ওলগা তোকারজুক > ফ্লাইটস্ >> ফজল হাসান অনূদিত উপন্যাস [পর্ব ৫]

0
358

তীরন্দাজ পর্ব ৫

চরিত্রচিত্র ৬, ৭ ও ৮

[অনুবাদকের কথা : এই পর্বে নোবেল বিজয়ী পোলিশ ঔপন্যাসিক ওলগা তোকারজুকের ইংরেজিতে ‘ফ্লাইটস্’ উপন্যাসের তিনটি চরিত্রচিত্র প্রকাশিত হলো। এগুলোর শিরোনাম : ‘দেখাই জানা’ (ষষ্ঠ চরিত্রচিত্র, ‘ভ্রমণের সাত বছর’ (সপ্তম চরিত্রচিত্র) এবং ‘কিওরনের পথনির্দেশ’ (অষ্টম চরিত্রচিত্র), ইংরেজিতে যথাক্রমে ‘সিয়িং ইজ নোয়িং’, ‘সেভেন ইয়ারস্ অব ট্রিপস্’ এবং ‘গাইডেন্স ফ্রম কিওরন’। পোলিশ ভাষা থেকে উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন জেনিফার ক্রফ্ট। উল্লেখ্য, ‘ফ্লাইটস্’ উপন্যাসে সর্বমোট এক শ’ ষোলটি চরিত্রচিত্র রয়েছে, যা এক বাক্য থেকে শুরু করে একত্রিশ পৃষ্ঠা পর্যন্ত দীর্ঘ।]

