মনোয়ার মোকাররম > লক্ষ্ণৌ : অর্ধেক ইতিহাস অর্ধেক বর্তমান (শেষ পর্ব) >> ভ্রমণ

0
137
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও বড়া ইমামবাড়া অনন্য। এর প্রধান বৈশিষ্ট হল কোনও স্তম্ভের ব্যবহার ছাড়াই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এত বড় ভবন যেন ভেঙে না যায় সেইজন্য অনেকগুলো দেয়াল তুলে এর ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে তৈরি হয়েছে ভুলভুলাইয়া বা গোলক ধাঁধা, যা পর্যটকদের আকর্ষণের প্রধান অনুষঙ্গ। এখান থেকে  গাইডের সাহায্য ছাড়া বের হওয়া প্রায় অসম্ভব। কথিত আছে, নবাব নাকি বেগমদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতেন এখানে। এই ইমামবাড়া থেকেই নাকি সেই প্রবাদের উদ্ভব হয়েছে যে, দিওয়ার ও কো ভি কান হোতা হ্যাঁয়, মানে দেয়ালেরও কান আছে। এর দেয়াল তৈরিতে বিশেষ কয়লার মিশ্রণ ব্যাবহার করা হয়েছে, এতে করে প্রাসাদের যে কোন পাশ থেকে কিছু বললে, অন্য পাশে সেটার প্রতিধ্বনি হয়ে শুনতে পাওয়া যায়। অনেকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাসাদের প্রহরীরা যাতে নবাব পরিবারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, তার জন্য এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কাছাকাছিই দেখা মিলবে শাহি বাওলির, বাউলি মানে কুয়া। এখানে স্বচ্ছ পানির বিশাল এক কুয়োকে ঘিরে রয়েছে তিনতলা উচ্চতার এক মনোমুগ্ধকর ইমারত। এই কুয়াকে তুলনা করা হয় শত বছরের পুরান প্রাকৃতিক সিসি ক্যামেরা হিসেবে। এমনভাবে তৈরি এই কুয়া বা বাউলি যে বাইরে থেকে কেউ প্রাসাদের ভিতরে প্রবেশ করলেই তার প্রতিবিম্ব দেখা যাবে বাউলি বা কুয়ার পানিতে। প্রাসাদের ভিতরে বহিরাগত বা শত্রুর উপস্থিতি জানতেই এই সিসি ক্যামেরা সদৃশ কুয়া নির্মাণ করা হয়। ভাবা যায় কীরকম প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল প্রাসাদের ভিতর! ডানদিকে পড়বে আসাফি মসজিদ। মসজিদের একটা ছবি তুললাম। বিকেলে আলোতে অভূতুপূর্ব এক রূপ ধরা পড়লো আমার মোবাইল ক্যামেরায়।

স্থাপত্য সৌন্দর্য্য, নির্মাণশৈলী এবং নিরাপত্তা সুরক্ষা, সব মিলিয়েই লক্ষ্ণৌ নগরীর পরিচিতি গড়ে উঠেছে এই ইমারত – বড়া ইমামবাড়াকে কেন্দ্র করে। স্বাভাবিকভাবেই, প্রচুর দর্শনার্থী সমাগম দেখলাম মে’র প্রথম সপ্তাহের এই তীব্র গরমের মধ্যেও। নতুন যারা এসেছে আমার মতো তারা ঘুরে ঘুরে এদিক-ওদিক মাথা উঁচিয়ে দেখছে এর বিভিন্ন কাঠামো, ছবি তুলছে, আর যারা এখানকার, তারা এখানে সেখানে বসে আছে। কেউ এসেছে অবসর সময় কাটানোর জন্য, কেউ এসেছে আবার যুগল সময় কাটানোর জন্যে! ডেটিং স্পটও বলা যায়!
