ভাইরাস ভারাক্রান্ত পদাবলী > ভাষান্তর : মঈনুস সুলতান >> বিশেষ সংখ্যা করোনার দিনে

0
543

ভাইরাস ভারাক্রান্ত পদাবলী

পেনডেমিক প্রভাবিত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক জন কবি তাঁদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন কবিতায়। অন্তর্জাল থেকে চয়ন করা এ-ধরনের দুটি কবিতার ভাবানুবাদ কবিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ উপস্থাপিত হল। প্রথম কবিতাটির রচয়িতা কবি লোরেন ডালে পেশায় ফ্রিল্যান্স লেখক। দ্বিতীয় কবিতাটি লিখেছেন কবি লিন উনগার, পেশায় ধর্মযাজক।

লোরেন ডালে >> দুঃসময়ে ধ্যান

কবি পরিচিতি

ম্যাসাচুসেটসের পদক-প্রাপ্ত সংবাদিক ও কবি লোরেন ডালে ফ্রিল্যান্স লেখক হিসাবে সমধিক খ্যাত। দ্য বস্টন গ্লোভ পত্রিকায় কবি নিয়মিত ভ্রমণ ও সংগীত বিষয়ক রচনা প্রকাশ করে থাকেন। দ্য স্ট্যান্ডার্ড টাইমস্ অব নিউ বেডফোর্ড পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লেখেন আর্টস বুক শিরোনামে পুস্তক সমালোচনা বিষয়ক কলাম। তাঁর তোলা আলোকচিত্র একাধিক পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। নিচে কবির সম্প্রতি রচিত ‘মেডিটেশন ইন ইমারিজেন্সি’ কবিতারটির ভাবানুবাদ উপস্থাপিত হল।

নিশ্বাস নাও… ধীরে ছাড়ো প্রশ্বাস
সময় এসেছে নিজের নিভৃতে একথাটি বলার
ছড়াচ্ছে ত্রাস,
গন্তব্য নেই – রুদ্ধ হয়েছে পথ চলার।
কারণ – তাকানো যাচ্ছে না পত্রিকার পাতায়
শিরোনামে ছড়াচ্ছে ভয়ার্ত সংবাদ,
মনে হয় শেষ হয়ে যাচ্ছে পৃথিবী – এসেছে অন্তিম
অর্থহীন এ পরিস্থিতির প্রতিবাদ;
কারণ – ঘুরে ঘুরে দেখি আমি দোকানপাটের শূন্য শেল্ফ – পণ্যহীন
সীমের বীজ থেকে চাল – মুহূর্তে শেষ হয়েছে সবকিছু
রাতারাতি বয়স বেড়ে দোকানিকেও দেখাচ্ছে প্রবীন।
স্তব্ধ হয়েছে সংগীতের সুস্মিত কোলাহল
জাদুঘরের দুয়ার হয়েছে বন্ধ,
খেলার মাঠে দর্শক নেই
পুষ্প থেকেও উবে গেছে সুগন্ধ।
মনে হয় অবক্ষয়ে ধ্বসে গেছে শোভন সৌন্দর্য
পর্দান্তরালে চলে গেছে সামাজিক সন্মান,
ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে অধৈর্য
নিঃশ্বাস ফেলতে পারছি না আমরা
রুদ্ধ হয়েছে পাখির কলতান।
ছড়াচ্ছে ত্রাস
নিশ্বাস নাও… ধীরে ছাড়ো প্রশ্বাস।

লিন উনগার >> মহামারি

কবি পরিচিতি

কবি লিন উনগার-এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ব্লেসিং দ্য ব্রেড’, প্রকাশের পর পর তিনি শুধু খ্যাতিই অর্জন করেননি, সাথে সাথে তাঁর জুটে যায় বেশকিছু গুণমুগ্ধ পাঠকও। পেশাগত জীবনে কবি ধর্মযাজক। অবসরে তিনি পোষা কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেন। এ প্রশিক্ষণের একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, কুকুরকে সংগীতের তালবাদ্যের সঙ্গে নৃত্য করতে শেখান তিনি। কবি সানফ্রানসিসকোর বে এলাকায় তাঁর কিশোরী কন্যা, দুটি কুকুর ও একটি বিড়াল নিয়ে বসবাস করেন। নিচে তাঁর একটি কবিতার অনুবাদ উপস্থাপিত হচ্ছে। কবিতাটি সম্প্রতি প্রচারিত হয় ইন্টারনেটের সায়েন্স ও ননডুয়ালিটি ওয়েবসাইটে।

কী রকম হয়- মহামারির পরিস্থিতিকে তুমি যদি বিবেচনা করো
ইহুদিদের সবচেয়ে পবিত্র সাবাথ অনুষ্ঠানের মতো
যখন বিরত থাকতে হয় ভ্রমণ থেকে
বিরত থাকতে হয় কেনাকাটা ও বিক্রিবাট্টার বেসাতি থেকে
কিছু অভ্যাসকে বিসর্জন দাও
অন্তত কিছুদিনের জন্য আপাতত
চেষ্টা করো – যাতে তোমার বিশ্ব হয়ে ওঠে
যা ছিলো তার চেয়ে ভিন্ন।

প্রাণ খুলে গান গাও – প্রার্থনা করো
যাদের প্রতি উৎসর্গীকৃত তোমার জীবন
অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে স্পর্শ করো শুধু তাদের
তাকাও – একবার – নিজরে গহন গভীরে
এবং যদি তোমার শরীর হয়ে আসে সম্পূর্ণ নিথর
হৃদয় দিয়ে স্পর্শ করো তাদের।

সচেতন হও – আমাদের পারষ্পরিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে
আমাদের জীবন এমনভাবে জড়িয়ে আছে
ভিন্ন প্রকৃতির হরেক মানুষের দিনযাপনে
যা একই সাথে সুন্দর ও বিপদজ্জনক –
এটা কী বুঝতে পারো – জেনে রাখো
আমাদের পরষ্পরিক নির্ভরশীলতার বুনন এতটা জটিল যে
আমাদের জীবন ও মৃত্যু একে অপরের হাতে
(মনে হয় বিষয়টা এবার ভালোভাবে পরিষ্কার হয়েছে)

হাত বাড়িয়ে কাউকে ছোঁবে না
তবে স্পর্শ করো তোমার হৃদয় দিয়ে
স্পর্শ করো কথা দিয়ে;

যা ছুঁতে পারো না
যেখানে পৌঁছতে পারো না
সেখানে ভালোবাসার অদৃশ্য শিরা-উপশিরা ছড়িয়ে অনুভব করো।
পরিস্থিতি ভালো বা মন্দ যাই হোক
সুস্থতায় ও রোগজর্জর অবস্থায়
পৃথিবীর কাছে অঙ্গীকার করো তোমার ভালোবাসা
যতোক্ষণ না বেঁচে-বর্তে আছে সবাই।

অনুবাদক পরিচিতি

ভ্রমণ-লেখক, ছোটগল্পকার ও অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিমান। পেশায় শিক্ষা-বিশেষজ্ঞ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।