রাবেয়া রব্বানী > হইলেও হইতে পারা প্রেমিকারা >> ছোটগল্প

0
531
রাবেয়া রব্বানী > হইলেও হইতে পারা প্রেমিকারা >> ছোটগল্প
১.
রাত নাইমা গেছে। হুস-হাস বাস-ট্রাক যাইব এহন।আতকা আতকা হরন দিব মাদারচোদ্গুলি। গুই-গাই করব, কির-মিরাইব, আবার চালু অইব।রাইতে এগো পায় কে? জমিন দাবড়াইব বেড়ায় লক্কড়ভক্কর গাড়িগুলি।
একটু আগের বৃষ্টি আসমান লেইপ্পা থুইয়া গেছে। চান চকচকা। চোখ বুইজা খাড়ায় খাড়ায় ঝিমাইতাছে দালানগুলি। রাস্তাঘাটে পইড়া থাকা চিপসের প্যাকেটগুলিও ঝিলকাইতাছে চান্দের আলোয়। মাইনসে দিছে মরা মার্কা ঘুম।
এহন মহল্লার ভিত্রে সাড়া-শব্দ নাই। খালি কয়ডা টুংটাং। একটা দুইটা রিক্সাই যায় এই সময়। মাতালগুলি বইয়া বইয়া ঢুলে। মাঝে মইধ্যে আমারে দেখলে মাথায় মাল উডা রিকশাওয়ালাগুলি হুদাই শইলে গাড়ি তুইলা দেওয়ার ডর দেখায়! বোকাচোদগুলি! জানে নি, আমি যে আস্তাই একটা মাল! আমি সিনা টান কইরা খাড়ায় এমুন এক চিল্লান দেই। শালারা ব্রেক করার টাইম পায় না। ভাগে!
হিরুর দল আতকা আইয়া খাঁড়ায়।
শেরু ভাই একলা কে?
আমার দল লাগে না।
দল নিয়ে গুরা ভালো। কহন আইয়া কে হামলা করে, সরকারের লোকজন আইয়া সন্দেহ করে কি না, ঠিক আছে কন?
ধুর।
আমি সামনে আওগাই। হিরুর শইলে নাই মাংস। গলা বাজখাই। গলা শুইনা মানুষ হাইগা দেয় অবস্থা। ভালোমতো একটা ফু দিলে এই মাল আসমানে ঘর লইব। গলাই যহন ওর কইলজা তহন হেই তালে আমার তাল না মিলানোই ভালা। আমার কইলজা আমার সিনাতেই থাকে। আর এই কইলজায় বল দেয় আমার হইলেও হইতে পারা প্রেমিকাগুলি। যহনি মনে হয় ওরা চাইয়া চাইয়া দেখতাছে! বাস কাম সারা। তেজ আহে!
এই যে, পার করতাছি ১০ নাম্বার রাস্তা, এই রাস্তার বিশ নাম্বার বাসায় থাকে লাইলী। এর খালি কাপ-ঝাপ। একবার চাইয়া হাসে, একটু পরই মুখ বেজার, মন উদাস। ও লাইলী মন খারাপ? কিছু কয় না, চোখ তুইলা চাইয়া ঢং করে আবার। কহনো চাইয়াও দেহে না। বড়লোকের বান্ধা পুতুল। ভালো খাওনপরন হুদা। প্রেম নাই, বাচ্চা নাই, খালি ম্যাডামের লগে লগে পার্কে গিয়া চুদুরবুদুর, ভুংভাং। লাইলীরে ভাগাইতে পারলে গোরস্থান যাইতাম গা। পেটে বাচ্চা আইলে যাইতাম গা কুড়িগ্রাম আমার বাপের বাড়ি। হেই হানে আমগো ফালাইতো না। আহা লাইলী! আরও খাওন দাওন আরও দৌড়ানি দরকার।লাইলির লেইগা একটা চিতার মতো অওয়া দরকার আমার।
এক দৌড়ে আইলাম ১১ নম্বর রাস্তা। এর মধ্যে ক্যাচাল!
কিরে মাম্মা… এত চিল্লাফাল্লা করতাছে কে?