বড় ইমামবাড়ার গেট পেরিয়ে সড়কে আসতে দেখি দাঁড়িয়ে আছে এক ঘোড়ার গাড়ি, তবে আমরা যে ধরনের ঘোড়ার গাড়ি দেখি সেরকম না। যাত্রীর বসার জায়গা ভ্যান রিকশার মতো খুব ছোট, মাথার উপর ছোট্ট একটুখানি অনাড়ম্বর ছাউনি। এই সেই লক্ষ্ণৌর বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী ও একসময়ের জনপ্রিয় বাহন, ঘোড়ায় টানা গাড়ি, স্থানীয়ভাবে যাকে বলে টাঙ্গা। এর ঘোড়া ও চালককে দেখে মনে হয় আড়াইশ–তিনশ বছর হয়তো খুব বেশি সময় নয়! ছাউনির ভিতরে অলসভাবে বসে আছে টাঙ্গার চালক। যাত্রী খুব একটা পায় বলে মনে হয় না। শখ করে কেউ যদি ওঠে। চালকের চোখে-মুখে কেমন একটা অলস স্থবিরতা। অথচ এই শহর মোটেও স্থবির নয়, তাদের পাশ দিয়ে সাঁই সাঁই করে রাস্তার দুপাশে ছুটে চলেছে যাত্রীভর্তি মোটরচালিত গাড়ি, অটো, রিকশা। কালের বিবর্তনে টাঙ্গা এখনো টিকে আছে, তবে সেটা যতটা না প্রয়োজনে, তার চাইতে সম্ভবত বেশি ঐতিহ্য রক্ষার্থে। বড় ইমামবাড়ার পর রুমি দরওয়াজা পেরিয়ে একটু যেতেই আরেকটি সুদৃশ্য ইমারত। গাড়িতে বসে চোখে পড়লো। পাণ্ডে সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি জানালেন, ছোটা ইমামবাড়া। ড্রাইভার বললো, বড়া ইমামবাড়া দেখা হয়ে গেছে, ছোটা ইমামবাড়া পরে সময় থাকলে দেখা যাবে, এখন অন্য কিছু দেখা যাক।
ততক্ষণে দিনের আলো নিভতে শুরু করেছে। শহীদ স্মৃতি পার্কের পাশ দিয়ে যেতে যেতেই সমস্ত দিনের ক্লান্তি শেষে ঝুপ করে যেন এক রাশ মলিন অন্ধকার নেমে এলো নগরীর বুকে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই এই শহর অন্য এক সৌন্দর্য নিয়ে ধরা দিল। পুরো শহর যেন এক আলোকিত নগরী। পাণ্ডে সাহেবকে জিজ্ঞেস করতেই বললেন, সারা শহরেই এমন আলোকসজ্জা দেখা যাবে। পরদিন লোকসভা নির্বাচনের কারণে এমন আলোকসজ্জা কিনা প্রশ্ন করতে বললেন, সেটা একটা কারণ বটে, তবে এছাড়াও সারা বছরই লক্ষ্ণৌ নগরী আলোকসজ্জিত থাকে। দেখে মনে হচ্ছে যেন আলোর নগরী। দোকান, শপিং মল, রাস্তার বিদ্যুতের খুটি, স্থাপনা, ইমারত সবকিছু যেন আলোয় মোড়ানো, দিল্লিতে যেটা দেখা যায় রিপাবলিক ডে’র রাতে। সত্যি অভাবনীয়। আলোয় মোড়ানো লক্ষ্ণৌ বিশ্ববিদ্যালয় দেখলাম। সবশেষে গেলাম গোমতি নদীর তীরে আম্বেদকার (ভারতের সংবিধান রচয়িতার নামে নাম) পার্কে। দিনের বেলা অবশ্য এয়ারপোর্ট থেকে গেস্ট হাউসে যাবার পথে একবার গাড়ি থেকে দেখেছি। তবে রাতের বেলা সেখান থেকে গোমতির দৃশ্য নাকি অভূতপূর্ব লাগে। আম্বেদকার পার্ক রাতের আলোকসজ্জ্বায় অদ্ভুত সাজে সেজেছে। একটু ঘুরে গেলাম সেখানে, যেখান থেকে গোমতি নদী দেখা যায়। ব্রিজের আলোকসজ্জা গোমতি নদীর বুকে প্রতিফলনে যেন নৈসর্গিক রূপ ধারণ করেছে, মনে হচ্ছে অজস্র নক্ষত্র গোমতির বুকে জলনৃত্য করছে। কে জানে বিকেলের নরম রোদে কিংবা সন্ধ্যার আলো-ছায়ায় নবাবরাও হয়তো গোমতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসতেন। পুরনো সেই যে প্রবাদ, সেই রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই-এর