ওলগা তোকারজুক > ফ্লাইটস্ >> ফজল হাসান অনূদিত ধারাবাহিক উপন্যাস [৬]

0
189

তীরন্দাজ পর্ব ৬

চরিত্রচিত্র ৯

কুনিকি : পানি (১)

মধ্য-সকাল। সে জানে না, আসলে সময় কত হয়েছে – কেননা, সে ঘড়ির দিকে তাকায়নি – তবে পনের মিনিটের বেশি সে অপেক্ষা করেনি এবং ভাবেওনি। সে গাড়ির সীটে বসে পেছনের দিকে হেলান দেয় এবং চোখের পাতা অর্ধেক বন্ধ করে। এরকম মুহূর্তে নিস্তদ্ধতা যেন তাকে হুল ফোটায়, তীব্র কোলাহল হতে থাকে। সে চিন্তা-ভাবনাগুলোকে একত্রিত করতে পারে না। এখনো বুঝতে পারছে না, শব্দটি অ্যালার্মের মতো কিনা। সে স্টিয়ারিং হুইল থেকে সিট খানিকটা পেছনে সরিয়ে নেয় এবং সামনের দিকে পা ছড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙে। তার মাথা ভারি হয়ে আছে এবং সে-টা তার শরীরটাকে গরম বাতাসের দিকে টেনে নিয়ে যায়। সে নড়াচড়া করবে না। শুধু অপেক্ষা করবে।
সে নিশ্চয়ই একটা সিগারেট ফুঁকেছে এবং হয়তো দু’টোও হতে পারে। কয়েক মিনিট পরে সে গাড়ি থেকে নেমে আসে এবং পেচ্ছাব করার জন্য একটা গর্তের কাছে যায়। তার মনে পড়ে না সেই সময় কেউ তার আশপাশ দিয়ে গিয়েছে কি না, যদিও এখন সে নিশ্চিন্ত নয়। যা-হোক, অবশেষে সে গাড়িতে ফিরে যায় এবং প্লাস্টিকের বোতল থেকে পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করে। একসময় সে অধৈর্য্য হয়ে পড়তে শুরু করে। প্রচণ্ড জোরে গাড়ির হর্ণ বাজায় এবং কান-ফাটানো তীব্র আওয়াজে তার ক্রোধ তাকে মর্তে নামিয়ে আনে। রাগের বেলুন চুপসে যাওয়ার পরে সে সবকিছু আরো বেশী স্পষ্ট দেখতে পায়। সে পুনরায় গাড়ি থেকে নেমে আসে এবং তাদের কাছে গিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে ভাবতে থাকে, যা সে ওই মুহূর্তে বলতে যাচ্ছিল : “পুরোটা সময় তুমি কী করছিলে? কী ভাবছিলে তুমি?”
এটা একটা জলপাই বাগান, হাড়ের মতো শুকনো। হাঁটার সময় পায়ের চাপে শুকনো ঘাস মচমচ করে। পেঁচানো জলপাই গাছের ফাঁকে বন্য কালোজামের জঙ্গল। পথের মাঝে ছড়িয়ে থাকা পল্লবিত নতুন বৃক্ষশাখা তার পা জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে। সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে আবর্জনা : ক্লিনেক্স, নোংরা প্যাড, মানুষের মল – অগণিত মাছির ওড়াওড়ি। নিজেদের হালকা করার জন্য রাস্তার পাশে অন্য লোকজনও থেমেছে। তারা দূরের ঝোঁপ-জঙ্গলে যাওয়াকে তোয়াক্কা না করে আশেপাশেই প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেয়; তাদের মধ্যে তাড়াহুড়া, এমনকি এখানেও তারা ত্রস্তব্যস্ত।
কোথাও বাতাস নেই এবং সূর্যও নেই। গতিহীন শুভ্র আকাশ সারিবাঁধা তাঁবুর মতো দেখায়। চারপাশ কুয়াশাচ্ছন্ন এবং বাতাসে বিন্দু বিন্দু পানির কণা অন্য কণার সঙ্গে মিলে জমাট বেঁধে আছে। সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে সমুদ্রের ঘ্রাণ – এমনকি বিদ্যুৎ, ওজোন স্তর এবং মাছেরও।