রবি নামের গলায় বেল্টওয়ালাটা সামনে আইয়া কয়, টমিরে চিনেন না শেরু ভাই। টমিরে আজকা ওর মালিক অনেক মারছে। বেচারার জ্ঞান নাই। এইসব মাইন্না নিমু না।
আজাইরা চাপ নিস না। অসময়ে দৌড়াইয়া আত্মায় এম্নেই পানি নাই। খাড়া বেটা একটু জিরাই।
আৎকা মনে পড়ে এইহানে পিয়ারী বইয়া থাকত। হ এই চায়ের দোকানের পিছেই তো। গলা উচায়া, বুক ফুলাইয়া, ফারাফারা চোখ দিয়া এই দিক ওই দিক দেখতো। আমরা পিয়ারীর পিছে লাইন দিতাম। কিন্তুক ওর প্রেমিক আছিলো খান বাড়ির শাহজাহান। কাছেও ঘেঁষতে দিত না আমগো। লে হালুয়া! এহন কি হইলো পেডে বাচ্চা দিয়া শালা ভাগছে। এরপর পিয়ারীরে মাঝে মাঝে ৪ ন-ম্বর সেক্টরে ঝুলুঝুলু শইল লইয়া উলটাপালটা দৌড়াইতে দেহা গেছে। শরম লজ্জা সব গেছে মাগির। বাচ্চাগুলি কে কে লইয়া গেছে গা। এর পর থেকে শালী পাগলি। কেউ কেউ কইছে সরকারি লোক আইয়া ধইরা লইয়া গেছে। আহহা। আমারে বেইল দিলে কি এইসব হইতো! আমি ঠিকঠাক ওর দেমাগের দাম দিতাম, রূপের যত্ন নিতাম।
রবি আবার গুজগুজ করে, দিন দিন কেমুন ডর করে।
কিয়ের ডর ব্যাটটা! খালি খাবি আর দৌড়াবি। আমার শইল দেখ বেটটা। এমুন বানাবি। বাদ দে। আচ্ছা পপির কতা ক?
ধুর ওই ইন্ডিয়ান জিনিস। চাইয়াও দেখে না।
চাইয়া তো দেখবই না রে বেটা, চাওয়াইতে হইব। আগে ক কয়টায় দেহা যায় গাঞ্জার পোল্টাটারে?
রোজ সকালে দরজা দিয়া চুপি মারে। নাদুশনুদুশ শইল, এর মইধ্যে খালি ঝারা মারে। আমার তো ভাই জিহবা বাইর অইয়া যায়।
না না তর জিহবা মুখের ভিত্রেই রাখবি। আরে বেটা আমি আছি না। আমি তো আছি। জানোস নাপপিতো আমার অইলেও অইতে পারা প্রেমিকা।
২.
গেটের কাছে শিউলি ফুল পাছা উলটাইয়া পইড়া থাকে। ভিতরে থাকে ডেইজি। পাষাণ মন আর মায়ার শইল এক অইলে যা হয়, মহল্লার প্যারা। বাতাসের দিনে ডেইজির শইলের গন্ধ একমাইল দূর পর্যন্ত যায়, আমরা নেড়িরা তহন জারা মাইরা উডি।
একটা বুইড়া মর্দাও থাকে লগে। তয় বাচ্চা নাই। যাক ভালোই হইছে, এম্নে ভাতার-খেকো মাগিগো শইল্লে আলগা ঝিলিক থাকে। আবার চালাকিতেও ঠাসা।
এহন আমি গেটের বাইরে মরার মতো টানি মাইরা শুইয়া আছি। পিট পিট কইরা নীচের ফাঁক দিয়া চুপি মারতাছি। কমিনি হেইলা দুইলা গেটের নীচে মাথা রাইখা হাসতাছে। বুঝতাছে সবই, আমারে দেখলেই তাল বাহানা কইরা গেটের কাছে আইছে। নিজের রূপ দেহাইছে। আহা! এরে পাউন যাইব না দেইখা বেশি বেশি পাইতে মন চায়। আমি ভাবতাছি, কোন একদিন ডেইজি পলায়া যাইতাছে আমার লগে। আমরা টঙ্গি ব্রিজের নীচের বস্তিতে গর বানছি। ময়লা ডোবার পাশে ডেইজি শইল মেইলা দিয়া রোদ পোহাইতাছে। আমি ওর রূপ গিল্লা গিল্লা পাহাড়া দিতাছি। আবার দেখতাছি, আমরা ময়মনসিংহের দিকে যাইতাছিগা। তুরাগ নদীর পাশেই কোন বাড়িত পালক থাকতাছি। আমগো পোলা-পাইনের কাইকুইয়ে এলাকা ছাইয়া যাইতাছে।
স্বপ্নে আমার চোখ মুইদা আসতেই করম আলি খেইজায়, ওই দুশমনের পো এইখানে আইয়া ঘুমান লাগে? স্যারের গাড়ি আইব যা সর।
আমিও উলটা খেইজান দিয়া সইরা দাঁড়াই। ডেইজি যদি বাইর হইত। হ, ডেইজি কমিন দেইখাই এই ফাকে বাইর হইছে। মালিক আইছে তাই তার চামচামি করার উছিলায় ডেইজি আমারে ঘেঁইষা দাঁড়াইছে। আগুন লাগায় থুইয়া ডেইজি চইলা গেছে। তয় আশা আছে, আশা আছে। হইলেও হইতে পারে। আমি আসমানের দিকে চাইয়া খুশির ডাক দেই। ডেইজি গলা মিলায়। ওর মরদ তালে তালে খেওকায়। আবার দরজা বন্ধ।
বাড়ির সামনে পাছা উল্টায় পইড়া আছে শিউলি ফুল।ভিতরে ডেইজি!
