কামাল চৌধুরী >> আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য >> গদ্য

0
223

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে –
“ওরে বাছা, মাতৃ-কোষে রতনের রাজি
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে।।
[বঙ্গভাষা : মাইকেল মধুসূদন দত্ত]

যে-প্রাণশক্তি বাঙালির ভাষা-চেতনাকে প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছিল, তা ছিল মূলত মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার চেতনা। তৎকালীন পাকিস্তানের বহুভাষিক পরিমণ্ডলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন ছিল নিজ ভাষার প্রতি প্রবল ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ; তবে এ আন্দোলনে অন্য ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টিও অপ্রকাশ্য থাকেনি। ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে একুশে ফেব্রুয়ারী নামে একটি সংকলন প্রকাশিত হয়। সম্পাদনা করেছিলেন কবি হাসান হাফিজুর রহমান। এটি ছিল অমর একুশের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত প্রথম সংকলন। এ সংকলনে ভূমিকার পরে যে লেখাটি স্থান পেয়েছে তার শিরোনাম “সকল ভাষা সমান মর্যাদা”। এ যাবৎ একুশে ফেব্রুয়ারিকে উপজীব্য করে যত কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ লেখা হয়েছে সেগুলির প্রতিটিতেই মা, মাতৃভূমি ও জাতিসত্তা এবং জনগণের সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার নানা অনুষঙ্গ ঘুরে-ফিরে এসেছে। বাঙালির ভাষা-চেতনার এই যে সম্প্রসারিত রূপ তা বিশ্বজনীন চেতনারই অংশ। এর ফলে একুশে ফেব্রুয়ারির সুমহান আত্মত্যাগ বিশ্বসভায় স্বীকৃতি পেয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

ভাষা ও মাতৃভাষা

ভাষা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) লিখেছেন :

সমাজ এবং সমাজের লোকদের মধ্যে প্রাণগত ও মনোগত মিলনের ও আদান-প্রদানের উপায়স্বরূপ মানুষের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ যে সৃষ্টি সে হচ্ছে তার ভাষা। এই ভাষার নিরন্তর ক্রিয়ায় সমস্ত জাতকে এক করে তুলেছে; নইলে মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে মানবধর্ম থেকে বঞ্চিত হতো।