মতো সেই নবাবরাও নেই, নেই সেই নবাবি হাল-চাল, কিন্তু গোমতি আছে, সকল সুখ-দুঃখ আর পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে গোমতি নদী আছে কালের মহাসাক্ষী হয়ে, থাকবেও। যখন নবাব আসফউদদৌলা এখানে এসেছিলেন, তার আগমনের স্বাক্ষী হয়ে গোমতি ছিল। লক্ষ্ণৌর শেষ নবাব সিংহাসনচ্যুত ওয়াজেদ আলী শাহকে যখন তার প্রিয় শহর থেকে ইংরেজ শাসকগণ বিতাড়িত করেন, নবাব মিছিল করে শহরের কয়েকটি পল্লী ভ্রমণ করে জলপথে রওয়ানা হলেন কলকাতার দিকে। একজন নবাবের মুখ যে কত করুণ হতে পারে তা ওয়াজেদ আলী শাহের মুখ না দেখে থাকলে কেউ হয়তো কল্পনাও করতে পারবে না, আমাদের পক্ষেও তা সম্ভব নয়, তবে এই গোমতি নদী তার সাক্ষী, সে জানে বিদায় কত করুণ হতে পারে।
অনেকটা রাত হয়ে যাওয়াতে আর ওদিকে দ্বীনদয়াল খাবার নিয়ে অপেক্ষা করছে ভেবে আর দেরি করলাম না, গোমতি নদীকে একা ফেলে গেস্ট হাউসের দিকে রওয়ানা দিলাম। সারাদিন ভ্রমণ শেষে অনেকটাই ক্লান্ত ছিলাম দ্বীনদয়ালের ভেজ খাবার অমৃতসম মনে হচ্ছিল। উপরন্তু পনির দিয়ে সে আরেকটা কী যেন ভুনার মতো রেঁধেছে, সেটা খুবই ভালো লাগল।

পরদিন সারা দিন আর ফুরসত মিলেনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজে ব্যস্ত ছিলাম। সন্ধ্যার শেষে দ্বীনদয়ালকে আর কোন সুযোগ না দিয়ে বলে দিলাম আজ লক্ষ্ণৌর বিখ্যাত রসনা চেখে দেখবো, সুতরাং রাতে গেস্ট হাউসে খাব না। আগেই খোঁজ নিয়ে এসেছি, লক্ষ্ণৌ ঘরানার রান্নার খ্যাতি দেশ জুড়ে। খাদ্যরসিকদের জন্য শহরে রয়েছে বেশকিছু ভালো রেস্তোরাঁ। লক্ষনৌর রসনাও বস্তুত নবাবদেরই অবদান। ভোজনবিলাসী নবাবরা তাদের রসুইঘরের বাবুর্চিদের দিয়ে অভিজাত ঘরানার খাবার তৈরি করাতেন। নবাবদের রসুই ঘর থেকেই এসেছে আজকের বিখ্যাত কাবাব ও বিরিয়ানির সুঘ্রাণ। সিংহাসনচ্যুত হয়ে নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ যখন কলকাতায় চলে গেলেন, তখন সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন রাজ-বাবুর্চিদের বিশাল বহর, এভাবে লক্ষ্ণৌর রসনা ছড়িয়ে পড়ে কলকাতা, ওরিষ্যাসহ উপমহাদেশের আরো অন্যান্য জায়গায়। লক্ষ্ণৌর কাবাবের কথা বললে একনামে সবাই যাকে চেনে সে হচ্ছে ‘টুন্ডে কাবাবি’। এর তিনটি শাখা আছে শহরে, এর মধ্যে সবচাইতে প্রসিদ্ধ হচ্ছে আমিনাবাদের ব্রাঞ্চটি। এই আমিনাবাদ হচ্ছে পুরান লক্ষ্ণৌতে। শুধু টুন্ডে কাবাবই নয়, পুরান লক্ষ্ণৌর আমেজ পেতে হলে আপনাকে এই আমিনাবাদেই আসতে হবে। আমিনাবাদ পুরনো লক্ষ্ণৌর খুব নামকরা ব্যবসাকেন্দ্র। নবাব এমদাদ খান আমিন-উদ্-দৌলার স্মৃতি বহন করছে এই আমিনাবাদ। অনেকটা পুরান দিল্লি আর আমাদের পুরান ঢাকার মতো ঘিঞ্জি এলাকা, সরু গলি ধরে চলে গেছে একের পর এক কাবাব বিরিয়ানির দোকান, কিছু বিখ্যাত, কিছু নাম না জানা স্ট্রিট শপ, পথের ধারে মুরগি-মাটন ঝলসাচ্ছে, চারিদিকে কেমন একটা ঝলসানো ঝাঁঝ আর মসলার সুঘ্রাণ। পাণ্ডে সাহেব গাড়ি থেকে নামলেন না। কারণ তিনি ভেজ। ভেজের এখানে বিভিন্ন প্রকারভেদ আছে। কেউ মাংস খান না, তাই ভেজ; কিন্তু মাছ ডিম খান। কেউ আবার কিছুই খান না। কেউ কেউ আবার টেবিলে অন্য কেউ যদি নন-ভেজ খান সেটিও সহ্য করতে পারেন না, কারণ নন-ভেজের গন্ধও নাকে গেলেও খারাপ লাগে। পাণ্ডে সাহেবও তেমন ভেজ। সুতরাং তিনি গাড়িতেই বসে রইলেন। যেহেতু ঘিঞ্জি সরু গলি, গাড়ি যাবে না। ভালোই হলো। একটু ঘুরে দেখার সুযোগ হলো। গাড়ি থাকলে এই মে মাসের ৫০ ডিগ্রি গরমে কে গাড়ি থেকে নামতে চায়! কিছুটা হেঁটে ভীড়বাট্টা সামলে এগিয়ে যেতেই সারি সারি দোকান চোখে পড়লো। কিন্তু টুন্ডে কাবাবি দোকানের সামনে যেতেই হতাশ হতে হলো। যেহেতু নির্বাচনের দিন ছুটি ছিল, তারা আর দোকান খোলেনি। তাই বাধ্য হয়েই অন্য দোকান খোঁজ করলাম। বিরিয়ানির জন্যে এখানকার ওয়াহিদ বিরিয়ানি খুব প্রসিদ্ধ। টুন্ডের বিরিয়ানিও প্রসিদ্ধ, কিন্তু টুন্ডে যতটা না তার বিরিয়ানির জন্যে প্রসিদ্ধ, তার চেয়ে শতগুণ প্রসিদ্ধ তার মোলায়েম মাটন গালাওটি কাবাবের জন্যে। আক্ষরিক অর্থেই মুখে দিলে একেবারে গলে যায়, আবেশে আর স্বাদে চোখ বন্ধ হয়ে আসে। কিছুটা হতাশ হয়ে গেলাম ওয়াহিদ বিরিয়ানির দোকানে। সেখানে গিয়েও হতাশ হতে হলো, দোকানি খুব বিনয়ের সাথে জানালেন যে দোকানের সবাই তারাবির নামাজ পড়তে চলে গেছেন, উল্লেখ্য, তার পর দিন থেক রমজান শুরু হবার কথা। আমার বিমর্ষ চেহারা দেখে হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন, তাই তিনি খুবই কাচুমাচু ভঙ্গিতে বললেন, ১০টার পর আসলে তারা সার্ভ করতে পারবেন, আর যদি আমি না আসতে চাই তাহলে একটা ফোন নাম্বার দিল, এখানে ফোন দিয়ে জানালে তারা পৌঁছে দিয়ে আসবে। তার আচরণে খুবই উৎফুল্ল হলাম, আবার মনে পরে গেল সেই তেহজিবের কথা। সেখান থেকে বেরিয়ে আরো কিছু বিরিয়ানির দোকান চোখে পড়লো, বাবা বিরিয়ানি, মুঘল জাইকা, আরো কিছু বেনামি দোকান। মুঘাল জাইকার পরিবেশ ভালো দেখে ঢুকে পড়লাম। কালকে আমার ফিরতি ফ্লাইট দুপুরে, তাই টুন্ডে বা ওয়াহিদের স্বাদ নেবার একটা সুযোগ কালও থাকছে, কিন্তু বাকির লোভে নগদ পাওনা কে ছাড়ে এই ভুবনে? তাই মুঘল জাইকাতেই ঢুঁ মারলাম, অর্ডার দিলাম বিরিয়ানি, গালাওটি কাবাব আর কলিজা ভুনার। হোটেল ভর্তি লোকজন, সবাই চোখে মুখে তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে যাচ্ছে। বুঝাই যাচ্ছে যে বেশিরভাগই স্থানীয়। কিন্তু এর স্বাদ এমন, যত খায় ততই বেড়ে যায়, অনেকটা মায়ের হাতের খাবারের মতো। এরাও তাই চাকুম-চুকুম করে খেয়েই যাচ্ছে।
একটা কথা  জেনেছি, এখানকার বিরিয়ানি আমাদের কাচ্চি বিরিয়ানির মতো না। বরং উল্টোটা, এরা বলে পাক্কি বিরিয়ানি। রন্ধনপ্রণালিও কিছুটা ভিন্ন, কাচ্চি বিরিয়ানিতে চাল এবং মাংস একসাথেই রান্না করা হয়। কিন্তু পাক্কি বিরিয়ানি, মানে লক্ষ্ণৌ ঘরানার বিরিয়ানিতে চাল এবং মাংস আলাদাভাবে রান্না করা হয়। পরে চাল আর মাংস একসাথে মিশিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু পাক্কি কিংবা লক্ষ্ণৌ কিংবা আওয়াধি বিরিয়ানি। অনেকটা