গৌতম গুহ রায় > জলপাইগুড়ি ও দেবেশশূন্য বাংলা সাহিত্য >> স্মৃতিকথা

0
215

জলপাইগুড়ি ও দেবেশশূন্য বাংলা সাহিত্য

[এই লেখাটির লেখক কবি গৌতম গুহ রায় থাকেন দেবেশ রায়ের শহর জলপাগুড়িতে। অগ্রজ লেখক দেবেশ রায়ের সঙ্গে অনুজ এই কবির ছিল একধরনের সখ্য।]   

১৯৩৬ থেকে ২০২০ সাল, ৮৪ বছর সংখ্যার হিসেবে পূর্ণ যাপিত জীবন। কিন্তু কিছু কিছু জীবন থাকে যার শূন্যতা যাবতীয় পূর্ণতাকেই শূন্য করে দেয়। দেবেশ রায়, ভারতীয় সাহিত্য বা চিন্তনবিশ্বে সেই শূন্যতা দিয়ে গেলেন, ১৪ মে। সীমান্তের কাটাতারের দুই পারের দুই মানুষ, একই দিনে চলে গেলেন। এপাড় থেকে ওপাড়ে যাওয়া আনিসুজ্জামান আর ওপাড় থেকে এপাড়ে আসা দেবেশ রায়। পাবনার পিতৃপুরুষের ভিটা ছেড়ে দেবেশ রায়ের ঠাকুরদা উমেশচন্দ্র রায় ১৯৪৩ সালে চলে আসেন। এই ‘ভিটা’ নিয়েই, শেকড়ের সন্ধানেই তাঁর সৃজন-মননের যাবতীয় নির্মাণ, স্বপ্ন, কল্পনা। এই শেকড়ের অন্বেষণে ছুটে চলা মানুষটি থামলেন, কিন্তু সত্যিই কি থামলেন? নাকি, যাত্রার পথ বাতলে দিতে রেখে গেলেন তাঁর সাহিত্যসম্ভারকে? আত্মকথায় যিনি লিখেছিলেন, “ঠাকুরদার নাম জানি না – মানুষটি জড়িয়ে আছেন। ঠাকুরদার বাবার নামটাও ঠিক কী জানি না। …ঠাকুরদা থেকে আমি পর্যন্ত যদি তিন প্রজন্ম ধরা যায়, তাহলে বলা যেতে পারে এই তিনপুরুষের বেশিরভাগ সময়েই আমাদের বাড়ি ছিল না। অথচ আমরা, আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেকেই বাড়িমনা। আমাদের সেই বাড়ি, সব সময়ই স্মৃতির বাড়ি। যেন আমরা যে যেখানে আছি, সেটা আমাদের বাড়ি নয়। অন্য কোথাও আমাদের এক বাড়ি আছে। আমরা সেদিক দিয়ে স্মৃতিতাড়িত বংশ। সব সময়ই নিজেদের বাড়ি খুঁজে বেড়াই। ইহুদিদের মতো। কিংবা আফ্রো-আমেরিকানদের মতো। আমাদের বাড়িতে কোনো কোনো দিন না-জানা দেশ থেকে মানুষজন আসতেন, তাঁরা দু-একদিনের মধ্যেই আমাদের সেই আসল দেশটার আভাস দিয়েই চলে যেতেন, কিন্তু তাতে তো এটাই প্রমাণ হত নির্ভুল – আমাদের সত্যিকারের একিটা দেশ আছে।” (আত্মকথা, গায়ে গায়ে বাঁচা, আরম্ভ, জুন ২০১৩)
১৯৫৫-কে প্রকাশকালের সূচনাবিন্দু ধরলে প্রায় সাত দশক ধরে এক ‘কথোয়াল’ আত্মকথনের এক স্বতন্ত্র জগতে পৌঁছেছিলেন, আশি-উর্ধ্ব সাহিত্যিকের এ নিজেরই তৈরি নিজস্ব ভুবন। হিমালয় সন্নিহিত বাংলার তিস্তাপারের এই কথোয়ালের গল্পে মিশে থাকে তাঁর সবাক উপস্থিতি, অভিজ্ঞতার কথা, ক্রমশ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাক কথন আরো মুখরিত। যে বিকল্পহীন একান্তবর্তিতার কথা তাঁর জীবনকথায় তুলে আনছেন সেখানেও থাকে তার সময়ের স্পন্দন, হাসি কান্ন, দ্বন্দ্ব, চলমান সময় তার বৈপরীত্যের সহাবস্থান এবং সংঘর্ষ। দেবেশ রায় তার আত্মকথা – ‘জলের মিনার জাগাও’-তে লিখলেন যে পরিবারের সন্ধনের ভেতরেও সারপ্লাস লেবার আর সারপ্লাস ভ্যালুতত্ত্বের উদাহরণ পান তিনি। আমাদের অভ্যেস নানারকম ক্যাটালগিং করা। ইট-কাঠ-পাথরের ক্যাটালগিং করা জীবন থেকে ফাঁক পেলেই ফিরে আসতে চেয়েছেন তিনি এই ডুয়ার্সের সবুজে। কৈশোরের শহর জলপাইগুড়িতে স্মৃতি হাতড়ে খুঁজে বেড়ানো এই মানুষটার নিজস্ব যে ভুবন, তার বেড়ে ওঠার জগত, এভাবে লিখেছেন সেসব কথা : “দেশ-বিদেশের কোথাও আমার বাড়ির হদিস করলে আমি জলপাইগুড়িই বলি। ম্যাপে জলপাইগুড়ি বের করা মুস্কিল। আমি তখন, পূর্ব হিমালয়ের নেপাল-সিকিম-ভুটানের অপর আঙুল চালাই।”