রবীন্দ্রনাথ ভাষাকে মানুষের সৃষ্টি বলে উল্লেখ করলেও ভাষার সৃষ্টি বা উৎপত্তি বিষয়ে নানা ব্যাখ্যা রয়েছে; ধর্মীয়, সমাজতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা। এসব ব্যাখ্যার কোনোটি পরস্পরের পরিপূরক, কোনোটা পরস্পরবিরোধী। এসব ব্যাখ্যা থেকে মানুষের কথা ও লিখিত ভাষার উৎপত্তি-বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে আমরা উপনিত হতে পারি না। মাটি খুঁড়ে যখন লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বের ফসিল বা প্রত্ননিদর্শন আবিষ্কার করা হয়, তখন তাতে সভ্যতার অগ্রগমন, মানবসমাজ, জাতি ও প্রজাতির উদ্ভব সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়; কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষেরা কীভাবে কথা বলতো তা অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বাইবেলে আছে, সৃষ্টিকর্তা আদমকে সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন বৃক্ষরাজি ও পশুপাখি। আদম প্রভুর সৃষ্টিকে যেভাবে ডেকেছেন তা থেকেই ভাষার উৎপত্তি। গ্রীক পুরাণ অনুসারে দেবতা হার্মিস থেকে এবং হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী দেবী সরস্বতী থেকে ভাষার উৎপত্তি। এ প্রসঙ্গে একটি ঐতিহাসিক গবেষণার কথা আমরা হেরোডোটাস-এর কাছ থেকে জানতে পারি। দু-জন নবজাতককে নিয়ে একজন মিশরীয় ফারাও খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে এ গবেষণা করেছিলেন। রাখালের সঙ্গে দু-বছর থাকার পর এই শিশুরা প্রথম স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে-শব্দ উচ্চারণ করেছিল তা কোনো মিশরীয় শব্দ ছিল না। তারা bekos শব্দ উচ্চারণ করেছিল যার অর্থ রুটি। এটি ছিল প্রাচীন আনাতোলিয়া অঞ্চলের ফ্রিজীয় (Phrygian) শব্দ। এ থেকে ফারাও ধারণা করেছিলেন যে, ফ্রিজীয় ভাষাই আদি ভাষা। কিন্তু অনুমাননির্ভর বলে এ ব্যাখ্যা ধোপে টেকেনি। পরবর্তীকালে দেখা গেছে, যেসব শিশু মানুষের সান্নিধ্য আসেনি, তারা কোনো ভাষা ব্যবহার করতে শেখেনি। অন্য একটি ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক ধ্বনি (natural sound) বা আওয়াজ (noise)-কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে অনুমান করা হয়েছে যে, প্রাচীন মানুষ প্রথমে তার চারপাশের প্রাকৃতিক ধ্বনি বা আওয়াজকে অনুকরণ করে ভাষা শিখেছে।
ভাষার উৎপত্তি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা থাকলেও ধারণা করা যায় যে, প্রাচীন মানুষের পরস্পরের ভাবের আদান-প্রদান ও যোগাযোগের বাহন হিসেবে ভাষার ব্যবহার শুরু হয়। মানব মস্তিষ্কের সক্ষমতা ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার বিষয় সম্পর্কযুক্ত হওয়ায় মানবভাষা মৌলিকভাবে ভিন্ন। নৃবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভাষার উৎপত্তি একদিনে হয়নি; মানব বিবর্তনের পথেই ভাষা ক্রমান্বয়ে বর্তমান রূপ পরিগ্রহ করেছে। বিবর্তনবাদীদের মতে, মস্তিষ্কের প্লেটটি ভাষার উপস্থিতি নির্দেশ করে, তা প্রথম দেখা যায় Australopithecine-এর ফসিলের মধ্যে, ২.৫ মিলিয়ন বা ২৫ লক্ষ বছর আগে। ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনের ধারায় হোমোইরেকটাস থেকে হোমোসেপিয়েন্স-নিয়ান্ডরথালেনসিস এবং সেখান থেকে সেপিয়েন্স সেপিয়েন্স, পরবর্তীকালে ক্রো ম্যাগনন এবং সেখান থেকে আধুনিক মানুষ। এই দীর্ঘযাত্রায় ভাষার উপস্থিতি সর্বত্রই দেখা যায়। বস্তুত, পরিবর্তন এবং বিকাশ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভাষা হয়েছে বিবর্তিত।
আধুনিক ভাষা বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ফার্দিনান্দ দ্য সোস্যুর (১৮৫৭-১৯১৩)। তাঁর মতে ভাষা একটি প্রতীকী স্বৈচ্ছিক (arbitrary) প্রতীক (symbol)-ব্যবস্থা, যেখানে চিহ্নগুলি হলো শব্দ। ভাষাবিজ্ঞানী নোয়াম চমস্কি (জ. ১৯২৭) ভাষার কাঠামোকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন : একটি হলো শব্দব্যবস্থা, অন্যটি বাগর্থিক ব্যবস্থা (system of meaning)। তাত্ত্বিক এবং প্রত্যয়গত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করে বলা যায় যে, মানুষেরই কেবল ভাষা আছে। বিজ্ঞানীরাও প্রমাণ করেছেন যে, প্রাণীকুলে প্রতীকের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু প্রতীক ভাষা নয়, কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতীকী-চিহ্নের সঙ্গে অর্থের সম্পৃক্ততা না থাকবে এবং যে শুনবে সে সম্পৃক্ত অর্থ অনুধাবনে ব্যর্থ হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা ভাষা বলে গণ্য হবে না।
মাতৃভাষা বলতে আমরা সাধারণ অর্থে মায়ের ভাষাকে বুঝি। তবে এর অর্থ শুধু মায়ের ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাপক অর্থে একটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষাই মাতৃভাষা। অনেক ক্ষেত্রে মাতৃভাষাকে শিশুর প্রথম ভাষা (First Language) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ জন্মের পর শিশু মাতা-পিতার কাছ থেকে এ ভাষা শেখে। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ রয়েছে। তাদের মাতৃভাষা বিভিন্ন। বহুভাষিক পরিমণ্ডলে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিশুর সামাজিক ও ভাষাতাত্ত্বিক পরিচিতি তৈরি হয়।
ভাষা জাতীয় সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান। ভাষার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুনির্দিষ্ট হয়। এজন্য মাতৃভাষা-প্রসঙ্গে অনিবার্যভাবে নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রশ্নটিই এসে পড়ে। তবে সকল ক্ষেত্রে মাতৃভাষা বলতে মায়ের ভাষা বোঝা যায় না। পিতৃসূত্রীয় সমাজে বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীর অনুগামী হয় বিধায় শিশুর প্রথম ভাষা তার মায়ের ভাষা থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন হতে পারে। একইভাবে মাতৃসূত্রীয় সমাজে (Matrilineal Society) শিশুর ভাষা পিতার ভাষার চেয়ে ভিন্ন হওয়া সম্ভব। ফলে মাতৃভাষাকে শুধু প্রথম ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা সঙ্গত নয়। জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের নিরিখে মাতৃভাষাকে বিবেচনায় আনতে হবে। সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার তাগিদ থেকেই ১৯৫২ সালে ‘বাঙালির প্রাণমন আত্মার সুপ্তিভঙ্গ’ ঘটেছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তারা রুখে দাঁড়িয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় আন্দোলন ও সংগ্রামের ঐতিহাসিক পথপরিক্রমায় এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিস্মরণীয় নেতৃত্বে অভ্যুদয় ঘটেছে বাঙালির জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের।

