লুইস গ্লাক >> তিনটি কবিতা >> মাইনুল ইসলাম মানিক >> নোবেল পুরস্কার ২০২০

0
436

লুইস গ্লাক >> তিনটি কবিতা 

ডুবন্ত শিশুরা

দেখতেই পাচ্ছেন, ওরা বিবেচনাবোধহীন
তাই এটাই স্বাভাবিক, ওরা ডুবে যাবে
প্রথমে বরফ ওদেরকে টেনে নেবে গহীনে
তারপর, সমস্ত হীম, তাদের পেছনে ভাসমান
পশমী নিচোল, যেহেতু তারা ডুবে যায়
সবশেষে নিশ্চল হয়ে যাওয়া অবধি।

তারপর, গুটিয়ে রাখা কালো হাতে ওদের ভাসিয়ে দেয় পুকুর।

মৃত্যু আসে ওদের কাছে অবশ্যই ভিন্নরকম হয়ে
জীবন শুরুর খুব কাছাকাছি
যেন তারা অহর্নিশ দৃষ্টিহীন, ভরহীন
অবশিষ্ট সবকিছু স্বপ্নবিভোর, বাতিটি,
টেবিল ঢেকে রাখা দারুণ সাদা কাপড়টি,
ওদের শরীর।

তখনও শিশুরা শুনতে থাকে ডাকনাম ধরে কেউ তাদের ডাকছে
পা হড়কে পুকুরে পড়ে যাওয়া টোপের মতো
যেন ডাকছে, কেন তোমরা অপেক্ষা করছো
ঘরে এসো, ফিরে এসো ঘরে
ওরা হারিয়ে যায় নীল ও চিরকালের অতল জলে।

সন্ধ্যাতারা

অনেক বছর কেটে যাবার পর এই প্রথম আজ রাতে
আবার ফিরে এলো
জাগতিক অত্যুজ্জ্বল আলোর ইশারা।

সন্ধ্যার আকাশে
প্রথম নক্ষত্রটি মনে হলো
অত্যুজ্জ্বল আলোয় জ্বলে উঠছে
অন্ধকারে আচ্ছন্ন পৃথিবী
পরিশেষে আরো অন্ধকার ঘনিয়ে আসার আগেই
সেই আলোটি, যা ছিল মৃত্যুর আলো
মনো হলো সান্ত্বনা দিতে
নিজের শক্তিতেই পৃথিবীতে ফিরছে আবার।

আজ আর একটি নক্ষত্র ছাড়া
কোন নক্ষত্র নেই আকাশে এই রাতে
শুধু আমি জানি তার নাম
কেননা আরেক জীবনে
আমি তাকে ক্ষতবিক্ষত করেছিলাম : সে তো ভেনাস
আসন্ন সন্ধ্যায় জ্বলে ওঠা এক নক্ষত্র।

তোমাকে উৎসর্গ করছি
আমার দৃষ্টি, কেননা এই শূন্য সমতলে
তুমি সীমাহীন আলো ছড়িয়েছো
যাতে দৃশ্যমান হয়
আমার সমূহ চিন্তন।

অ্যাভের্নো
(অ্যাভের্নো শব্দটির শব্দটির উৎপত্তি প্রাচীন অ্যাভের্নাস শব্দ থেকে। এটি নেপলস থেকে দশ মাইল পশ্চিমের একটি লেক, যেটিকে প্রাচীন রোমানরা স্বর্গের প্রবেশমুখ হিসেবে বিবেচনা করত।)

চেতনা মরে গেলে তুমি যাও মরে
চেতনায়ই থাক বেঁচে
হয়তো ভালো কাজ পাবে না, তবুওতো কেটে যাবে সময়
নিতান্তই পছন্দের বাইরে কিছু করে যাবে হয়তো।

কথাগুলো যখন আমার শিশুদের বলি
ওরা কর্ণপাত করে না মোটেও
ওরা ভাবে, সেকেলে লোক আমি।
যে কাজটি তারা হরহামেশা করে :
যা কিছু সবার কাছে অদৃশ্যমান
তা নিয়ে আলাপে মেতে ওঠে
এভাবেই তারা নির্জীব হতে থাকা
মস্তিষ্কের কোষেগুলো সজীব করে তোলে
একে অন্যের দিকে চোখ টিপে ইশারা করে
বলে, চেতনা নিয়ে বয়স্করা যা বলে তাই শুনে যাও
চেয়ার দখলের শব্দগুলো তারা মনে করতে পারবে না।

নিঃসঙ্গ হওয়া খুবই মারাত্মক একটা ব্যাপার
নিঃসঙ্গতা বলতে একা থাকার কথা বলছি না
আপনার কথাগুলো শোনার যখন কেউ থাকে না
সেটাই হলো নিঃসঙ্গতা

আমি চেয়ার দখলের কথা স্মরণ করি
বলতে চাই, চেয়ারের বিষয়ে আমি আর আগ্রহী নই।

ভাবতে ভাবতে জেগে উঠি
“তোমাকে প্রস্তুত হতে হবে”
সহসাই ভাবনারা বিলুপ্ত হবে
পৃথিবীর সমূহ চেয়ার মিলেও তোমার ভাবনাকে
ফেরাতে পারবে না।

(কবিতাগুলো দ্য ইকো প্রেস থেকে প্রকাশিত লুইস গ্লুকের ‘দ্য ফার্স্ট ফোর বুক অব পোয়েমস’ থেকে নেয়া হয়েছে)