মুহম্মদ সিদ্দিক খান > সর্বপ্রথম মুদ্রিত বাংলা বই ও ছাপাখানা >> প্রবন্ধ

0
307
Basic RGB

মুহম্মদ সিদ্দিক খান > সর্বপ্রথম মুদ্রিত বাংলা বই ও ছাপাখানা

 

[সম্পাদকীয় নোট : আজ ১ ফেব্রুয়ারি। শুরু হলো মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা। এই বইমেলা উপলক্ষে তীরন্দাজে প্রকাশিত হবে প্রকাশনা ও বইয়ের ইতিহাস সম্পর্কিত নানান বিচিত্র ধরনের লেখা। সেই সঙ্গে থাকবে বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের খবর, লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের কথা। এই আয়োজনেরই প্রথম লেখা আজ প্রকাশিত হলো সর্বপ্রথম প্রকাশিত বাংলা বই নিয়ে রচিত মুহম্মদ সিদ্দিক খানের একটি প্রবন্ধ। পাঠক, লক্ষ করুন, আমরা এই আয়োজনটি শুরুই করলাম কখন প্রথম বাংলা বই প্রকাশিত হয়েছিল সেই ইতিহাস দিয়ে। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের বই নিয়ে গবেষণা করে যিনি খ্যাতিমান হয়ে আছেন, তিনি এই সিদ্দিক খান। তাঁর অবদান আমাদের প্রকাশনার ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। পড়ুন তার এই তথ্যবহুল চমৎকার লেখাটি।]

মুহম্মদ সিদ্দিক খান > সর্বপ্রথম মুদ্রিত বাংলা বই ও ছাপাখানা

 

বাংলা বই রচনা ও ছাপার ক্ষেত্রে পর্তুগিজ ধর্মপ্রচারকদের একনিষ্ঠ ও অক্লান্ত সাধনার কথা উল্লেখ না করলে পাক-ভারতীয় ভাষার উন্নতি সাধনের প্রচেষ্টা সম্পর্কিত এ আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
পাক-ভারতের পশ্চিম উপকূলে প্রথমে বাণিজ্য সাফল্যলাভ ও পরে ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করার পর পর্তুগিজ সওদাগরগণ নতুন নতুন ব্যবসাকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে সমস্ত উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ল। ইউরোপীয় ও আরব পর্যটকদের বিবরণ মারফত সমৃদ্ধশালী দেশরূপে বাংলার খ্যাতি শুধু সেখানে নয় বরং পঞ্চদশ শতাব্দীর বহু পূর্বেই দিকে দিকে বিস্তৃত হয়েছিল। বাংলার প্রচুর ধনদৌলতের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে দুঃসাহসী পর্তুগিজ বণিকগণ অনতিবিলম্বে বাংলায় উপনিবেশ স্থাপনে মনোযোগী হয়। ন্যুনো দা কুনহা (১৫৩৯-১৫৮৩) নামক গোয়ার জনৈক পর্তুগিজ শাসনকর্তা বাংলার সমুদ্র উপকূলে বাণিজ্যঘাটি স্থাপনের জন্য বহুকাল অবধি খুব আগ্রহান্বিত ছিলেন। তার এই বহুদিনের বাসনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য তিনি ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে পাঁচটি জাহাজযোগে একদল বণিককে চট্টগ্রাম প্রেরণ করেন। তার পর থেকে ১৫৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রতি বছরই চট্টগ্রামে (পর্তুগিজ ভাষায় ‘পেট্রো গ্রান্ডে’) পর্তুগিজ জাহাজ নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে আরম্ভ করে। ফলে, অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলায় বেশ কয়েকটি পর্তুগিজ বাণিজ্যকুঠি গড়ে ওঠে। হুগলীতে স্থাপিত কুঠিটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বণিকদের অব্যবহিত পরে ধর্মপ্রচারকগণ আসতে থাকেন ও নানাস্থানে মিশন নির্মাণ করে ধর্মপ্রচার শুরু করেন। ব্যান্ডেলের পুরনো পর্তুগিজ গির্জার ন্যায় ঢাকার ভাওয়াল পরগনার নাগোরির গির্জা ও মিশনটি দেশপ্রসিদ্ধ ছিল। এই মিশনের উৎসাহী পাদ্রি ফাদার ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাওঁ-এর রচিত ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মুদ্রিত বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ছাপা তিনখানা বই মিশনটিকে অমর করে রেখেছে।
বাংলাদেশের পর্তুগিজ মিশনগুলোর প্রধান পাদ্রি ফাদার মার্কস আন্তোনিও সানটুচ্চি নালোয়াকট থেকে গোয়ার পাদ্রিদের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের নিকট লেখেন যে, The fathers (Lgnatius, Gomes, Manoel Surayva and himself) have not failed in their duty: they have learned the language well, have composed vocabularies, a grammar, a confessionary and prayers, they have translated the Christian Doctrine etc, nothing of which existed until now.