চরিত্রচিত্র ৬

দেখাই জানা

আমার প্রতিটি ভ্রমণযাত্রা শুরু হয় অন্য গুটিকয়েক ভ্রমণ যাত্রাকে উদ্দেশ্য করে। তবে এই ক্ষেত্রে তীর্থযাত্রার পুরোটাই ভেঙেচুরে টুকরো হয়ে গেছে।
উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এখানে হাড়ের স্তূপ জমা হয়ে আছে – সেই সব হাড় যেগুলোর মধ্যে কেবল কিছু একটা খুঁত আছে : ফিতা দিয়ে বেঁধে রাখা বাঁকা মেরুদণ্ড এবং পাঁজরের হাড়, যা ইতোমধ্যে বিকৃত দেহ থেকে সংগ্রহ করার পরে কাটছাঁট করে শুকানো হয়েছে, এমনকি রঙচঙ করে ঝকঝকে করা হয়েছে। প্রতিটি হাড়ের গায়ে ছোট অক্ষরে নম্বর এবং বর্ণনা লেখা আছে। কেননা এসব নম্বর দেখে এবং বর্ণনা পড়ে দর্শণার্থীরা যেন রোগের, দীর্ঘ সময় থেকে যার কোনো অস্তিত্ব নেই, বিবরণ জানতে পারে। আসলে কোন ধরনের স্থায়িত্ব? হাড়ের সঙ্গে কী কাগজের কোনো তুলনা হয়? সত্যি কথা কী, সরাসরি মেরুদণ্ডের বরাবর লেখা উচিত।
এখানে উরুর একটি হাড় আছে। হাড়টি কেউ একজন করাত দিয়ে দৈর্ঘ্য বরাবর এমনভাবে কেটেছে যেন ভেতরে কি লুকিয়ে আছে, তা উঁকি দিয়ে দেখা যায়। হাড়ের ভেতরের গুপ্তধন দেখার পরে হয়তো লোকটি হতাশ হয়েছিল। কেননা হাড়ের অংশ দু’টো সুতা দিয়ে সেলাই করার পরে শোকেসের ভেতর সাজিয়ে রাখা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তাদের মন হারিয়ে গেছে অন্য কোথাও।
শোকেসের ভেতর কয়েকজন লোকের হাড় ধারণ করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা আছে। এসব হাড়ের মাঝে কোনো বন্ধন নেই – স্থান ও কালের মাধ্যমে তাদের আলাদা করে রাখা হয়েছে। তাদের মাঝে এমন সুন্দর বিশ্রামের জায়গা আছে, যা প্রশস্ত এবং শুস্ক, আলোময় এবং যা অনন্তকাল ধরে জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকবে। দুনিয়ার সঙ্গে জীবন যুদ্ধে আটকে পড়া হাড়গুলো এসব হাড়ের প্রতি অবশ্যই ঈর্ষান্বিত। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে কী কারোর হাড় নেই – সম্ভবত ক্যাথলিকদের হাড়? কেমন করে তারা বিচার-দিবসে খুঁজে পাবে, কিভাবে তারা এখন যা আছে, তা থেকে বিচ্ছিন্ন হবে এবং তারা সেই সব মৃতদেহকে, যারা পাপ কাজ করেছে এবং যারা ভালো কাজ করেছে, পুনরায় একত্রিত করতে পারবে?
গর্ভের ভেতর বিভিন্ন আকৃতির মাথার খুলি বড় হয়েছে। এসব খুলির মধ্যে বুলেটের ছিদ্র এবং অন্য কোনো আঘাতের দাগ অথবা ক্ষয় হয়ে যাওয়ার চিহ্ন আছে। আর্থরাইটিসের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া হাতের হাড়। একটি হাত একাধিক জায়গায় ভাঙা, যা পরবর্তীকালে নিজে নিজেই জোড়া লেগেছে এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যথায় হাড়টি পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে।
যক্ষায় আক্রান্ত দীর্ঘ হাড়গুলো খুবই ছোট এবং ছোট হাড়গুলো খুবই বড়। থরে থরে সাজানো এসব হাড় আবৃত করে রাখা হয়েছে। যে কেউ ভাববে যে, হাড়গুলো হয়তো পোকায় খেয়েছে। রানী ভিক্টোরিয়ার আমলের শোকেসের মধ্যে বেচারা মানুষের মাথার খুলি রয়েছে, যা পেছন থেকে আলোর রশ্মি ফেলে আলোকিত করা হয়েছে। মনে হয় খুলিগুলো যেন দাঁত বের করে হাসছে। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, এই খুলির কপালের মাঝখানে একটা বিশাল গর্ত আছে, কিন্তু দাঁতগুলো সুন্দর। কে জানে গর্তটি কোনো মারাত্বক আঘাতের চিহ্ন কি না। তাই যে হতে হবে, তা নয়। তবে খুলিটা একজন পুরুষের। সে রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ার ছিল, ধাতুর শলাকা দিয়ে তার মগজ পরিস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু তারপর লোকটি সেই ক্ষত নিয়ে অনেক বছর বেঁচে ছিল। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, লোকটির ঘটনা নিউরোসাইকোলজি বিষয়ের জন্য সহজলভ্য হয়েছে, যেমন সবার কাছে ঘোষণা করা হয়েছে যে আমাদের অস্তিস্ব প্রাথমিক ভাবে মগজের মধ্যে রক্ষিত আছে। লোকটি মারা যায়নি, কিন্তু সে সম্পূর্ণ রূপে বদলে গিয়েছে এবং তার ব্যক্তিত্ব আলাদা হয়েছে। যেহেতু আমরা মগজের উপর নির্ভরশীল, তাই আমাদের জাদুঘরের বাম দিকে নিচে যেতে হবে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের মগজ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই তো সেগুলো এখানেই! তরল পদার্থের মধ্যে বড় এবং ছোট আকৃতির ক্রিম রঙের মগজ ডোবানো। এসব মগজের মধ্যে কিছু আছে মেধাবীদের এবং বাকিগুলো দুই পর্যন্ত গুণতে না পারা লোকজনের।
তারপর আসে ভ্রুণের নির্ধারিত স্থান। এখানে আছে ছোট্ট পুতুল, সবচেয়ে ক্ষুদ্র নমুনা – সবকিছু অতি ক্ষুদ্র প্রতিরূপ, যেন একটা আস্ত মানুষ ছোট বৈয়ামের মধ্যে রাখা হয়েছে। এসব ভ্রুণ ছোট্ট মাছ বা ক্ষুদ্র ব্যাঙাচির মতো, যা আদৌ ভালো করে দেখা যায় না। এগুলো ঘোড়ার পশমের মতো কিছু একটা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে আর তরল ফরমালডিহাইডে ভাসছে। কতগুলো বড় ধরনের ভ্রুণ মানব দেহের আকৃতির মতো দেখায়, যা অদ্ভুত সুন্দর। ক্ষুদ্র, তবে এখনো মানব দেহে রূপান্তরিত হয়নি, আধা-হোমিনিড [টীকা ১] যুবক, যাদের জীবন কখনই সম্ভাব্য ক্ষমতার অলৌকিক সীমানা পেরোতে পারেনি। তাদের সঠিক আকৃতি আছে, কিন্তু কখনই আত্মায় রূপান্তরিত হয়নি – বোধহয় আকৃতির সঙ্গে আত্মার উপস্থিতির কোনো ধরনের যোগসূত্র আছে। তাদের মধ্যে হতবুদ্ধির অবাধ্যতা দিয়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছে বাড়ানোর জন্য এবং টিস্যু জমিয়ে অঙ্গ-প্রতঙ্গ একত্রিত করে সচল করার জন্য ঘটনা শুরু হয়েছিল; আগেই চোখের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল, ফুসফুস ছিল তৎপর, যেহেতু আলো এবং বাতাস ছিল, তাই ব্যবস্থাও ছিল।
পরবর্তী সারিতে একই ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রয়েছে। তবে সেগুলো এখন পুরোপুরি বেড়ে উঠেছে এবং পূর্ণতা লাভ করেছে। তাদের পূর্ণতা? তারা কেমন করে জানতো, কত বড় হবে এবং কখন তাদের বেড়ে ওঠা বন্ধ হবে? তাদের মধ্যে অনেকেই জানতো না; এসব বৃহদন্ত্র ও ক্ষুদ্রান্ত বড় থেকে এত বড় হয়েছে যে এগুলো রাখার মতো বৈয়াম খুঁজে পাওয়া আমাদের প্রফেসরদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। এটা তার চেয়ে বেশি চিন্তার বিষয় ছিল যে, এগুলো কেমন করে লোকটির পেটের ভেতর জায়গা করে নিয়েছিল। লেভেলের গায়ে এক জোরা আদ্যক্ষরে লোকটির নাম লেখা।
এবার হৃৎপিণ্ডের বিষয়ে আসা যাক। হৃৎপিণ্ডের সমস্ত গোপন রহস্য চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রকাশিত হয়েছে। হৃৎপিণ্ডের আকৃতি অনেকটা মুষ্ঠিবদ্ধ হাতের মতো এবং এর রঙ মলিন হালকা বাদামি। অনুগ্রহ করে মনে রাখা প্রয়োজন, সত্যিকার অর্থে হৃৎপিণ্ডের রঙ আমাদের গায়ের রঙের মতোই : ধূসর বাদামি, যা দেখতে কুৎসিত। আমরা চাই না আমাদের বাড়ির দেয়াল কিংবা গাড়ির রঙ সেই ধরনের হোক। এটা ভেতরকার রঙ – অন্ধকারাচ্ছন্ন, যেখানে সচরাচর আলো পৌঁছায় না, যেখানে অন্যদের দৃষ্টির আড়ালে সবকিছু ঢেকে থাকে আর্দ্রতায়, এবং সেই পরিবেশের জন্য ভাব নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। একমাত্র অসংযত আচরণ রক্তের মধ্যে যেতে পারে; রক্ত হলো সতর্কবার্তা, এর লোহিত রঙ অমঙ্গলের ঈঙ্গিত বহন করে, যা দেহের আবরণের নিয়ম ভেঙেছে এবং টিস্যুর ধারাবাহিকতা নষ্ট করে দিয়েছে।
বাস্তবে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে কোনো রঙ নেই। হৃৎপিণ্ড যখন রক্ত পাম্প করে, যা তার কাজ, তা দেখতে অবিকল শ্লেষ্মার মতো।

