মাইনুল ইসলাম মানিক > পুরুষবিহীন ইন্টারন্যাশনাল বুকার প্রাইজ ২০২০ >> সংবাদভাষ্য

0
846

 পুরুষবিহীন ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কার ২০২০ 

এবারের মনোনীত ৬টি বইয়ের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় উল্লেখ করার মতো। আর সে-দুটি দিক হলো, প্রথমত, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের পর সবচেয়ে মর্যাদাবান এই পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ৬জন ঔপন্যাসিকই নারী। শুধুমাত্র ইন্টারন্যাশনাল ম্যানবুকার নয়, বুকার পুরস্কারের ইতিহাসেও এমন ঘটনা এবারই প্রথম। দ্বিতীয়ত, বুকার পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী একজন ঔপন্যাসিকের মনোনয়ন লাভ।

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনা তাণ্ডব। থেমে গেছে অনেক কিছুই আবার থেমে নেইও অনেক কিছু। জীবন বহমান, বহমান মানুষের কীর্তিও। এই প্রথম, সম্ভবত, এই শতকের সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলি পার করছে বিশ্বের মানুষ। এরই মাঝে, এরকম বৈরী পরিবেশেও সৃষ্টিশীল মানুষদের জন্য এসেছে ঐতিহ্যবাহী বুকার পুরস্কারের ঘোষণা।

বুকার পুরস্কার ২০২০

কয়েক দিন আগে ২০২০ সালের ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় গেল এক বছরে বিশ্বব্যাপী ইংরেজিতে অনূদিত বিদেশি ভাষায় লেখা ১২৪টি বইয়ের দীর্ঘ তালিকা থেকে বিচারকগণ সর্বসম্মতভাবে ৬টি বই মনোনীত করেছেন। এবারের মনোনীত ৬টি বইয়ের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় উল্লেখ করার মতো। আর সে-দুটি দিক হলো, প্রথমত, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের পর সবচেয়ে মর্যাদাবান এই পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ৬জন ঔপন্যাসিকই নারী। শুধুমাত্র ইন্টারন্যাশনাল ম্যানবুকার নয়, বুকার পুরস্কারের ইতিহাসেও এমন ঘটনা এবারই প্রথম। দ্বিতীয়ত, বুকার পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী একজন ঔপন্যাসিকের মনোনয়ন লাভ। মনোনীয় ছ’জন ঔপন্যাসিকের ছ’টি উপন্যাস সম্পর্কে আলোচনার আগে বুকার পুরস্কার বিষয়ে আলোকপাত করা যাক। কেননা, বুকারের ইতিহাসটি কিছুটা জটিল এবং অনেকের কাছে সেই ইতিহাসটা সুস্পষ্ট নয়।

বুকার পুরস্কারটি ২০০২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ম্যান গ্রুপ স্পন্সর করেছিল। কিন্তু ২০২০ সাল, অর্থাৎ এ বছর থেকে এই পুরস্কারটি নতুন নামে প্রবর্তিত হচ্ছে। নতুন নামটি উল্লেখের আগে এর অতীতের দিকে চোখ ফেরানো যাক।

