তুষার আবদুল্লাহ > রনির বিশ্বজোড়া পাঠশালা >> ছোটদের মনবাড়ি

0
304
সৈকতের বালুকাবেলায় সবাই কাঁকড়ার পেছনে দৌঁড়াচ্ছে। দৌঁড়ে হাঁপিয়ে ওঠা ছাড়া উপায় নেই। দলবেঁধে কাঁকড়ারা হয় ঢেউয়ের নিচে গিয়ে লুকোয়, অথবা বালুকাবেলার নকশা ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। রনি একথা ভালোভাবেই জানে। এই সৈকতের প্রতিটি বালুকণা, কাকঁড়া, ঝিনুক, নোনাজল, জলজ উদ্ভিদের কথা ওর জানা। ওরাও জানে রনিকে। নাকি বছর দশকে ভুলে বসে আছে ওকে? এই সৈকত ওকে যেভাবে জানে, এমন করেতো আর কেউ জানে না। রনিই বা নিজেকে কতোটুকু জানে? নিজের কাছে নিজেই জানতে চায় সমুদ্রের ঢেউ ওকে অন্য কোন দেশ থেকে কী ভাসিয়ে নিয়ে এসেছিল? কতো খড়কুটো, ঝিনুক, মাঝিহীন নৌযান ভেসে আসে ঢেউয়ে। নিজেকে রনি’র এমনই মনে হয় কখনো কখনো। কে কবে এই বালুরাশি থেকে ওকে কুড়িয়ে নিয়েছিল জানেনা রনি। যতোটুকু মনে পড়ে, সৈকতে ওর মতো আরো কিছু শিশু ঘুরে ঘুরে পর্যটকদের ফেলে দেয়া খাবার কুড়াতো। হাত পেতেও খাবার চাইতো পর্যটকদের কাছে। কেউ ছুঁড়ে দিতো, কেউ হয়তো ডেকে নিয়ে মায়া করেই দিতো। একদিন এই মায়া থেকেই এক চায়ের দোকানি ওকে ডেকে নেয়। চায়ের গ্লাস-কাপ বালতিতে চুবিয়ে ধোয়ার কাজ। তারপর দোকানে দোকানে চা দিয়ে আসার দায়িত্ব পড়ে। খারাপ ছিলোনা কাজটা। কতো মানুষের সঙ্গে দেখা হতো, কথা হতো। কিন্তু মানুষজন খামোখাই এসে ওকে কিল খুশি মারতো। চর দিয়ে গাল লাল করে দিয়েছে কত দিন। মালিকরা বলতো সবাই নাকি মজা করে ওর সঙ্গে!
একদিন রাতে রনি সৈকতে এসে বসে আছে। পাশে এসে বসলো জাকির। ওর হাতে বই। জাকিরের হাতে বই দেখে অবাকই হয় রনি। জানতে পারে জাকির একটা প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হয়েছে। রনিওতো পড়তে চায়। জাকির বললো ওর সঙ্গে পরদিন স্কুলে যেতে। স্কুলের একজন আপা বললেন, তার বাড়িতে কাজ করলে স্কুলে ভর্তি করে নেবে। আপার শর্তে রাজি হয়ে যায় রনি। তবে বাড়ির কাজ করে স্কুলে আসার সুযোগ আপা দিতেন না বললেই চলে। বাড়িতে রাতে বসে পুরনো বই পড়ে শেষ করতো রনি। তাও দয়া করে ওকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়েছিল । স্কুলেরও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে, রনি প্রথম হয়ে গেল। আপা কেন যেন ওর এই ফলে খুশি হতে পারলেন না। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলেন। অভিমান করে সৈকত শহর ছাড়ে রনি। বাসে, ট্রেনে হেলপার, যাত্রীদের থাপ্পর ও গলাধাক্কা খেতে খেতে সপ্তাহ দুয়েক ঘুরে-ফিরে ও গিয়ে পৌঁছায় উত্তরের এক শহরে। অজানা শহর, অপরিচিত মানুষের মধ্যেও কোথাও ঠাঁই পাচ্ছিল না। রেলস্টেশনে, বাসস্টেশনে কুলির কাজ করে কোনভাবে খাবার খেয়ে বেঁচে থাকা। রাতে ফুটপাতে বসেই বই পড়া। খাবারের টাকা বাঁচিয়ে বই কিনে পড়তে থাকে ও। কুলির বোঝা টানার সময়ও বগলে থাকতো পলিথিনে-মোড়া বই। বোঝা টানতে গিয়েই পরিচয় হয় এক চালকলের ম্যানেজার সঙ্গে। যোগ দেয় চালকলে। কাজ একই, চালের বোঝা মাথায় নিয়ে ট্রাকে তোলা। শরীর আর বয়সের চেয়ে বস্তার ওজন বেশি, তারপরও তিনবেলা খাওয়া, শোয়ার একটু জায়গা আর বইকেনার টাকারতো