মাসুদুজ্জামান > সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির অ্যামবাসেডর জন্মবার্ষিকী

0
867
এই সময়ের বাংলাদেশে যে ক’জন অগ্রজ সাহিত্যকে মূলত জীবনচর্যার অংশ করে তুলেছেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তাদেরই একজন। অধ্যাপনা আর লেখালেখি, এই পরিচয়ে ইতিমধ্যে স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত তিনি। দীর্ঘকাল আমার একজন সহকর্মী হিসেবে দেখে আসছি তাঁকে। বছর দুয়েক আগেও প্রতিদিনই তাঁর সঙ্গে নিয়মিত দেখা হতো। দেখা হতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে। বিনিময় হতো সৌজন্য। বেশ কয়েকবার কলাভবনের দোতলার যে রুমটাতে তিনি বসতেন, মনে পড়ে অনেকবার গিয়েছি। বেশির ভাগ সময়েই এ-বই সে-বই আর লেখালেখি নিয়ে কথা হতো।
কয়েক বছরের বয়সের ব্যবধান আমাদের। সেই সূত্রে তাঁকে ‘মনজু ভাই’ বলেই সম্বোধন করে আসছি। কিন্তু তাতে মেশানো আছে গভীর শ্রদ্ধা, সমীহ। কোনো কোনো মানুষের বেলায় এমনটাই ঘটে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর ছাড়িয়ে যেসব শিক্ষক জাতীয় পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যায়তনিক জ্ঞান ও সৃজনীসত্তাকে সাহিত্যপাঠক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, মনজু ভাই তাদেরই একজন। বার বার তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের এই জাতিরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন। শ্রদ্ধাটা মূলত এই জন্যেই। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সব বিরল শিক্ষকদের একজন, যিনি এই বিদ্যায়তনে সীমাবদ্ধ থাকেননি। আমার এই লেখাটি শুরু করেছি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ দিয়ে। কিন্তু আমার লক্ষ্য, তাঁকে তাঁর লেখালেখির সূত্রে, বিশেষ করে একটা প্রবন্ধের বইয়ের সূত্রে লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে কিছুটা বুঝতে চেষ্টা করা। আর যে বইটি নিয়ে আমি এই লেখাটি লিখতে বসেছি সেই বইটি হচ্ছে ‘অলস দিনের হাওয়া’। জানি, এই একটি বই দিয়ে তাঁর লেখালেখি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা করা যাবে না। কেননা, বইটি সাহিত্যের, আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে বিদেশি সাহিত্যের আলোচনার বই। কিন্তু তিনি তো শুধু সাহিত্য নিয়েই লেখালেখি করেন না। তাঁর আরও একটি বড় পরিচয় তিনি কথাসাহিত্যিক। সাহিত্য নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি অন্যান্য নানা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, যেমন চিত্রকলা, নন্দনতত্ত্ব ইত্যাদি। ফলে এই লেখাটি শেষ পর্যন্ত নিঃসন্দেহে যৎকিঞ্চিতই হয়ে দাঁড়াবে। তবে এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পাঠকেরা তাঁর লেখালেখির কিছুটা হলেও হদিস পাবেন বলে মনে করি। কারণ, এই বইটিই হচ্ছে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের একমাত্র সিরিয়াস প্রবন্ধের বই। যদিও বিশ্বসাহিত্য সংক্রান্ত মৌলিক ভাবনা নয়, পরিচিতিমূলক আলোচনা গ্রন্থ হিসেবেই বইটিকে বিবেচনা করতে হবে আমাদের। সেই সূত্রে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায় তাঁর পঠনপাঠনের, বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে অনুসূক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ও ভাবনার।
