ফারোহা সুহরোয়ার্দ্দী >> চলো পালিয়ে যাই >> ছোটগল্প

0
298

চলো পালিয়ে যাই

ভ্যাপসা গরমে গায়ে জামা রাখা যায় না। দিনে পাঁচ/ছবার লোডশেডিং। অনেক সময় কারেন্টের অভাবে পানির পাম্প চলে না। তোলা পানির যুগ কবেই চলে গেছে। কাজ শেষ, কলে নেই পানি। কয়েকবার এরকম অভিজ্ঞতার পর এখন টয়লেটে মোবাইল ফোন নেবার চল হয়েছে। “হ্যালো, শুনছো, কলে পানি নেই। এদিকে কম্ম সারা। জলদি মোটর অন কর।” বউ বললো, “তুমি মনের সুখে ফেসবুক করো। পানি উঠতে সময় লাগবে।” এসব গা সওয়া হয়ে গেছে। জীবনে এর বেশি আর কী আছে?
এরইমধ্যে বেধে গেল গোল। বলা নেই, কওয়া নেই, এসে গেল বিয়ের দাওয়াত। মামাশশুরের একমাত্র বড় মেয়ের বিয়ে। এইরকম বিয়ে নাকি মানবেতিহাসে বিরল। হ্যালির ধূমকেতুর মতো। পঁচাত্তর বছরে একবার দৃশ্যমান হয়। বিয়ে তো পরের কথা। দাওয়াত বিষয়টা যে এতো রাজসিক আগে বুঝিনি! দাওয়াত পার্টি বাসা থেকে রওনা হবার দুঘণ্টা আগে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলো। যেন আবহাওয়া অফিসের সিগন্যাল নম্বর নয়। মহাবিপদ সংকেত। আমি গভীর সাগর থেকে উপকূলের কাছাকাছি চলে এলাম। হাতে দুইটা থলে।
বিয়ের দাওয়াত গ্রহণের জন্য নাস্তার টেবিলে রাখা হল, কুপার্সের বিস্কুট, ক্যালিফোর্নিয়ার চিজ পাফ, অলিম্পিয়ার নিমকপোড়া, মীনা স্যুইটসের বালুসাই, হাজী করিমের পনির বাকরখানি। এসব খাস্তা খাবার ভিজিয়ে নরম করার জন্য থাকলো মলাই চা, লাল চা, সবুজ চা এবং কাপুচিনো। কীভাবে এরকম একখানা পাত্র খুঁজে পাওয়া গেল, সে ইতিহাস বলতেই একঘণ্টা। ছেলে হাজারে একটা। তবে, ছেলে পক্ষই পেছন পেছন ঘুরঘুর করছিলো। একটু রসিয়ে বললে, যেন “হাগা পোঁদের মাছি।” কিছুতেই ছাড়ে না। ছেলে তো নাছড়বান্দা। এই মেয়ে না পেলে আর বিয়েই করবে না। আর ছেলের বাবা তো মৃত্যুসজ্জ্বায়। ছেলের মা নামাজের পাটি থেকে উঠছেন না। ঘটনার অন্তরা জানতেই, আমার দেড় হাজার খসে গেল। মামিশাশুড়ী গল্প বলতে বলতে হেসে খুন। তাঁর চোখে পানি চলে আসছে। একফাঁকে নিজের বিয়ের কথা বলতে ছাড়লেন না। কীভাবে আমার মামা ওনার পিছনে টিকটিকি লাগিয়ে রেখেছিলেন। পাড়ায় কোনো পাত্র যেন ঢুকতে না পারে। হ্যাংলার মতো কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে থাকতেন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে।