দেবেশ রায়ের ‘দাদু’ ১৯১৭ সালে জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলের অ্যাসিসটেন্ট হেড মাস্টার হিসেবে অবসর নেন। এই শহরের সঙ্গে তাই তাঁদের তিনপুরুষের টান। পরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এই ‘নাড়ীর টান’-এর শহর থেকে ২০০০ সালের প্রথম দিকে পাকাপাকিভাবে ‘শেকড় ছিঁড়ে’ চলে যান তাঁরা। কিন্তু শেকড় ছেঁড়ার অদ্ভুত যন্ত্রণা তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। তাঁর কথায় সেই যন্ত্রণা টের পাওয়া যেত। প্রতিবছরই তাই এসে ঘুরে যান তার নাড়ীর টানে, গত বর্ষাতেও তেমনি তিস্তা নদী এবং তার মানুষজনের মধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন, বুকভরে শ্বাস নিয়েছেন তাঁর শেকড়ের কাছে। ১৩-১৪ বছর আগে তাঁর আত্মজৈবনিক গদ্যে দেবেশ রায় লিখেছিলেন – “কলকাতার ফ্ল্যাটবাড়িতে আমাদের বিকেলটা-সন্ধেটা একটু নিঝুম। …কাকলি বাড়িতে থাকলে গানের গুঞ্জন শোনা যায় একটু, না থাকলে তা নয়। সেই সময় বাইরের আকাশে সন্ধে হওয়া, রাতপোকাদের প্রথম আওয়াজ ও সকাল জুড়ে পাখিদের দলবাঁধা পারাপার শোনা যায়। ঘরের চেয়ারে বসে-বসেই অনেকটা বেড়ানো যায়। শুনেছি মাত্র বিশধাপ ওপরে বিশাল ছাদ সারা আকাশময় ও ভ্রমণ সম্পন্ন। ঐ বিশটি ধাপ পেরোতে পারি না। দেবেশ রায় তাঁর নানান গদ্যের মধ্য দিয়ে আমাদের ভ্রমণসঙ্গী করেন, খুঁচিয়ে দেন পাঠকের ভ্রমণতৃষ্ণা। নিজেও এই ভ্রমণেই জুড়ে থাকতেন। জীবনসঙ্গী কাকলি রায়, অসাধারণ গাইতেন, তিনি জুড়ে থাকতেন দেবেশ বাবুর নকশিকাঁথার সংসার, সেই কাকলি-দি চলে যাওয়ার পর সম্পূর্ণ একা হয়ে যান তিনি। তাই হয়তো ফাঁকা ফ্ল্যাটবাড়িতে তার দম বন্ধ হয়ে উঠতো। গত ফেব্রুয়ারিতে তার বাসায় যখন এই নিঃসঙ্গ মানুষটির সাথে দেখা করতে যাই, তিনি বললেন, আমাকে জলপাইগুড়ি থাকতে দেবেন? আপনাদের কাছে, আমার নিজের জায়গায়। কিন্তু চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কারণে ছেলের অনুমতি মিলবে না, তাও জানালেন। তবুও কথা হল পূজার লেখালেখির চাপ সামলে নিয়ে তারপর জলপাইগুড়ি আসবেন। কিন্তু সেই শেকড়ের কাছে আসা আর হোলো না তাঁর।
বাংলা গদ্যপাঠকদের স্পর্ধাকে কুর্নিশ করে যিনি লিখিতে পারেন – লেখককে প্রত্যাখ্যান করার শক্তি ও অধিকার লেখকের না থাকলে, পাঠক পাঠক হয় না। আর পাঠককে প্রত্যাখ্যান করার শক্তি ও অধিকার লেখকের না থাকলে, লেখক লেখক হতে পারে না। তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস প্রসঙ্গেও তিনি কোনো কৌশল বা আড়াল রাখেননি, “এই বিশ্বাসটুকু রাখার জন্য এই একটিমাত্র জীবনে কত অবিশ্বাসের সঙ্গে লড়ে যেতে হল আর সে তো সব একটু-আধটু অবিশ্বাস নয়, দেব-দানবের মিলিত শক্তির সমান অবিশ্বাস। মার্কসবাদ এমনই এক নিখাদ বিজ্ঞান যে চাইলেও তার অন্ধ ভক্ত হওয়া সম্ভব নয়। বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় লক্ষণ নির্দিষ্টতা আর নির্দিষ্টতা যদি অনতিক্রম্য হয়, তাহলে সেখান থেকেই তৈরি হয় তার নিত্যসত্যতা।”