জেসুইট মিশনারি ফ্রান্সিসকো ফার্নান্ডেজ পূর্ব বাংলার শ্রীপুর থেকে গোয়াস্থ জেসুইট মিশনের অধ্যক্ষ নিকোলাস পিমেন্টাকে লিখিত এক পত্রে তার সংকলিত খ্রিস্টধর্মের মূলনীতি সম্বলিত একটি গ্রন্থ ও অপর একটি প্রশ্নোত্তরমালার কথা উল্লেখ করেন। তাঁরই সহকর্মী ডমিনিক দা সুজা, যিনি বাংলা শিখতে আরম্ভ করেছিলেন, তিনি বই দুটি বাংলায় অনুবাদ করেন। ১৭২৩ সালে উল্লিখিত ফাদার বারবিয়ে নামে একজন পর্তুগিজ পাদ্রির রচিত সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরমালা নামক একটা ক্ষুদ্র বাংলা বইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়।
যা হোক এখানে সেখানে উল্লেখের ফলে বইগুলোর নাম আমাদের আর অজানা নয়। তবে যেহেতু এদের কোনটির সন্ধান বর্তমানে পাওয়া যায় না তাই বইগুলোর বিস্তারিত বিবরণ কিংবা তাদের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি তাদের সবগুলো অথবা কোনো একটি বই মুদ্রিত আকারে ছিল কি না তাও নিশ্চিত করে বলা যায় না।
পরবর্তী সময়ের কয়েকটি বই আজও কালের গ্রাস থেকে আত্মরক্ষা করে বেঁচে আছে। এই বইগুলি সম্বন্ধেই আমরা এখন আলোচনা করব। আমাদের আলোচ্য বিষয়বস্তু বাংলার আদিমুদ্রণ ও মুদ্রিত বই হলেও ভারতের বাইরে রচিত ও মুদ্রিত বাংলা বই সম্পর্কে এখানে কিছু বলা সমীচীন মনে করি। এইজাতীয় বইগুলোর মধ্যে পাদ্রি ম্যানুয়াল দা আসুম্পসাওঁ প্রণীত রোমান হরফে মুদ্রিত তিনটি বাংলা বই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ফাদার আসুম্পসাওঁ ১৭৩৪ সালে বাংলাদেশে আগমন করেন। তিনি বাংলার সেন্ট নিকোলাস অব টলেন্টিনো মিশনের রেক্টর রূপে কাজ করার সময় ১৭৪২ সালে ভাওয়াল পরগণার নাগোরির ক্যাথলিক গির্জার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। আমরা পূর্বেই লক্ষ করেছি যে পর্তুগিজদের স্বদেশে থেকে আমদানিকৃত অথবা ভারতে মুদ্রিত পুস্তক প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য ছিল খ্রিস্টধর্মের প্রচার। ম্যানুয়েল দ্যা আসুম্পসাওঁয়ের বইগুলো রচনার পেছনে শুধুমাত্র এই প্রেরণাই কাজ করেছে। নিজের স্বীকৃতির মধ্যেই তিনি বলেছেন যে নবদীক্ষিত খ্রিস্টানদের কাছে খ্রিস্টধর্মের নীতিগুলো অপেক্ষাকৃত সহজ করে তোলাই ছিল তার পুস্তক রচনা মূল উদ্দেশ্য। ফাদার আসুম্পসাওঁ-এর রচিত বইগুলোর নাম নিম্নে প্রদত্ত হলো :
ক. Catechismo da Doutrina Christaa বা খ্রিস্টমতবাদ সম্বন্ধীয় প্রশ্নোত্তরমালা। কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্মের মূলনীতিগুলোর ব্যাখ্যা হলো বইটির বিষয়বস্তু। ১৭৪৩ সালে বইটি লিসবনে ফ্রান্সিসকো দা সিলভা কর্তৃক মুদ্রিত। বইটি ক্রমানুসারে এক কলাম বাংলা ও পরবর্তী কলাম পর্তুগিজ ভাষায় রচিত এবং এর বাংলা অংশ রোমান হরফে মুদ্রিত হয়েছে।