জোগাড় হয়। চালকলে থাকতেই এস এস সি’র রেজিস্ট্রেশন করে নেয় রনি। ম্যানেজারই রেজিস্ট্রেশনের টাকা দেয়। কাজের চাপ কমিয়ে ওকে পড়ার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু মেট্রিক পরীক্ষার চারদিন আগে ট্রাক থেকে চালের কয়েকটি বস্তা এসে পড়ে রনির ওপর। ওকে উত্তরের সেরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও সুস্থ করা যায়নি। চালকলের লোকজন ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে এনে ফেলে রেখে যায়। কবে ঘাড় সোজা করতে পারবে, সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে, হাঁটতে পারবে ডাক্তাররাও বলতে পারছিলেন না। পঙ্গু হাসপাতালের চার নম্বর ওর্য়াডের সামনের বারান্দা হয়ে যায় যেন ওর স্থায়ী ঠিকানা। প্রায় দুই বছর এখানে থাকতে থাকতে নার্স, ওয়ার্ড বয়দের সঙ্গে খাতির হয়ে যায় রনির। ডাক্তারদের সঙ্গে খাতির হয়। ওর পড়ালেখার আগ্রহ দেখে সবাই পছন্দ করে ওকে। বই এনে দেন নার্স, ওয়ার্ড বয়দের কেউ কেউ। সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াতে দুই বছরই লেগে গেল। হাসপাতালের সবাই বললো, আর কোথায় যাবে –থেকে যাও এখানেই। ওয়ার্ড বয়দের সঙ্গী যায় ও। প্রস্তুতি নেয় এস এস সি দেবার। চাঁদা তুলে ওর ফরম পূরণের টাকার ব্যবস্থা হয়। পরীক্ষায় রনি জিপিএ-৫ পেলো, কিন্তু মনে হলো পুরো পঙ্গু হাসপাতাল এই ফল করেছে। হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয়রা মিলে মিষ্টিমুখের আয়োজন করে। এইচএসিতেও একই আয়োজেন করতে হয়েছিল তাদের। কারণ এবারও রনির ফলাফল জিপিএ -৫। এবার পঙ্গু হাসপাতাল ছাড়তে হয় রনি’র। কারণ ওকে চলে আসতে হয় পদ্মা পাড়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে শুরু করার পর থেকেই টিউশনির টাকা দিয়ে কয়েকজন পথশিশুর পড়ালেখা চালাতো রনি। নিজের খরচ চলে যেতো বৃত্তির টাকায়। পথশিশু ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র-ছাত্রীর পড়ার খরচ চালাতে কষ্ট হলে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতো রনি । সৈকত পাড়ের প্রাইমারী স্কুলে যখন ভর্তির সুযোগ পায়, তখনই ইচ্ছে জেগেছিল বড় হয়ে শিক্ষক হবার। আজ শিক্ষক হয়েই ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এসেছে এই সৈকত পাড়ে শিক্ষাসফরে। রনি’র কাছে সৈকতের এই বালুকাবেলাই তো বাবা, মা। সৈকতের আতুঁড় ঘরেই তো জন্ম হয়েছিল ওর। রনি ওর ছাত্র-ছাত্রীদের বলে- জন্ম যেখানেই হোক না কেন দেখবে বড় হতে হতে কত জনের হাত ধরতে হয় তোমার। কেউ আসবে মা হয়ে, কেউ বুকে তুলে নেবে বাবা হয়ে, শিক্ষক হয়ে আশ্রয় দেবেন কেউ। এর সঙ্গে শুধু তোমার ইচ্ছে আর স্বপ্নটাকে জাগিয়ে রাখতে হবে। দেখবে কোন বাঁধই তোমার ইচ্ছের উচ্ছ্বাসকে আটকাতে পারবে না। জীবনতো সমুদ্রের মতোই । জোয়ার-ভাটা থাকবেই। রনির ছাত্র-ছাত্রীরা এখনো একটি কাঁকড়াও ধরতে পারেনি। ও দৌঁড়ে গিয়ে একটা কাঁকড়া ধরে ফেলে। সবাই ওকে ঘিরে ফেলে। শুধু ওর ছাত্র-ছাত্রীরাই নয়, কাঁকড়ারাও। ওতো কাঁকড়াদেরও আপনজন। রনি গিয়ে বালুকাবেলার একটা নকশা করা ঘরে কাঁকড়াটি ছেড়ে দেয়, যে-ঘরকে একসময় নিজের ঘর বলেই মনে হতো ওর।