কিছু একটা নড়াচড়া করে ওঠে, কিন্তু ওখানে গাছের ফাঁকে না – ঠিক এখানে, তার পায়ের নীচে। বিশাল এক কালো গুবরে পোকা বেরিয়ে আসে এবং মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে পোকাটি কিছুটা সময় বাতাসের মধ্যে তার অ্যান্টিনা নেড়েচেড়ে শব্দ করে। অবশেষে একসময় অ্যান্টিনা নাড়ানো বন্ধ হয়। গুবরে পোকার নিচ্ছিদ্র ত্বকের উপর দুধের রঙের মতো শুভ্র আকাশের প্রতিবিম্ব পড়েছে। একমুহূর্তের জন্য কুনিকি ভাবে, এতক্ষণ সে মাটির দিকে অস্বাভাবিক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেছে, যা চোখের দৃষ্টি নয়, এবং সেই দৃষ্টি ছিল বিচ্ছিন্ন ও অমনোযোগী। কুনিকি স্যান্ডেলের অগ্রভাগ দিয়ে মাটিতে গুঁতো দেয়। গুবরে পোকা শুকনো পাতায় মর্মরধ্বনি তুলে দ্রুত গতিতে সরু পথ দিয়ে পালিয়ে যায়। তারপর বন্য কালোজামের ঝোঁপ-ঝাড়ের আড়ালে হারিয়ে যায়। ঘটনা এ পর্যন্তই।
মহিলা বললো, ‘গাড়ি থামাও।’ কুনিকি যখন গাড়ি থামায়, তখন মহিলা গাড়ি থেকে নেমে পড়ে এবং পেছনের দরজা খোলে। সে পেছনে বসা ছেলের সিটবেল্ট আলগা করে এবং গাড়ি থেকে বের করে আনে। গাড়ি থেকে বের হবার কোনো ইচ্ছেই নেই কুনিকির – বরং সে ঘুমে ঢুলুঢুলু, ক্লান্ত-অবসন্ন, যদিও তারা মাত্র কয়েক মাইল পথ অতিক্রম করেছে। কুনিকি চোখের পাতা সামান্য খুলে মহিলা এবং ছেলেটির দিকে কোনোরকমে তাকাতে পারছে। সে বুঝতে পারে না, তাদের দিকে নজর রাখা আদৌ তার উচিৎ হচ্ছে কিনা। একসময় সে সেই অস্বচ্ছ প্রতিবিম্ভকে স্পষ্ট করে দেখার জন্য চোখের সামনে এনে স্থির করার চেষ্টা করে। সে তাকিয়ে দেখে মহিলা এবং ছেলেটি পথ ধরে হেঁটে তার দৃষ্টিসীমা ছেড়ে দূরে চলে যাচ্ছে। সে ভাবতে চেষ্টা করে মহিলার পড়নে হালকা রঙের লিনেন কাপড়ের ট্রাউজার এবং কালো টিশার্ট। তাদের ছেলের পড়নে হাতির ছবি আঁকা ট্রিকট টী [টীকা-১]। এ ব্যাপারে সে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। কেননা সকাল বেলা সে নিজের হাতে ছেলেকে সেই পোশাক পরিয়েছে।
হাঁটার সময় মহিলা এবং ছেলেটি নিজেদের মধ্যে কথা বলে, কিন্তু তাদের কথা কুনিকি শুনতে পায় না। সে বুঝতে পারে না তাদের কথা আদৌ তার শোনা উচিত কিনা। একসময় মহিলা এবং ছেলেটি জলপাই গাছের আড়ালে চলে যায়। কুনিকি জানে না ঘটনার সবটুকু ঘটতে কত সময় লেগেছে, তবে সে বুঝতে পারে বেশি সময় লাগেনি। এক ঘণ্টার এক-চতুর্থাংশ, হয়তো-বা, তার চেয়ে আবার একটু বেশি সময়ও হতে পারে। সঠিক সময়ের বোধটা সে ধরে রাখতে পারে না; খেই হারিয়ে ফেলে। সে ঘড়ির দিকে তাকায়নি। সে জানে না, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় রাখা তার উচিত কিনা।
মহিলা যখন কুনিকিকে জিজ্ঞেস করে সে কি ভাবছিল, তখন কুনিকির ভীষণ রাগ হয়। সব সময় সে একই জবাব দেয়, ‘কিছু না।’ কিন্তু মহিলা কখনই তাকে বিশ্বাস করেনি। বরং সে বলেছে যে, আসলে কুনিকি কোনো কিছুই ভাবতে পারে না। মহিলার কথায় কুনিকির রাগ হয়। কিন্তু সে ভাবনা-চিন্তা করতে পারে – এবং সেখানেই সে সান্ত্বনার মতো একধরনের অনুভূতি উপলব্ধি করে – অন্য কোনো কিছু ভাবে না। সে জানে, তা কেমন করে সম্ভব করে তোলা যায়।