ভূষণার খ্রিস্টধর্মান্তরিত একজন বাঙালি রাজকুমার ওই বইটির মূল রচয়িতা। ম্যানুয়েল দ্যা আসুম্পসাওঁ মূল বাংলা থেকে পর্তুগিজ ভাষায় এর অনুবাদ করেন। পুস্তকটির মুদ্রণ সম্পর্কে পণ্ডিতদের মতভেদ আছে। স্পেপের ভ্যালাদলিদস্থ C0legio dos Agostinhos Filipino-এর পাদ্রি ফাদার থার্সো লোপেজের প্রেরিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে ফাদার হোস্টেন বলেন যে বইটি উপরোক্ত বর্ণনা অনুসারে মুদ্রিত হয়। কিন্তু ডক্টর সুরেন্দ্রনাথ সেন তাঁর সম্পাদিত ব্রাহ্মণ ক্যাথলিক সংবাদ বলেন যে বইখানি আদৌ ছাপা হয়নি এবং তিনি স্পেনের ইতোরায় রক্ষিত মূল পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি প্রথম মুদ্রণ করেন।
খ. Compendio dos Misterios da Fe… ফাদার ম্যানুয়েল দ্যা আসুম্পসাওঁয়ের রচিত খ্রিস্টধর্মের রহস্যাবলীর সংক্ষিপ্তসার সম্মলিত এই বইটি লিসবনে ১৭৪৩ সালে ফ্রান্সিসকো দা সিলভা কর্তৃক মুদ্রিত হয়। বইটির বিশেষত্ব এখানে যে বইটির ডান হাতের পৃষ্ঠায় মূল পর্তুগিজ ও বাম হাতের পৃষ্ঠায় বাংলা অনুবাদ ছাপা হয়।
এই বইটি Catechismo da Doutrina Christa Ordenado por modo de Dialogo em Idiomd Bemgalla e Portuguez নামেও পরিচিত। এর বাংলা আখ্যা হলো ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ (Crepar Xaxtrer Orth bhed)।
গ. Vocabulario em Idioma Bengalla e Portuguez dividido em duas Partes… [দুইভাগে বিভক্ত বাংলা এবং পর্তুগিজ ভাষার একটি শব্দকোষ] বইটি ফ্রান্সিসকো দা সিলভা কর্তৃক ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে লিসবনে মুদ্রিত। এই বইটিতেও বাংলা হরফের পরিবর্তে রোমান হরফ ব্যবহার করা হয়েছে। বইটি বাংলা ও পর্তুগীজ দুই ভাগে বিভক্ত এবং বাংলা শব্দকোষের প্রথমে বাংলা ব্যাকরণ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা আছে। রোমান ক্যাথলিক পাদ্রিদের দ্বারা রচিত অপর দুইটি বইয়ের লেখকের নাম বেন্টো দা সুজা (Bento Da Souza)। গোয়ায় তার জন্ম হলেও বাংলাদেশে তিনি সুদীর্ঘ পনেরো বছর কাজ করেছেন। তিনি Book of Prayer ও Catechism নামে দুইটি বইয়ের অংশবিশেষের বঙ্গানুবাদ করেন। পুস্তক দুটি ‘প্রার্থনামালা’ (Pararthanamala) ও ‘প্রশ্নোত্তরমালা’ (Proshnottarmala) নামে লন্ডন থেকে রোমান হরফে মুদ্রিত হয়।
বাংলাদেশে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের কাজ ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে বাংলা বাংলা ভাষায় লিখিত বই রোমান হরফে ছেপে প্রকাশ করার জন্য পর্তুগিজ পাদ্রির সযত্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাংলা ভাষা বা সাহিত্যের অনুরূপ উন্নতি সাধিত হয়নি। নিম্নলিখিত কারণগুলোর সাহায্যে এই নৈরাশ্যজনক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেয়া যেতে পারে :
(১) সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা পরিচালিত পাত্রীগণ শুধুমাত্র ধর্মমূলক বই প্রকাশ করেন। (২) রোমান হরফে ছাপা এইসব বইয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশেষ কোনো আকর্ষণ ছিল না, এবং ৩. শিক্ষাক্ষেত্রে অনগ্রসর ও অসংঘবদ্ধ বাঙালি জাতি তাদের ভাষা ও সাহিত্যে মুদ্রণের বিপুল সম্ভাবনার কথা উপলব্ধি করে উঠতে পারেনি।