‘অলস দিনের হাওয়া’, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নিজেই জানাচ্ছেন, রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে ধার করেছেন কথাটি। অনেকটা আলস্যের বৈঠকি ঢঙে এর লেখাগুলি লিখেছেন তিনি। পাণ্ডিত্যের দ্বারা ভারাক্রান্ত করে তোলেননি। এ সম্পর্কে আরও বিশদ আলোচনার পূর্বে এই বইয়ের কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করছি।
বিশ্বসাহিত্যই হচ্ছে এই বইয়ের বিষয়, আগেই সেকথা উল্লেখ করেছি। কিন্তু সেই সাহিত্য মূলত সমকালীন বিশ্বসাহিত্য। গত শতকের সত্তর দশক থেকে এই শতকের প্রথম দশক – অর্থাৎ প্রায় চারদশক ধরে এই লেখাগুলি লিখেছেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। এর অধিকাংশ লেখাই সংবাদ সাময়িকীতে বেরিয়েছিল। সংবাদের সেই সময়ের প্রথিমযশা সাহিত্য সম্পাদক আবুল হাসনাতের অনুরোধেই এই প্রবন্ধগুলি লেখার সূত্রপাত। তখন তিনি সদ্য পিএইচডি করে কানাডা থেকে ফিরেছেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন আধুনিক বিশ্বসাহিত্যের প্রচুর বই। ফলে, হাতের কাছেই ছিল লেখালেখির উৎস। প্রতি পনেরো দিনে এক-একটা লেখা প্রকাশিত হতো। চার দশক পরে যখন এই লেখাটার ইতি টানেন, তখন তার পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডারে জমে যায় প্রবন্ধের বিপুল সম্ভার। প্রায় আড়াইশো প্রবন্ধ থেকে ৫০টি লেখা বাছাই করে বই হিসেবে প্রকাশ করেন। নাম সেই ‘অলস দিনের হাওয়া’ই রেখে দেন।
প্রবন্ধগুলির বিষয়আশয় যদিও ছিল বিশ্বসাহিত্য, তবু তাতে, বইটির সূচিপত্রের দিকে চোখ দিলেই বোঝা যাবে, বিষয়ের কত-না বৈচিত্র্য। প্রধানত, দু-তিনটি দিক থেকে এই বৈচিত্র্যের সাক্ষাৎ পাই। প্রথমত, সমকালীন বিশ্বসাহিত্যের যেসব দিকপাল – কবি ও ঔপন্যাসিক – তাঁদের সাহিত্যকর্মের ওপর লিখেছেন। দ্বিতীয়ত, লিখেছেন সাহিত্যের বিভিন্ন ধরন ও অন্যান্য দিক, যেমন উত্তর-আধুনিক উপন্যাসের বর্ণনারীতি, নোবেল পুরস্কার, ইত্যাদি প্রসঙ্গে। সেই সঙ্গে ছুঁয়ে গেছেন বাংলা সাহিত্য ও চিত্রকলার মতো বিষয়কেও। কিন্তু মূল দৃষ্টিটা নিবদ্ধ ছিল সমকালীন বিশ্বসাহিত্যের বহুল আলোচিত সাহিত্যিকদের লেখালেখির ওপর। এ-প্রসঙ্গে কয়েক জনের কথা উল্লেখ করি – টেড হিউজ, ইয়েটস, ইকো, ব্রডস্কি, গ্যিয়েন, মোরাভিয়া, সিলভিয়া প্লাথ, কুদসিয়া, গ্রাস, ইয়োসা, লরেন্স, মার্কেস, গ্রীন, রুশদী, হলুব, হিমেনেস, পেসোয়া, কুন্ডেরা, নয়নতারা, বাস্তোস, কালভিনো, গর্ডিমার, পাস, বোর্হেস, হীনি প্রমুখ। বলা প্রয়োজন, ঠিক সাহিত্যের নোটস্ নয়, কিংবা বায়োগ্রাফিকাল ঢঙে নয়, লেখাগুলি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম লিখেছেন মুক্তভাবে। আলোকপাত করেছেন যে লেখকদের উপর, লিখেছেন তাঁদের বিশেষ কোনো গ্রন্থ বা বিশেষ বিশেষ প্রবণতার ওপর। যেমন ‘জন্মাদিনের পত্রাবলি’ শীর্ষক প্রথম লেখাটির কথাই বলি। এই লেখাটিতে আছে টেড হিউজের কাব্যগ্রন্থ ‘বার্থডে লেটার্স’ অথবা জন্মদিনের পত্রাবলির ওপর আলোচনা। কিন্তু এই আলোচনাটা শুধু বইটির কবিতার ওপর নিবদ্ধ থাকেনি। এসেছে সিলভিয়া প্লাথের সঙ্গে হিউজের তিক্ত সম্পর্কের কথা, যার জের ধরে আত্মহত্যা করেছিলেন প্লাথ। প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম দেখতে চেয়েছেন হিউজের সর্বশেষ কবিতাগুলির মধ্যে ওই সম্পর্কের কোনো সূত্র লুকিয়ে আছে কিনা। এভাবেই লেখাটি আরও প্রসারিত মাত্রা পেয়ে গেছে। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের এই বইয়ের প্রায় সবগুলো প্রবন্ধের ধরনই এমন।