৩.
মাঝখানের চিকন আইল্যান্ড দিয়া হাটতাছি। সারি সারি গাছ, পানি না পাইয়া চিপসাইন্না পাতাগুলি মুখ থুবড়ায় আগায় লাইগগা আছে, যেমুন হুদামিছা। দুই পাশে সাঁই সাঁই কইরা যাইতাছে গাড়ি। পা পিছলাইলেই শ্যাষ। এমনে চলার মধ্যে একটা মজা আছে। নিজের লগে নিজের খেলা। নে, পারলে থাক, নাইলে দুনিয়া ছাইড়া যা গা।
যাইতে হইব, অনেক দূর। তেজগাঁ এফডিসি। তেরো নাম্বার পার্কের মাঝখান দিয়ে ঢুকলে একটা চিপা শর্টকার্ট অয়। তয় ওইহানে যাইতে এখন আর মন চায় না। শীত আইতে আইতেই শ্যাষ গেছিলাম। তহন লাল হইয়া যাওয়া মেহগনি পাতা কেমুন গুইরা গুইরা মাডিত পড়ত, আফরার কথা মনে হইত। পাতার রঙটা ওর চামড়ার লাহান। আফরার মন নরম, বয়স কম। সহজ কথাবার্তা কইত। কোন ফাঁক নাই, রাখডাক নাই। চোখে চোখ রাইখা যা মন চায় কইত। আমি যহন আফরা ছাড়া আর কিছু বুঝি না তহন আৎকা আরও ম্যাদা মারা সহজ কতাবার্তা শুরু করল। প্রেম ঠিক মতো দাঁড়াইতে পারল না। খোঁড়াইয়া খোঁড়াইয়া থাইম্মা গেল। সামনে টানে পিছনে ধইরা রাখে এমুন অবস্থা। এমুন আজাইরা প্যারার মায়রে বাপ। তাই আর গিয়ে খারাই না ওর বারান্দার নীচে। মায়ের পেডের ভাই অইতে শেরু জন্মায় নাই। এই যে আমারে আর দেহে না, এই যে জায়গাটা খালি অইয়া গেল এইটা যদি ওরে কিছু বুজাইলেও বুঝাইতে পারে, তাইলেই হয়। আরও কয়েক দিন যাক আমি আবার যামু ওরে দেখতে, যদি অয় বুঝতে পারে অয় আসলে আমার হইতে পারা প্রেমিকা তয় আবার যামু ওই পার্কে। শীতের আগে আগে মেহগনি পাতার গুইরা গুইরা পড়তে থাকা দেখমু আর ভাবমু আফরার গায়ের রঙ এর চেয়েও কড়া, ডুবতে থাকা সুর্যের মতোন।
৪.