এছাড়া অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে বিরাজমান হতাশাজনক পরিস্থিতিও ছিল সেই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ।
এইসব কারণে পঁয়ত্রিশ বছর পরেও ন্যাথানিয়েল ব্রাসী হ্যালহেড (১৭৫১-১৮৩০) এবং উইলিয়াম কেরির নিরপেক্ষ অথচ নির্ভরযোগ্য পর্যবেক্ষকগণ ওই আমলের বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে বইয়ের তীব্র অভাব লক্ষ্ করে বিস্মিত হয়েছিলেন। হ্যালহেড তাঁর বিখ্যাত A Grammar of the Bengal Language-এর প্রণয়ন ও প্রকাশের সময় বলেন যে বাঙালি লেখকদের লেখার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ পরিচয় থাকা সত্ত্বেও তিনি ধর্মীয় মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত ও রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের বিদ্যাসুন্দর-সহ মাত্র ছ’খানি বইয়ের সন্ধান পান। এই বইগুলি হাতে-লেখা পাণ্ডুলিপির আকারে তাঁর হস্তগত হয়। পরে বাংলা ও সংস্কৃতে সুপণ্ডিত উইলিয়াম কেরি যখন বাংলার ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নবদ্বীপ পরিভ্রমণ করেন তখন অনেক অনুসন্ধানের পর তিনি মাত্র চল্লিশটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
পর্তুগিজদের প্রচেষ্টায় লিসবনে মুদ্রিত তিনটি বাংলা বইয়ের জন্য ১৭৪৩ সালে মুদ্রণের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য বছর হিসেবে পরিগণিত হয়। পক্ষান্তরে শুধুমাত্র একটি বই মুদ্রণ ও প্রকাশের ফলে ১৭৭৮ সাল বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার ইতিহাসে তার চেয়েও অধিক স্মরণীয় বছর। ১৭৩৪ সাল থেকে ১৭৭৮ সালের প্রারম্ভ পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে রচিত কোনো ছাপা বইয়ের পরিচয় পাওয়া যায় না, তাই এই কালকে বাংলা পুস্তক মুদ্রণের বন্ধ্যাত্বের যুগ বলা যেতে পারে। ঐতিহাসিক ১৭৭৮ সালে হ্যালহেড তাঁর বিখ্যাত ব্যাকরণটি হুগলীতে ছাপেন। চার্লস উইলকিন্সের তৈরি প্রথম বাংলা হরফে মুদ্রিত এই বইটির বহুস্থানে কৃত্তিবাসের রামায়ণ, কাশীরাম দাসের মহাভারত ও ভারতচন্দ্রের বিদ্যাসুন্দর থেকে বহু সংখ্যক উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃত করা হয়েছে। হ্যালহেড এবং উইলকিন্সের যুগ্ম প্রচেষ্টার ফলে বাংলা সাহিত্যের দ্রুত উন্নতি হয়। উত্তরকালে সর্বাপেক্ষা সমৃদ্ধশালী জাতীয় সাহিত্যরূপে বাংলার স্বীকৃতি পাওয়ার মূলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এই দুই ইংরেজ সিভিলিয়ানের দান অনেকখানি। অবশ্য সেই সময়ে মুদ্রিত বাংলা বইয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা তারা নিজেরা কিংবা তাদের পৃষ্ঠপোষক ও বাংলার সুধীসমাজের কারো পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব ছিল না।