বুকার পুরস্কারের সূচনা

এই পুরস্কারটি ১৯৬৯ সালে প্রবর্তিত হয়। তখন শুধুমাত্র কমনওয়েলথভুক্ত দেশ, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের ইংরেজি ভাষায় লিখিত উপন্যাসের জন্যে এই পুরস্কারটি দেয়া হতো। এই ধারাবাহিকতা চলে ২০০২ সাল পর্যন্ত। এরপর পুরস্কারটির নতুন স্পন্সর হিসেবে ১৮ বছরের চুক্তি করে ম্যান গ্রুপ। তখন থেকে বুকার পুরস্কারের সম্পূরক হিসেবে প্রবর্তিত হয় ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কার। এই সম্পূরক পুরস্কারটি ইংরেজি ছাড়া অন্যান্য ভাষায় লিখিত বা অনূদিত সকল দেশের লেখকদের জন্যে উন্মুক্ত করা হয়। তখন থেকে দুটি বুকার পুরস্কার দেয়া হতো : একটি ইংরেজি ভাষায় লিখিত উপন্যাসের জন্য, আরেকটি বিদেশি ভাষায় লেখা উপন্যাসের ইংরেজিতে অনুবাদের জন্য। প্রথম পুরস্কারটির নামকরণ করা হয় ‘ম্যানবুকার পুরস্কার’ এবং দ্বিতীয়টির নামকরণ করা হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল ম্যানবুকার পুরস্কার’। ম্যানবুকার যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত কমনওয়েলথভুক্ত দেশ, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের ইংরেজি ভাষায় লিখিত উপন্যাসকে পুরস্কৃত করে। এই পুরস্কারটিও ২০১৪ সালে ইংরেজি ভাষায় লিখিত যে কোনো ঔপন্যাসিকের উপন্যাসের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তবে সেই উপন্যাস প্রকাশিত হতে হবে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্য থেকে। অন্য দিকে, ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কার প্রথমবারের মতো প্রবর্তন করা হয় ২০০৪ সালে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই পুরস্কারটি দুই বছর পর পর একজন দেয়া হতো। ২০১৬ সাল থেকে এটি প্রতিবছর দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সাল থেকে বইয়ের মূল লেখকের পাশাপাশি বইটির অনুবাদককেও এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এবার আসি পুরস্কারটির প্রবর্তিত নতুন নামের বিষয়ে।

নতুন নামকরণ

২০১৯ সালে ম্যান গ্রুপের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২০ সালে, অর্থাৎ এ-বছর ক্র্যাংকস্টার্ট নামের একটি দাতব্য সংস্থা নতুন স্পন্সর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী ৫ বছর এই সংস্থাটি বুকার পুরস্কারের স্পন্সর থাকবে। তবে তারা চাইলে আরও ৫ বছর চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারবে। এ-সময়ে নতুন স্পন্সর ক্র্যাংকস্টার্ট পুরস্কারটি শুধু ‘বুকার পুরস্কার’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কার’ নামে অভিহিত হবে। পরিবর্তিত এই ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কারে এবার যে ছ’জন ঔপন্যাসিক মনোনীত হয়েছেন তাঁরা হলেন (বন্ধনীর মধ্যে উপন্যাসের নাম দেয়া হলো) :
[১] শোকুফেহ আজার (দ্য অ্যানলাইটেনমেন্ট অব গ্রীনগেজ ট্রি)
[২] গ্যাব্রিয়েলা ক্যাবেজন ক্যামারা (দ্য অ্যাডভেঞ্জারস অব চায়না আয়রন),
[৩] ডেনিয়েল কেলম্যান (টাইল)
[৪] ফার্নান্দা মেলচর (হারিকেন সিজন)
[৫] ইয়োকো ওগোয়া (দ্য মেমোরি পুলিশ) এবং
[৬] ম্যারিকি লুকাস রিজনিভেল্ড (দ্য ডিসকমফোর্ট অব ইভিনিং)।
করোনাকালীন এই বিপর্যয়ে পুরস্কারের মনোনয়ন বিষয়ে ৫ সদস্যের বিচারক প্যানেলের প্রধান হজকিনসন বলেন, করোনা বিপর্যয়ে বাইরে নজর দেয়া কঠিন কাজ। আমরা ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভার্চুয়াল মিটিং করে ঔপন্যাসিকদের এই তালিকাটা তৈরি করেছি। হজকিনসনের সাথে প্যানেলে বিচারক হিসেবে আছেন আরো ৪ জন – ফ্রান্সের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল রাইটিং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক লুসি ক্যাম্পস, আন্তর্জাতিক বুকারজয়ী অনুবাদক জেনিফার ক্রফট, ফোলিওজয়ী লেখক ভেলেরিয়া লুইজেল্লি এবং বুকার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া কবি ও সঙ্গীতজ্ঞ জিৎ থায়িল। চুড়ান্ত পুরস্কারটি ঘোষিত হবে ১৯ মে, ২০২০ তারিখে।

