃতিফলকের লাহান খাড়ায়া থাকে;
তার পাশ দিয়া তুমি অন্য মরদের হাতে,
হাতের দখল নিয়া হাইটা যাও, সাবধানে যাইও;
সোনা আমার, আমি দুঃখ পাই নাই, দুঃখ পাই নাই।

আমার বাবার কোন গল্প নেই

ছেলে বড় চাকুরিজীবী হলে বাবার গল্প হয়ে ওঠে
আর যদি হয় কোন বিদেশফেরত ভদ্রলোক
তবে চায়ের কাপে নেমে আসে শীতকাল
তিনি উড়ুক্কু বিমানের কথা বলেন —
ছেলের চোখে বলতে থাকেন বিলাতের বিত্ত-বৈভব
পরিষ্কার রাস্তাঘাট আর খানিক নিচু গলায় সেখানকার সংস্কৃতির কথা
আমার বাবার কোন গল্প নেই!

তিনি হিসেবী বেতনের একজন ভুলে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা
তিনি সংশয়ে থাকেন আগামীকালের বাজারে কাঁচামরিচের দর নিয়ে
পাড়ার চায়ের দোকানে বয়সী পা দুটোকে সাজিয়ে রাখেন ধীরে
রঙ চা খেলে দুটো বাড়তি পয়সা নষ্ট হবে কি না
এই ভেবে উঠে আসেন।

ছেলে কবি হলে বাবাদের কোন গল্প থাকে না
কালে ভাদ্রে কোন পত্রিকায় ছেলেকে দেখে আনন্দিত হন
চাপা স্বরে স্ত্রীকে বলেন — ‘দেখেছো আমাদের ছেলে’

পরক্ষণেই নিকট আত্নীয়ের ছেলের পদোন্নতির মিষ্টি খেতে হয়
তারা বাহারি গল্প করেন।
ঢাকায় বাড়ি, দু’হাত ভর্তি টাকা আর মার্সিডিজ এলো বলে
আমার বাবা চুপচাপ শোনেন
তাকে শুনতে হয়
তিনি সমাজের প্রথাগত মানদণ্ডকে ভয় পান
কবি নন একজন দুর্নীতিগ্রস্থ চাকুরে ওজনে অনেক ভারি।

আমার বাবা প্রচণ্ড ধর্মানুরাগী
ছোটবেলা থেকেই তিনবেলা আহারের মতো পাঁচবার প্রার্থনা করা শিখিয়েছেন
তবু টেলিভিশনে লেখক হত্যার খবর দেখলে আঁতকে ওঠেন
স্ত্রীকে তাগাদা দ্যান
ছেলে নিরাপদে আছে শুনলে দু’রাকাত নফল নামাজ পড়েন।

প্রতিদিনের মতো বাজারের ব্যাগ হাতে বের হন
ছোটখাটো জটলার ভেতর দাঁড়িয়ে বড় মাছ কেনার গল্প শোনেন
মফিজ সাহেবের ছেলের পাঠানো দামি পাঞ্জাবীর রঙ দেখে দিতে হয়
তারা গল্প করতে থাকেন
সকাল থেকে রাত —
ছেলে বড় হলে বাবাদের এই নিয়ে কথা বলতে হয়
আমার বাবার কোন গল্প নেই।

ছেলে কবি হলে বাবাদের সংশয়ে থাকতে হয়
এই বুঝি কারও তীর্যক কথা হজম করতে হবে
ছেলে কবি হলে বাবাদের দুঃখ বহন করতে হয়
বিএসসি পাশ ছেলেকে টাকা পাঠাতে হয়
বিশ্বাস করুন, আমারও লজ্জা করে
ভীষণ লজ্জা হয় —

বলতে ইচ্ছে করে — “বাবা দেখো, একদিন আমরাও…”
আমার বাবার একদিন আসে না
চুলের মতো বাবারও বয়স বাড়ে
বেড়ে যায় পাঞ্জাবীতে দাগের সংখ্যা।

বাবা নামাজ শেষে জিকির করেন
জিকির শেষে নামাজ পড়েন
মানুষের কাছে গিয়ে শুনে আসেন সব সফলতার গল্প
হয়তো বাবাও চান
ছেলের দেয়া চাদর ঝুলিয়ে অন্যদের তর্কে ঢুকে পড়তে
অতিথি এলে বিশুদ্ধ জায়নামাজটা দ্যাখাতে
বাবা পারেন না।

