মালেকা বেগম > “কবি তো শুধু আমার নন, সমগ্র জাতির…” : জোহরা রাহমান >> স্মরণ

0
306
তখনও কবিকে জানি কবিতার অনুভবে।  অনেক আগের কথা বলছি। হাতে পেলাম ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’। জোহরাকে উৎসর্গ করেছেন। কে এই জোহরা- উৎসুক কৌতূহল ছিল জানার। জীবনসঙ্গিনী, জেনেছি পরে।
কবির সহধর্মিণীর কাছে বসে সেসব কথাই ভাবছিলাম। কথা প্রসঙ্গে কথা চলে। আওলাদ হোসেন লেনের এই ৩০ নম্বর বাড়িতে তিনি এসেছেন বধূ হয়ে ২৬ বছর আগে। হিসেবটা দিতে একমুহূর্তও থামতে হয়নি তাঁকে – বললেন 8 জুলাই ১৯৫৫ সালে এই বাড়িতে এলাম বউ হয়ে। এতদিন পরেও তারিখ মনে আছে, আশ্চর্য হবেন না, “আমরা প্রতিবছর ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি করি তো। এই আর কি, ঘরোয়া।” এসব বিষয়ে কবির উৎসাহ দারুণ।
যদিও কবি তখন ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র, এমএ দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষার্থী, তবু পিতার পছন্দ করা ১৬ বছরের মেট্রিক পরীক্ষার্থী পাত্রীকে সানন্দে গ্রহণ করলেন। জোহরা বেগম তখন বেশ কয়েকবার এই বাড়িতে বেরিয়ে গেছেন খালার সঙ্গে। এ-বাড়ির বড় ছেলে ছিলেন তাঁর খালু।
শামসুর রাহমানের সঙ্গে জোহরা বেগমের বিয়ের ফলে সম্পর্কটা একটু অন্যরকম দাঁড়ালেও সেটা খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি এই পরিবারে।
আজকের জোহরা রাহমান স্থিত স্বরে সুন্দর গুছিয়ে বললেন, “সে সময়টা ভাবুন কতযুগ আগের কথা। আর বাড়িটা ভাবুন, শশুর -শ্বাশুড়ি ননদ দেবর নিয়ে বড় সংসার। সব সময় যেন বিয়েবাড়ি লেগে আছে। এর মধ্যে দিনে-দুপুরে স্বামীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ সম্ভবই ছিল না।  স্বামীকে আজকের আধুনিকাদের মতো তুমি বলাটাও রেওয়াজ ছিল না।”
এর মধ্যেই মেজো মেয়ে ফৌজিয়া কথা বলে উঠলো, “তা বলছেন কেন? এমন কোন পুরনো যুগের আপনারা ছিলেন না। বরং বলেন আপনাদের বনেদি পরিবারে এসবের রেওয়াজ ছিল না।”
জোহরা রাহমানের মুখে আমি দেখলাম লাজরক্তিম আবেগের মিশ্রণ। মেয়েকে আড়াল করে বললেন, “কথা ঠিকই, দুজনের পরিবারই ঢাকার পুরোনো আদি পরিবার। শ্বশুর ছিলেন দারোগা, পরে প্রেস সিনেমা হল, এসব ব্যবসার সূত্রে মাহুৎটুলী এবং আওলাদ হোসেন লেনে এসে বাসা করেন। বাবা ছিলেন পাটের ব্যবসায়ী, বাড়ি নাজিমউদ্দিন রোডে। পুরনো কালের রেওয়াজ দুই বাড়িতেই ভালো ছিল। কিন্তু তাই বলে খুব রক্ষণশীল ছিলেন সেটাও নয়। মেয়েদের বাইরে যাওয়ায় বাধা ছিল না। মার্কেটে যাওয়া, সিনেমায় যাওয়া, স্বামীর সঙ্গে হাওয়া খাওয়া এসব নিষেধ ছিল না।