মনোনীত উপন্যাস-বৃত্তান্ত

দ্য এনলাইটেনমেন্ট অব গ্রীনগেজ ট্রি >>

ইরানের শোকুফেহ আজারের ‘দ্য এনলাইটেনমেন্ট অব গ্রীনগেজ ট্রি’ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে ১৯৭৯ সালে ইরানে সংঘটিত ইসলামি বিপ্লবের পটভূমিতে। বইটির কাহিনি এমন : একটি পরিবারের জীবিত ও মৃত সদস্যদের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক উঠছে। পরিবারটি আন্দোলনের সময় তাদের তেহরানের বাড়ি ছেড়ে ছোট্ট একটি গ্রামে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তারা আশা করেছিল, এই ছোট্ট গ্রামটিতে অন্তত তারা বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বাধীনতাটুকু পাবে। কিন্তু আন্দোলনোত্তর সময়ের অরাজকতায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় পরিবারটি। এই পরিবারের সদস্য তেরো বছর বয়য়ী মেয়ে বাহারর প্রেতাত্মা এই উপন্যাসের মূল কথক। এই উপন্যাসে বাহার জীবিত মায়ের আতঙ্কগ্রস্ত (ট্রমা) জীবনের সাথে মেয়ের প্রেতাত্মার সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে উপন্যাসটি এগুতে থাকে। জীবিত ও মৃত চরিত্রের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে আজর এমন এক সময়োপযোগী গল্প বুনেছেন, যা অত্যাচারী বর্বর রাজনৈতিক শাসনের সাথে একটি প্রাণবন্ত সংস্কৃতির বৈপরীত্যকে তুলে ধরেছে। উপন্যাসটি সম্পর্কে সমালোচক অ্যালিস পাং বুক রিভিউ করতে গিয়ে বলেছেন, “এমন স্বরশৈলীর উপন্যাস আগে আমি কখনো পড়িনি। এটি কৌতুকপূর্ণ, কাব্যিক ও গভীর জীবনবোধ সম্পন্ন একটি উপন্যাস। আজ হালকা পালককে ছুঁয়ে যাবার মতো করে ঔপন্যাসিক সমকালীন ইরানি ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন। উপন্যাসটি আকারে ক্ষুদ্র কিন্তু দীপ্তিমান, সুন্দর।” শোকুফেহ আজার ২০১১ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বইটির অনুবাদকের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

দ্য ডিসকমফোর্ট অব ইভিনিং >>

ম্যারিকি লুকাস রিজনিভেল্ড রচিত ‘দ্য ডিসকমফোর্ট অব ইভিনিং’ উপন্যাসটি নজর কাড়ে বোদ্ধা বিচারকগণের। ডাচ এই লেখিকা মাত্র ২৮ বছর বয়সে বুকার পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেলেন। বুকার পুরস্কারের ইতিহাসে এর চেয়ে কম বয়সে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মাত্র একজন – ডেইজি জনসন। সেটি গত বছরের ঘটনা। ডেইজি জনসনের সাথে তার বয়সের ব্যবধান কয়েক মাসের। এই উপন্যাসটি কৈশোরে পা রাখা এক তরুণীর জীবনে তার ভাইয়ের মৃত্যু, যৌনতা এবং ধর্ম – এই তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে এগিয়ে গেছে। উপন্যাসটি উত্তম পুরুষে লেখা এবং এর বর্ণনাশৈলীর সময়কাল হিসেবে রিজনিভেল্ড বেছে নিয়েছেন বর্তমানকে। উপন্যাসটিতে মিথ ও পারিবারিক লোককাহিনি থেকে প্রাপ্ত উপাদানগুলোকে চমৎকারভাবে সমন্বিত করা হয়েছে। এটি এমন সময়ের সুবিন্যস্ত গল্প যখন ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়নি। শুধু নকিয়া ফোনে স্নেক গেম খেলা যেত। জস নামের কথক মেয়েটির কৈশোরে কুসংস্কার, ধর্ম ও যৌনতার প্রভাব প্রকট হয়ে ওঠে। কীভাবে তার বক্ষের শারীরিক আয়তন বৃদ্ধির সাথে সাথে সমান্তরালভাবে রাখঢাক করা নিরাপত্তার রক্ষার কড়াকড়ি শুরু হয়, সেই প্রসঙ্গটি পরম যত্নে তুলে ধরেছেন রিজনিভেল্ড। তুলে ধরেছেন কীভাবে সমাজের নিয়ম, ধর্মের নিয়ম সর্ন্তপণে আমাদের জীবনে জেঁকে বসে। চমকপ্রদ এই উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনুবাদ করার কারণে নিয়মানুসারে বুকারের মনোনয়নের তালিকায় উঠে এসেছে অনুবাদক মিশেল হাচিসনের নামও।