মুদ্রিত বাংলা বইয়ের সংখ্যা এবং বাংলা সাহিত্যের তৎকালীন দীন অবস্থা হ্যালহেড, কেরি প্রমুখ পণ্ডিতবর্গের নিকট নৈরাশ্যজনক ও বেদনাদায়ক হলেও এই সময় হতে তাদের সযত্ন সাধনার ফলে বাংলা বই উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক সুবর্ণ যুগের সূচনা হয়। এই স্বর্ণযুগ সৃষ্টির পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা কাজ করেছে। ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে উচ্চতর যুদ্ধকৌশল, কূটনীতির প্রয়োগ ও ষড়যন্ত্রের বলে ইংরেজগণ কলহপ্রিয় স্বার্থপর ওমরাহ পরিবেষ্টিত আরামপ্রিয় দুর্বল নবাবের কাছ থেকে শাসনদণ্ড সম্পূর্ণভাবে ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তী যুগে ইংরেজ শাসন এদেশে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর স্থাপন করার উদ্দেশ্যে ইংরেজগণ ক্রমে ক্রমে একদিকে মুসলমান আমলের সরকারি ভাষা ফারসির বিরুদ্ধাচরণ ও অপর দিকে আরবি-ফারসি শব্দবর্জিত সংস্কৃতবহুল বাংলার পৃষ্ঠপোষকতা করতে থাকে। তাদের বাংলা ভাষার প্রতি এই আকস্মিক অনুরাগের পেছনে ভাষাগত কিংবা সাহিত্যিক মূল্যবোধের চাইতে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের প্রেরণাই ছিল প্রধান। বহুদিন পর্যন্ত মুসলমান রাজদরবারে ফারসি রাজভাষার সম্মান পাচ্ছিল বলে সেই আমলের অন্যান্য দেশীয় ভাষার মতো বাংলাও ছিল ফারসি শব্দবহুল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের ফলে বাংলা দেশের শাসনভার ব্রিটিশ শক্তির হাতে চলে যায়। তাই এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক যে বিজয়ী ইংরেজ বিজিত মুসলমান শাসকদের রীতিনীতি আদব-কায়দা এবং ভাষাকে দাবিয়ে রাখতে চেষ্টা করবে। আরবি-ফারসিবর্জিত সংস্কৃতগন্ধী বাংলা ভাষার উন্নয়নে ইংরেজদের এই উৎসাহ ছিল বাঙালি মুসলমানদের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন পঙ্গু করার বহুবিধ কারসাজির মধ্যে অন্যতম।
তাছাড়া একথাও অনস্বীকার্য যে ইউরোপীয় সিভিলিয়ানদের শাসনকার্যে দক্ষ করে তোলার জন্য কোম্পানি তাদেরকে দেশীয় ভাষার সঙ্গে পরিচিত করার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলো। সংস্কৃত, বাংলা ও অন্যান্য প্রাচ্যভাষার সুপণ্ডিত হ্যালহেড, ফরস্টার, কোলব্রুক, কেরি প্রমুখ ইংরাজ সিভিলিয়ান ও মনীষীরা সংস্কৃতবহুল বাংলা ভাষা শিক্ষা দেবার গোঁড়া সমর্থক ও উদ্যোক্তা ছিলেন, এবং পরিশেষে তাদের এই প্রচেষ্টা সাফল্য লাভ করে। ডক্টর সুশীলকুমার দে এই উক্তির সমর্থনে লেখেন যে, হ্যালহেড ও ফরস্টারের চেষ্টা এবং শ্রীরামপুর মিশনারি সম্প্রদায় ও রাজা রামমোহন রায় ও তার বন্ধু-বান্ধবের সমর্থন ও সক্রিয় সহযোগিতার ফলে বাংলা ভাষা শুধু বাংলার সরকারি ভাষাতেই পরিণত হয়নি, বরং তা ভারতের অন্যান্য দেশীয় ভাষার চেয়ে অধিকতর সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
মুসলমানী বাংলাসহ একে একে পাক-ভারতের ব্যবহৃত অন্যান্য ইসলামি ভাষার বিরুদ্ধে এইভাবে ইংরেজশক্তি একজোট হয়ে দাঁড়ায়।
ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির শাসনযন্ত্রের সমর্থনপুষ্ট খাঁটি বাংলার সমর্থক প্রাচ্যভাষাবিদ ওই সব ইংরেজের অদম্য প্রচেষ্টার চূড়ান্ত ফলস্বরূপ ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি এক আইন পাশ করে। এই আইনবলে সরকারিভাবে কোম্পানির আওতাভুক্ত সমস্ত আদালতে আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।