চা-পর্ব শেষ, আমরা ভেবেছিলাম ওনারা বেশ তাড়ায় আছে। কিন্তু লড়াচড়া নেই, ঘূর্ণীঝড় ফনির মতো থম মেরে আছে। অগত্যা আমরা কাকুতিমিনতি করলাম গরীবের পাতে দুটো ডালভাত খাবার জন্য। গররাজি দেখে, আমার বউ খুশিতে টগবগ। ইন দ্য ইয়ার অব নাইন্টিন অস্টিনে, বাংলাদেশ জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন আয়োজন করার সুযোগ পেয়েছিলো, এটা সেরম এক বিরল অর্জন। ফনি দিক পরিবর্তন করে ঊড়িষ্যার দিকে চলে গেছে। আমি বাজারের ব্যাগ হাতে আবার গভীর সমূদ্রে যাত্রা করলাম। পথিমধ্যে বউ জানালো, হাতে সময় কম। তাই সোজা রেস্টুরেন্টে চলে গেলাম। বাটার নান, চিকেন তান্দুরি, রেশমি কাবাব, ফালুদা, চিকেন কাটাকাট, পোলাও, টকমিষ্টি দই, আর লাবাং নিয়ে ফিরে এলাম। কোলকাতার রাস্তায়, লেবুর রস বের করার জন্য কাঠের একটা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। নাম জানা নেই। মনে হল, সেরকম কিছু দিয়ে আমায় চাপ দিয়ে সব রস নিংড়ে ফেলা হচ্ছে। কাল সকালে অফিসে যাবার রিক্সা ভাড়াটা মানি ব্যাগের চিপায় লুকিয়ে রাখলাম।
বাসায় ফিরে দেখি, আড্ডা চরমে। আমার বেডরুমের ছাদ উড়ে যাবার দশা। পাত্রের ছোট চাচার গল্প হচ্ছে। আমার মামিকে দেখে কিভাবে ড্যাব ড্যাব করে তাকাচ্ছিলেন। কী বেহায়া রে বাবা! মামা তো রেগে আগুন। আল্লাহ জানেন, ছেলের কেমন চরিত্র। ওদের ফ্যামিলিতে সুন্দর মেয়ের এত অভাব। কোনটা হয়তো ফর্সা কিন্তু বেঢপ, ছেলের মায়ের নাক-নকশা সুন্দর তবে বডির কোন কাটিং নেই; চাচী শাশুরী যেন তক্তা। আমার মামীশাশুরীর মতো রং, চেহারা, ফিগার, হাইট—চোখেও দেখেনি, ছেলেপক্ষ। বাইরে থেকে কেউ শুনলে মনে করবেন, ওনারই বোধহয় প্রস্তাব এসেছে। গল্প তুঙ্গে, আমি খাবার ঘরের টেবিলে সব সাজিয়ে ওনাদের ডাকতে গেলাম। আমার ডাক শুনে সবাই নড়েচড়ে বসলেন, কিন্তু আমার দিকে কেউ তাকালেন না। আমি মনে হল রেষ্টুরেন্টের বয়। না জানি আড়ালে আমায় নিয়ে কী কথা হয়!
ডাইনিং টেবিলে সব খাবার দেখে ওনারা মহাবিরক্ত। সবাই ডায়াটে আছেন। কেউ কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করছেন, কেউ আছেন কেটোজেনিক ডায়াট প্ল্যানিংয়ে। একটু আগে সবাইকে দেখেছি, মলাই চা-য়ে বাকরখানি ভেজাচ্ছে। এখন নাকি ফাস্টিং চলছে। আমার বউয়ের ছলছল চোখ আর আমার করুণ চেহারা দেখে ওনাদের একটু দয়া হল। মামীশাশুড়ী কণ্ঠে কৃত্রিম শ্লেমা এনে বললেন, “আমার জামাই নিজে টেবিল সাজিয়েছে, আজ কেউ ডায়াটের দোহাই দেবে না। তোমরা শুনে রাখো, ডায়াট মাঝেমধ্যে ডিসকন্টিনিউ করলে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়।” আমার বউ একটা নার্ভাস হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকালো।