একটু হেসে বেশ মজা করে যেন গোপন কথা কোনো, এমনভাবে বললেন, “বুঝেন না, স্বামীর সঙ্গে যখন আমার মোলাকাত তখন তো মাত্র ১৫/১৬ বছর বয়স।  কেউ তো শিখাবারও ছিল নাকি- এমন করে চলো বা এমন করে কথা বলবা। সে সময় উনার তো কোন শিক্ষা পেলাম না যে আপনি করে বলাটা ভালো শোনায় না।”
ফিসফিস করে বললেন, “আসলে চুপি চুপি তুমি বলাটা কিন্তু এসেও যায়।”

ঢাকার মানুষের কথায় একটা বিশেষত্ব আছে, কথার স্বরে একটা টান আছে, তিনি সেই ভাষাতেই সুন্দর করে আমাকে যা বললেন তার মধ্যে জীবনের একটা বাস্তব সত্য ফুটে উঠল। পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর প্রেম-ভালোবাসা সে তো আর আপনি-তুমির ওপর নির্ভর করে না। দাম্পত্য প্রেমে পারস্পরিক শ্রদ্ধা আস্থা বিশ্বাস এসবের গুরুত্ব বেশি। বিয়ের পর দুজনে দুজনকে বুঝতে বুঝতে সহজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছেলেমেয়ে স্ত্রী নিয়ে পারিবারিক যে বন্ধন তা কবিকেও বাস্তববাদী করে তোলে বৈকি।
তিনি বারবার জোর দিচ্ছিলেন কবির একটি বিশেষ চারিত্রিক গুণের ওপর : ওনার বড় ধৈর্য্য এবং সহ্যশক্তি আছে।  যে পরিবারে তিনি মানুষ সেখানে কবিতার কোন স্থান ছিল না, কবিকে করে তোলার জন্য এই পরিবারে কোনো বিশেষ পরিবেশ ছিল না। এমনকি কবি হবার প্রতি তার ঝোঁক, কবিতা লেখাতে তাঁর মনোনিবেশ দেখে আশঙ্কিত ছিলেন পিতা।  তাঁর একেবারেই পছন্দ ছিলনা যে ছেলে কবিতা লেখার চর্চা করবে। এইরকম বিরুদ্ধতার মধ্যে তাঁর কাব্যজীবনের শুরু। কিন্তু অসম্ভব ধৈর্য, সহ্যশক্তি থাকার ফলে তাঁর কবিত্বশক্তি তখন দুর্দমনীয় হয়ে ওঠে। সেই তো ছিল কবির কাব্যচর্চায় সুনাম অর্জনের প্রাথমিক সূচনা। জোহরা রাহমান নিজেই আত্মমগ্ন হয়ে গেলেন, আমার অবস্থাটা দেখেন না, এমন কথা তো কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি কবির স্ত্রী হব। কবিতা কোনদিন তেমন আগ্রহ নিয়ে তো পড়িনি। স্কুলের বইয়ের পড়া আর শখের পড়ার তফাৎ তো আছে। কিন্তু এই বুঝটা ঠিকই ছিল যে স্বামীর আনন্দেই আমার আনন্দ, তাঁর পছন্দই আমার পছন্দ। এজন্য প্রথম থেকে মেয়েরা যেন তৈরি হয়েই থাকে। বিয়ের আগে যেসব অভ্যাস পছন্দ-অপছন্দ থাকে সবকিছুই বিয়ের পর নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। সেটা সচেতনভাবে হয় না ঠিকই, মনের মধ্যে এই ভাঙাগড়া স্বাভাবিকভাবেই চলে।