ক্রমে ক্রমে ফারসি ভাষার পরিবর্তে প্রত্যেক ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহারে দ্রুত উন্নতি পরিলক্ষিত হতে থাকে। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি অর্থাৎ ১৭৫৫ সালের পর থেকে ভারতের হাটেবাজারে দেশীয় ভাষায় সরকারি বিজ্ঞাপন টাঙানোর কথা জানা যায়। ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে বাংলার গবর্নর এবং ১৭৩৩-১৭৮৫ খিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনারেল ছিলেন। তিনি কোম্পানির ইংরাজ সিভিলিয়ানদের জন্য এমন এক জাতীয় শিক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন যে শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কোম্পানির ভারতীয় প্রজাদের মধ্যে থেকেও তারা যাতে সুষ্ঠুভাবে তাদের কর্তব্য সম্পাদন করে যেতে পারে। ভারতের প্রধান প্রধান দেশীয় ভাষাগুলো শিক্ষা ছিল এই জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ এবং এই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম ও হেইলিবারী কলেজের পাঠ্য-তালিকার প্রস্তুতির সময় এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিলো।
ব্যক্তিগতভাবে হেস্টিংস নিজেও গ্ল্যাডউইন, হ্যালহেড, উইলকিন্স, জোনস্ প্রমুখ প্রাচ্যভাষাবিদ ইংরাজ পণ্ডিতবর্গের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং ফোর্ট উইলিয়াম ও হেইলিবারী কলেজের ছাত্রদের ব্যবহারের জন্য দেশীয় ভাষায় রচিত যথেষ্ট সংখ্যক বই প্রকাশের ব্যাপারে তাদের নিয়মিত উৎসাহ দিতেন।
ইউরোপীয় (এবং পরবর্তী কালে ভারতীয়) পণ্ডিতদের প্রাচ্যভাষা শিখতে এবং সে সমস্ত ভাষায় বই লিখতে উৎসাহ দেবার নীতি উত্তরকালে আরো ব্যাপক আকারে গৃহীত হয়। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কর্নওয়ালিস যখন গভর্নর জেনারেল ছিলেন তখন প্রখ্যাতনামা ইংরাজ রাজনীতিবিদ ও জনসেবক মি. উইলিয়াম উইলবারফোর্স পার্লামেন্টে প্রস্তাব করেন যে, দেশীয় শিক্ষার প্রসারকল্পে পাক-ভারতে কোম্পানির বেশি এবং ভালো সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা উচিত। এ সম্পর্কিত প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে আপাতদৃষ্টিতে এই মহৎ উদ্দেশ্যে বহুসংখ্যক ইউরোপীয় পাদ্রি ও শিক্ষিত ব্যক্তি অনুপ্রাণিত হয় এবং ভারতে বহু ছাপাখানা স্থাপনে ও ভারতীয় শিক্ষার উন্নতি সাধনে আত্মনিয়োগ করে। বস্তুত, খিস্টধর্ম প্রচার ও এদেশে একদল উৎকৃষ্ট সিভিলিয়ান সৃষ্টিই চিল ওই ছাপাখানাগুলো স্থাপনের প্রাথমিক ও মূল উদ্দেশ্য। পরোক্ষভাবে এই ছাপাখানাগুলোর সাহায্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অভাবনীয় উন্নতি হয় এবং এ দেশের শিক্ষাও দ্রুত প্রসার লাভ করে।