দ্য মেমোরি পুলিশ >>

এবারে ইন্টারন্যাশনাল ম্যানবুকার পুরস্কারের তালিকায় উঠে এসেছেন একজন জাপানি লেখক ইয়োকো ওগোয়া। তার লিখিত উপন্যাসিটি হচ্ছে ‘দ্য মেমোরি পুলিশ’। গ্রন্থটি জাপানি থেকে ইংরেজিতে ভাষান্তর করেছেন অনুবাদক স্টিফেন স্নাইডার। রূপকধর্মী এই উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে বিলুপ্তি। এর কাহিনি গড়ে উঠেছে একটি দ্বীপকে কেন্দ্র করে। এই দ্বীপ থেকে ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যায় নানান কিছু। প্রতি রাতে দ্বীপবাসীরা অনুভব করে, তাদের কী যেন হারিয়ে যাচ্ছে। একদিন ঘুম ভেঙে জেগে উঠে দেখতে পায়, হারিয়ে গেছে গোলাপের পাপড়ি। এভাবেই তারা হারিয়ে ফেলে মানচিত্র, হারিয়ে যায় তাদের দিনলিপি। এখানে হারিয়ে যাওয়াই যেন নৈমিত্তিক নিয়ম। যেভাবে হারিয়ে যায় গোলাপের পাপড়ি, গোলাপের বাগান; সেভাবেই এই ফুল বা বস্তুটিও হারিয়ে যায় তাদের স্মৃতি থেকেও। তাদের মনে থাকে না একদিন গোলাপ বাগান বলতে কোনো কিছুর অস্তিত্ব ছিল। তাদের মনে হতে থাকে, কোনো কিছু স্মৃতিতে রাখাও মস্তিষ্কের শূন্যস্থানের অপচয়।

হারিকেন সিজন >>

ফার্নান্দা মেলচরের ‘হারিকেন সিজন’ বইটি উঠে এসেছে এবারের ইন্টারন্যাশনাল ম্যানবুকার পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায়। দীর্ঘ এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে মাত্র আটটি অধ্যায়। প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে ৬৪ পৃষ্ঠা। লেখিকার ভাষ্যমতে, তার পাশ্ববর্তী শহর ভেরাক্রুজে সংঘটিত একটি রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে রচিত হয়েছে বইটি। শুরু একটি মুখরোচক খোশগল্পের মধ্য দিয়ে, যেখানে একজন কুখ্যাত নারীর মৃতদেহ হঠাৎ সবার নজরে আসে। এই নারীটি সকলের কাছে একজন ডাইনি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কাছাকাছির একটা তেল কোম্পানিতে কাজ করা নারী এবং যৌনকর্মীদের গর্ভপাত ঘটাতেন তিনি। উপন্যাসের কেন্দ্রস্থল এমন একটি গ্রাম, যেখানে আইন বলতে কিছু নেই। কুসংস্কারভিত্তিক গ্রামটিতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত না হলেও তা প্রায় আইনে পরিণত হয়েছিল। চমকপ্রদ এই উপন্যাসটি অনুবাদ করেছেন সোফি হিউজ।