বাতি জ্বালিয়ে ঘুম কি করে হয়? ঘরে বাতি জ্বলবে, স্বামী রাত জাগবেন, স্ত্রী ঘুমাবেন, এটাতো কোনো অবস্থাতেই বিয়ের আগে ভাবি নি। কিন্তু সেটাই তো হলো।”
জোহরা রাহমান রাতের পর রাত ঘুম থেকে জেগে দেখেছেন গভীর আত্মমগ্ন হয়ে কবি কবিতা লিখছেন। তার সেই ধরনটা এখনো আছে। বিছানায় উপুড় হয়ে বুকে বালিশ দিয়ে লিখে যেতে তিনি অভ্যস্ত। সেই নিঝুম রাতের মায়াময় পরিবেশে কবিকে বিরক্ত না করে সাক্ষী হয়ে থাকতেন এক-একটি কবিতার জন্মলগ্নের। কখন যে ভালোলাগা তাকেও ছেয়ে গেল। এর পর কোন কোন দিন কবিতা লেখায় ছেদ পড়লে আকুল হয়েছেন, কেন কবিতা লিখছেন না কবি।
কবির প্রথম দিকের বন্ধু ছিলেন কবি হাসান হাফিজুর রহমান। সারাদিন তখন বাইরে বাইরেই কাটাতেন। পরীক্ষাটা শেষ পর্যন্ত দিলেন না। রোজগারের চেষ্টা করতেন। অবশ্য বাড়ি থেকে কোনো চাপ ছিল না। শশুর তখনো সব কিছু সামাল দিচ্ছেন।
বড় মেয়ে খুশির জন্মের পর তিনি রেডিও অফিসে চাকরি পেলেন প্রোগ্রাম প্রডিউসারের। কাজটা কি, অফিসের কি বৃত্তান্ত এসব জানার আগ্রহ তার ছিল না। কর্মক্লান্ত স্বামীকে চা জল খাবার দিতেই ব্যস্ত হতেন। ছিল সংসারের ঝামেলা। স্বামীও কখনো তাঁর কবিতা অফিস এসব জগতের কথা তার সঙ্গে তেমন খোলাখুলি বলেননি। আসলে এটাই ছিল স্বাভাবিক। তাই বলে আজকে যদি কেউ মনে করেন কবি তাঁর দুটো জগত বানিয়েছিলেন, তাহলে ভুল হবে। সংসার, খুঁটিনাটি, তার নিজের প্রয়োজন সবকিছুর জন্য কবি স্ত্রীর ওপর তখন এবং এখনো এত বেশি নির্ভরশীল যে, জোহরা রাহমান তাতে বেশ গর্ব অনুভব করেন।
স্ত্রীর হাতে প্রথম রোজগারের টাকা এনে দিয়ে গর্বদীপ্ত কবি মেয়েকে আদর সোহাগে ভরে দিয়েছিলেন। কবির পিতা-মাতা কখনো ছেলের রোজগারের টাকার ওপর দাবি জানাননি, এখনো না। সেইসব দিন খুব বেশি পুরোনো হয়ে গেছে. তাতো মনে হয় না। ওর সেইসব উচ্ছ্বাস-আনন্দ গোপনে প্রকাশ হত। দুঃখ-বেদনা অন্তরের গোপনে বয়ে যায়।