বিলুপ্ত মৃত ও বিপন্ন ভাষা

পৃথিবীতে বর্তমানে জীবিত ভাষার সংখ্যা কয়টি? এ নিয়ে মতান্তর আছে। ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায় যে, বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৭ হাজার ভাষা আছে। সকল ভাষার আবার লিখিত রূপ নেই। তাছাড়া এগুলির মধ্যে ৯০% ভাষায় ১ লক্ষেরও কম মানুষ কথা বলে। পৃথিবীর অনেক ভাষা এখন বিলুপ্ত। অনেকগুলি মৃত, অনেক ভাষা বিপন্ন, অধিকন্তু অনেক ভাষার রূপ বিশ্বায়ন ও প্রভাবশালী ভাষার কারণে ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু ভাষার কথ্যরূপ টিকে থাকলেও লিখিত বর্ণমালা ও লিপি পরিবর্তিত হচ্ছে। কিছু ভাষা Language base বা ভাষার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। যেমন – প্রাচীন গ্রিক, লাতিন ও সংস্কৃত। এসব ভাষা বর্তমানে জীবন্ত না হলেও এসব ভাষার ভিত্তিতে উদ্ভব ঘটেছে অনেক ভাষা-পরিবারের। যেমন – ইন্দো-ইউরোপীয়, উরালিক, আলতায়িক, ককেসীয়, আফ্রো-এশিয়াটিক, দ্রাবিড়ীয়, মন-খমের ইত্যাদি। এসব ভাষা-পরিবার থেকে উদ্ভূত হয়ে বিস্তৃত হয়েছে ভাষার শাখাসমূহ; যেমন – সংস্কৃত থেকে বাংলা, হিন্দি, সিংহলি, গুজরাতি, উর্দু; তামিল থেকে তেলেগু, মালায়ালাম, কানাড়ি প্রভৃতি। পরবর্তীকালে প্রতিটি শাখা আবার রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে।
ধারণা করা হয় যে, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বর্তমানে কথিত ৯০% ভাষা বিলুপ্ত হবে। বিশ্বায়নের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবে অনেক ভাষা বিপন্ন হয়ে পড়বে এবং অচিরেই লুপ্ত হবে। বিলুপ্ত ভাষা আমরা তাকেই বলি, যে ভাষায় এখন কেউ কথা বলে না। উদাহরণস্বরূপ উপনিবেশিক শাসনের ফলে আমেরিকার স্থানীয় (Native) ভাষার স্থান দখল করেছে ইংরেজি, ফরাসি, পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ ভাষা। অন্যদিকে যে-ভাষাকে আমরা মৃত ভাষা বলি (যেমন প্রাচীন গ্রিক, আবেস্তীয়, কপটিক, বিবলিকাল হিব্রু, লাতিন, সংস্কৃত ইত্যাদি) সেগুলির ধর্মীয়, বৈজ্ঞানিক বা আইনগত ব্যবহার আছে। তবে সাধারণ জনগণের মধ্যে সেগুলি প্রচলিত নয়। সাংস্কৃতিক নৃ-বিজ্ঞানী ওয়েল ডেভিস (২০০৯) আধুনিকতা ও বিশ্বায়নের হুমকির কারণে সারা পৃথিবীতে সংস্কৃতি ও ভাষার বিপন্নতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ভাষা বিলুপ্ত হয়ে পড়ার অর্থ হচ্ছে মানুষের সার্বিক কল্পনাশক্তি হ্রাস পাওয়া। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার বিলুপ্তি কিংবা বিপন্ন হওয়ার অনেক কারণ আছে। একটি প্রধান কারণ হলো পরিকল্পিতভাবে ভাষাহত্যার চেষ্টা। গণহত্যার মাধ্যমে তা হতে পারে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের ক্ষেত্রে দুটি ধারণাই ক্রিয়াশীল ছিল। কারণ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, অন্যদিকে তারা গণহত্যা সংঘটিত করেছিল। কিন্তু বাঙালির সাহস ও আত্মত্যাগ এসব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। পৃথিবীর বহু দেশে ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে (Linguicide) ঘটেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের অনেক উদাহরণ আছে। উনিশ শতকের প্রথম দিকেও অধিকাংশ ইউচি তাদের ভাষায় কথা বলতে পারত। তখন সরকারি স্কুলগুলোতে যেসব আমেরিকান ইন্ডিয়ান নিজেদের ভাষায় কথা বলতো, তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হতো। এ অবস্থায় ইউচি ও অন্যান্য ইন্ডিয়ান নিজেদের ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি শিখতে বাধ্য হয়। এসব ইন্ডিয়ান জাতিগোষ্ঠীকে ‘সভ্য’ করার জন্য বিভিন্ন স্কুল ও সংরক্ষিত এলাকায় পাঠানো হতো। ফলে তারা তাদের ধর্ম, ভাষা, প্রাচীন বিশ্বাস বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে। এভাবে ঔপনিবেশিক শক্তির অত্যাচারে যুক্তরাষ্ট্রের আদি জনগোষ্ঠীর অনেক ভাষা হারিয়ে গেছে। সাম্প্রতিককালে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ার আদি অধিবাসীদের ভাষা হারিয়ে গেছে।
সামাজিক অর্থনৈতিক কারণে ভাষা বিলুপ্ত হতে পারে। অনেক সময় সমাজে টিকে থাকার জন্য ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সদস্যরা প্রভাবশালী সংস্কৃতি বা ভাষার কাছে নিজেদের সমর্পণ করে। যে ভাষার উপযোগিতা বেশি বলে মনে হয় বা যে ভাষায় কথা বলাটা সম্মানের মনে করে, সে-ভাষাকে গ্রহণ করতে গিয়ে তারা তাদের ভাষাকে ভুলে যায় – এই আত্তীকরণ (Assimilation) প্রক্রিয়া কখনো স্বেচ্ছাকৃত, কখনো জোরপূর্বক হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশে ভাষা-পুনরুজ্জীবন (revitalization)-প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেক মৃত ভাষা পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ হিব্রু, আইরিশ, ওয়েলস ভাষার কথা বলা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর হাওয়াইন ভাষাকে নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে এ ভাষা পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা

বাংলাদেশ বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও এ দেশে অনেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। আমাদের দুর্ভাগ্য, এসব জাতিগোষ্ঠী নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে লেখালেখি হলেও সামগ্রিকভাবে কোন নৃতাত্ত্বিক গবেষণা হয়নি। ফলে এদের সংখ্যা নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত সেন্সাস রিপোর্ট ও গবেষণাপত্রের পরিসংখ্যানে ভিন্নতা দেখা যায়। এক্ষেত্রে পিটার বার্টেচি (১৯৮৪)-র উল্লেখ করা যায়। তিনি এসব ভাষার সংখ্যা ১২ বলে উল্লেখ করেছেন। এ জি সামাদ (১৯৮৪) বলেছেন ১৫টি, ১৯৯১ সালের জনশুমারিতে এদের সংখ্যা ২৯ বলে উল্লেখ আছে । অন্যদিকে কিবরিয়া-উল-খালেক (১৯৯৫)-এর মতে, এ সংখ্যা ২৪-এর অধিক। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির Indigenous Communities গ্রন্থে ৪৫টি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে। সৌরভ সিকদার (২০১০) মনে করেন, বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়াও ৪৫টি নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে। তাঁর মতে, এরা পৃথিবীর প্রধান চারটি ভাষা-পরিবার (অস্ট্রো-এশিয়াটিক, চীনা-তিব্বতি, দ্রাবিড় ও ইন্দো-ইউরোপীয়)-এর ৩০টি ভাষা ব্যবহার করে। এর মধ্যে কিছু ভাষাকে উপভাষা (যেমন – রাখাইন, তঞ্চঙ্গা, হাজং ইত্যাদি) হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার সংখ্যা নির্ধারণ করেছেন ২৬টি। বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের অন্তর্ভুক্ত (যেমন গারো, ককবোরক, কোচ, রাজবংশি, মণিপুরি ইত্যাদি)। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলির মধ্যে চাকমারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও তাদের ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারভুক্ত বলে ভাষাবিজ্ঞানীরা মনে করেন। বাংলাদেশের অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খাসিয়া, সাঁওতালি ও মুন্ডা। খাসিয়া-র নিজস্ব লিপি বা বর্ণমালা নেই। বর্তমানে রোমান হরফে এ ভাষা লেখা হয়। সাঁওতালি ও মুন্ডার ভাষারও নিজস্ব বর্ণমালা অনুপস্থিত। অধুনা রোমান হরফে এ ভাষা লেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাসকারী গারো বা মান্দি-রা আচিক ভাষায় কথা বলে। এদের আলাদা ভাষা রয়েছে, তবে এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা না থাকায় এর লিখিত রূপে রোমান ও সীমিত পর্য়ায়ে বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতের মেঘালয়ের গারোরা নিজেদের ভাষা লেখাপড়া করছে। কোচ রাজবংশিদেরও নিজস্ব লিপি নেই। বাংলাদেশে দ্রাবিড় ভাষা-পরিবারের একমাত্র সদস্য ওরাঁও বা কুরুখ। এ ভাষার বর্ণমালা নেই। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষাগুলির কয়েকটি (খুমি, পাংখোয়া, ঠার ইত্যাদি) বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এসব নৃ-গোষ্ঠী বর্তমানে রোমান হরফ ব্যবহার করছে, ক্ষেত্রবিশেষে বাংলা হরফে তাদের ভাষা লেখা হচ্ছে। কিছু জনগোষ্ঠী তাদের ভাষাকে পুনরুজ্জীবনের চেষ্টায় রত আছে বাংলা বা রোমান হরফে তাদের ভাষাশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে। চাকমা, গারো, ককবোরক, বিষ্ণুপ্রিয়া, মণিপুরি, রাখাইন ইত্যাদি ভাষায় বর্তমানে উন্নতমানের সাহিত্য রচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান প্রত্যাশা