সৈকতের বালুকাবেলায় সবাই কাঁকড়ার পেছনে দৌঁড়াচ্ছে। দৌঁড়ে হাঁপিয়ে ওঠা ছাড়া উপায় নেই। দলবেঁধে কাঁকড়ারা হয় ঢেউয়ের নিচে গিয়ে লুকোয়, অথবা বালুকাবেলার নকশা ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। রনি একথা ভালোভাবেই জানে। এই সৈকতের প্রতিটি বালুকণা, কাকঁড়া, ঝিনুক, নোনাজল, জলজ উদ্ভিদের কথা ওর জানা। ওরাও জানে রনি’কে। নাকি বছর দশকে ভুলে বসে আছে ওকে?  এই সৈকত ওকে যেভাবে জানে, এমন করেতো আর কেউ জানে না। রনিই বা নিজেকে  কতোটুকু জানে?  নিজের কাছে নিজেই জানতে চায় সমুদ্রের ঢেউ ওকে অন্য কোন দেশ থেকে  কী ভাসিয়ে নিয়ে এসেছিল? কতো খড়কুটো, ঝিনুক, মাঝিহীন নৌযান  ভেসে আসে ঢেউয়ে। নিজেকে রনি’র এমনই মনে হয় কখনো কখনো। কে কবে এই বালুরাশি থেকে ওকে কুড়িয়ে নিয়েছিল জানেনা রনি। যতোটুকু মনে পড়ে, সৈকতে ওর মতো আরো কিছু শিশু ঘুরে ঘুরে পর্যটকদের ফেলে দেয়া খাবার কুড়াতো। হাত পেতেও  খাবার চাইতো পর্যটকদের কাছে। কেউ ছুঁড়ে দিতো, কেউ হয়তো ডেকে নিয়ে মায়া করেই দিতো। একদিন এই মায়া থেকেই এক চায়ের দোকানি ওকে ডেকে নেয়। চায়ের গ্লাস-কাপ বালতিতে চুবিয়ে ধোয়ার কাজ। তারপর দোকানে দোকানে চা দিয়ে আসার  দায়িত্ব পড়ে। খারাপ ছিলোনা কাজটা। কতো মানুষের সঙ্গে দেখা হতো, কথা হতো। কিন্তু মানুষজন খামোখাই এসে ওকে কিল খুশি মারতো। চর দিয়ে গাল লাল করে দিয়েছে কত দিন। মালিকরা বলতো সবাই নাকি মজা করে ওর সঙ্গে!
একদিন রাতে রনি সৈকতে এসে বসে আছে। পাশে এসে বসলো জাকির। ওর হাতে বই। জাকিরের হাতে বই দেখে অবাকই হয় রনি। জানতে পারে জাকির একটা প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হয়েছে। রনিওতো পড়তে চায়। জাকির বললো ওর সঙ্গে পরদিন স্কুলে যেতে। স্কুলের একজন আপা বললেন, তার বাড়িতে কাজ করলে স্কুলে ভর্তি করে নেবে। আপার শর্তে রাজি হয়ে যায় রনি। তবে বাড়ির কাজ করে স্কুলে আসার সুযোগ আপা দিতেন না বললেই চলে। বাড়িতে রাতে বসে পুরনো বই পড়ে শেষ করতো রনি। তাও দয়া করে ওকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়েছিল । স্কুলেরও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে, রনি প্রথম হয়ে গেল। আপা কেন যেন ওর এই ফলে খুশি হতে পারলেন না। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলেন। অভিমান করে সৈকত শহর ছাড়ে রনি। বাসে, ট্রেনে হেলপার, যাত্রীদের থাপ্পর ও গলাধাক্কা খেতে খেতে সপ্তাহ দুয়েক ঘুরে-ফিরে ও গিয়ে পৌঁছায় উত্তরের এক শহরে। অজানা শহর, অপরিচিত মানুষের মধ্যেও কোথাও ঠাঁই পাচ্ছিল না। রেলস্টেশনে, বাসস্টেশনে কুলির কাজ করে কোনভাবে খাবার খেয়ে বেঁচে থাকা। রাতে ফুটপাতে বসেই বই পড়া। খাবারের টাকা বাঁচিয়ে বই কিনে পড়তে থাকে ও। কুলির বোঝা টানার সময়ও বগলে থাকতো পলিথিনে-মোড়া  বই। বোঝা টানতে গিয়েই পরিচয় হয় এক চালকলের ম্যানেজার সঙ্গে। যোগ দেয় চালকলে। কাজ একই, চালের বোঝা মাথায় নিয়ে ট্রাকে তোলা। শরীর আর বয়সের চেয়ে বস্তার ওজন বেশি, তারপরও তিনবেলা খাওয়া, শোয়ার একটু জায়গা আর বইকেনার টাকারতো জোগাড় হয়। চালকলে থাকতেই এস এস সি’র রেজিস্ট্রেশন করে নেয় রনি। ম্যানেজারই রেজিস্ট্রেশনের টাকা দেয়। কাজের চাপ কমিয়ে ওকে পড়ার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু মেট্রিক পরীক্ষার চারদিন আগে ট্রাক থেকে চালের কয়েকটি বস্তা এসে পড়ে রনির ওপর। ওকে উত্তরের সেরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও সুস্থ করা যায়নি।  