মুজিব ইরম > পাঠ্যপুস্তকের কথা অমৃত সমান >> নিজের বই নিয়ে

0
222
Rassel Lekha

মুজিব ইরম > পাঠ্যপুস্তকের কথা অমৃত সমান >> নিজের বই নিয়ে

১. পাঠ্যবই থেকে ২টা কবিতা

পাঠ্যবই

অনেক লিখেছি আমি অপাঠ্য পুস্তক
এবার লিখিবো কিছু পাঠ্যবই
যদি দয়া হয় পাঠ করো
তুলে রাখো উন্নি গরম বুকে
তোমার নামের গুণে
তোমার দয়ায়
জানি আমি
এ পুস্তক অপাঠ্য রবে না আর
একদিন
পাতাগুলো ভরে যাবে গুণে, আগর চন্দনে।

পাঠ্যবই ২য় ভাগ

আর কেউ না-পড়ুক, এ-পুস্তক তুমি ঘরে তুলে নিও। রেখে দিও বিছানায়, বালিশের নিচে। তোমার চুলের ঘ্রাণ, দেহের গরম, যেন লেগে থাকে। যেন আমি টের পাই, উন্নি গরম আদর, প্রতিটি পাতায়।
আর কেউ না-করুক, এই পুস্তকের গায়ে তুমি রাখিও দেহের ওম, বুকের গরম। আদরে আদরে যেন টেকসই হয়। যেন বা সে টিকে থাকে কামেঘামে, দয়ায় মায়ায়।

২. পাঠ্যবই নিয়ে দু’চার লাইন

বইমেলায় প্রকাশিত হলো আমার একটি কবিতার বই। নাম রেখেছি পাঠ্যবই। উপরে উদ্ধৃত কবিতা দুটিতে পাঠ্যবইয়ের উদ্দেশ্য, পাঠ্যবই লেখার শানে নযুল হয়তো কিছুটা লুকিয়ে আছে। তাই শুরুতেই তুলে দিলাম। এটা হচ্ছে জাহেরি কারণ। অবশ্য অন্য একটা কারণও আছে। কারণটা বাতেনি। তাহলে সেটাই আগে বলি।
প্রিয় মাসুদুজ্জামান ভাই তীরন্দাজের জন্য বিষয়টি নির্ধারণ করে দিলে কেনো যে রাজী হয়ে গেলাম, এমনতর কঠিন কাজের জন্য, এখন তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। নিজের বই নিয়ে, নিজের লেখালেখি নিয়ে কথা বলা যে কী কঠিন কাজ, আবারও বুঝতে পারছি। লেখাটি কী ভাবে শুরু করতে পারি, তা খুঁজে না-পেয়ে কবিতা দিয়েই শুরু করে দিলাম। এতে করে লেখাটি অন্তত শুরু করা গেলো। নিজের কবিতা নিয়ে এর আগে কোথাও কিছু লিখেছি কি না, ঠিক মনে করতে পারছি না। নিজের লেখালেখি নিয়ে কথা উঠলে কেমন নাই হয়ে থাকি, তোতলাতে থাকি। এবারও তাই হলো। সেই তোতলা নিবে নিজের বই নিয়ে নিজে কিছু একটা লিখে মাসুদ ভাইকে দেওয়া কথা রাখতে চাচ্ছি। পাঠক দয়াময়, নিশ্চয় পাঠ্যবইয়ের লেখকের প্রতি তাদের দয়া বর্ষিত হবে। যাবতীয় ক্ষমা নসিবে জুটবে। পাঠক সহায়।
সেই শৈশশব-কৈশোর থেকে দুটি শব্দ রক্তে মিশে গিয়েছিলো। পাঠ্যবই আর আউট বই। আমি তো সারাজীবন আউট বইয়ের লোক। পাঠ্যবইকে পাশ কাটিয়ে আউট বই পড়ে পড়ে আর আউট বই লিখে লিখে কাটিয়ে দিচ্ছি একটা জীবন। অনেক তো লিখা হলো আউট বই, হঠাৎ করে মনে হলো হচ্ছে না কিছুই। আউট বই লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। সেই ক্লান্তি তাড়াতে আর পাঠ্যবইয়ের ভয় তাড়াতেই মনে হয় লিখতে চাইলাম নতুন এই পাঠ্যবই। যদি দয়া হয়, যদি এবার চোখ তুলে তাকায় কবিতা, হয়তো বেদনা ঘুচবে।