এফডিসি এক অন্য দুনিয়া। সকাল সকাল মানুষ আর গাড়ির পিড়াপিড়ি নাই। বড় বড় গাছের ফাঁক দিয়া বাতাস আর রইদ আওয়া-যাওয়া করে। এইহানকার মানুষগুলি আমগো মতো রাইতের সারিন্দা। গভীর রাইত পর্যন্ত শুটিং কইরা বাড়িত যায়। জমে আবার দুপ্রে। দোস্ত শেরপাও সারাদিন টানা মাইরা পইড়া থাকে।শুনশান দেইখা বার বার আমার ঘুম ভাইঙ্গা যায়। আমি একটু পরপর কয়েক পাক গুইরা আহি। ব্যায়াম আর খাউন দুইটাই ভালো অয়। তিন নাম্বার ফ্লোরের লোকজন বান্ধা খাওন দেয় শেরপারে। ওর লগেই খাই।
গরম আইয়া পড়ছে, এহনো মরা পাতা পড়তাছে মাডিতে! সেই পাতা মচমচায়া আজকা মানুষের আনাগোনা সকালেই। সিনেমা উৎসব। সকাল সকাল ঘোড়ার গাড়ি কইরা কয়েক পাক ঘুরল হিরু-হিরোইনরা এরপর থেইক্কা বদসুরত বুড়া-বুড়িগুলো খোকা-খুকি সাইজা ঘুরতাছে। হাইসা ঢইলা পড়তাছে এ ওর গায়। যেমুন কত কত সিনেমা কইরা তারা সারা।
মানুষের চিল্লাফাল্লায় সব কুত্তার ঘুম আজকা খালাস। শেরপা তবু ঝিমায়। পিছন থেইক্কা হাইটা আসে পূর্ণিমা। নয় নাম্বার ফ্লোরেই থাকে সে। সিনেমা নাটকে পার্টও করে। খাসা রূপ। হাটে কেমনে! চায় কেমনে! বাপরে বাপ। শেরপারে খুঁজতে আওনের ছুতা। আসলে আমারে দেইখাই আইছে। জিগায়, আমি পূর্ণিমা। তোমার নাম?
শেরু।
পুরান নাম। এই নাম এফডিসিতে চলব না। এইটা ছোটলোকের মহল্লা না যে নিজেরে বাঘ ভাইবা মজা লইবা, মাইয়া দেখলেই টাংকি মারবা।
আমি ভিমরি খাইয়া মাথা ঝাক্কাই, হ হ। ঠিক কইছ।
এইহানে ঝগড়া নাই, চিল্লাফাল্লা নাই। অসভ্যতা করবা না। হুদাই দৌড়াও কে? রাইতে দৌড়াইলেই ফিগার ঠিক থাকে। বুচ্ছ?
হ হ একদম ঠিক।
তুমি চাইলে আমি তোমারে ফ্লোর ঠিক কইরা দিতে পারি।
এইবার আর আমি হ হ করি না। আমি এইদিকে ভাইবা বইসা আছি পূর্ণিমারে নিয়া উত্তরা যামুগা। এইহানে মেন্দা-মারা অইয়া পইড়া থাকা আমার পুষাইবো না। তয় যদি পূর্ণিমা তার লগে রাখতে চায়, প্রেমিকা অইয়া। আমি বুকে ছালা বাইন্ধা মাইনা নিমু।
এই এলাকায় থাইকা মজা নাই। তয় তোমার লগে থাকতে পারলে…
মালে কয় কি। আমার লগে মানে? আমার হিরো আছে, তোমার মতো এক্সট্রার লগে গপ করা যায়, থাকন যায় নি।
পূর্ণিমার শইল হলুদ, গলার কাছে সাদা। লেঞ্জা পশমি। নাহ! এইহানে থাকন যাইব না। এ লোভ দেখায় ছাতু বানায়া লাড়া দিব, খাইব না। আমি শেরুর মতোই জারা দিয়া কই, এইগুলি তো লেউড়া। আমার মতো পাইবা নি।
শেরপা এক চোখ খুইলা কয়, শেরু তুই যা গা। দোস্ত ধইরা ফালাইছে আমার মনের অবস্থা। দোস্তর গলায় গলা লাগাইয়া পূর্ণিমারে ঠ্যাঙ্গা দেখাইয়া আমি আবার ফিরতি পথ ধরি। আমি বুঝতে পারি পূর্ণিমার দিল চুপসাইয়া গেছে, নাকে দড়ি বাইন্ধা ঘুরাইতে না পারার ব্যথায় ভিত্রে ভিত্রে ককাইতাছে। আমি আবার পিছ ফিরা খালি কথা কই, আবার আসমু কহনো, ভাইবা দেইখো।
আমি দুই পা টান কইরা চিতার মতো লাফ দেই। আমারে ফিরতে হইব।
৫.