২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার লক্ষ্যে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে কানাডার বহুভাষিক ও বহুজাতিক মাতৃভাষা প্রেমিকগোষ্ঠী। তাঁদের এ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে সফল করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন ও বর্তমান) শেখ হাসিনা সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁর নির্দেশে এতদসংক্রান্ত সরকারি প্রস্তাব ইউনেস্কো সদর দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। এ জন্য তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী এ এইচ কে সাদেকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে নভেম্বর ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-এর মর্যাদা লাভ করে। ইউনেস্কো সাধারণ পরিষদে গৃহীত এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবনা বলা হয় :

30 C/DR. Page 2
Bearing in mind also that all moves to promote the dissemination of mother tongues will serve not only to encourage linguistic diversity and multilingual education but also to development of fuller awareness of linguistic and cultural traditions throughout the world and to inspire solidarity based on understanding, tolerance and dialogue.
Considering consequently that one of the most effective ways to promote and develop mother tongues is the establishment of an “International Mother Language Day”; with a view to organising various activities in the Member States and an exhibition at UNESCO Headquarters on that same day.
Recognising the unprecedented sacrifice made by Bangladesh for the cause of mother language on 21 February 1952.
Noting that this idea has not yet been adopted at the international level. Proposes that 21 February be proclaimed ‘International Mother Language Day’ throughout the world to commemorate the martyrs who sacrificed their lives on this very date in 1952.