একসময় হঠাৎ কুনিকি বন্য কালোজামের ঝোঁপ-ঝাড়ের মাঝখানে থেমে যায় এবং এমনভাবে থমকে দাঁড়িয়ে থাকে যেন তার শরীর, যা কালোজাম গাছের কাণ্ডের দিকে টানটান করে আছে, অসাবধানতাবশত একটা স্থিতিশীল অবস্থান আবিষ্কার করে। গুমোট পরিবেশের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে মৌমাছির গুঞ্জরণ এবং তার উন্মাতাল চিন্তার গর্জন। এক মুহূর্তের জন্য উপর থেকে সে নিজেকে দেখতে পায় : এক লোকের পড়নে সাধারণ কার্গো ট্রাউজার এবং গায়ে সাদা টিশার্ট। লোকটির মাথার পেছনের দিকে ঘন চুলের মাঝে সামান্য জায়গা ফাঁকা, যেন অনধিকার প্রবেশকারী কেউ, কারোর বাড়িতে কোনো অতিথি। একজন লোক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, পরিবেশটা এমন যেন যুদ্ধবিরতির সময় কেউ তাকে জ্বলন্ত আকাশ এবং কঠিন পৃথিবীর মাঝখানে ফেলে দিয়েছে। সে রীতিমতো আতঙ্কিত; নিজেকে কোথাও লুকাতে চায়, দৌড়ে গাড়িতে ফিরে যেতে চায়, কিন্তু তার শরীর তাতে সায় দেয় না। সে পা নাড়াতে পারে না এবং নিজেকে সচল করার শক্তিও নেই, এমনকি সামনের দিকে এককদম পা বাড়াতে পারে না। যোগসূত্র ছিন্ন হয়ে গেছে। স্যান্ডেলের সঙ্গে তার পা মাটিতে শক্ত হয়ে আটকে আছে। সজ্ঞানে সে কঠিনভাবে চেষ্টা করে, নিজেকে নিয়ে নিজেই অবাক হয়, পুনরায় সে সামনের দিকে শক্তিপ্রয়োগ করতে পারে। এছাড়া সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং অপরিসীম জায়গা থেকে উদ্ধার পাওয়ার অন্য কোনো পথ খোলা নেই।
তারা ১৪ আগস্ট এসেছে। স্প্লিট [টীকা ২] থেকে আসা ফেরি ছিল লোকে-লোকারণ্য – অনেক পর্যটক, তবে বেশিরভাগ ছিল স্থানীয়। স্থানীয় লোকজনের হাতে বাজারের থলে। কেননা মূল ভূখণ্ডে সবকিছুই সস্তা। জিনিসপত্র কেনার ব্যাপারে দ্বীপের লোকজন অত্যন্ত মিতব্যয়ী। পর্যটকদের দেখে সহজেই চেনা যায়। কেননা উল্টো দিকে সূর্য যখন সমুদ্রের গভীরে ক্রমশ নেমে যেতে থাকে, তখন তারা ফেরির একপাশে গিয়ে সূর্য ডোবার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দ্বীপের মাঝ দিয়ে ফেরি এগিয়ে চলে এবং একসময় উন্মুক্ত সাগরে এসে পড়ে। তখন অনেকের মনের ভেতর একধরনের বিসদৃশ অনুভূতি, ক্ষণস্থায়ী এবং আতঙ্কিত তুচ্ছ মুহূর্ত বলে অনুভূত হয়।
তারা যে অতিথিশালায় অবস্থান করবে, তার নাম পসাইডন। অতিথিশালা খুঁজে পেতে তাদের কোনো অসুবিধে হয়নি। অতিথিশালার মালিক একজন শ্বশ্রুষামণ্ডিত লোক। তার নাম ব্রাঙ্কো এবং তার গায়ে শামুকের ছবি-আঁকা টিশার্ট। লোকটি জোর করে বলে ওঠে, আদ্যাক্ষর অনুযায়ী তাদের নাম হবে। যখন সে তাদের সরু পথ পেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন সে কুনিকির পিঠে এমনভাবে পিঠ চাপড়ায় যেন কুনিকি তার অনেকদিনের পরিচিত। ব্রাঙ্কো গর্বের সঙ্গে তাদেরকে অ্যাপার্টমেন্ট দেখিয়ে দেয়। অ্যাপার্টমেন্টে দু’টো শোবার ঘর এবং ঘর দু’টো ঐতিহ্যবাহী আসবাবপত্রে সজ্জিত। এক কোণে একটা ছোট রান্নাঘর। রান্নাঘরের আলমারি ফাইবারবোর্ড দিয়ে ল্যামিনেট করা হয়েছে। জানলা দিয়ে খোলা সৈকত এবং বিশাল সমুদ্র দেখা যায়। একপাশের জানালায় পূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুল – শক্ত কাণ্ডের উপর সটান দাঁড়িয়ে আছে এবং বিজয়ীর ভঙ্গিতে পানি থেকে উঠে এসেছে।