৩. পাঠ্যবই নিয়ে খবর ও ১টি মন্তব্য

পাঠ্যবই নিয়ে এ-পর্যন্ত যেসব খবর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, সেসব খবরে বইটি সম্মন্ধে যে মন্তব্য করেছি, তা এবার পড়া যেতে পারে: পাঠ্যবইকে যথারীতি আমি আমার ‘১৫তম ১ম বই’ বলতে চাই, কেনো না একটা বইই তো আমি লিখতে চাই জীবনভর। আউট বই লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিলো হচ্ছে না কিছুই। তাই এবার পাঠ্যবই লিখতে চেয়েছি। মন বলছে, এ-পুস্তক অপাঠ্য রবে না আর। একদিন পাতাগুলো ভরে যাবে গুণে, আগর চল্দনে।

৪. পাঠ্যবই থেকে আরেকটি কবিতা ও কবিতা ভাবনা

এই লেখাটি লিখতে গিয়ে মনে পড়লো, তীরন্দাজের জন্য গেল বছরের কোনো এক সময় লিখেছিলাম ‘প্রেম ভাবনা: কবিতা ভাবনা’। দুটি কবিতা সহ মন্তব্যটি ছাপাও হয়েছিল। কবিতা দুটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। সেই মন্তব্যটি সহ একটি কবিতা এবার পড়া যেতে পারে, তাতে হয়তো পাঠ্যবইয়ের আরেকটা রূপ দেখা যাবে।
‘আমারে নি ফাউরি লাইছো তুমি!’ মনটা বড়ো আকুলি-বিকুলি করে! কে যে কারে ভুলে যায়, ফাউরি লায়, পাসরিয়া আন বাড়ি যায়, আহা! এই একটি সিলেটি শব্দ, ফাউরি লাওয়া, বড়ো উন্মাতাল করে দিচ্ছে! যা লিখছি, হয়ে যাচ্ছে প্রেম। আমি তো দেশ ছাড়া, খেশ ছাড়া লোক। হারানো মানুষ। যা লেখি তাই প্রেম। যা লেখি তাই মায়া। কোথাও যেন কী ছিলো, কেউ ছিলো। কোথাও না কোথাও যেন কী আছে, কেউ আছে। আর আমি মিনতি করি, আর আমি কান্নাকাটি করি: ‘আমারে তুমি ফাউরি লাইও না। আমারে তুমি লগ ছাড়িও না।’

নিন্দামন্দ

বৈদেশী ডাকিও না আর বুকে বড়ো বিঁধে!

টিটকারি দেবে যারা
তারা দিক
নিন্দামন্দ
তামাশা করুক
দূরে চলে যাক
তুমি শুধু সেই নামে ডাকো
যেন আমি ডাক শুনে পার হতে পারি
ভাঙ্গা মন
ভাঙ্গা সাঁকু
দূরের হাকম…

কাকুতি মিনতি রাখো
লগ ছাড়িও না আর বুকে বড়ো বিঁধে
বৈদেশী ডাকিও না আর বুকে বড়ো বিঁধে!

৫. পাঠ্যবই নিয়ে শেষকথা : মোনাজাত

পাঠ্যবই নিয়ে, নিজের বই নিয়ে আর কী লেখা যেতে পারে, কী লেখা উচিত ঠিক বুঝতে পারছি না। নিজের লেখা নিয়ে তোতলাতে তোতলাতেই তো একটা জীবন চলে যাচ্ছে, তবু নিজের লেখাকে আর লেখা মনে হচ্ছে না! এক একটা বই বের হয় আর হাহাকার বাড়ে, দীর্ঘশ্বাস বাড়ে। দিনরাত হাহাজারি করি। আমিও রাধারমণের দেশের লোক। কবিতাকে শুধু ডাকাডাকি করি, কান্নাকাটি করি। শব্দকে ডাকি, মিনতি জানাই: ও আমার শব্দ দয়াময়, তোমারে দেখিবার মনে লয়!
সূত্র : পাঠ্যবই বের করেছে চৈতন্য। প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী সমর মজুমদার। বইমেলায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে চৈতন্যের ৫৩৫-৫৩৬ নং স্টলে। ৬৪ পৃষ্টার বইটির মূল্য ১৬০ টাকা।