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ পৃথিবীর সকল দেশ ও জনগোষ্ঠীর কাছে নতুন অঙ্গীকারে বার্তা নিয়ে এসেছে। প্রতিবছর দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে ভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের স্মৃতি তর্পণের পাশাপাশি সকল রাষ্ট্র বিভিন্ন জাতিসত্তা ও ভাষা সংরক্ষণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বের সকল ভাষার নমুনা সংরক্ষণ এবং মৃত ও বিলুপ্তপ্রায় ভাষার পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টায় সংযোজিত হয়েছে নতুন মাত্রা।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এ ইনস্টিটিউট বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও বিকাশে যেমন অবদান রাখবে তেমনি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনে পালন করবে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা।
মায়ের ভাষায় কথা বলা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। মাতৃভাষায় শিক্ষা ও জ্ঞান চর্চার সুযোগ তৈরি করা রাষ্ট্রের অন্যতম কর্তব্য। মাতৃভাষার ইতিহাস, ঐতিহ্য, লিপি এবং ভাষার কথ্য ও লিখিত রূপ সম্পর্কে জানতে পারলে বিশ্বায়নের এই প্রবল স্রোতেও মানুষ শেকড়চ্যুত হবে না, বরং নিজস্ব সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে অধিকতর সুস্থির, মৃত্তিকাসংলগ্ন ও দেশপ্রেমিক হয়ে উঠতে পারবে।
বর্তমান সরকার প্রণীত শিক্ষানীতি ২০২০-এ দেশের ক্ষুদ্র জাতিসমূহের সংস্কৃতি ও ভাষা বিকাশে সহায়তা পদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা যাতে নিজেদের ভাষা শিখতে পারে সেজন্য শিক্ষক ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও এ জনগোষ্ঠীর প্রান্তিক শিশুদের বিশেষ সহায়তা করা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত যেসব এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সেসব এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের কথাও এ শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ২৮ কোটি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে। আজ বিশ্বায়ন ও আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে বাংলা ভাষা বিপন্ন-প্রায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বিশ্বসভায় বাংলা ও বাঙালির জন্য সৃষ্টি করেছিলেন অবিস্মরণীয় এক ইতিহাস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশনে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব উত্থাপন করে বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত করার উদ্যোগকে করেছেন আরও গতিশীল। বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তিই বাংলা ভাষা। হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির যে-ঐক্য তা বাংলা ভাষার মাধ্যমেই প্রবাহিত। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, বাংলা আজ স্বদেশে যেন পরবাসী। বাংলাদেশের অফিস দোকানপাট সর্বত্র এখন ইংরেজি দৃশ্যমান। সেমিনার, অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনেও ইংরেজির ব্যবহার বাড়ছে। অন্যদিকে আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাবে আঘাত আসছে বাংলা ভাষার উপর। আমরা ইংরেজি-বাংলার মিশেলে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এবং এফএম রেডিওতে জগাখিচুরি এক ভাষা ব্যবহার করছি। উপস্থাপক নাউ একটি ছং বলবো – এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন যাকে বাংলিশও বলা যাবে না। এভাবে নানা অবাঞ্ছিত ভাষিক উপাদানের অনুপ্রবেশ ঘটছে আমাদের মহান ভাষায়, দূষিত হচ্ছে ভৌগোলিক উপভাষা (Dialects) এবং এভাবে আমাদের ভাষায় সংহিতা বদল (Code-switching) ও সংহিতা মিশ্রণ (Code mixing) ঘটেই চলেছে।
পাকিস্তান আমলে একসময় আরবি ও পরবর্তীকালে রোমান হরফে বাংলা প্রচলনের চেষ্টা হয়েছিল। বাঙালির প্রতিবাদের মুখে তা বেশি দূর এগোয়নি। আজ দেখা যাচ্ছে মোবাইল ফোনে, ই-মেইলে আমরা রোমান হরফ ব্যবহার করছি। এভাবে বাংলা ভাষার লিখিত রূপ পরিবর্তিত হচ্ছে। আমরা ভুলে যাচ্ছি শুদ্ধ বানান এবং বাংলা বাক্যের চিরায়ত অন্বয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলা ভাষাকে তথ্য-প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্পকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কাজ শুরু হয়েছে। বাংলা ভাষাকে প্রমিতকরণের জন্য কম্পিউটারে ইউনিকোড ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ গত ২০১১ সালে ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামের সদস্য হয়েছে। এখন ইউনিকোড ব্যবহারে প্রশিক্ষণ প্রদান, সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সহজলভ্য করা জরুরি। মোবাইল ফোন এখন ইউনিকোডের আওতায় এসেছে। টেক্স হিসেবে ই-মেইলে ইউনিকোড ব্যবহার করা যাচ্ছে। এত আমরা ভিন্ন হরফে বাংলা লেখা থেকে মুক্ত হতে পেরেছি।।
ভাষা স্থবির নয়, পরিবর্তনশীল। এ পরিবর্তন ভাষা গ্রহণ করে, বর্জনও করে। ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তিই ভাষাকে রক্ষা করে। এভাবেই ভাষা তার স্বাধীনতা বজায় রাখে। আজকের দিনে ভাষাবৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি মাতৃভাষা-চর্চা ও মাতৃভাষার মর্য়াদা রক্ষার নব অঙ্গীকারের মধ্যেই মাতৃভাষা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।

আমি শেষ করছি, নোবেল বিজয়ী পোলিশ কবি চেশোয়াভ মিউশের My Faithful Mother Tongue কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে :

Faithful mother tongue,
perhaps after all it’s I who must try to save you.
So I will continue to set before you little bowls of colors
bright and pure if possible,
for what is needed in missfortune is a little order and beauty.

বিশ্বস্ত মাতৃভাষা
সম্ভবত শেষাবধি আমাকেই চেষ্টা করতে হবে
তোমাকে বাঁচানোর জন্য
তাই আমি উজ্জ্বল, বিশুদ্ধ রঙের ছোট ছোট পাত্র নিয়ে
তোমার সামনে বসে থাকবো
কারণ দুর্ভাগ্যেও আমাদের প্রয়োজন সামান্য শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য।