চিকেন কাটাকাটে বাটার নানের পিছলে পরা দেখে বোঝা গেল, ডায়াটের নিকুচি হবে আজ। সঙ্গে সমান তালে ছেলেপক্ষের ব্যবচ্ছেদ। রাত এগারোটায় ওনারা গাত্রোত্থান করলেন। মোট ছয়টি অনুষ্ঠান। এরমধ্যে দুটি এক্সক্লুসিভ ফর গার্লস। ইন্ডিয়া থেকে ডিজে আসবে। ডিজাইনারও আসবে। প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা থিমের জামাকাপড়। আলাদা মেক-আপ। পার্লারও ঠিক করে দেয়া হবে। হাতে আছে দেড় মাস। বউ সব মুখস্ত করে নিয়েছে। গ্রামে জমিজমা থাকলে বিক্রি করে ব্যবস্থা করা যেত। সেরকম কোন কিছুও নেই। পেয়ালার গায়ে কাটাকাটের ঝোল লেগে ছিলো, সেটায় মাখিয়ে কিছুটা বাটার নান চিবিয়ে, আল্লাহ ভরসা বলে ঘুমাতে গেলাম। যতক্ষণ জেগে ছিলাম শুনতে পেলাম বউ, মামাতো বোনের সঙ্গে ফোনে ব্যস্ত। পুরো বাক্য নয়, খণ্ড খণ্ড খাপছাড়া কথা কানে এল। মোহিত ক্রিয়েশন, পার্টিওয়্যার রেঙ্গুলি, দিপাক পারওয়ানী, শামিল সিতারা, ফিদার্ড হেয়ার, ববি ব্রাউন, টম ফোর্ড বিউটি, গুচি, মিউ মিউ। সব যেন ড্যান ব্রাউনের দা ভিঞ্চি কোড।
আমি বোকাসোকা মানুষ। গরীব বাবার সন্তান। কখনও দামি জামাকাপড় চোখেও দেখিনি। দেখার দরকারও মনে করিনি। শুধু এটুকু বুঝি, মানুষের চেয়ে দামি কিছু নেই। কিন্তু এসব মিষ্টি কথায় তো সমাজ চলবে না। টাকা জোগাড় করতে হবে। এবার মনে হচ্ছে ব্যাংক ডাকাতি করা লাগবে। আরেকটা কথা তো মাথাতেই আসেনি, বিয়ের গিফট কী হবে? ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়েছি টেরই পাইনি।
সকালে স্বামী-স্ত্রী একটু প্রাতঃভ্রমণ করার অভ্যাস আছে। গত বছর, কারওয়ান বাজারের ওখানে একটা অস্থায়ী জুতোর দোকান থেকে ৬০% ডিসকাউন্টে দুজোড়া রানিং সু কিনেছিলাম। একটু ডিফেক্ট থাকলেও পায়ে দিয়ে আরাম। মিয়া-বিবি বেশ ভাব নিয়ে ধানমন্ডি লেকের চারপাশ দিয়ে হাঁটা। সাধারণত হাঁটার সময় আমরা কথা বলি না। আজ একটু ব্যতিক্রম। বিয়ের দাওয়াতের প্রসঙ্গ এলে বউ হেসে ফেল্ল। আমি তো অবাক! ব্যাপার কী? দুশ্চিন্তায় আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। আর ও হাসছে।