এরপরের প্রবন্ধটির শিরোনাম ‘উত্তর আধুনিক উপন্যাস ও বর্ণনাকারীর ঐতিহ্য’। বিষয়টি তাত্ত্বিক, কিছুটা অনধিগম্যও বটে, বিশেষ করে সাহিত্যের তত্ত্ব নিয়ে যাদের আগ্রহ নেই সেইসব পাঠকদের কাছে। প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এই জটিল বিষয়টি- যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে উপন্যাসের নির্মাণ-কাঠামোর নানান প্রসঙ্গ- সহজভাবে ব্যাখ্যা করে গেছেন। পাঠক, যারা উপন্যাসের নির্মাণকৌশল নিয়ে কৌতূহলী, এই প্রবন্ধটি পড়ে অনেক কিছুই জানার সুযোগ পাবেন। এর পরের প্রবন্ধটি আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটসকে নিয়ে লেখা। তবে কবিতা নয়, ইয়েটসের কবিসত্তার দ্বিধারক্তিম দিকটিই তুলে ধরেছেন প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। স্বদেশমুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উদ্দীপ্ত কবির সঙ্গে যুদ্ধের অমানবিকতায় আহত কবির যে দ্বন্দ্ব, সেই দ্বন্দ্বের কথাই বর্ণনা করেছেন তিনি। আর এই দিকটিই যে ইয়েটসের কবিসত্তার কেন্দ্র, তার ওপর আলোকপাত করেই সেকথা বলতে চেয়েছেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। পরের প্রবন্ধটি ইতালির প্রখ্যাত পণ্ডিত-ঔপন্যাসিক উমতার্তো ইকোকে নিয়ে লেখা। অন্যান্য প্রবন্ধের মতো প্রায় একই পরিসরে লেখা এই প্রবন্ধটি ইকোর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ফুকো’জ পেন্ডুলাম’ নিয়ে রচিত। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ইউরোপীয় উপন্যাসের যখন দুর্দিন চলছে, তখনই অসাধারণ দুটি উপন্যাস লিখে সাড়া ফেলে দিয়েছেন ইকো : ‘ইকো পেশায় অধ্যাপক; দর্শন, নন্দনতত্ত্ব এবং সংকেত বিজ্ঞান বা সেমানটিকক্স পড়ান তিনি ইতালির বলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ পর্যন্ত দু’টি উপন্যাস তাঁর ছাপা হয়েছে, কিন্তু ইউরোপ কেন, সারাবিশ্ব স্তম্ভিত হয়েছে তাঁর অসাধারণ নির্মাণ কুশলতা, শিল্পগুণ এবং গল্প বলার দক্ষতায়। তাঁকে বলা হচ্ছে এই সময়ের শ্রেষ্ঠ লেখকদের একজন, মেটাফিকশনের সর্বোৎকৃষ্ট চর্চাকারী।’ লক্ষণীয়, খুব স্বল্পকথায় সহজ ভাষায় প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি দিয়ে উপন্যাসের ক্ষেত্রে ইকোর অবদানের কথা লিখেছেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। এই হচ্ছে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রবন্ধ রচনার ধরন। তথ্য-তত্ত্ব থাকে, কিন্তু তা পাঠকের উপর চেপে বসে না।
তবে শুধু কী তথ্যের উপাচার দিয়ে সাজানো সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখাগুলি? না, তা কিন্তু নয়। একজন সমালোচকের যে প্রধান গুণ, তুল্যমূল্য বিচারের ক্ষমতা, তাও তাঁর প্রায় সব প্রবন্ধেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ‘জোসেফ ব্রডস্কি’ এ রকমই একটা প্রবন্ধ। যে প্রবন্ধে নোবেল পুরস্কার পেলেও ব্রডস্কিকে খুব একটা ‘মহৎ’ বা ‘শ্রেষ্ঠ’ কবি বলে মনে হয়নি তাঁর; মনে হয়েছে ‘ভালো কবি’। এই সূত্রে নোবেল পুরস্কার কাদের দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি। তুলনা করে বলেছেন, ডেরেক ওয়ালকট ও শেমাস হীনির কবিতা অনেক ভালো, যে কবিতায় ‘না দেখা জানালা খুলে’ যায়।