ছয় ছেলেমেয়ে নিয়ে ভালই ছিলেন তাঁরা, কোন আঘাত সইতে হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে ছেলে মতিনের মৃত্যুতে বছর দুই ধরে যে আঘাত এই পরিবারের, বিশেষ করে তারা দুজনে পেয়েছেন, এটার কোন সান্ত্বনা নেই।  যে ছেলেটি পানিকে ভয় পেত, সে পানিতেই ডুবে গেল, এর মতো দুঃখ আর নেই। কবির দুঃখ চাপা, কবিজায়ার দুঃখ অসহনীয়। কিন্তু কেউ কাউকে এই বিষয়ে কিছু বলেন না। দুজনেই জানেন কী অপূরণীয় ক্ষতি তাদের হল, জোহরা রাহমান যখন চুপ হয়ে ভাবেন, কবি বলে ওঠেন, কি হল তোমার মন খারাপ? কবি যখন ভাবমগ্ন- অতল আঁধারে চলে যেতে থাকেন, তখন জোহরা রাহমান তাকে আত্মস্থিত করে তোলেন।
এই জীবনধারায় কবিকে তিনি বড় কাছের মানুষ হিসেবে পেয়েছেন। ভক্তবৃন্দের অশেষ কুশল বন্দনা, অযাচিত চিঠিপত্র, সময় কাটাবার আকাঙ্ক্ষা, সবকিছুই কবিজায়া হাসিমুখে বরণ করেন। একজন মানুষ, যে অনেক বড় কবি, সে সকলের হৃদয় জয় করবে, এটাতে তো অন্য ভাবনার স্থান দেয়াটাই বোকামির পরিচয়।
কবির স্বভাবসুলভ কিছু পরিচয় যে তার কাছে ধরা পড়েনি তা তো নয়। হয়তো কাউকে খেতে বলেছেন, ভালো রান্নার ব্যবস্থা করতে বলে তিনি আর এলেন না। মেহমান এসে খেয়েদেয়ে চলে গেলেন। পরে এসে বলেছেন, “বড় ভুল হয়ে গেল, কাজে আটকে গেলাম।”
এসবের জন্য রাগ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। একজন বড় হলে তার ছোটখাটো বিষয় সহ্য করতেই হয় । উনি তো অনেক বড়, ব্যস্ত, তার তো এসব ত্রুটি কিছু থাকবেই।
কিন্তু রাগ কি কখনো কবিজায়া করেননি কবির সঙ্গে?
কি যে বলেন, রাগ করবো না কেন? এই যে দেখেন যত্রতত্র তাঁর বই- আলমারি ভরা বইপত্র; ধুলা পড়ছে, ধুলা ঝাড়ছি, আবার পোকায় কাটছে সেটার জন্য ওষুধ দিচ্ছি, এসব আমি বেশ আনন্দেই করছি। কিন্তু দেখেন উনার বই একটাও রাখা যায় না। মানুষ চাইলেই দিয়ে দেবেন। এটা নিয়ে ওনার সঙ্গে আমি খুব রাগ করি। বলেন, আবার এনে দেব। আর দেন না।
এসময় কবি এসে কি যেন বললেন। জোহরা রাহমান উঠে গেলেন। কবিকে দেখলাম কিছুটা অস্থির পদচারণায় মেয়েকে কি যেন বলছেন। বিষয়টা হলো- না, তাঁর অফিসের গাড়ি হঠাৎ ব্রেকফেল করেছে। অফিস যেতে মন লাগছে না। ‘প্রিয়’ আসবে। দৌহিত্র। ছোট্ট এক বছরের প্রিয়মুখ কবিকে বিচলিত করে। এর মাঝেই তিনি হেসে বললেন।
অপর পক্ষের প্রতিক্রিয়া কিরকম লাগছে? আপনি কি মনে করেন দুজন মানুষ কেউ কাউকে সম্পূর্ণ বুঝতে পারে?