আমার দিকে মিষ্টি হেসে বললো, “তুমি কি ভেবেছ আমি এ বিয়েতে যাবো? ইচ্ছা ছিলো একবার দাওয়াত করে খাওয়ানোর, আজকে সেটা হয়ে গেল। তোমার অনেক খরচ হয়ে গেল। বিশ্বাস করো, আমি চাইনি। আমার জমানো টাকা দিয়ে এত দিন ঠ্যাকা দিয়েছি। সেসব এখন শেষ। মন থেকে কোনদিন চাইনি তোমার কষ্টের টাকায় আমার গুষ্টিকে খাওয়াতে। তুমি কিছু মনে রেখ না। মা এবারের ঈদে যে হাতখরচ দেবে, সেখান থেকে ধার শোধ করে দেব।”
সূচিত্রার কথায় কোথায় যেন একটা খোঁচা টের পেলাম। আমার আমি যেন একটা ধাক্কা খেলাম। শিশুপার্কে বাচ্চাদের গাড়িগুলো যেমন একটা আরেকটাকে ধাক্কা দেয়। অ্যাকসিডেন্ট কিন্তু, অ্যাকসিডেন্ট নয়। মজা পায় শিশুরা।
আমার কি তবে হাসা উচিত? বোকার মতো হেসে তাকালাম। সূচি বলল, “তোমার এই পাগল করা হাসিটা যদি বিক্রি করতে পারতাম? আমি বড়লোক হয়ে যেতাম। পার হাসি, ফিফটি ডলার। বাই ওয়ান, গেট ওয়ান ফ্রি। অনলাইনে কিনলে, ফ্রি রিটার্ন পলিসি। ভালো না লাগলে দাম ফেরত। সেগুলো আমি রেখে দিতাম।”
আমার মাথার খুলির মধ্যে মগজগুলো মনে হচ্ছে গলে কানের ফুঁটো দিয়ে গড়িয়ে পরবে। নাক দিয়ে পারবে না, কারণ ঠান্ডা-গরমে কদিন নাক বন্ধ। আমি বুঝতে পারছি না এরপর কী বলবো। এভাবে কখনও বলতে শুনিনি। কখনোই না। এসব কি খোঁচা, নাকি আফসোস। নাকি হাস্যরস?
আমি সাহস করে জিগ্যেস করলাম, “তুমি এসব কি বলছো, আমি মজা পাচ্ছি না।” আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বউ বলল, “গত বাইশ বছর আমার বন্ধু, আত্নীয়-স্বজন এসব বলছে। আমিও এসবের উত্তর জানি না। মজাও পাই না। বাদ দাও, চলো আজ রিক্সায় চড়ে বাসায় যাই।” রিক্সায় দুজন দুদিকে তাকিয়ে বসে থাকলাম। মনে হচ্ছে শেয়ারে চলছি। আজই আমাদের প্রথম দেখা।
রোদ নেই। কিন্তু একফোঁটা বাতাসও নেই। গাছের পাতাও নড়ে না। আড়চোখে দেখলাম, সূচির চোখে মুক্তাদানার মতো বড় বড় ফোঁটা। আমি মুছিয়ে দিতে ভয় পেলাম। বউ যেন অচেনা মানুষ। যোজন যোজন দুরের কেউ। সেখানে পৌঁছাতে আমার রকেট লাগবে। রকেট চড়ার পয়সা নেই আমার। তাই কখনো পৌঁছাতেও পারবো না। পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরালাম। ধোঁয়া ছেড়ে দেখি, সূচিত্রা নাক কুঁচকে বিরক্তি দেখাচ্ছে। আমি তাড়াতাড়ি সেটা নিভিয়ে বাক্সে ভরে ফেললাম। সিনেমা স্টাইলে একটা সিগারেট ছুঁড়ে ফেলে বিলাসিতা করার সামর্থও নেই আমার। অথচ বিয়ে করে বসেছি, বাবার একমাত্র মেয়েকে। এখন ঠ্যালা সামলাও!
