মীর রবি > কবিতাগুচ্ছ >> উৎসব সংখ্যা ১৪২৬

0
595
চাঁদের বুড়ি
দাওয়ায় বসে দাদি চড়কা কাটেন- ঘোরঘোর শব্দে গুছিয়ে যায় সুতো, সুতোর গুটি দাদির মুখ হয়ে ওঠে। দাদিকে আমার চাঁদের বুড়ি মনে হয়, শাদা শাড়িতে উড়ে যান তুলোর মতো- রাতের আকাশে ঝুলে থাকেন চাঁদের ভেতর। ভাত খাইয়ে দিতে দিতে মা বলেন- তোর দাদি ওই আসমানো থাহে, রাজকুমারির লাই কাপড় বোনে, তোর লাইগা বোনে পাঞ্জাবী। মা’র গল্প শুনে নিজেকে রাজকুমার মনে হয়- ডালিম কুমারের ভাব নিয়ে ছুটি ঘোড়ার পিঠে, ঘোড়া দৌড়ায়, মাথার উপর চাঁদ দৌড়ায়, শুধু দাদি আর কথা কয়না…
কালু-গাজীর গল্প
মা কালু-গাজীর দরগায় মান্নত করেছিলেন- ছেলে হলে সিন্নি দিবেন। জানি না, মা- ফিরনি কিংবা পায়েসে সিন্নি দিয়েছিলেন কি-না। কিন্তু বড় হতে হতে জেনে গেছি- কালু-গাজীর গল্প, গাজীর দরগায় তার মাটি ফুঁড়ে আছে ঢিপি- বৈশাখে জেগে ওঠেন তিনি। বাড়ির বউ-ঝি মন-বাসনায় মান্নত করেন, সদগা দেন বড় মোরগ কিংবা খাশি। দুধ-কলায় ভিজিয়ে আসেন অদৃশ্য পুরুষের গলা- যার বীর্যদানে জন্মায় কাঙ্ক্ষিত শিশু।
আমি তার এমন কোনো দানপুত্র কি-না অথবা কিইবা আমাদের সম্পর্ক, এইসব সম্পর্কের জট খুঁজে পৌঁছাই গাজীর ভিটায়- হাসতে থাকে লালসালু, সমূহ রহস্যে ঘুরতে থাকে বাদকের দল-সাতপাকে উড়ে যায় ধূপ আর ধুনা…
মালঞ্চমালা
সাভারের বুক চিরে ঢাকার চিপাগলি ঢুকে গেলে- দেশ ট্রাভেলস, হারিয়ে যায় সমস্ত সবুজ গ্রাম, তীব্র জানজটে জ্বলতে থাকে লালবাল্ব- তখন, স্মৃতির ক্যানভাসে সাইরেন বাজায় মালঞ্চমালার গান। পিছু ফিরে দেখি- চিতায় পোড়ে চন্দ্রমানিক্যের হাত, ভস্ম হতে থাকে মাথা ও পা। ক্রমাগত কেঁদে চলে কোনো সতী নারী, দেবতারা ফিরিয়ে দেন তার দান। বিজয়ের নিশান ওড়ে, তবু- সময়ের মাপকাঠি ভুলে- শেকড়হীনে চলে বঙ্গজ প্রাণ।
নাইওরি
গাঙ ধরে এগোয় নাইওর নৌকো, উঁকি মারে ভোঁ-দৌড় মন, বিছিয়ে পরে আঁচল তার, ছায়া ভাসে জলে। মুঠোভরা হাতে তোলে শাপলা-শালুক, খোঁপায় বাঁধে পদ্ম-গেলাপফুল। ভাটের সংসারে পিঁ-পিঁ ডাকে জলপিপি। জল কেটে চিলের ছবি- শূন্যতার সিম্ফনিতে শোনায় চিঁ-চিঁ ধ্বনি। একটা গাঙশালিক উড়ে যেতেই জোয়ার আসে চোখে- পোড়ামনে রোদ করে ঝিলমিল…
মীর রবি >>
জন্ম ২৪ নভেম্বর ১৯৯৮ সালে রংপুরের প্রতাপবিজয়সেন মুন্সিপাড়ায়। বাবা মীর ফজর আলী, মা শেখ রহিমা বেগম। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অ্যাকোরিয়ামে মহীরুহ প্রাণ ও ইরেজারে আঁকা ব্ল্যাক মিউজিক। পেয়েছেন ‘সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার (২০১৮)। সম্পাদনা করছেন ছোটাকাগজ ঠোঙা।