ওলগা তোকারজুক > ফ্লাইটস্ : চরিত্রচিত্র ১ >> ফজল হাসান অনূদিত

0
265
[অনুবাদকের কথা >> ‘এখানে আমি’ নোবেল বিজয়ী পোলিশ ঔপন্যাসিকা ওলগা তোকারজুকের ‘ফ্লাইটস্’ উপন্যাসের প্রথম চরিত্রচিত্র (ভিনিয়েট) ‘হিয়ার আই অ্যাম’-এর অনুবাদ। এই প্রথম পরিচ্ছেদটি খুবই সংক্ষিপ্ত। পোলিশ ভাষা থেকে উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন জেনিফার ক্রফ্ট। উল্লেখ্য, ‘ফ্লাইটস্’ উপন্যাসে সর্বমোট এক শ’ ষোলটি চরিত্রচিত্র রয়েছে, যা এক বাক্য থেকে শুরু করে একত্রিশ পৃষ্ঠা পর্যন্ত দীর্ঘ। পরবর্তী সময়ে এই উপন্যাসের আরও কিছু অংশ অনুবাদ করার ইচ্ছা রয়েছে। প্রকাশিত হবে তীরন্দাজেই। দু-তিন দিনের মধ্যে আসছে পরবর্তী অংশ।]

এখানে আমি

আমার বয়স কয়েক বছর। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা খেলনা, ভেঙে পড়া ব্লক টাওয়ারের অংশ এবং স্ফীত চোখের পুতুলের মাঝে আমি জানালার পাশে বসে আছি। বাড়িতে অন্ধকার। ঘরের মধ্যে হাওয়া আস্তে আস্তে শীতল হচ্ছে এবং ছড়িয়ে পড়েছে অনুজ্জ্বল আলো। এখানে অন্য কেউ নেই। তারা প্রস্থান করেছে। তবে নিচতলায় তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায়, যা তালগোল পাকানো। তাদের পায়ের আওয়াজের প্রতিধ্বনি শোনা যায় এবং দূর থেকে কানে ভেসে আসে হাসির শব্দ। জানালার বাইরে ফাঁকা উঠান। আকাশ থেকে আলতো করে অন্ধকার নেমে এসে কৃষ্ণ শিশির বিন্দুর মতো ছড়িয়ে আছে চারপাশে।
তবে সবচেয়ে খারাপ দিক হলো স্থবিরতা, দৃশ্যমান, ঘন – শীতের সন্ধ্যা এবং সোডিয়াম-বাস্প বাতি। ইতোমধ্যে সেই বাতির কম্পিত আলো উৎস থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে আঁধারে ডুবে আছে।
কোনো কিছুই হয় না – বাড়ির দরজায় এসে অন্ধকার থমকে গেছে এবং অনেকটা গরম দুধ ঠান্ডা হওয়ার পরে দুধের উপরে পুরু প্রলেপ পড়ার মতো সমস্ত কোলাহল নীরবতার গাঢ় আস্তরণ তৈরি করেছে। ভবনগুলো যেন সীমাহীন আকাশের আঙিনায় বিস্তৃত হয়ে আছে এবং ধীরে ধীরে মুছে গেছে ভবনগুলোর ধারালো কোণ, বাঁক ও প্রান্ত। অস্পষ্ট আলোয় মিশে গেছে বাতাস – নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার মতো কিছু নেই। আমার গায়ের চামড়া এখন অন্ধকার শুষে নিচ্ছে। শব্দেরা নিজেদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে এবং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রত্যাহার করেছে। পৃথিবীর ঐকতান থেমে গিয়ে পার্কের মধ্যে মিশে গেছে।
সেই অপরাহ্ন হলো পৃথিবীর সীমা এবং ঘটনাক্রমে আমি তার সাক্ষী – আমার খেলার সময়, অন্য কিছুর খোঁজে নয়। আমি তার সন্ধান পেয়েছি, কেননা আমাকে দেখভাল করার জন্য কিছুক্ষণ কেউ ছিল না। আমি বুঝতে পেরেছি যে, এখানে এখন ফাঁদে পড়েছি এবং আমি আটকে আছি। আমার বয়স কয়েক বছর। আমি জানালার কাছে বসে আছি এবং তাকিয়ে আছি ঠান্ডায় জমে যাওয়া উঠানের দিকে। স্কুলের রান্না ঘরের বাতি নিভানো এবং সবাই চলে গেছে। সব দরজা বন্ধ এবং ছিটকানি লাগানো হয়েছে। আনত হয়ে আছে ছায়া। আমি চলে যেতে চাই, কিন্তু যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। আমার নিজের অস্তিত্ব এখন একমাত্র আলাদা রূপরেখা, যা আমাকে ব্যথিত করে তুলেছে। হঠাৎ করেই আমি বুঝতে পারি : এই পরিস্থিতিতে এখন আর কিছু নেই, এখানে আমি।