বউ তাহলে গত বাইশ বছর আমার সঙ্গে অভিনয় করে যাচ্ছে? প্রথম দিনই কেন বলেনি, এত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে আমাকে নিয়ে। এত আফসোস নিয়ে আমার অভাবের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। আমি গলা খাকারি দিয়ে সূচির দিকে তাকালাম। “আমি বুঝতে পারছি তুমি কী বলবা। প্লিজ আজ এসব থাক। অনেক হয়েছে।” আমি তো অবাক। আমার মনের কথা কীভাবে জেনে গেল। রিক্সা জিগাতলা বাসস্টপেজ পার হয়ে গলির মধ্যে ঢুকেছে। নতুন দুটো রেস্তোঁরা হয়েছে, আগে চোখে পড়েনি। একটা বেশ ওয়েস্টার্ন, অন্যটা ঢাকাইয়া। আরেকটু সামনে রাস্তার দুপারে ভ্যানে বাজার বসেছে। এরা আমার খুব প্রিয়। সন্ধ্যায় অফিস সেরে বাসায় ফেরার সময়, সকালের বাসি-শুকিয়ে যাওয়া সবজি সস্তায় কিনে আমি বউকে বোঝানোর চেষ্টা করি। বলি এসব সবজি একদম তাজা। এখনো পানি দিয়ে, কৃত্রিম রং দিয়ে সাজানো হয়নি। বউ মন দিয়ে শোনে, মাথা নাড়ে। আমি কতো বোকা, ও যে সব বোঝে, আমি বুঝি না।
রিক্সা ডান দিকে ঘুরলে এলাকার মিষ্টির দোকান। ময়দার লাড্ডু চিনির শিরায় ডুবিয়ে রেখে, সেসব রসগোল্লা বলে বিক্রি হয়, কেজি দুশো টাকায়। বাসায় মেহমান এলে, আমি এখান থেকেই আধা কেজি সাদা-লাল মিষ্টি কিনি। মেহমান কখনোই সেই মিষ্টি খেয়েছেন, আমার মনে পরে না। পরের দিন সকালে ওই বস্তু দিয়ে লাল আটার রুটি খেয়ে, আমি অফিস যাই। অসীম কৃতজ্ঞতা এই দোকানের প্রতি। এই এলাকার কোথায় কোথায় সস্তায় কোন জিনিস পাওয়া যাবে আমার সব মুখস্থ। সূচি নিশ্চয়ই সব জানে। জেনেও না জানার ভান করে থাকে। আমাকে করুণা করে সব মেনে নেয়। আমি বোকা কিছুই বুঝি না।
রিক্সা বাসার গেটে থামলো। ভাড়া দিয়ে নামলাম, সূচি বসেই রইল। তাগাদা দিলাম। অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। আমাকে যেন শুনতেই পাচ্ছে না। আস্তে করে হাত ছুঁয়ে বললাম, কই নামো। এক ঝটকায় হাত সরিয়ে, নেমে হনহন করে হেঁটে ঘরে ঢুকে গেল। আমি এরকম কখনো দেখিনি। দেখতে হবে, তাও ভাবিনি।

মামাতো বোনের সঙ্গে কথা সেরে, সূচি যখন ঘুমাতে এলো ততক্ষণে বিপুল ঘুমিয়ে কাদা। লোকটার চেহারায় বড় মায়া। সোজা-সাপটা, নরম মানুষ। সূচির ফ্যামিলিতে এ এক আলাদা চরিত্র। প্রাগৈতিহাসিক কালে জন্মালে, এর প্রতিমা গড়ে মানুষ পুজো দিতো। এখন এরা বিরল প্রজাতির প্রাণী। এই মানুষটাকে আগলে রাখা খুব সহজ না, সূচি জানে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে কখন যেন কে ছোট করে বসে, এই দুশ্চিন্তায় কোথাও গিয়ে স্বস্তি পায় না সূচি। বন্ধ পাতার নিচে চোখের মনিটা অনবরত নড়ছে। এর মানে বিপুল স্বপ্ন দেখছে, নিশ্চয়ই খারাপ স্বপ্ন। বা মন খারাপের স্বপ্ন। ঘুম থেকে জাগিয়ে দিলেই হয়। কিন্তু আরামের ঘুম ভাঙাতে মন চাইছে না। আবার মন চাইছে বিপুল বড় বড় চোখ মেলে দেখুক। ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসি নিয়ে জেগে উঠুক ভালো মানুষটা, হাজার সূর্যের আলো নিয়ে।

নিঃশব্দ রাতে, কোথায় যেন একটা তক্ষক ডেকে উঠলো। বুকের মধ্যে হাহাকার করা এই রাতে সূচির ইচ্ছে হচ্ছে বিপুলকে ডেকে গান শোনাতে। কোলে মাথা রেখে আকাশের তারা দেখতে। মন চাইছে, কানে কানে ফিসফিস করে বলতে, “চলো পালিয়ে যাই এই জঙ্গল থেকে, সত্যিকার জঙ্গলে।”