ভগ্ন-হৃদয়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে গাড়িতে গিয়ে উঠলাম। গেস্ট হাউসে ফিরে যেতে যেতে মোবাইলে চেক করলাম টুন্ডে কাবাবি কয়টায় খুলবে, মোটামুটি ১২টায় খুলে যাবে। সুতরাং লাঞ্চ করে সেখান থেকেই বিমান ধরা যাবে, মানে এয়ারপোর্টে রওয়ানা দিতে হবে। পাণ্ডে সাহেব জানালেন যে যাবার আগে এখানকার চিকেনকারি যেন একবার দেখে যাই। আমি আর কিছু বললাম না। মাটন কাবাবই চেখে দেখতে পারলাম না, চিকেনকারি দিয়ে কি হবে। গেস্ট হাউসে পৌঁছেই আমি লাগেজ গুছিয়ে রাখলাম। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম। কাজের প্রয়োজনে খুব ভোরে ঘুম থেক উঠতে হয়েছিল, সারাদিন অনেক ধকল গেছে। সকালে বেরিয়ে পড়বো, লক্ষ্ণৌর বাকি কিছু যা আছে সেগুলো দেখব আর শেষে টুন্ডে কাবাবিতে লাঞ্চ করে সোজা এয়ারপোর্ট। ভরপেট বিরিয়ানি, কাবাব আর কলিজা ভুনা নিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই রাজ্যের ঘুম যেন আমাকে কোথায় নিয়ে গেল।
পরদিন সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম। সময় হাতে কম, তার উপর পরের দিকে সূর্যের তেজ বাড়তেই থাকে। পথে যেতেই বড় ইমামবাড়ার খুব কাছেই রুমি দরওয়াজা চোখে পড়লো। ইস্তাম্বুলের স্থাপত্যশৈলীর অনুসরণে ১৭৮৬ সালে নবাব আসফউদ্দোলা  ৬০ ফুট উঁচু এই গেটওয়ে নির্মাণ করান তুরস্কের তৎকালীন রাজধানী ইস্তাম্বুলের (প্রাচীন কনস্টান্টিনোপাল) দরজার অনুকরণে। তাই এর আরেক নাম টার্কিশ গেট। অনবদ্য এর গঠনশৈলী, কারুকাজও চমকে দেয়ার মতো, একদিক থেকে দেখলে তিনটি দরজা, কিন্তু উলটো দিক থেকে দেখলে একটি দরজা।
বড়া আর ছোটা ইমামবাড়ার মাঝে ২২১ ফুট উচু হোসানাবাদ ক্লক টাওয়ার, সুউচ্চ মিনারের মাথায় চারদিকে বিশাল চারটি ঘড়ি বসানো। শুনেছি এটি ভারতের সবচেয়ে বড় টাওয়ার। এই ক্লক টাওয়ার স্থাপত্য চরিত্রের দিকে থেকে ব্রিটিশ ঘরানার। ঘড়ি তৈরির যাবতীয় উপাদান এসেছিল লন্ডন থেকে। আমাদের ড্রাইভার কাম গাইড জানালো ক্লক টাওয়ারের কাছেই পিকচার গ্যালারি বা বরাদরি। এটি প্রথমে ছিল নবাব মোহাম্মদ আলি শাহ নির্মিত বিশাল বাড়ি, বড় আকারের বারোটি দরজা থাকার কারণে এর নাম বারোদুয়ারি, পরে অপভ্রংশ হয়ে হয়েছে বরাদরি। এখন একে সবাই জানে পিকচার গ্যালারি হিসেবে। এখানে অযোধ্যার নবাবদের পূর্ণদৈর্ঘ্যের প্রতিকৃতি রাখা আছে যা আজও লক্ষ্ণৌর বর্তমান প্রজন্ম ও অতিথিদের তাদের শৌর্যবীর্যের কাহিনি শোনায়।
রুমি দরওয়াজার আরেকটু সামনে যেতেই ছোটা ইমামবাড়া, যার পোশাকি নাম হুসেনাবাদ। আবার উইকিপিডিয়ার শরনাপন্ন হলাম, ১৮৩৭ সালে আসফউদ্দৌলার ভাগ্নে নবাব মোহাম্মদ আলি শাহ নির্মাণ করেছিলেন ছোট ইমামবাড়া নামের এই প্রাসাদ। তাঁর এবং তাঁর মায়ের সমাধিও রয়েছে এখানে। প্রধান ফটক দিয়ে ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে একটা পাখি, ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে আসলে এটা একটি মাছের প্রতিমূর্তি। বাতাসের দিক পরিবর্তনের সাথে সাথে সাঁই সাঁই