আরেকটি যে বৈশিষ্ট্য সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রবন্ধের, সেকথা বলেই এই লেখাটি শেষ করবো। সেটি হচ্ছে বিষয়বৈচিত্র্য। সমকালীন বিশ্বসাহিত্যের এমন কোনো উল্লেখযোগ্য লেখক নেই যাঁকে নিয়ে তিনি লেখেননি। এই প্রবন্ধের শুরুতেই যেসব লেখকের নামোল্লেখ করেছি, সেই তালিকাটা দেখলেই পাঠক এই বৈচিত্র্যের হদিস পাবেন। শুধু কী লেখক? প্রসঙ্গের বৈচিত্র্যই বিশেষভাবে আমাদের মনোযোগ কাড়ে। ইয়েটসের নির্জিত সত্তার আর্তি, কুদসিয়ার নোবেল জয়, য়োসার নায়ক, কুন্ডেরার অমরত্ব, ইনফান্তের জগৎ, বোর্হেসের আধুনিকতা, উইলো ক্যাথারের নিন্দা-প্রশংসা – এরকম বিষয়বৈচিত্র্যে ভরা এই বইয়ের প্রবন্ধগুলি। তত্ত্বের নির্ভার অনায়াস উল্লেখ, ভাষার সহজতা, পাঠককে টেনে রাখে। তবে তিনি বেছে নিয়েছেন সেইসব লেখক ও প্রসঙ্গ যা আমাদের মানবিক বোধ ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক রুচিকে ঋদ্ধ করবে। এর প্রতিটি পাঠককে করে তুলবে অগ্রসর চিন্তার পাঠক। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এমনভাবে প্রবন্ধগুলি লিখেছেন যেন ঠিক সামনেই পাঠকেরা বসে আছেন। বিদেশি বিষয়আশয়কে বঙ্গীকরণের দক্ষতাও উল্লেখ করার মতো। ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক তিনি, কিন্তু কী অনায়াস ভাষা ও ভঙ্গিতে বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চা করে যাচ্ছেন, ভাবলেই অবাক হতে হয়। সব মিলিয়ে তাঁর ‘অলস দিনের হাওয়া’র প্রবন্ধগুলি আলোচ্য বিষয়েরই আরও গভীর পাঠের দিকে আমন্ত্রণ জানায়। প্রাবন্ধিক হিসেবে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের কৃতিত্ব মূলত এইখানে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এ-ও জানি, এই মুহূর্তে ইংরেজি-বাংলা অভিধান প্রণয়ন প্রকল্পের সঙ্গে তিনি যুক্ত আছেন। উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন বেশকিছু সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। আমাদের প্রকাশনা শিল্পকেও নানাভাবে সহায়তা করে যাচ্ছেন তিনি। আমাদের প্রকাশকমণ্ডলীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর। শিল্পকলার বৌদ্ধিক চর্চাতেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। শিল্পকলা একাডেমির বিগত বাইয়েনিয়ালে তাঁকে দেখলাম সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতে। বাইরের বিশ্বের লেখকদেরকে কেন্দ্র করে যেসব অনুষ্ঠান দেশে অনুষ্ঠিত হয়, তাতেও মূলত তাঁকেই প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায়। বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির অ্যামবাসেডর তিনি। এমনকি, বাংলাদেশের যেসব লেখক ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যচর্চা করছেন, স্বেচ্ছায় তাদেরও পরামর্শক হিসেবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। অর্থাৎ, বাংলা ও ইংরেজি – উভয় শ্রেণির লেখক ও পাঠকদের কাছে সমান সমাদৃত শীর্ষ লেখক হচ্ছেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। আপনার জন্মদিনে আপনার প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি, মনজু ভাই।