১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিরা ব্রিটিশ পাক-ভারতে স্থান না পেয়ে বাধ্য হয়ে দিনেমার রাজ্য শ্রীরামপুরে তাদের মিশন ও ছাপাখানা স্থাপন করেন। এর পরের বছরই ইংরাজ সিভিলিয়ানদের দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিবার প্রকাশ্য অভিপ্রায় নিয়ে লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলার মুদ্রিত পুস্তকের ইতিহাসে এই ঘটনা দুটি বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে তদানীন্তন গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের সমর্থন ও সাহায্যে বাটারার্থ বেইলী, ড. কেরি এবং প্রাচ্যভাষা শিক্ষায় উৎসাহী অন্যান্য ব্যক্তিগণ মিলে Calcutta School Book Society প্রতিষ্ঠা করেন। এই সমিতিটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও মুদ্রিত বইয়ের অধিকতর প্রসার ও ক্রমোন্নয়ন।
বাংলা মুদ্রণশিল্পের উন্নয়নের ইতিহাস বৈচিত্র্যময় কিন্তু এর ধারা যে কেন বাধা-বিমুক্ত অবাধ গতিতে প্রবাহিত হয়নি সে সম্বন্ধে আমরা পরে আলোচনা করবো। কিন্তু তার পূর্বে খ্রিস্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষাংশে বাংলাদেশের মুদ্রণ পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা সমীচীন মনে করি। ১৭৭৮ সালে এনড্রু নামক জনৈক পুস্তক বিক্রেতা হুগলীতে বাংলার সর্বপ্রথম ছাপাখানা স্থাপন করেন।
এই ছাপাখানা থেকেই হ্যালহেডের ব্যাকরণটি ছাপা হয়। বেঙ্গল গেজেটের কুখ্যাত সম্পাদক এবং প্রকাশক জেমস্ অগাস্টাস হিকী দুই বছর পরে বাংলার দ্বিতীয় ছাপাখানা ‘বেঙ্গল গেজেট
প্রেস’ স্থাপন করেন। এই প্রেস থেকেই ‘হিকীর গেজেট’ নামে সমধিক পরিচিত বেঙ্গল গেজেট পত্রিকা প্রকাশিত হতো। বেঙ্গল গেজেটে হিকীর যথেচ্ছ নিন্দাভাষণে সরকারি মহল অচিরেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তৎকালীন ব্রিটিশ-ভারতের বড়লাট হেস্টিংস ও তাঁর কাউন্সিল হিকীকে জব্দ করার উদ্দেশ্যে ফ্রান্সিস গ্ল্যাডউইনকে একটি প্রেস স্থাপনের জন্য উৎসাহ দেন। গ্ল্যাডউইন ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে Calcutta Gazette Press স্থাপন করেন। এই প্রেস থেকেই সরকারি গেজেট প্রকাশিত হতো এবং কোম্পানির অধিকাংশ মুদ্রণকার্য নিষ্পন্ন হতো। অবশ্য অল্পদিনের মধ্যেই বাংলা মুদ্রণশিল্পের জনক চার্লস উইলকিন্সের সহায়তা ও তত্ত্বাবধানে সরকার নিজস্ব ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রেসটি প্রথমে অনারেবল কোম্পানির প্রেস ও পরবর্তী কালে গভর্নমেন্ট প্রেস নামে পরিচিত হয়। অল্প কয়েক বৎসরের মধ্যে কলিকাতা শহরে কলিকাতা ক্রনিকল প্রেস, পোস্ট প্রেস, ফেরিজ এণ্ড কোম্পানির প্রেস, রোজারিও এণ্ড কোম্পানির প্রেসসহ বহুসংখ্যক ছাপাখানা গড়ে ওঠে। এই সবগুলো ছাপাখানাই অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষাংশে প্রতিষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে স্থাপিত এই সব ছাপাখানাতে ছাপার আনুমানিক খরচ নির্দেশ করার উদ্দেশ্যে উইলকিন্সের ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির প্রেসে কি পরিমাণ খরচ পড়তো তার একটি হিসাব এখানে দেওয়া হলো।