করে ঘুরছে, আসলে এটি বায়ুপ্রবাহের দিক নির্দেশক। মাছের নকশা খোদাই করা দেখেছিলাম বড়া ইমামবাড়ার দেয়ালেও। উত্তর প্রদেশের যে সরকারি লোগো, তাতেও আছে এই মাছ, কেন, সেটা জিজ্ঞেস করলাম পাণ্ডে সাহেবকে, তিনি বলতে পারলেন না। কিছুটা লজ্জিতও হলেন, পরে সেটা ঢাকতে তিনি কিছু একটা বলার চেষ্টা করলেন যে এখানে কোন একসময় হয়তো প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, যুক্তির দুর্বলতা অনুধাবন করেও হাসিমুখে মেনে নিলাম। নিজেরও আর গুগল ঘেঁটে জানতে ইচ্ছে হলো না। পরে অবশ্য জেনেছি, এটি মুসলিম অউধ শাসকদের প্রতীক। ইমারতের সামনে ছোট্ট জলাধার। এর সামনে দাঁড়িয়ে সামনে-পিছনে যেদিকেই তাকাবেন, কেমন এক মোহময় সৌন্দর্য্যের অবতারণা হয়। সকাল হলেও রোদের তেজ বাড়তে শুরু করেছে। গণগণে রোদের তেজে চারদিকে একটা তাতানো ভাব। আমার ইচ্ছে করছিল পুর্নিমা রাতে জোছনার নিচে এই পুকুরসহ পুরো ইমারতের দৃশ্য কেমন লাগবে তা যদি দেখতে পেতাম। সেই সুযোগ সুদুর পরাহত। মনে মনে চিন্তা করলাম। কিন্তু এই গরমে শত চেষ্টা করেও জোছনার আবহ আনতে পারলাম না। তবে নিশ্চয়ই এক নৈসর্গিক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এই ইমারতগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একেকটা কমপ্লেক্সের মতো। এর ভিতরেও মসজিদ, শাহী গোসলখানা ও অন্যান্য স্থাপনাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা আছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ছোট ইমামবাড়ারও স্থাপত্যকলাই মূল আকর্ষণ। বিশেষ করে চোখে পড়বে দেয়ালের গায়ে খোদাই করা আরবি ক্যালিগ্রাফি। একেবারে চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য।  বড় ইমামবাড়ার মতো এখানে এতো ভীড় চোখে পড়ল না, হয়তো সকালবেলা আর কড়া রোদের জন্যে এমনটা হল। বিকেলের সোনালি রোদে নিশ্চয়ই জনসমাগম বেশি হবে।
পাণ্ডে সাহেব বললেন ছোটা ইমামবাড়ার গেটের কাছেই চিকেনকারি দোকান আছে। পুরানো লক্ষ্ণৌ আর হযরতগঞ্জে গেলে হয়তো আরো ভ্যারাইটি দেখা যাবে, কিন্তু সময় যেহেতু কম এখান থেকেই দেখা ভালো। আমার এখন চিকেনকারিতে মন নেই। টুন্ডেতে লাঞ্চ করে চলে যাব, এখন আবার চিকেনকারি কেন। কিন্তু পাণ্ডের জোরাজুরিতে যেতে হলো। চিকেনকারিকে আবার মুরগির তরকারি ভেবে ভুল করবেন না। চিকেনকারি বা চিকন আর্ট হচ্ছে লক্ষ্ণৌর বিখ্যাত এমব্রয়ডারি। চিকনের আর্ট বা কাজ করা শাড়ি, পাঞ্জাবি, কুর্তা, ওড়না, টেবিল ক্লথের সারা ভারতবর্ষে কদর। এত যাচাইবাছাই করার সুযোগ ছিল না। তড়িঘড়ি করে কিছু পাঞ্জাবি, কুর্তা কিনলাম। ছোট ইমামবাড়া হয়ে আমাদের সর্বশেষ গন্তব্য শহর থেকে আড়াই কিমি দূরে সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত দি রেসিডেন্সি। এরও নির্মাতা বা মূল প্রতিষ্ঠাতা নবাব আসফ-উদ-দৌলা। ১৭৭৫ সালে ব্রিটিশ রাজপ্রতিনিধি ও পর্যটকদের বিশ্রামাগার হিসেবে এই রেসিডেন্সি কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। তবে শেষ হয়েছিল ১৮০০ সালে নবাব সাদাৎ আলি খানের আমলে। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের ছাপ রেসিডেন্সির প্রতিটি দেয়ালে। কামানের অসংখ্য গোলা এবং বুলেটের চিহ্ন সুস্পষ্ট। এখানেই রয়েছে স্মৃতি জাদুঘর। নবাব ওয়াযেদ আলী শাহ যখন কলকাতায় নির্বাসিত হলেন, লক্ষ্ণৌ থেকে তখন গিয়েহিলেন তার স্ত্রী বেগম হজরত মহল। জীবন বাজি রেখে সে সময় ইংরেজ বিতাড়নে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তার স্মৃতি বিজরিত বেগম হযরত মহল পার্কে তার পূর্ণ-ভাস্কর্য এখনো তার বীরত্বগাথার জানান দিয়ে চলেছে।
রেসিডেন্সি থেকে সোজা আমিনাবাদের টুণ্ডে কাবাবি। দোকান মাত্র খুলেছে (নবাবী মেজাজের কারণে কিনা বুঝতে পারলাম না!)। তাড়াতাড়ি গালাউটি কাবাব, মাটন বিরিয়ানি, চিকেন টেংরি কাবাবের অর্ডার দিলাম। ১৫ মিনিটের মধ্যে চলে এল গরম গরম ধোঁয়া-ওঠা বিরিয়ানি, তেল চকচকে গালাউটি কাবাব। গালাউটি কাবাব মুখে দিতেই সত্যি সত্যি জিহ্বার সাথে মিশে গেল। অভূতপূর্ব স্বাদ ও অনুভূতি। গতকালের মুঘল জাইকার ‘নকল’ গালাউটির কথা মনে পড়লো! বিরিয়ানির স্বাদও তেমন। টুণ্ডে কেন অদ্বিতীয় বোঝা গেল। কথিত আছে যে, নবাবদের জন্য ১৬০টি মশলা মাখিয়ে তৈরি হতো টুন্ডে’র কাবাব। যার জন্যে প্রথম এই কাবাব তৈরি হয়েছিল, সেই দন্তহীন নবাব কাবাব চিবিয়ে খেতে পারবেন না ভেবেই এমন নরম, তুলতুলে করে বানানো হয়েছিল, যা মুখে দিলেই গলে যাবে। আর একজন হাতবিহীন (টুন্ডা) শেফ হাজি মুরাদ আলির নামেই এই ব্রাণ্ডের নাম টুণ্ডা বা টুন্ডে। ফুলপ্লেট বিরিয়ানি, ৬ পিস কাবাব আর দুই পিস টেংরি (মুরগির পা) কাবাব খেয়ে, কোকের শেষ ঢোঁকটা গলায় ঢেলে দিয়ে একটা নবাবি ঢেকুর তুলে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে রইলাম কিছুক্ষণ। ততক্ষণে কিছু খাবার দিল্লি নিয়ে আসার জন্যে পার্সেল করে দিতে বললাম। সব মিলিয়ে যে দাম দিতে হলো তাও খুবই নগণ্য। এত স্বল্পমূল্যে এত উন্নতমানের সুস্বাদু খাবার, সত্যি অকল্পনীয়।
এবার যাবার পালা। গাড়িতে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোন কাজ নেই। আরো একবার মনে হলো, লক্ষ্ণৌ মানেই আভিজাত্যে মোড়া ইতিহাসের পসরা সাজিয়ে বসে থাকা এক আশ্চর্য নগরী। প্রতিটি স্থাপনার দেয়ালে দেয়ালে লেখা নবাবি কীর্তিগাথা। নবাবি আমল থেকে সিপাহী বিদ্রোহ, একের পর এক ঐতিহাসিক নিদর্শন যে-কাউকেই  মুগ্ধ করবে। তবে শুরুতেই যেমন বলেছি, লক্ষ্ণৌ যেন বহুরূপী, একই অঙ্গে তার ভিন্ন ভিন্ন রূপ। ইতিহাস এবং বর্তমান যেন হাত ধারাধরি করে এগিয়ে চলেছে লক্ষ্ণৌতে। সময়ের সাথে সাথে লক্ষ্ণৌ নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে, নিচ্ছে। নবাবী সৌকর্য যেমন ধরে রেখেছে, একই সাথে ঝাঁ-চকচকে, স্মার্ট, আধুনিকতার প্রলেপে মোড়া একটা অবয়ব সে গড়ে নিয়েছে। এই নতুন ও পুরাতনের যে মেলবন্ধন, একই অঙ্গে বহুরূপই আসলে লক্ষ্ণৌ নগরীর বিশেষত্ব। অন্নদাশঙ্কর রায় প্যারির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, অর্ধেক নগরী তুমি অর্ধেক কল্পনা। আমারো বলতে ইচ্ছে করছে, ‘লক্ষ্ণৌ- অর্ধেক ইতিহাস, তুমি অর্ধেক বর্তমান’।