পশ্চিম দিক থেইক্কা কালা কুচকুইচ্চা মেগ ঢুইকা আসমান বিলা। বিকাল বেলাই রাইতের মতো আন্ধার। এহ! লগে-লগেই হরবরাইয়া বিষ্টি পড়া শুরু। লগে শিল। আমি এয়ারপোর্টের কাছাকাছি ফুটপাতে। যেমুন আসমান থেইক্কা আমারে কেউ ঢিল্লাইতাছে! ব্যাপার না। কুত্তারে এম্নেও মাইনসে ঢিল্লায়। পলা কয় আমাদের ভালো একটা নাম আছে, সারমেয়। সারমেয় হই আর নেড়ি কুত্তা হই ঢিল্লা আমগো কপালে লেখা। তয় এমুন ঠাণ্ডা বাতাস আর বিস্টি কোন আমোদের বিষয় না। একে শীতে শইল জারা দিয়া উঠতাছে হের উপর আজকার খাউন-দাওনও বরবাদ।
মানুষজন কয়েক মিনিটেই রাস্তা থেইক্কা গায়েব। মনে অয় হেরা যাদু জানে। একটা বড় হোটেলের কাজ চলে কিন্তু এর নীচে যে দাঁড়ামু, ডরও করে। অচেনা কুত্তারে কেমনে নেয় তার নাই ঠিক। ঠাডাও পড়তাছে। ধুর যা, বাইচ্চা থাকলে থাকমু নাইলে দুনিয়া ছাইড়া যামুগা। আমি দৌড় দেই। শইল গরম অইতে অইতে বিস্টি শ্যাষ।
আরও জোরে দৌড়াইয়া এগারো নাম্বার পার্কে আইয়া থামি। সব খানে জইমা থাকা পানিতে এহন হইলদা সূর্য মুখ দেখতাছে। গাছগুলি ডিমা তালে পাতা লড়াইতাছে। পাখিগুলি কিচিরমিচির করতাছে, কাউয়া ডাকতাছে। ঘাসের চিপায় চাপায় পলায় থাকা ঝিঝিঁও লগে গলা মিলাইতাছে। বিস্টির পরের আহ্লাদ আর কি!
মাডে দেহি শ্যামলও আছে! শ্যামল আমার ওস্তাদ। আমারে লালু নামে ডাকে। আমি শ্যামলের কাছে গিয়া খাড়াই। শ্যামল আমার ঘাড়ে হাত বুলায়। কোনার বেঞ্চে গিয়া বইসা আমারে ব্যাগ থেইকা বিস্কুট বাইর কইরা দিয়া মোবাইলে কথা কয়। শ্যামল খুনখুনায়া কান্দে। আমারে কয়, চৈতির বিয়া হইয়া যাইতাছে লালু। খিদার ঠ্যালায় আমি আগে বিস্কুট চাবাই। চাবাইতেই থাকি। পুরা প্যাকেট শেষ অইতেই শ্যামলের পায়ে মুখ ঘইষা দেই। শ্যামল কানতেই থাকে। আমি বুঝি না, কুটিকুটি মাইনসের দুনিয়ায় একজন মাইয়ার লেইগা কিয়ের কান্দন। যারা আছে তাগো থেইকা বাইছা লইলেই তো অয়।
এইদিকে ম্যাডামের লগে মাডে আইছে লাইলী। বাদামি লম্বা পশমে ঢাকা শইল। ফারা ফারা চোখ। আমি শ্যামলরে গুতাই। কইতে চাই, শ্যামল উডো ভাই, চল দৌড়াই, বডি বানাইতে হইব না? শ্যামল উডেও না, বুঝেও না। মানুষ লইয়া জ্বালা। খাড়া হইয়া হাঁটতে পাইরাও কত আজাইরা দুঃখ। আর কি? খা, মারা খা!
মাডের বাইরে রিকশাওয়ালা ভিজা শইলে ক্ষ্যাপ খুজতাছে। বাদামওয়ালা পলিথিন সরায়া আবার চুলায় আগুন দিয়া বালু গরম করতাছে। ফুচকাওয়ালা পোলাডা চেয়ার সাজাইতেছে। আত-পা ছাড়া ফকিরটা ভিজা রাস্তায় আবার গইরান শুরু করছে। আমিও ভাবতাছি রাইতে কই খাওনের ব্যবস্থা করন যায়। শ্যামলের পায়ে আর এক চাটা দিয়া আমি লম্বা লম্বা পা ফেইলা দৌড়াইতে শুরু করি। বার বার ছুঁইয়া যাই লাইলীরে। লাইলীও চোরা চোখে চায়। মুখ বাঁকাইয়া হাসে। বাস কাম সারা, আমার পাও এহন ঘোড়ার খুড়ের মতোই ফাল পাড়তাছে।