ইংরেজি ছাপার হার : ফোলিও পোস্টের কাগজের প্রতি দিস্তার জন্য খরচ। এক পৃষ্ঠার জন্য ৩ সিক্কা টাকা, উভয় পৃষ্ঠার জন্য ৫ সিক্কা টাকা।
ফারসি ও বাংলা ছাপার হার : ফোলিও পোস্টের কাগজের প্রতি দিস্তার জন্য খরচ : এক পৃষ্ঠার জন্য ৫ সিক্কা টাকা, উভয় পৃষ্ঠার জন্য ৭ সিক্কা টাকা।
১৭৯৯ সালে লর্ড ওয়েলেসলী মহীশূরের অধিপতি টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। যুদ্ধকালীন জরুরি ব্যবস্থাবলম্বন হিসেবে অবাধ মুদ্রণের উপর তিনি কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেন। ফলে মুদ্রাযন্ত্রের স্বাধীনতা বহুক্ষেত্রে সঙ্কুচিত হয় এবং বাংলা মুদ্রণের গতি অস্বাভাবিকরূপে ব্যাহত হয়।
এই নৈরাশ্যজনক পরিস্থিতি ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলতে থাকে। অতঃপর ১৮১৮ সালে তদানীন্তন গভর্নর জেনারেল মার্কোয়েস অব হেস্টিংস ছাপাখানার উপর আরোপিত কড়াকড়ি বহুলাংশে হ্রাস করেন। এর স্বাভাবিক ফলস্বরূপ এ দেশে বহুসংখ্যক ছাপাখানা গড়ে উঠতে থাকে। এই সময়ে স্থাপিত বেশ কয়েকটি ছাপাখানার মালিক ভারতীয়রা ছিলেন বলে জানা যায়।
১৮২৫-২৬ খ্রিস্টাব্দে একমাত্র কলকাতাতেই প্রায় চল্লিশটি প্রেস চালু অবস্থায় ছিল। এগুলোর মধ্যে পূর্ববর্ণিত প্রধান প্রধান ছাপাখানাগুলি ছাড়া বৌবাজারের মি. লেভেনডিয়ারের প্রেস, এন্টালিতে মি. পিয়ার্সের প্রেস, ধর্মতলার রামমোহন রায়ের ইউনিটারিয়ান প্রেস, ১৮০৬-১৮০৭ সালে স্থাপিত খিদিরপুরের বাবুরামের সংস্কৃতযন্ত্র (এঁরা ছিলেন দেবনাগরী অক্ষরে সংস্কৃত ও হিন্দী ছাপায় বিশেষজ্ঞ), মির্জাপুরে মুন্সী হেদায়েতউল্লার মোহাম্মদী প্রেস, হিন্দুস্থানী প্রেস, কলেজ প্রেস প্রভৃতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। উইলিয়াম কেরী এবং শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রিদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত ব্যাপ্টিস্ট মিশন প্রেস সে সময়ের বাংলার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ছিল।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে ১৭৭৮ সালের পূর্বে চালু ছাপাখানাগুলো সাধারণত বিদেশ থেকে ইংরেজি এবং অন্যান্য দেশীয় ভাষার টাইপ আমদানি করতো। এমনকি কাগজ, কালি ও ছাপার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্যের জন্যও এরা সম্পূর্ণরূপে বিদেশের মুখাপেক্ষী ছিল।
তথ্যসূত্র
সজনীকান্ত দাস, বাংলা গদ্যের প্রথম যুগ, সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা, কলিকাতা।
Campos 49 History of the Portuguese in Bengal, কলিকাতা।
H. Hosten, “The Three First Type-Printed Bengali Books”, Bengal: Past and Present.
J. G. Marshman Farlato, The Life and Times of Carey, Marshman and Ward, London.
W.W. Hunter, The Indian Musalmans.
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সম্পাদিত, মুহম্মদ সিদ্দিক খান রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৯৪।