চালকলের লোকজন ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে এনে ফেলে রেখে যায়। কবে ঘাড় সোজা করতে পারবে, সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে, হাঁটতে পারবে ডাক্তাররাও বলতে পারছিলেন না। পঙ্গু হাসপাতালের চার নম্বর ওর্য়াডের সামনের বারান্দা হয়ে যায় যেন ওর স্থায়ী ঠিকানা। প্রায় দুই বছর এখানে থাকতে থাকতে নার্স, ওয়ার্ড বয়দের সঙ্গে খাতির হয়ে যায় রনির। ডাক্তারদের সঙ্গে খাতির হয়। ওর পড়ালেখার আগ্রহ দেখে সবাই পছন্দ করে ওকে। বই এনে দেন নার্স, ওয়ার্ড বয়দের কেউ কেউ। সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াতে দুই বছরই লেগে গেল। হাসপাতালের সবাই বললো, আর কোথায় যাবে –থেকে যাও এখানেই। ওয়ার্ড বয়দের সঙ্গী যায় ও। প্রস্তুতি নেয় এস এস সি দেবার।  চাঁদা তুলে ওর ফরম পূরণের টাকার ব্যবস্থা হয়। পরীক্ষায়  রনি জিপিএ-৫ পেলো, কিন্তু মনে হলো পুরো পঙ্গু হাসপাতাল এই ফল করেছে। হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয়রা মিলে মিষ্টিমুখের আয়োজন করে। এইচএসিতেও একই আয়োজেন করতে হয়েছিল তাদের। কারণ এবারও রনির ফলাফল জিপিএ -৫।  এবার পঙ্গু হাসপাতাল ছাড়তে হয় রনি’র। কারণ ওকে চলে আসতে হয় পদ্মা পাড়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে শুরু করার পর থেকেই  টিউশনির টাকা দিয়ে কয়েকজন পথশিশুর পড়ালেখা চালাতো রনি। নিজের খরচ চলে যেতো বৃত্তির টাকায়। পথশিশু ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র-ছাত্রীর পড়ার খরচ চালাতে কষ্ট হলে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতো রনি । সৈকত পাড়ের প্রাইমারী স্কুলে যখন ভর্তির সুযোগ পায়, তখনই ইচ্ছে জেগেছিল বড় হয়ে শিক্ষক হবার। আজ শিক্ষক হয়েই ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এসেছে এই সৈকত পাড়ে শিক্ষাসফরে। রনি’র কাছে সৈকতের এই বালুকাবেলাই তো বাবা, মা। সৈকতের আতুঁড় ঘরেই তো জন্ম হয়েছিল ওর। রনি ওর ছাত্র-ছাত্রীদের বলে- জন্ম যেখানেই হোক না কেন দেখবে বড় হতে হতে কত জনের হাত ধরতে হয় তোমার। কেউ আসবে মা হয়ে, কেউ বুকে তুলে নেবে বাবা হয়ে, শিক্ষক হয়ে আশ্রয় দেবেন কেউ।  এর সঙ্গে শুধু তোমার ইচ্ছে আর স্বপ্নটাকে জাগিয়ে রাখতে হবে। দেখবে কোন বাঁধই তোমার ইচ্ছের উচ্ছ্বাসকে আটকাতে পারবে না। জীবনতো সমুদ্রের মতোই । জোয়ার-ভাটা থাকবেই। রনির ছাত্র-ছাত্রীরা এখনো একটি কাঁকড়াও ধরতে পারেনি। ও দৌঁড়ে গিয়ে একটা কাঁকড়া ধরে ফেলে। সবাই ওকে ঘিরে ফেলে। শুধু ওর ছাত্র-ছাত্রীরাই নয়, কাঁকড়ারাও।  ওতো কাঁকড়াদেরও আপনজন। রনি গিয়ে  বালুকাবেলার একটা  নকশা করা ঘরে কাঁকড়াটি ছেড়ে দেয়, যে-ঘরকে একসময় নিজের ঘর বলেই মনে হতো ওর।