ছেলে বাড়ি এলে ফ্রিজে রাখা মুরগিটা রান্না হলো কি না খেয়াল রাখেন
সাবধানে পত্রিকায় পাওয়া চাকুরির বিজ্ঞাপনটা ছেলের বিছানার পাশে রেখে দ্যান
বাজারে গেলে লোকেরা ঘিরে ধরে
ছেলের গল্প শুনতে
কোন ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবী নিয়ে এলো তার গল্প শুনতে
ক’বান্ডিল টাকা এনেছিল তার গল্প শুনতে
একসময় আড্ডা জমিয়ে রাখা বাবা কোন গল্প বলতে পারেন না
ছেলে মাথা নিচু করে হাতখরচ নিয়ে চলে যায়

বাবার একদিন আসে না
আমার অতি কথুকে বাবা ‘নীরবতা’ আবৃত্তি করে পড়েন
ছেলে যাদের কবি
তাদের কোন গল্প থাকে না।

ঘুমিয়ে যাবার আগে

প্রেমের কবিতা ভালো লিখি কিনা তারও আগে
আমাকে শুনতে হয় কেন প্রেমের কবিতাই লিখি?
রেমাক্রিতে খাদ্য সংকট
মধ্যাঞ্চলে পাখির মতো মানুষও নাকি আর ফিরে আসছে না
সুন্দরবনে প্রাণী-অধিকার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সম্মেলনে বসছে
দু’হাজার মিটার রাইফেল শুটিং এর তালিকায় প্রথম দিকের লোকজন
কবি শুনছেন?
আমি ঘুমিয়ে ছিলাম বিগত চারহাজার বছর।

ঘুমিয়ে যাবার আগে কিছু কবিতা লিখবার কথা ছিল
বাবার গল্পহীনতা নিয়ে,
মা’টাও বড্ড অসহায়
এই যে সৃষ্টির শুরু থেকে
তিনি হাজার খানেক মহৎ কবিতা লিখলেন রসুইঘরে বসে
কোথাও ছাপা হলো না
পাড়ার বাকি সাহেব
একাত্তরে ১১ নম্বর সেক্টরে
২ নাম্বার কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন
লোকটার কাছে আমাদের অনেক ঋণ
কবিতায় শোধ হবে?
মানুষের কথা আমি বলতে পারিনি
বলতে গেলেই প্রেম চলে আসে
মিছিল ফেরত যুবক বলছে — ‘চাই ন্যায্য অধিকার’
আমি লিখলাম —
‘তোমরা এই লোকগুলোকে চিনে রাখো
একে ভালোবাসো
এই লোকটাকে এত উঁচুতে রাখো যেন আকাশও আর ছুঁতে না পারে’

একজন কৃষক বললো — ‘গত দুদিন আমি ভাত খাইনি’
আমি লিখলাম —
‘কমিউনিজমে আমার বিশ্বাস নেই
তবে একজন চে গুয়েভারাকে ফিরিয়ে আনা দরকার’
আমার কবিতা তাঁর কোন কাজে আসেনি
কবিতা কবে আর কাকে ভাত দিয়েছে?
আড়ালে তাঁর জন্য কেঁদেছিলাম
লিখেছিলাম —
‘আইজুদ্দিন লোকটা প্রেমিক ছিল
যে মাটির সঙ্গে কথা বলে
ফসল ফলায়
আর তারই অভাবে লোকটা ঘুমুতে পারে না।’

গতবছরেও যে বেড়ালটা আমার গা ঘেঁষে ঘুমাতো
কিছুদিন হলো তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না
তার জন্য আমার ভালোবাসা অতটা কি ছিল?
অথচ আড়ালে প্রতিদিন দরোজার কাছে এক বাটি দুঃখ রেখে দিতাম
লিখেছিলাম —
‘তুইও প্রেমিকার মতো
যে চিরকাল শরীরের উষ্ণতা বোঝে
মায়াবী চোখ কোরে তাকায়
এত কাছে থাকে যে —
একদিন অনেক দূরে যেয়েও নিজেকে দৃশ্যমান কোরে তুলতে পারে’

ঘুমিয়ে যাবার আগে আমার কিছু কবিতা লিখবার কথা ছিল
লেখা হয় না
ফের তোমাকে লিখে ফেলি
ঘুমিয়ে যাবার আগে,
ঘুমিয়ে যাবার আগে তোমার উদ্দেশ্যে লিখে ফেলি আমার শ্রেষ্ঠ প্রেমের কবিতাটি —
‘একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে ভালোবাসবে
এর চেয়ে পবিত্র বিষয় আর কী হতে পারে?

