নীলাব্জ চক্রবর্তী >> কীভাবে কবিতায় এবং… কবিতাগুচ্ছ

0
650

কীভাবে কবিতায় এবং…

ছোটবেলায় ছন্দ মিলিয়ে ছড়া-টাইপের বস্তু কোন বাঙালিই-বা না লিখেছে / বানিয়েছে? সারাজীবন সেগুলোকেই অবশ্য কেউ কেউ কবিতা বলে ভেবে / চালাতে যায়, এটাও ঘটনা। আসলে, কবিতা যে ঠিক কী তাই-ই তো জানি না অবশ্য। নিশ্চয়ই ‘কবিতার মতো দেখতে’ হলেই কবিতা, না। শোনা-পড়া একটা-দুটো উদ্ধৃতি… হাহ! সংজ্ঞা? কবিতার! কবিতায় এসেছি কি না, সুতরাং, সে ব্যাপারটাও… অথচ, স্বীকার করতেই হবে, কবিতার মতো ভালো আর কিছুই বাসি না হয়তো… আসলে কবিতার রহস্য ও ইঙ্গিতময়তা… সেইসব কুয়াশা ভালবাসি। ভালবাসি ভেঙে ফেলা সিনট্যাক্সের ভেতর থেকে উঁকি দেওয়া প্রাণ ও পরীক্ষা।
সিলেবাসের বাইরে যে ভুবন… কবিতা… কেন লিখতে ইচ্ছে করে? কবে থেকে? এর নির্দিষ্ট উত্তর, সম্ভবত, সিলেবাসের কাছাকাছিই নিয়ে যেতে পারে। নব্বই দশকের শুরুর দিকের কথা। মাধ্যমিকের সময় অরুণ মিত্রের একটি কবিতা পাঠ্য ছিল। সেটির আলোচনা পড়তে গিয়ে এক জায়গায় ওঁর অন্য একটি কবিতার কয়েকটি লাইন পড়ে ফেলি। আর, থমকে যাই। এরকম! কবিতা! পাঠ্যবইয়ের বাইরে, চেনা কবিতাগুলোর বাইরে এভাবে কবিতা এতদিন! তারপর আস্তে আস্তে আরও পড়তে থাকি। আবিষ্কার ও মুগ্ধতার নানারকম পর্ব। পরিচিত-অপরিচিত, বিখ্যাত-অখ্যাত কত! স্বীকার করি, বহুজনের কবিতা থেকে একটু একটু করে শিখতে ইচ্ছে করেছে কবিতাবোধ, কবিতাভাবনা। কবিতাই কী কবিতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নয়? কত রকমভাবে ফর্ম, বিষয়, শব্দের ব্যবহার, ক্রিয়ার ব্যবহার, ভাষানির্মাণ… এই প্রসঙ্গে আরও স্বীকার করি, কবিতা, বস্তুত; নিভৃত, প্রান্তিক এবং অতি-কুটিরশিল্প। সর্বত্র কবিতা আছে এবং কোথাও কবিতা নেই; এই দুটোই একইসাথে সত্য, মনে হয়। চিরাচরিত মূলধারার কবিতার থেকে ঢের বেশি ভাল লাগতে শুরু করে অন্য কবিতা। হ্যাঁ, অপর। প্রতিকবিতা বলবেন তাকে?

কবিতাগুচ্ছ

দুঃখবোধ

ফাঁপা শব্দেরা
একটা ফিকে সড়ক জুড়ে
টেকনিক্যাল কথাবার্তা
অথচ ভাষা বলে কিছু নেই তখন
ছায়া বলে কিছু নেই
শুধু শুধু ধাতু নামের একটা গুণ
তোমার সাথে
জল ভেবে ঝরে যাওয়া সংখ্যায়
বহুদিন পর মেরুন হচ্ছে
জাম্পকাট
ছুটিদের দিন
ফোটোগ্রাফের ভেতর থেকে যাওয়া ঠাণ্ডা আঙুলদের সঙ্গম
দেখতে দেখতে
কি স্মুদলি একটাই মাত্র দুঃখবোধ
বয়ে যাচ্ছে…

অন্যমনস্কা

ক্ষতের ভেতর কার অন্যমনস্কা বোতাম
ফেলে রাখা
অভ্যাসের ওপর অভ্যাস গেঁথে গেঁথে
আমি খুব পজিটিভ
রাস্তার ভেতর রাস্তা
একটা ধোঁয়ার ভেতর
কার নামের ভেতর চলে যাওয়া
এমন কাঁচের ঘন দিনে
পড়ে যাওয়া
একজন গান
দু’হাতে একটাই ভাষা নিয়ে
আমি তার নীল ব্যবহার
ভাবি
আঙুলের মাপ অবধি
এইসব যাতায়াতের কেমন জন্মদিন হল…

পারস্পেক্টিভ

পারস্পেক্টিভ নামের একটা ঋতু
এই তো জানলা থেকে
ফেলে দেওয়া দিন
লবণে লবণ জুড়তে জুড়তে
শরীর হয়ে এক ব্যবহারের দাগ
মানে
ভাষাদের গাছ
ভা ঙা হ র ফে
আমার কাগজের ভেতর তোমার আয়নায়
কেউ না
আমি
নতুন ব্লেডের সুরে
শুধু শুধু
টেবিল বদল করা ফ্যাকাসে কথাগুলো ভাবি…

শ্রেণী

শ্রেণী
একটা ফিকে অভ্যাস হতে হতে
রাস্তা পার হচ্ছে
একটা ফ্রি-সাইজ বাজার
তবু
গায়ে আঁটছে না
যে মন
খুব স্থির হয়ে
কাঁচের ওপর দিয়ে এবড়োখেবড়ো হাঁটছে এখন
পাখি দিয়ে বানানো একটা দরজা
একটা স্পেস
আরেকটা স্পেসের বদলে
স্তন অবধি
বর্ণমালা উড়ছে শুধু…

চরিত্র

আমি কার খাঁজকাটা ভাষায়
ক্ষত হয়ে উঠি
একটা
চরিত্র হয়ে উঠি ভালবাসতে বাসতে সাদাকালো
ফ্রেম মানে বোতামের ঘর
রঙ ভেবে খুলে রাখতে
দেখতে পাচ্ছি=
সংখ্যারা লঘু হতে হতে
ট্যাক্সি ধরবে বলে
এই
এটা কলকাতা নাকি
ভাঙা ভাঙা
খুব টেকনিক্যাল
একটা গোটা দিন কেমন বেঁকে
সরু চামড়ার ভেতর ঢুকে গেল…