অনুবাদকের টীকা

১ হোমিনিড ‘হোমিনাইড’ পরিবারের সদস্য, যাদের মধ্য আছে ওরাংওটাং, গরিলা, শিম্পাঞ্জী এবং মনুষ্যজাতি।]

চরিত্রচিত্র ৭

ভ্রমণের সাত বছর

‘প্রতি বছর আমরা ভ্রমণে বের হই এবং আমাদের বিয়ের পর থেকে আমরা গত সাত বছর ধরে তাই করছি,’ ট্রেনের মধ্যে যুবক লোকটি বললো। তার পরনে লম্বা, রুচিপূর্ণ, কালো ওভারকোট এবং সে একটা শক্ত কভারের ব্রিফকেস বহন করছিল। ব্রিফকেসটা দেখতে অনেকটা কাটা চামচ রাখার সুন্দর বাক্সের মতো লাগছিল।
‘আমাদের অসংখ্য ছবি আছে,’ যুবক লোকটি বললো, ‘ছবিগুলো আমরা আলাদা করে সাজিয়ে রেখেছি, যেমন দক্ষিণ ফ্রান্স, তিউনিশিয়া, তুরস্ক, ইতালি, ক্রীট, ক্রোয়েশিয়া – এমনকি স্ক্যান্ডিভীয়- এইভাবে।’ সে আরো বলে, তারা কয়েকবার ছবিগুলো দেখেছে : প্রথমে পরিবারের সবাই মিলে, তারপর অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে, তারপর বন্ধু-বান্ধব মিলে। ছবিগুলো দেখার পরে তারা প্লাস্টিকের ফোল্ডারের ভেতর সযত্নে নিরাপদ জায়গায় তুলে রেখেছে। ফোল্ডারগুলো দেখতে গোয়েন্দাদের গোপন থলির মতো এবং তারা যে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছে, সেটা প্রমাণ করে।
একসময় যুবকটি ভাবনাচিন্তার গভীরে হারিয়ে যায়। তার দৃষ্টি জানালার বাইরের দিকে প্রসারিত এবং মনে হচ্ছিল বাইরের সবকিছু যেন তাড়াতাড়ি কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে। সে কী একবারও ভাবেনি : ‘আমরা সেখানে ছিলাম’-এর আসল অর্থ কী? ফ্রান্সের দু’সপ্তাহ কোথায় যাবে? সেই সপ্তাহগুলোর অভিজ্ঞতা আজ হয়তো মাত্র সামান্য কিছু স্মৃতির মধ্যে সংকুচিত হয়ে থাকতে পারে – যেমন শহরের মাঝে মধ্যযুগীয় দেয়াল এবং হঠাৎ করে ঝলমলে সন্ধ্যায় আঙুরলতায় ঘেরা ছাদের নিচে ক্যাফের ভেতর ক্ষুধার সূত্রপাত। কী হয়েছিল নরওয়েতে? শুধুমাত্র পড়ে আছে সেই অন্তহীন দিনের স্মৃতি, লেকের পানির শীতলতা এবং তারপর দোকান বন্ধ হওয়ার আগের মুহূর্তে আনা মদিরার নির্মল আনন্দ অথবা ফিওর্ড [টীকা ২] দেখার প্রথম ঝলক।
‘যা কিছু দেখেছি, এখন সবই আমার,’ আমচকা সম্বিত ফিরে পেয়ে যুবকটি হাতের তালু দিয়ে উরুর উপর থাপ্পর মেরে সমাপ্তির ভঙ্গি করলো।

