মুম রহমান > ১০টি অণুগল্প >> উৎসব সংখ্যা ১৪২৬

0
443
নিশ্চিন্ত
হাতের গ্লাভসটা খুলে কাপড় চোপড়ের সাথে একত্র করে একটা দেশলাই কাঠি ধরিয়ে দিলো রাজিব। ব্যস সব পুড়ে গেলো। এবার নিশ্চিন্ত। প্রতিটি খুনের পর সব নিশানা মিটিয়ে ফেলে নিশ্চিন্ত হয় রাজিব। তারপর একটা সিগারেট ধরায়। এখন ফুলের দোকানের সামনে রাজিব। একগুচ্ছ দোলনচাপা কিনবে। নিশির কাছে যাবে। নিশি দোলনচাপা খুব পছন্দ করে।
পাতাকপির পোকা
সবুজ কচি পাতা আমার খাদ্য। ভেতর থেকে ধীরে ধীরে কুড়ে কুড়ে আমি পাতাকপি খাই। পাতার গহনেই আমি বাসা বানাই। ওখানেই আমার পরিবার গড়ে ওঠে। মোটামুটি সুখে শান্তিতে কেটে যায় একটা জীবন আমার। আমার একমাত্র শত্রু কীটনাশক। এই বিষ আমাকে মারে। তোদেরকেও মারবে। ধীরে ধীরে কুড়ে কুড়ে মারবে। যেমন আমাকে মারে।
খালাম্মার কবর
হঠাৎ করে খালাম্মার জায়নামাজটা চোখে পড়লো। তেমনি আছে, ঝলমলে সবুজের বুকে কাবাশরিফের ছবি। খালাম্মার মুখটা মনে নেই। কোথায় কবর দেয়া হয়েছিলো খালাম্মাকে? সেটাও মনে নেই। ছবির অ্যালবাম দেখে মুখখানা মনে করা যাবে। কিন্তু কবরের কথাটা কাকে জিজ্ঞাস করি! খালাম্মার ছেলে-মেয়েরা রাগ করবে না তো! আচ্ছা, তাদের মনে আছে তো?
প্রিয় গোলাপ
জিয়ে গুজিয়ে ফুলগুলিকে বাজারে নিয়ে গেলো আমাদের মালি কাকা। এর মধ্যে দুটো গোলাপকে আমি ফুটতে দেখেছি। ওরা আমার প্রিয়। বাজার থেকে সন্ধ্যায় ফিরে এলো কাকা। সব ফুল বিক্রি হয়নি। আমার হাতে একটা গোলাপ দিয়ে বললো, তুমি নাও বাবু, সকালে চেয়েছিলে। কেন আমি নেবো? গোলাপের গায়ে যে এখন বাজারের গন্ধ লেগে গেছে।
সেলফি
সেলফি-স্টিকটা রেডি করলো সুলেখা। ভালো করে আয়নায় নিজেকে দেখে নিলো আরেকবার। ভালোই লাগছে। টেনে কাজল দেয়ায় চোখদুটো বেশ মায়াময় লাগছে। ছবিটা তোলার সময় চোখদুটি কি খোলা থাকবে? এ সব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ভেবে কী লাভ! ফ্যানের গলায় ঝুলে পড়লো সুলেখা। দুঃখ একটাই, জীবনের শেষ সেলফিটা নিজে আপলোড করতে পারলো না।
স্ট্যাটাস
‘মাবুদ, খালি তোমার হিসাব মতোই ভালোবাসতে হবে এ কেমন প্রেমের তরিকা! প্রেমের কাছে ধর্ম হেরে যায় তবে? আমি মানি না এই জীবন।’ ফেইসবুকে লিখেছিলো সে। তদন্তকারী অফিসার জানাচ্ছেন, নুরুল ইসলাম ধার্মিক ছিলো এবং প্রেমিকও। তার প্রেমিকার নাম আশালতা রায়। নুরুল ইসলাম কোনদিন আশালতাকে তার প্রেমের কথা বলতে পারেনি, পারলো না।
কে যেন?
সাদা জামা, লাল ওড়না, কপালে লাল টিপ। আর কোন সাজগোজ নেই। হাতে একটা অনাড়ম্বর ঘড়ি। সম্ভবত এই কোম্পানির সবচেয়ে শস্তা ঘড়িটাই তার হাতে ছিলো। চোখ কালো নয়, বাদামি। চুলগুলো ছোট, তবু কিছু চুল কপালে এসে পড়ে। কী যেন মেয়েটার নাম? কে যেন মেয়েটা? কোথায় দেখেছিলাম? কী হবে এসব মনে করে?
চোর
সুদীপ সুখ দিতে জানে। সুদীপের নয়া ভঙ্গির আদর চোখ বুঁজে উপভোগ করছে সীমা। আর তখনই কিছু একটা পতনের শব্দ হয়। কী হলো? চোরটোর নয় তো? সুদীপ উঠতে নেয়। সীমা তাকে টান দিয়ে আরো কাছে নেয়। চুপ থাকো। চোর ধরে নিজেদের বিপদ ডেকে আনবে বোকাছেলে! জোরে কাশি দাও, চোর পালাবে।
বোতাম
ঘর ঝাড় দিতে গিয়ে আলতার হাতে উঠে এলো হলুদ বোতাম। এ বাড়ির প্রতিটা মানুষের প্রতিটা কাপড় সে নিজে কাচে। হলুদ বোতাম তো কারো নেই। বোতাম হাতে নিয়ে হতবাক তাকিয়ে থাকে আলতা। মাননীয় পাঠক, আজকের ব্রেকিং নিউজ- তিনদিন হাসপাতালে কাটিয়ে ঘরে ফিরে খাটের তলায় আলতা খুঁজে পায় একটা হতচ্ছাড়া হলুদ বোতাম।
আইসক্রিম
আবিরের কাছে এক-কামড় আইসক্রিম চাইলো মিথিলা। আবির আইসক্রিমটা ভালো করে চেটে তার উপর কপট থুতু দিয়ে বললো, নে খা? মিথিলার গালে হাত বুলাতে বুলাতে স্বামী অর্নব বললো, স্যরি রাগ উঠে গিয়েছিলো, মাপ করে দাও, চলো সিনেমা দেখে আসি। বহু বছর আগের সেই ছেলেবেলার আবির আর আইসক্রিমের কথা মনে পড়লো মিথিলার।