শঙ্খশুভ্র পাত্র >> কবিতাগুচ্ছ

0
684
খোঁড়া শালিকের পায়ে
সেই চেনা জোড়াপথ, অস্তরাগ, লালনবাহার…
তোমার দিগন্ত চোখে অতীন্দ্রিয় সাধন প্রস্তাব
একাকী নিভৃতরঙে—অপেক্ষায় থাকে চিরকাল…
মুগ্ধবোধ-ব্যাকরণে—প্রখর রোদের উত্তাপ
ভেদ করে এনে দেবে ছায়াশ্রিত পানীয়, আহার
ক্ষুধার্তের প্রতি স্নেহে, মাঝখানে রোগা এক খাল
কুলুকুলু বয়ে যাবে, স্বপ্নলব্ধ এইটুকু ঋণ
খোঁড়াশালিকের পায়ে আমি যে খুঁজেছি প্রতিদিন৷
কিরাত
উন্মাদ লেখাকে নিয়ে বসে আছি৷ দ্বিতীয় লাইন
কিছুতে আসে না৷ এদিকে ঘড়ির কাঁটা—ধিকিধিকি
রাত বারোটার দিকে৷ চন্দ্রাহত৷ আইনস্টাইন,
আইনের কথা ভেবে এল অচিরাৎ৷ তবে লিখি
আমি সে-পাগল, কিছু শব্দ নিয়ে শূন্যে জাগলারি
দু’হাতে নাচাই বল—এক দুই তিন…একি গেরো!
১২ই আগস্ট আজ, অগস্ত্য মুনির সেই বাড়ি
স্পষ্ট যেন চোখে দেখি : যে যায়, সে ফেরে না তো, “তেরো”…
ঘড়ির কাঁটায় ধ্রুব, নবম লাইনে ছুঁইছুঁই
এদিকে উন্মাদ লেখা—কিছুই মানে না, স্বাভাবিক
স্থির বসে থেকে একা—মনে-মনে হয়ে যাচ্ছে “তুই”
সে-এক দেখার মতো, অবিশ্বাস্য, জ্যোৎস্না-তাবিক৷
কবিতা কোথায় থাকে — কীভাবে হৃদয় তাকে ধরে
কিরাত বুঝেছে কিছু—আজ রাত বারোটার পরে৷
দিগন্ত
দিগন্তের মূলে ওই গাছপালা আরও কিছু দৃশ্য
অনিকেত–সবুজাভ দাবি করে। কলম্বাস ঘোর
কলমের প্রতি শুধু! কেন নয় ধু ধু, শূন্যতা, ঈশ্বর?
ফিরে এলে পূর্ববৎ, যথাস্থানে৷ দৃষ্টিতে আবিশ্ব
ওই যে দিগন্তরেখা — পার করে একাকার, একা৷
জাহাজ জেনেছে ঢেউ — তিরতির হাওয়ার কাঁপন
এ-পৃথিবী গোলাকার ছুঁয়ে আছে আমারই রেকাব
ইন্তেজার-চিন্তামণি, বলে রাখি : তুমিও আপন
ওই নেশাঘোরে ভ্রামণিক, একজন ভাস্কো দা গামা
যেভাবে প্রতিটি গাছে ভরে ওঠে দিগন্ত আমার …

 

কস্তুরি
কস্তুরি বাস, তথাস্তু, ধায়, হরিণ গহন বনে
চরণে তার নূপুর হারায়—দুরন্ত সুর মনে৷
অরণ্যানীর শরণ মানি—মাথায় সে ডালপালা
খাতায় এঁকে রাখছি—ছায়া, জিরিয়ে নেওয়ার পালা…
একে সহজ বলতে পারো—জটিল অনুসরণ
কী করে হয় শীকর কণা, শিকড়, ধু ধু স্মরণ—
মাটির ভিতর, অন্ধকারে, তাৎক্ষণিকের খেলায়
তুমি-আমি পার করে সেই আকাশ, হেলাফেলায়…
মাটির পিদিম
তোমার শীতল অঙ্গ যেন মাটি, মথুরা আমার৷
আমাদের আয়োজনে তোমার বিরাম নেই কোনও
মুরারী সহায়, কণ্ঠে তুলসীর মালা, জপ গোনো
এই তো এসেছে লেখা, লেখার ভিতরে সুদামার
ভেসে ওঠে মুখচ্ছবি, পথশ্রম, বন্ধুত্বের টান…
বিক্ষত চরণে তার জমে আছে গোধূলি-রুধির
কত কত কৃষ্ণপক্ষ বিরহে বিধুর, তবু সুদি
সুধীজনে, শ্রীচরণে ন্যস্ত থাক৷ মান-অপমান
ভুলেছি একাকী, থাকি নৈরাত্মাসিদ্ধির টানে, গৃহে
তোমার শীতল অঙ্গ যেন মাটি শ্রীবাস অঙ্গন
আমাদের আয়োজনে, জনে-জনে রেখেছে রঙ্গন
তোমার রাতুল পায়ে ক্ষান্ত হবো রক্তজবা দিয়ে ৷
জানি এই সম্মেলন আমাদের বৃন্দাবন নিধি,
নিবিড় তমসাস্রোতে ভেসে যায় মাটির পিদিম…