দ্বীপের একটা মানচিত্র বের করে কুনিকি এবং বিভিন্ন পন্থা নিয়ে ভাবতে থাকে। মহিলা হয়তো ভুল বুঝেছে এবং অন্য কোনো জায়গার রাস্তা ভুল করেছে। সম্ভবত সে কোথাও দাঁড়িয়ে আছে। অথবা সে হয়তো গাড়িভাড়া করে চলে গেছে – কিন্তু কোথায়? মানচিত্র অনুসারে রাস্তাটা আঁকাবাঁকা হয়ে পুরো দ্বীপে ছড়িয়ে আছে। সুতরাং রাস্তা অনুসরণ করে চললে দ্বীপটা একচক্কর দিয়ে অনায়াসে ঘুরে আসা যায় এবং সমুদ্রের ধারে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। কয়েক দিন আগে তারা সেভাবেই ভিস শহরে [টীকা ৩] গিয়েছিল।
গাড়ির সিটের মধ্যে মহিলার পার্সের উপর কুনিকি মানচিত্র রেখে গাড়ি চালাতে থাকে। গাড়ির গতি মন্থর। কুনিকি জলপাই গাছের ফাঁকে মহিলা এবং ছেলেকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে ভৌগলিক অবস্থানে পরিবর্তন আসে : পাথুরে বধ্যভূমির জন্য জলপাই বাগান নিজের জায়গা ছেড়ে দেয়। সেখানে শুস্ক ঘাস এবং বন্য কালোজামের জঙ্গলে ছেয়ে আছে। অনাবৃত সাদা চুনাপাথর দেখলে মনে হয় যেন কোনো বন্য জন্তুর শুভ্র বিশাল দাঁত পড়ে আছে। কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পরে কুনিকি গাড়ি ঘোরায়। সে ডান দিকে তাকিয়ে দেখে অপূর্ব সুন্দর সবুজ আঙুরের বাগান এবং সেখানে কিছুটা দূরত্ব যন্ত্রপাতি রাখার জন্য ছাউনি-ঘেরা জায়গা – জায়গাটা বিবর্ণ এবং জনশূন্য। মহিলার জন্য সবচেয়ে ভালো হয় যদি সে হারিয়ে যায়, কিন্তু যদি সে অথবা ছেলেটি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন কী হবে? দম বন্ধ করা জায়গা এবং সেখানে প্রচণ্ড গরম। হয়তো চটজলদি তাদের সেবা-শুশ্রুষার প্রয়োজন হতে পারে। অন্য কিছু করার পরিবর্তে কুনিকি রাস্তার একদিক থেকে অন্যদিকে গাড়ি চালাতে থাকে। কেমন নির্বোধ, সে ভাবে – এ নিয়ে সে কেন আগে ভাবেনি? তার হৃৎপিন্ডের মধ্যে ধুকপুকানি শুরু হয়। যদি মহিলার সর্দিগর্মি হয়? যদি তার পা ভেঙে যায়?
কুনিকি গাড়ি নিয়ে পেছনে ফিরে যায় এবং ভীষণ জোরে কয়েক বার হর্ন বাজায়। দু’টো জার্মান গাড়ি পাশ দিয়ে চলে যায়। ঘড়িতে সে সময় দেখে। ইতোমধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা অতিক্রান্ত হয়েছে। তার অর্থ, ফেরি এরই মধ্যে ছেড়ে যাবে। রাজকীয় ভঙ্গির সাদা রঙের ফেরির পেটের মধ্য অসংখ্য গাড়ি ঢুকে যাবে, পেছনের দরজা বন্ধ হবে এবং তারপর সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে। একসময় উদাসী সমুদ্র প্রতি মিনিটে তাদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াবে। কুনিকির আগাম ভাবনা-চিন্তা করার ক্ষমতা আছে, যার জন্য তার মুখ শুকিয়ে যায়। তার ভেতর এমন একটা অনুভূতি খেলে যায়, যা রাস্তার পাশে স্তুপীকৃত আবর্জনা, মাছি এবং মানুষের মলের সঙ্গে মিল আছে। সে বুঝতে পারে। তারা চলে গেছে। মহিলা এবং তাদের ছেলে – উভয়েই চলে গেছে। সে জানে, তারা জলপাই বাগানে নেই। তারপরও সে শুকনো জমির উপর দিয়ে দৌড়াতে থাকে এবং চিৎকার করে ডাকে, যদিও সে নিশ্চিত, তারা তার ডাকে সাড়া দেবে না।