চারু মিত্র

গল্পটা বরং শুরু করা যেতো এভাবে—
এই বোলে কাগজটা দখল কোরে নেয় চারু
পুরোনাম চারু মিত্র—
হেমন্তের রোদ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

‘চওড়া ঠোঁটে আপনাকে বড্ড বেমানান লাগে বুঝলেন
ওতে আমার ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন থাকে
সে অবশ্যি আপনি বুঝবেন না’

পাটীগণিতের ফাঁকে আমি ক্যালকুলাস বোঝার সাহস করি না
চেপে যাই—
চারু’দের বাসায় আমার টিউশনির বয়স তিন
চারু’র উনিশ
আর আমার?
ছাব্বিশ নাকি ছত্রিশ?
সময় করে হিসেব করা যাবে একদিন।

সাইকেলে কোরে আসতে হতো আমাকে
দু’কিলোমিটার মাত্র—
অথচ দু’পা দূরত্বে কখনই দ্যাখা হয়নি তাঁর চোখ
জানা হয়নি কোনো শীতে সেখানে আষাঢ়-শ্রাবণ আসে কি না!

বহুদিন অলক্ষে আবৃত্তি শুনেছি
‘আবার বছর কুড়ি পরে…’
চারু ‘জীবনানন্দ’কে ভালোবাসতো
আর আমি চারু’কে।
(সেসব বলা হয়নি কোনদিন )

সে ফ্রক ছেড়ে সালোয়ার কামিজ পরতে শুরু করে—
আমার সাইকেলটা দিন দিন পুরনো হতে থাকে;
ব্যক্তিগত ডায়েরিতে সে কারও নাম লিখতে শুরু করে—
আমি মায়ের জন্য অ্যাসপিরিন আর ইনসুলিন লিখে রাখি;
চারু’র বারান্দায় এক দুর্লভ অর্কিড প্রার্থনা করে আকাশ।
আমার হাতের পরিসীমা সামান্য—
লোকে জেনে ফেললে আমার টিউশনি চলে যাবে
মায়ের ঔষধ চলে যাবে
সাইকেলটা অকেজো হয়ে পড়বে
আমার হাসি-কান্না, আকাশ স-ব চলে যাবে।

তাকে বলা হয় না—
তাকে বলা হয় না তাঁর অসাবধানতাবশত ওড়না সরে গেলে
আমি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি
বলা হয় না—
আমার বিছানায় শীতকাল চলছে গত এক যুগ ধরে
বলা হয় নি—
বহুদিন গোলাপ হাতে এনে দরজার বাইরে রেখে এসেছি।

আচমকা টিউশনিটা ছেড়ে দিতে হলো
চারু মিত্রের সাথে দ্যাখা নেই প্রায় কুড়ি বছর
আরও কুড়ি বছর কেটে যাবে শাদা কাগজটা পৌঁছতে—
‘চারু মিত্র’ কবিতাটি শেষ করা হয় না।

ঘরোয়া আড্ডায় বন্ধুরা তাকে নিয়ে কথা বলে
বলে কবিতার কথা,
আমি বিব্রত হই না
কিছু কবিতা অশেষ থাকুক।
কবিতাটা শেষ করা হলো না,
এই দুঃখ নিয়ে আমি তাকে ডেকে আনি ধীরে
রাতের বয়স বাড়লে জীবনানন্দ আবৃত্তি করি
আবৃত্তি করি চারু মিত্রকে—

“সোনালি সোনালি চিল- শিশির শিকার করে নিয়ে গেছে তারে—
আবার বছর কুড়ি পরে… সেই কুয়াশায়, পাই যদি হঠাৎ তোমারে!”

কবিতা ভাবনা

আমরা যে কথাগুলো বলছি আমার ধারণা সেগুলোই কবিতা। বিশেষ করে যে কথাগুলো খুব সহজভাবেই আমরা জানি অথচ উচ্চারণ হয় কম। একটা ভালো কবিতা পড়লে দেখা যায়, অনেকেই ভাবছে এটা আমার লেখার কথা ছিল। অর্থাৎ সেটা নতুন নয় মোটেও কিন্তু এক বিরাট আবিষ্কার। কবিতা আমার কাছে স্বাভাবিক জীবনের মতোই। যেখানে হেরে যাবার সব গল্প দুর্দান্ত করে দেখানো যায়। যেন মানুষ বুঝতে পারে পা হড়কানোর ঠিক আগ মুহুর্তেই জাগিয়ে তুলতে হবে পৃথিবীর বোধ।

কবি পরিচিতি

জন্ম ২৫ মে, ১৯৮৯। সিরাজগঞ্জ। প্রকাশিত বই : আঙুরবালার রেকর্ড, বিষাদ লিখি না তোমাকে লিখি। সেল : ০১৭৭৩৫৫০২৫২, ই-মেইল : kazimehedi75@gmail.com