নাহিদ ধ্রুব >> কবিকণ্ঠে কবিতাগুচ্ছ [ভিডিওসহ] >> কবিতা কল্পনালতা

0
240

নাহিদ ধ্রুব >> কবিতাগুচ্ছ [ভিডিওসহ]

কবিকণ্ঠে কবিতা শোনার জন্যে নিচের লিংকটি ক্লিক করুন >>

https://youtu.be/3BfrZiEQpRM

ব্রোকেন

একটি সিগনেচার
আমাকে দাঁড় করায়ে দেয়
কাঠগড়ায়

অজ্ঞাত অপরাধে ঘোরতর শাস্তি

আমার বয়স তখন সাত
ধর্মাবতার —
ধর্মকে বলেন
বেছে নাও
তুমি কার?

আমি একটি ব্রোকেন চাবি
বুঝতে পেরে—
আর তালা খুলতে যাই নাই কোনদিন!

মেমোরিয়াল

আমি এক বিধ্বস্ত নগরী। অনন্তকাল ধরে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছি — প্রিয় কোন পর্যটকের পায়ের ছাপ মুছে ফেলার আশায় …

দ্যা কল অব দ্যা ক্লাউড

দুটো পাহাড়ের মাঝে আদিবাসী মেঘ হয়ে উড়ছি।
প্রাচীন কোন ঝিরিপথে হাজার বছর পর
সফেদ বকের মতো সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে সৌরভ

এইসব দৃশ্যে কোন জড়তা নাই —
ঝর্ণার টানে ভেসে যাচ্ছে গাছেদের ছায়া
সুড়ঙ্গে আটকে পড়া অন্ধকার থেকে
জন্ম নিচ্ছে স্যাঁতস্যাঁতে নীরবতা

এইখানে একদিন তুমিও বেড়াতে এসো —
খুব ভোরে হরিণ দেখার নাম করে
একা একা হারায়ে যেও অরণ্যে

পাহাড়ের গায়ে রেখাচিত্র তোমারে বলবে
চলো আদিবাসী মেঘ হই —
বৃষ্টিতে তো ভিজেছ অনন্তকাল
এবার বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ো পৃথিবীর বুকে…

দ্যা লাস্ট উইশ

তীব্র জ্বরে কেঁপে কেঁপে উঠবে বন। জলপটি দেওয়ার নামে সমস্ত রাত ঝরে যাবে শিশির। এমন রাতে কোথাও কোন পাখি ঘুমাবে না বরং গুনগুন করে গাইবে ঘুমপাড়ানি গান। তবু, তুমি ঘুমায়ে প’ড়ো না — এমন রাতে আশ্চর্য বাতাস বহে।

জানালা ভেঙে আচমকা ফিরে আসুক হিম বাতাসের জীবন, তুমি পূর্ণিমাতিথিতে ভেসে যাওয়া প্লাবন। চারিদিকে উত্তাল ঢেউ উঠবে — বান ডাকবে চরাচরে। মরা কাঠ ধরে তুমি ভেসে যেও ধ্বসে যাওয়া হৃদয়ের কাছে। হাল ছেড়ো না — সমুদ্রে আশ্চর্য ঘূর্ণি আছে।

নিলীন হয়ে বসে থাকবে একখণ্ড জীয়ন্ত মেঘ। পাহাড় থেকে গড়ায়ে পড়বে মাটির ব্যথা। বিরান রোদ্দুরে খেলা করবে পাতার সজীবতা। তুমি পরগাছার মতো ঝুলে থেকো শেকড় ধরে। এইখানে দুটো গাছের মাঝে না বলা গুঞ্জন থাকে।

সমস্ত দৃশ্য ঢুকবে অন্তরঙ্গ হওয়ার ছলে। ঝিমিয়ে পড়া বাস্তবতা অবাক হয়ে তাকাবে — বিদায় থেকে মুছে যাবে কান্নার রঙ, পড়ে থাকবে শেষ নিঃশ্বাসের আগে মনে পড়া অপূর্ণ বেদনার ছাই — সব মিটিয়ে নিও, যেদিন মনে হবে এ জগতে তুমি ছাড়া আর কেহ নাই…

ইনফিনিট ল্যুপ

ভয়েস রেকর্ডারে এখনও জমে আছে আমাদের কিছু কথা —
মুখস্থ হয়ে গেছে — তবুও বারবার শুনি।

অমাবস্যাতিথি

যে মেঘে ঘনিয়ে আসে বেলা
পাখি উড়ে যায় যার কাছে —
তুমি তারে চিনেছ কী বোন?
দূর হতে সন্ধ্যা নেমে আসে…

কুপি হাতে যাই ঘন বনে —
উঠোনে পাহারা দেয় কাক
ঝাউবনে খেয়া পাড়ি দিয়ে
শুনি শুধু নিশুতির ডাক…

বেদনা তোমার ছিল কিছু —
খেলেছিলে কতো লুকোচুরি,
এই বনে তুমি আমি মিলে,
সুতো ছাড়া উড়িয়েছি ঘুড়ি

মেঘ দেখে তুমি চলে যাবে
যেমন গিয়েছে চলে পিতা
তোমার কী পড়ে নাই মনে
এইখানে জ্বলেছিল চিতা

গাছগুলো সব পুড়ে পুড়ে
দাবানলে গেয়েছিল গীত
নিজেরে লুকায়ে তুমি কেন
এইখানে গড়িয়াছ ভীত

বৃষ্টি আসে মৃদু হাওয়া নিয়ে
অন্ধকারে অন্ধ হয় কুপি —
চাঁদটাকে খেয়েছে যে কারা
চারিদিকে অমাবস্যাতিথি

কেমনে তোমারে খুঁজি বলো
মায়ের কবরে এসে থামি —
পিতামাতা পাশাপাশি ঘুমে,
জলের আভাস পেয়ে নামি

মনে হয় ছায়া বড় কাঁদে
দূরে উড়ে যায় শকুনেরা —
কোথায় গিয়েছ একা চলে
রাত্রি করে আসে বিষাদেরা

তাড়া করে এই ঘন বনে —
রাতগুলো মনে হয় শব,
স্বজনেরা চলে গেলে বোন
বেঁচে থাকা কি যে অসম্ভব…