সম্পূর্ণ বুঝতে পারাটা হয়তো হয় না, অথবা সে চেষ্টা করাটাও বৃথা। নাকি কবি সে চেষ্টা করেন বলেই জোহরাকে সম্বোধন করে বলেন, “আমার জীবন যেন সীমাহীন অরণ্যে রোদন।”
কিন্তু জোহরা রাহমান বলেন, কবির অস্থিরতা তাঁর কাব্যচর্চার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। সংসারজীবনে তিনি সাধারণ পিতা, ছেলে মেয়ের ভালো হোক, মানুষ হোক, তাদের ভালো বিয়ে হোক, এটাই তার কাম্য। স্ত্রীর জন্য উজাড়-করা ভালোবাসা তিনি প্রতিনিয়ত তার ব্যবহারে কাজে সহযোগিতায় প্রকাশ করেন। ঠিক সময়ে খেতে চলে আসেন বাড়িতে, সকলে একসাথে খাওয়া হয় রাতে।
পারিবারিক আবহাওয়াটা হাসিখুশি আনন্দময়। একটা কথা কি জানেন, আমরা খুব সিনেমা দেখতে ভালোবাসি। আগে তো তাজমহল সিনেমা হল ছিল নিজেদের, বিয়ের পর কোন ছবি বাদ যায়নি। দুজনে রাতের শো বেশ নিরিবিলি দেখে আসতাম। আর এখন তো উনি সেন্সর বোর্ডের সদস্য। দুজনেই যাই। বেশ ভালো লাগে আমার।
কবির সামাজিকতা রক্ষা করতে কোন আপত্তি নেই, অনিচ্ছা নেই। কিন্তু সমস্ত প্রস্তুতি কবিজায়াকে নিতে হয়, তারপর উনি শুধু সাথে থাকেন। এখন অবশ্য বেশ ব্যস্ত উনি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করতে হয় বলে অনেক সময় সামাজিকতা রক্ষা করা হয় না। সেসব ক্ষেত্রে জোহরা রাহমানই সবটুকু সামাল দেন। দোকানপাট, বাজার, কেনাকাটা সবই তিনি এবং ছেলেমেয়েরা করেন। তিনি মনে করেন কবিকে ঝামেলামুক্ত রাখা তার দায়িত্ব এবং এই দায়িত্ব তিনি না পালন করলে এর বড় কবি হওয়া কি সম্ভব হতো?
কবিতা লেখার জন্য তার ঘর-টেবিল গুছিয়ে, কলম ঠিক করে, এমনকি নষ্ট কাগজ ফেলার ঝুড়িটাকেও টেবিলের কাছে রেখে দেবার কাজটা কবিজায়া নিজ হাতেই করেন। এখন মেয়েরা বড় হচ্ছে, সময়ে ওরাও করে। কবির লেখা খুব সুন্দর। খুব কম কাগজ নষ্ট করেন। যদি বা নষ্ট হয়, সুন্দর মুঠোকরে সেটা ঝুড়িতে ফেলেন। কবি ঘুম থেকে উঠে বা এমনি কখনো হাঁটেন, আঙুল দিয়ে শূন্যে লিখে চলেন নানা কথা, বুঝতে পারেন কবিজায়া, কবিতা লেখার প্রস্তুতি চলছে কবির।  এসময় তাঁকে তুচ্ছ সাংসারিক ঘটনায় বিরক্ত করা চলবে না। কেননা কবি শুধু একা তার নন, তিনি সমগ্র জাতির। কবির স্বাস্থ্য সময়ে সময়ে ভালো যায় না। সেজন্য তিনি খুব চিন্তিত থাকেন। যথাসাধ্য চেষ্টা করেন তাকে সুস্থ রাখতে।
“কবিতাপাঠের তেমন আসর হয় না। কিন্তু আমরা বললে উনি কবিতা পড়েন। তাঁর কবিতা শুনতে আমরা ভালোবাসি। আপনারাও নিশ্চয়ই জানেন তার কবিতাপাঠ, বিশেষত, নিজের কবিতাপাঠ খুবই আবেগময় হয়। সব কবিতাই ভালো লাগে, তবে সবচেয়ে প্রিয় কবিতা ‘কখনো আমার মাকে’।
কবির গানপ্রীতি বুঝতেই পারছিলাম। সেতারের আওয়াজ ভেসে আসছিল। সবরকম গানের প্রতিই কবির টান সমান। খাওয়াতেও তিনি রসিক। শাহীটিকিয়া, ফলমূল, শাকসবজি সবকিছুতেই তাঁর আগ্রহ আছে।
কবিজায়া যত্ন নিয়েই কবির জন্য তৈরি করেছেন আনন্দভুবন।
‘গর্ব’? আমার প্রতি কটাক্ষ হেনে জোহরা রাহমান বললেন, “সেটাও মুখ ফুটে বলতে হবে”, এ যে আমার ভাগ্য।

[সূত্র : সচিত্র সন্ধানী, ১৯৯৪]