রিমঝিম আহমেদ >> কাটা ফলের হাসি >> কবিতাগুচ্ছ [ভিডিওতে কবির কবিতাপাঠ সহ]

0
179

রিমঝিম আহমেদ-এর কবিতাগুচ্ছ

ভিডিওতে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ দেখার জন্যে নিচের লিংকটি ক্লিক করুন। এর পরেই আছে মুদ্রিত কবিতাগুলি।

কাটা ফলের হাসি

দূরের টিলায় কত কালের ছায়া ফেলে আসি!
সাপের খোলসসম পড়ে আছে সেইসব দিন
বাতাসে মৃদু নড়ছে , পাতার মর্মরধ্বনি
নিবিড়তম পেয়েছে হাওয়াকে।
অসুস্থ বুকের পাশে কাটা ফলের হাসি
ডুবোজ্বরে ঢেকে গেছে চোখ, কথার পাখিটাও
বহুকাল পর, স্মৃতির ভিতরে মানুষের হাসির শব্দ খানখান
আর নিজের ঘরটা অন্ধকার করে কে যেন-বা
উঠোন ভরে আলো জ্বালিয়ে রাখে।

যে নদী গভীর দৃঢ়তায় ডাকছে গোপনে
তার দিকে আর ফিরে তাকাব না
জরাজয়ী মন্ত্র পড়েছি ,বলেছি- থামো এবার!
ডোবাতে না জানো তো ঢেউ তুলো না

অর্ধেক ফল ম্লান হয়ে আছে
কে যে কেটে রেখে গেছে, কে যে তার ভাগ পেল অবশেষে!
নিবিড় মুঠোয় কিছু থাকে না চিরকাল
থমকানো দিন কাটে ঘড়ির কাঁটায় বসে
অবসর-ছোটছোট খুশি-ভিড়ভাট্টা ভালোবেসে ।

চড়ুইভাতির বন্ধুরা কে কার ঘর করে?
তৃষ্ণার ভেতর থেকে জলপানের সুদৃশ্য ছবি উড়ে আসে
কে কার উড়ানে দিয়েছিল হাওয়া?
কে গেয়েছিল কার ভুলে যাওয়া অর্ধেক গান?
ধ্বনি ভেঙে প্রতিটি পাহাড় ছড়িয়ে দেয় নাম আজকাল
ক্ষমা করো – আম কুড়ানোর ছল!
ক্ষমা করো – পুতুলের শাড়ি!
প্রতিটি উচ্চারণে বুকের উত্তাপ মিশিয়ে ঈশ্বর-বন্দনা করে
আজ যেন দাঁড়িয়েছি স্বর্গের-কিনারে
মরা শেয়ালের লাশে আটকে আছে আমাদের চোখের গরিমা
শীতের ভিতরে ডোবে অলীক আলোর শহর
স্পষ্টদেখি—সন্ধ্যার অন্ধকারে কারো কারো ঘর
অকস্মাৎ ভেসে যাচ্ছে খেয়ালের ঝড়ে।

পোড়া-বাঁশির দিন নেই। মায়ের আমলে হারিয়েছে। আছে নদী, ঢেউ পরম্পর। সেইসব পুতুল খেলার বন্ধুরা! বড়জোর দক্ষিণের চরের রাখাল হয়েছে কেউ । ছোট জালে কুচো চিংড়ি-ঘাসের সবুজ হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল এক কালো চোখের কিশোর। মুখচোরা মেয়ে, ফড়িংয়ের পিছু নিয়ে ভুলে গেছে পথ, পথের সারথি। কদম্ব নামের গাছ চেনে, চেনে ডুমুরের বন। ভূতুড়ে সন্ধ্যা ঘাড়ে করে নেমেছে দিঘির জলে। কালো জল তার। জলের বলয় দাঁতহীন শিশুর হাসির মতো লাগে। সারল্যের আলো মেখে শিশুপাতা ভাসে সেই জলে। নিদাঘ পরাগ ঝরে সিঁথির ওপরে। ঠোঁটে জামের ছায়া। অভিমান বড় টলমলে।

জ্বর নয়, ঝড় আসে অমাময় রাত্রির শহরে। অতিদূর পাড়া থেকে কুকুরের ঘেউ, অকস্মাৎ ঘুম ভেঙে যায়। ভাঙে কাচ, অগোচর জানালার। কালপুরুষের পাশে আর কোনও নক্ষত্ররা ফুটে ওঠে শূন্যাকাশময়—কে যে কার পাহারা বসায়! জগত সুনসান। নীরবতা লেগে থাকে পাতায় পাতায়।