নবাবি আমলের লক্ষ্ণৌ শহরকে খুঁজে পাওয়া যাবে আমিনাবাদের সরু আর পুরনো গলিতে, কাবাব-বিরিয়ানি আর আতরের দোকানে আর ইমামবাড়া, রুমি দরওয়াজা, বারাদরি আর রেসিডেন্সির মতো প্রাচীন স্থাপত্যের দেয়ালে আর খিলানে খিলানে। এসবের জৌলুস যে কাউকে টেনে নিয়ে যাবে তার অতীতের স্মৃতিময় দিনগুলোতে। পাশাপাশি নতুন লক্ষ্ণৌতে ঘুরলে চকচকে ঝকঝকে রাস্তাঘাট আর দু’পাশে আধুনিক অট্টালিকা আর শপিং মল আপনাকে জানান দেবে লক্ষ্ণৌ হোসানবাদ ক্লক টাওয়ারের ঘড়ির কাটার ঘুর্ণনের সাথে সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছে নতুনের সাথে। আধুনিক লক্ষ্মৌর এক সেরা বাণিজ্যিকেন্দ্র হযরতগঞ্জ। মনে হয় সিপাহি বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী বেগম হযরত মহলের স্মৃতিতেই এই নামকরণ। দেশি-বিদেশি অত্যাধুনিক সব মোটরগাড়ি, চকচকে-ঝকমকে আধুনিক রেস্তোরাঁ, শপিং মল আর তার সাথে চকমকে মানুষের প্রাচুর্য। এ যেন এক অন্য লক্ষ্ণৌ। আমিনাবাদের কাবাবের দোকানে বসে আমি বা অন্য লোকজন যখন চোখ বন্ধ করে মুখের ভিতর গালাওটির গলে যাওয়া উপভোগ করছি, ঠিক একই সময়ে কোন যুগল হয়তো হযরতগঞ্জের কেএফসি কিংবা ম্যাকডোনাল্ডের আউটলেটে বসে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর সস মাখানো ম্যাক স্পাইসি চিকেন বার্গারে বিশাল হা-করা কামড় বসাচ্ছে। আধুনিক মোটরযান আর সর্বাধুনিক মডেলের মহামূল্যবান বিলাসবহুল মোটরগাড়ির পাশেই চলছে সেই ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গা। টাঙ্গায় চড়ে আপনি চলে যেতে পারবেন নবাব আসফ-উদ-দৌলার সময়ে, আর মার্সিডিজ কিংবা বিএমডব্লিও চড়ে চোখে সানগ্লাস চাপিয়ে অ্যাপেল ফোনে কথা বলতে বলতে গতিময় বিলাসবহুল জীবনের স্বাদও পাবেন। যথার্থই লক্ষ্ণৌ যেন এমন এক প্লাটফর্ম, যেখানে দুটি সমান্তরাল লাইনে ছুটে যাচ্ছে দুটি ট্রেন, একই গতিতে, একই ছন্দে। আমাদের গাড়িও চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এয়ারপোর্টে পৌঁছে যাবো। বিদায়ের সুর সবসময়ই বেদনার। পরিবেশ পরিস্থিতি বা আকার যেমনি হোক না কেন। মনের মধ্যে আনমনে ঘুরপাক খেতে লাগলো, ওয়াজেদ আলী শাহের স্বরচিত সেই বিখ্যাত কবিতাটির কয়েকটি কথা, ‘যব ছোড়ে চলে লক্ষ্ণৌ নগরী।’ লক্ষ্ণৌর বিদায় স্মরণে তিনি লিখেছিলেন এই গান বা কবিতা। কে জানে বিদায় বেলায় গোমতির বুকে জলযানে বসেই হয়তো প্রিয় গোমতিকে ছেড়ে যাবার, প্রিয় লক্ষনৌকে ছেড়ে যাবার তীব্র বেদনাবোধ থেকেই হয়তো তিনি ফেলেছিলেন দ্বীর্ঘশ্বাস, ‘যব ছোড়ে চলে লক্ষ্ণৌ নগরী’ – ‘যখন ছেড়ে যাই লক্ষ্ণৌ শহর’। ছেড়ে যাওয়া বা বিদায় সবসময়ই বেদনার। বড় করুণ তার অভিঘাত।

[সমাপ্ত]

প্রথম পর্বটি এই লিংকে ক্লিক করে পড়ুন

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%b0%e0%a6%ae-%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a7%8c-%e0%a6%85/