অনুবাদকের টীকা

[১] ‘ট্রীকট্ টী’ একধরনের টিশার্ট, যা টেনে বোনা কাপড় (প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম, অর্থাৎ সিন্থেটিক) দিয়ে তৈরি। এ-কাপড় বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন নাইলন, উল, রেয়ন, সিল্ক অথবা সুতির।
[২] ‘স্প্লিট’ দক্ষিণ-পশ্চিম ক্রোয়েশিয়ার একটি শহর, যা অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের ডালমেটিয়ান উপকূলে অবস্থিত। বর্তমানে রেস্টুরেন্ট এবং মদ বিক্রির জন্য সুপরিচিত। শহরটি রোমান সাম্রাজ্যের উপনিবেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও চতুর্থ শতাব্দীতে নির্মিত রাজপ্রাসাদকে ঘিরে বিস্তার লাভ করে।
[৩] ‘ভিস’ শহর ক্রোয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলীয় দ্বীপ। আনুমানিক খ্রীস্টপূর্ব ৩৯৭ সালে অত্যাচারী সম্রাট সিরেকস্ গ্রিক সাম্রাজ্যের সামন্তরাজ্য হিসেবে শহরটি নির্মাণ করেন।

[চলবে]

পূর্ববর্তী পর্ব (৫) পড়ার লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%93%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a6%b8%e0%a7%8d-%e0%a6%ab-2/

পরবর্তী পর্বের (৭) লিংক আসছে