টাইল >>

ইউ শ্যুড হ্যাভ লেফট, মেজারিং দ্য ওয়ার্ল্ডসহ বেশ কয়েকটি উপন্যাসের বেস্টসেলার ঔপন্যাসিক ড্যানিয়েল কেলম্যান। এই প্রথম তার টাইল উপন্যাসটি ইন্টারন্যাশনাল ম্যানবুকার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। কেলম্যান যাদুবাস্তবতা ও অ্যাডভেঞ্জারের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোকে এক সুতোয় গাঁথার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। সপ্তদশ শতকের একজন বাউণ্ডুলে কৌতুক অভিনেতা টাইল। তার বাবা গোপনে অ্যালকেমি ও ম্যাজিকের চর্চা করতেন। কিন্তু ধরা পড়ে গেলে টাইলকে সপরিবারে নির্বাসনে যেতে হয়। নির্বাসিত টাইল ভ্রমণকে বেছে নেন জীবনের লক্ষ্য হিসেবে। টাইলের চরিত্রটির মধ্য দিয়ে ক্যালম্যান তুলে এনেছেন ত্রিশ বছরের যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ, তুলে এনেছেন নির্বোধ ব্যক্তির বর্বরতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও কতটা কার্যকর হয়ে ওঠে শিল্পের শক্তি। উপন্যাসটি পাঠের সময় পাঠকের কাছে এর ঘটনা পরম্পরাটি যথেষ্ঠ এলোমেলো মনে হতে পারে। বইটি টাইল উলেনস্পিগেলের যুবা বয়সের বর্ণনা দিয়ে শুরু হলেও মুহূর্তেই ফিরে যায় তার অতীতের বর্ণনায়। তারপর ফিরে আসে বেশকিছু খাপছাড়া বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে। কিন্তু উপন্যাসটি পড়ে শেষ করার পর যে কোন বোদ্ধা পাঠক বর্ণনার এই বিক্ষিপ্ত বিভ্রম কাটিয়ে কেলম্যানের রচনাশৈলীর মুন্সিয়ানায় বিমোহিত হবেন নিঃসন্দেহে। বইটি অনুবাদ করেছেন জার্মান অনুবাদক রস বেঞ্জামিন।

দ্য অ্যাডভেঞ্জারস অব চায়না আয়রন >>

১৮৭২ সাল। আর্জেন্টিনার এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল। চায়না নামের এক তরুণী এখানে একটি সেনাক্যাম্পে নিজের অস্তিত্বের স্বাধীনতা নিয়ে অস্থির হয়ে ওঠে। তার স্বামী বাধ্যতামূলক কারণে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। তারপর একদিন সে একটা ওয়াগনে চড়ে তার নতুন স্কটিশ বন্ধু লিজের সাথে বেরিয়ে পড়ে। লিজ তাকে মনস্তত্ত্বের শিক্ষা দেয় এবং ব্রিটিশ রাজের মন্দ দিকগুলো শেখায়। চায়না নতুনভাবে অনুভব করতে থাকে আর্জেন্টিনার সমৃদ্ধ উদ্ভিদ জগত আর প্রাণী জগত, সংস্কৃতি, ভাষা আর জাতি গঠনের অন্তরায় হিসেবে নিষ্ঠুর সহিংসতার কথা। গ্যাব্রিয়েলা ক্যাবেজন ক্যামারা তাঁর দ্য অ্যাডভেঞ্জারস অব চায়না আয়রন উপন্যাসে এভাবেই তুলে এনেছেন সমকালীন আর্জেন্টিনার স্বরূপ। এই বইটি স্পানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন দুজন অনুবাদ – এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার ইয়োনা ম্যাকিন্তায়ার ও ফিওনা ম্যাকিন্তোস।

অপেক্ষা চূড়ান্ত ঘোষণার

এখন অপেক্ষার পালা। আগামী ১৯ মে ঘোষিত হবে পুরস্কারটি। করোনার এরকম দিনে, কে শেষ হাসি হাসবেন, সেই এখন দেখার।