মনে পড়ে যায় গত বর্ষায় জলপাইগুড়িতে এক সান্ধ্য আড্ডায় বলা তাঁর কথাগুলো, “আমার উপন্যাস লিখবার একমাত্র কাজ যদি হয় ব্যক্তিকে আত্মশক্তি আর সামাজিক শক্তিতে উদ্দীপ্ত করে তোলা, তাহলে আমাকে আর একটা শক্তিতেও বিশ্বাস করতে হবে। এই শক্তিই ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে। ব্যক্তি, দেশ ও কালের সীমা অতিক্রম করেও সেই শক্তি সক্রিয় থাকতে পারে। আর সেই শক্তি হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টি। ব্যক্তির সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার ইতিহাস আছে, এটা যদি বিশ্বাস করি, তাহলে সেই ইতিহাস যে আরো বড়ো একটা একতাবব্ধ ইতিহাসের অংশ, তাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে।” আমরা এই বিশ্বাসের অনুরণন শুনি তাঁর প্রতিটি বৃত্তান্তে, যেখানে আখ্যান হয়ে ওঠে সময়ের দলিল। কিন্তু আমাদের নিঃস্ব করে দিয়ে চলে গেলেন এই আখ্যানকার।
জন্মেছিলেন ১৯৩৬-এর ১৭ ডিসেম্বর, তৎকালীন পূর্ববঙ্গের পাবনা জেলার বাঘমারা গ্রামে। দেশভাগের আগে, ১৯৪৩-এ সাত বছরের দেবেশ গ্রামের সেই বাড়ি থেকে জলপাইগুড়ি চলে আসেন দাদুর চাকরির ঠিকানায়। ১৯৫২-তে ছাত্র দেবেশ জিলা স্কুল থেকে ফাইনাল পাশ করে আনন্দচন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে সেখান থেকে বাংলায় অনার্স নিয়ে পাশ করেন। ১৯৫৮-তে এম এ পাশ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, এর পর সেই শেকড়ের টানেই আনন্দচন্দ্র কলেজে শিক্ষকতা করতে আসেন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৭৫ সাল – একটানা এই কলেজে অধ্যাপনা করেন, এর পর আবার কলকাতা, সেন্টার ফর সোশয়াল সায়েন্সে যোগ দেন।
উদ্বাস্তু না হয়েও বারংবার আস্তানা পরিবর্তনের বাধ্যবাধকতায় আক্রান্ত দেবেশ রায়কে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে সেই শেকড়ছেঁড়া স্মৃতির যন্ত্রণা। ছোটবেলা থেকেই বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অভিযাত্রা তাঁর, শৈশবের গ্রামের স্মৃতি, কৈশোরের জলপাইগুড়ির ও তিস্তার স্মৃতি, রাজনৈতিক কর্মজীবনের স্মৃতি, সব নিয়ে এক অমূল্য স্মৃতির ভাণ্ডার ছিল তাঁর। এই নিয়েই তাঁর ছিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নির্মাণ – স্তর থেকে স্তরান্তরে উত্তরণ। রাজনৈতিক কর্মীর জীবন তাঁকে পরবর্তীকে জীবনাভিজ্ঞতার রসদ জুগিয়েছে, সেকথা নিজেই বলেছেন, “বাষট্টির চিন-ভারত সীমান্তের ঘটনার ফলে পার্টি যখন ভাঙছে তখন ঘটনাচক্রে জলপাইগুড়িতে আমি প্রায় একক এবং সম্পূর্ণই একা। প্রায় বছর