লুইস গ্লাক >> দুটি কবিতা >> তর্জমা মাসুদুজ্জামান >> নোবেলজয়ী কবির কবিতা

0
514

লুইস গ্লাক >> দুটি কবিতা

এ বছর ২০২০ সালের নোবেল পুরস্কার পেলেন মার্কিন কবি লুইস গ্লাক। তাঁর কবিতার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রকৃতি নিবিষ্টতা। আত্মগত অনুভবে তাঁর কবিতা উজ্জ্বল। কবিকে তীরন্দাজের অভিনন্দন।

ভরপুর সবই

গ্রীষ্মসন্ধ্যায় বইছে ঠাণ্ডা বাতাস, গমখেতে ঢেউ উঠছে।
গমের শীসগুলি পিচফলের পাতাগুলোর দিকে ঝুঁকছে
নিশিথে শুনি পাতার মর্মর।

প্রথমবারের মতো অন্ধকারে, একটা বালক
মাঠ পেরুচ্ছে : বালিকাকে ছুঁলো
বাড়ি ফিরলো পুরুষ হয়ে, পুরুষের ক্ষুধা নিয়ে।

ধীরে নিঃশব্দে ফল পাকছে –
একটা গাছের জন্যেই ঝুড়ির পর ঝুড়ি
ফি বছর কত কত ফল যে পচে
এবারের হপ্তাগুলোতে একটু বুঝি বেশি :
আগে ও পরে শুধুই শূন্যতা।

সারি সারি গমগুচ্ছের ফাঁকে ফাঁকে ইঁদুরগুলোকে দেখছি
মাটির ওপর দিয়ে ঝলকে ঝলকে তাদের চলাচল
মাথার ওপরে তাদের গমের খাঁড়া চূড়া,
থেকে থেকে গ্রীষ্ম-হাওয়ার রোমন্থন।

পূর্ণিমা এখন। খেত থেকে আসছে রহস্যমধুর শব্দ –
হয়তো বাতাসের।

ইঁদুরের কাছে এ যেন গ্রীষ্মের কোনো রাত।
ফল আর ফসল : এখনই তো কত কত পাওয়া যাবে।
কারো মৃত্যু নেই, কেউ তো ক্ষুধার্ত থাকে না।

কী এক নৈঃশব্দ্য শুধু শুনি গমের মর্মর।

নৈঃসঙ্গ্য

আজকের দিনটা বেশ অন্ধকার হয়ে আছে; যদিও বৃষ্টি হল,
পাহাড়টাও দেখা যাচ্ছে না। একমাত্র যে শব্দটা কানে আসছে
সেটা বৃষ্টির, জীবন কোথায় যেন সেঁধিয়ে যাচ্ছে।
বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে আবার শীতও আসছে।
আজ রাতে চন্দ্রোদয় হবে না, নক্ষত্রেরদেরও দেখতে পাব না।

রাত হলে ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করে;
ভোরে গমখেতগুলির উপর ঝাপিয়ে পড়ে –
দুপুরের মধ্যে শেষ হয় সেইসব। ঝড় তবুও বইতে থাকে,
শুকনো মাঠগুলি জলে ভরে যায়, বন্যায় সবকিছু ভেসে যায় –

পৃথিবী তখন দিকচিহ্নহীন।
সবকিছু অদৃশ্য, কালো জানালার ওপরে শুধু বৃষ্টির রূপোলি ঝলক।
এটা তো সরাইখানা, এখানে কিছুই নড়েচড়ে না –

আমরা যেখানে ছিলাম সেখানে এখন ফিরে যাচ্ছি,
জন্তু জানোয়ারেরা অন্ধকারেই থাকে
তাদের কোনো ভাষা নেই অথবা দূরদৃষ্টি –

আমি যে বেঁচে আছি তার কিছুই বোঝা যায় না।
এখন এখানে শুধুই বর্ষণ, অনিঃশেষ বৃষ্টির ধারাপাত।