অনুবাদকের টীকা

[২] রেজিতে fjord। ভূতাত্ত্বিক সংজ্ঞা অনুযায়ী ফিওর্ড হচ্ছে হিমবাহের ফলে সৃষ্ট সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝে খাড়া, দীর্ঘ এবং সঙ্কীর্ণ জলপথ।

চরিত্রচিত্র ৮

কিওরনের পথনির্দেশ

আরেক লোক – ভদ্র এবং লাজুক – কাজে যাওয়ার পথে সব সময় কিওরনের একটা বই, যা ছিল বিভিন্ন বিষয়ের উপর সংক্ষিপ্তকারে লেখা, বহন করতো। হোটেলে সে বইটিকে বিছানার পাশের টেবিলে রাখতো। প্রতিদিন সকালে হাঁটার সময় লোকটি এলোপাথারিভাবে বইয়ের পৃষ্ঠা খুলতো এবং সেদিনের জন্য পথ-নির্দেশণার নিয়ম-নীতি খুঁজে নিত। সে বিশ্বাস করতো যে, যথাশীঘ্রই ইউরোপের প্রতিটি হোটেল থেকে বাইবেলের সব কপি সরিয়ে কিওরনের বই রাখা উচিত – রুমানিয়া থেকে শুরু করে ফ্রান্স পর্যন্ত। ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাই করা প্রয়োজন, কেননা আগামীতে বাইবেলের গুরুত্ব থাকবে না। নিচের বাক্যটি, যা এলোপাথারিভাবে উঠে এসেছে এপ্রিলের কোনো এক শুক্রবার অথবা ডিসেম্বরের বুধবার, উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে : ‘মরুভূমিতে উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত তাবুর সমস্ত উপকরণ, তাদের কাজকর্ম যা-ই হোক না কেন, তাঁবু এবং আঙিনার সবকিছু ব্রোঞ্জের হতে হবে’ (বুক অব এক্সোডাস, ২৭:১৯)? আমরা কীভাবে সে-টা গ্রহণ করবো? যে কোনো ক্ষেত্রে, তিনি বলেছেন তা কেবল কিওরনের মতো হতে হবে, তা নয়। ‘অন্য কিছু পরামর্শ দেয়ার থাকলে সরল মনে বলুন,’ কথা বলার সময় লোকটির চোখেমুখে একধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র ফুটে ওঠে।
সেই সময় আমার মনে কোনো কিছুই আসেনি। পিঠের ঝোলা থেকে লোকটি জীর্ণ-শীর্ণ একটা গ্রন্থ বের করে এবং লক্ষহীনভাবে পাতা ওল্টায়। তৎক্ষণাৎ তার মুখমণ্ডল আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।
‘পাশ কেটে যাওয়া-আসা লোকজনের মুখের দিকে না তাকিয়ে আমি তাদের পায়ের দিকে তাকাই এবং দেখি তড়িঘড়ি কদম ফেলা সেসব পা – কিন্তু কিসের জন্য ব্যস্ততা? এটা আমার কাছে পরিস্কার যে, আমাদের উদ্দেশ্য হলো, যে কোনো গুরুতর রহস্য খোঁজার জন্য আলতোভাবে পথ চলা।’ [৩]

টীকা

[৩] Anathemas and Admirayions, মূল: এমিল কিওরণ, অনুবাদ: রিচার্ড হাওয়ার্ড।

[চলবে]

পূর্ববর্তী পর্বের [৪] লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%93%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a6%b8%e0%a7%8d-%e0%a6%ab/

পরবর্তী পর্ব (৬) পড়ার লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%93%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a6%b8%e0%a7%8d-%e0%a6%ab-3/