দুয়েক প্রবল রাজনৈতিক, তাত্বিক ও সাংগঠনিক লড়াই গেছে, এটা আমার একটা অদ্ভূত অভিজ্ঞতা। …তত্ব ও তার কাকর চেহারা কি হতে পারে সেটা আমার অভিজ্ঞতার ভেতরে যে স্থায়ীভাবে সেঁধিয়ে গেছে – তার আন্দাজ পাই। …কমিনিস্ট পার্টির ভেতরে থাকার ফলে, খাদ্যসংকটের ফলে, লোকজনের ভিতিরে ঢুকে যাওয়ার ফলে, এখন হয়তো আমি লেখার কোনো কোনো সময় খুব করুণ এবং খারাপ অবস্থাতেই রসিকতা করে ফেলতে পারি। এটা আমার পক্ষে সম্ভবই হত না যদি আমি ওই চালের লাইনের অভিজ্ঞতা ও কমিউনিস্ট পার্টির ভিতর দিয়ে না আসতাম।” উত্তর জনপদের মানুষজনকে, তাদের দৈনন্দিন বাঁচার যুদ্ধ, স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ তিনি প্রত্যক্ষভাবে দেখেছেন। এই অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির ফসল ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’, ‘তিস্তা পুরাণ’-এর মতো ব্যাপ্ত ও বিস্তৃত আখ্যান, অথবা ‘আপাতত শান্তি কল্যাণ হয়ে আছে’, ‘মানুষ খুন করে কেন’র মতো লেখা। আমরা ‘আপাতত’-তে দেখলাম আঞ্চলিক ভাষার আধুনিক প্রয়োগ কীভাবে ঘটতে পারে, তার বাচনের অশ্রুতপূর্বতা ও অজ্ঞাতপূর্বতার মোহ ভেযে আখ্যানের অপরিহার্য অংশ হতে পারে। এইসময় দুই বাংলাতেই আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার, মান্যভাষা, প্রমিত ভাষার প্রয়োগ নিয়ে যে মত, পাল্টা-মত উঠে আসছে, সেখানে দেবেশ রায় হয়ে উঠতে পারেন পথপ্রদর্শক।
দেবেশ রায়ের দাদা দীনেশ রায় সম্পর্কে তিনি বলতেন, বাংলা সাহিত্যের দুর্ভাগ্য যে তাঁর স্বল্পকালীন জীবনে মাত্র তিন-চারটের বেশি উপন্যাস লিখে যেতে পারলেন না। ‘সোনাপদ্মা’ উপন্যাস বা ‘একটি ঐরাবতের মৃত্যু’ দীনেশ রায়ের ক্ষমতার সাক্ষ্য বহন করছে। এই বড় দাদার হাত ধরেই তাঁর লেখালিখির জগতে পদার্পণ বলা যায়। ১৯৫৩-তে জলপাইগুড়ির পত্রিকা ‘জলার্ক’-এ প্রকাশিত ‘নিশিগন্ধা’ তাঁর মুদ্রিত প্রথম লেখা। এর পর তিস্তাকে নিয়ে লেখেন ‘মৃতদংশন ও বিপজ্জনক ঘাট’। এভাবেই তাঁর রাজনীতি থেকে সাহিত্যের অঙ্গনে চলে আসা। এই জলপাইগুড়ি আজ তার গর্বের সন্তানকে হারালো। যে গোটা জীবন বহন করেছেন একটি নদীকে, এই নদীর জল-হাওয়া-মাটির মানুষের স্মৃতিকে। আজ শেষবেলায় তাঁর ভাষাতেই বলতে হয়, “তিস্তা পৃথিবীর যে কোনো নদীর সমস্পর্ধী। এ এক অদ্ভূত বৈপরীত্য। তিস্তা যখন আমাদের ঘরের সিঁড়িতে বা দরজাতেই তখন সে দৈনন্দিনের অংশ হয়ে যায়। সে আর অচেনা থাকে না, আর, যখন সে অচেনা, তখন আর সে দৈনন্দিন থাকে না, জলপাইগুড়ি শহর নিয়ে ও তিস্তা নিয়ে দৈনন্দিন আর অচেনার এই দ্বন্দ্ব আমার মিটল না। …যখন স্মৃতি এসে বাস্তবের দখল নিয়েছে, তখন তো আমার শৈশবের সেই পুকুরগামী জলপ্রপাত দিগন্তগামী হয়েও তিস্তার জলপ্রলয় হয়ে উঠছে। তখন তো আমি আমার শৈশবের জলস্রোতকে ফিরে পেয়েছি। স্মৃতি বড় কঠিন অসুখ। সে আগুনে লোহা গলে যায়।” আজ দেবেশশূন্য বাংলা সাহিত্য স্মৃতি ও সময়ের সব হারানোর কষ্টে নিমিজ্জিত। এ থেকে আশু নিস্তারের পথ নেই।