শচীন দেব বর্মণ : আত্মা আর মৃত্তিকায় বিমিশ্র যে সঙ্গীত >> অনুলিখন ফারহানা আনন্দময়ী >> জন্মবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

0
793

শচীন দেব বর্মণ : আত্মা আর মৃত্তিকায় বিমিশ্র যে সঙ্গীত

এসডি সদ্য তরুণ যখন, চট্টগ্রামের একদল গ্রাম্যনারীর কণ্ঠে একটা গান শুনেছিলেন। সেই সুর তিনি ভাবনায় গেঁথে নিয়েছিলেন গভীরভাবে। পরবর্তীকালে ১৯৫১ সালে ‘নওজোয়ান’ সিনেমায় সাহির লুধিয়ানাভির “ঠাণ্ডি হাওয়ায়ে লেহরা কী আয়েই…” গানের কথার সাথে সেই সুরের এক যুগলবন্দি সৃষ্টি করেন তিনি। বিখ্যাত হলো সেই গান।

“সঙ্গীত হলো ভূগোল” – Claude Debussy (1862-1918)
“একজন মানুষের সঙ্গীত তার উৎসভূমি থেকে উৎসারিত” – Antonio Vivaldi (1678-1741)
“আমার সঙ্গীতে আমার অন্তর্গত আমিই প্রতিধ্বনিত হয়” – Johannes Brahms (1833-1897)
সংগীত সম্বন্ধে এই বিবৃতিগুলো আমরা বিভিন্ন সময়ে যাঁদের কাছ থেকে পেয়েছি, তাঁরা সকলেই পাশ্চাত্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের দিকপাল, অনুরাগী ও শিক্ষার্থী ছিলেন। সঙ্গীতেরও একটা আলাদা ভূগোল আছে, সঙ্গীত-মানচিত্র আছে, তাঁদের মতো একইরকম ভাবনা আমাকেও ভাবাতো। তখন আমি ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনা করছিলাম।
পরে যখন আমি ভারতে ফিরে এলাম, এই ধারণাটি আমার আরো পাকাপোক্ত হল শচীন দেবকে শুনে। একজন সঙ্গীতকার ও সুরকারের সৃষ্টিতে তাঁর ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যের ছাপ স্পষ্টভাবেই মিশে থাকে, এটা তাঁর সঙ্গীত শুনেই নিশ্চিত হলাম। শচীন দেব যে-সমস্ত চলচ্চিত্রের গান নির্মাণ করেছিলেন, তাতে ত্রিপুরা আর অবিভক্ত বাংলার মাটির সুরের প্রভাব দারুণভাবে আমরা পেয়েছি। তাঁর জীবন আর একইসঙ্গে সঙ্গীতের সবচেয়ে উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য হল, তা সহজিয়া আর সরলতায় পূর্ণ। আত্মায় আর মৃত্তিকায় বিমিশ্র এসডি’র সঙ্গীত।” এ কথাগুলো স্মৃতিকথায় বলছেন ভাষা ও সংস্কৃতি-গবেষক সুমিত পাল।
খ্যাতনামা গীতিকবি শৈলেন্দ্র সঙ্গীতের বরপুত্র শচীন দেবকে অলঙ্কৃত করেছেন এরকমভাবে একটা কবিতায় :

দারিওয়া কী রাওয়ানি, মাশরিক কা আন্দাজ
আপকি মিউজিকি মেঁই বেঙ্গল কা সাজ।
বঙ্গানুবা :
স্রোতস্বিনী নদীর মতোই বয়ে যায় পূবের এই ধারা,
বাংলাকে সাজায় তোমার সৃষ্ট সঙ্গীতেরা।

শচীন কর্তা একবার কথাপ্রসঙ্গে প্রমথেশ বড়ুয়াকে বলেছিলেন, “আমার প্রত্যেকটা গানের বুকের মধ্যে সারাক্ষণই বয়ে যায় ‘রুডরিন”। রুডরিন হলো সংস্কৃত ভাষায় নদীর স্রোতের কলকল ধ্বনির চেয়েও কোমল এক ধ্বনি। তিনি একশো’র বেশি চলচ্চিত্রের সঙ্গীতকার ছিলেন। এই সঙ্গীতকে নিজের মধ্যে আপন করে ধারণ করার জন্য এসডি ছোটবেলা থেকেই ত্রিপুরার ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া আর জেলেদের গানগুলো মগ্ন হয়ে শুনতেন।

উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের মতো শচীন কর্তাও মনে করেন, প্রকৃতির নিজেরই একটি আদি ও অকৃত্রিম সঙ্গীত আছে। সেই সঙ্গীত অপরিবর্তনীয়। সকলেই সেই গান শুনতে পায় না। সেই সুর আর গান শোনবার যোগ্য কানও থাকা চাই। কলকাতায় থাকাকালীন তিনি যখন মেডোজ সঙ্গীত শিখলেন, তিনি বুঝতে পারলেন যে, সঙ্গীতের ভাষা হলো বৈশ্বিক। একে দেশকালের সীমানায় আটকে রাখা যায় না। আর সবকিছু ছাপিয়ে লোকসঙ্গীত হলো এই সৃষ্টির মূল শক্তি। সেই সময়ে কলকাতায় ‘এয়ার’ নামে একটা রেডিও স্টেশনে একজন ইংরেজ, স্টেশন-পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি একদিন এসডি’কে বললেন, “তুমি পিয়ানো বাজানো শিখে নাও। এতে করে ভারতীয় আর পাশ্চাত্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সকল ধারা সম্পর্কে তোমার জানা হবে, শেখা হবে।”
এরপরে তিনি পার্ক স্ট্রিটে একজন অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান শিক্ষকের কাছে গিয়ে পিয়ানোর নোট চিনতে শুরু করলেন, সাথে বাজাতে শেখাও। এলভিন সেন নামের সেই শিক্ষকের কাছে একই সময়ে আরো একজন শিক্ষার্থী পিয়ানো বাজানো শিখতে আসতেন। দীর্ঘদেহী, সুদর্শন একজন তরুণ। ঠোঁটের কোণে জ্বলন্ত সিগারেট চেপে ধরে একজন আকর্ষণীয় তরুণ পিয়ানো বাজাচ্ছেন, এরকম একটা দৃশ্য শচীন কর্তাকে দারুণভাবে বিস্মিত আর মুগ্ধ করতো। সেই তরুণের গমগমে গভীর কণ্ঠস্বর, যাকে আমরা বলি ‘ব্যারিটোন ভয়েজ’, সেটা শুনে এসডি আরো বিমোহিত। তরুণটি অন্য আর কেউ নন, কিংবদন্তি বাঙালি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সত্যজিৎ রায়! একদিন তিনি রায়কে প্রস্তাবও দিলেন, কিছু বাংলা গান যদি এই কণ্ঠে তোলেন, খুবই ভালো হবে সেটা। সত্যজিৎ রায়ের উত্তর ছিল এরকম, “মিস্টার বর্মণ, খুবই দুঃখিত আমি। সব কাজ সবার জন্য নয়। গান আমার ‘কাপ অফ টি’ নয়। তবে আপনাকে ধন্যবাদ, এ কাজে আমাকে যোগ্য মনে করার জন্য।” খুব বিনয়ের সাথে বলেছিলেন সত্যজিৎ রায়।
শচীন কর্তা সেই সততা আর সাহস সবসময়ই লালন করতেন, স্পষ্ট করে তার অনুপ্রেরণার উৎসটি প্রকাশ করার বিষয়ে। তার কোন গানের সুর তিনি কোন গান শুনে প্রভাবিত হয়েছেন, তা জানাতে কখনো দ্বিধা করেননি। এসডি সদ্য তরুণ যখন, চট্টগ্রামের একদল গ্রাম্যনারীর কণ্ঠে একটা গান শুনেছিলেন। সেই সুর তিনি ভাবনায় গেঁথে নিয়েছিলেন গভীরভাবে। পরবর্তীকালে ১৯৫১ সালে ‘নওজোয়ান’ সিনেমায় সাহির লুধিয়ানাভির “ঠাণ্ডি হাওয়ায়ে লেহরা কী আয়েই…” গানের কথার সাথে সেই সুরের এক যুগলবন্দি সৃষ্টি করেন তিনি। বিখ্যাত হলো সেই গান। আবার পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত আর জনপ্রিয় সঙ্গীতের বিখ্যাত কয়েকজন সঙ্গীতজ্ঞ মনে করলেন, “আলজিয়ার্স’ চলচ্চিত্রের ‘সেস্ট লা ভি’ গানটি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেছিলেন এই গান।

একবার রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে শচীন কর্তার সাক্ষাৎকারের সুযোগ হলো। তিনি রবীন্দ্রনাথকে বললেন, “আমার মনে একটা সুর গুনগুন করছে, অনুমতি দিলে আপনাকে শোনাবো।” কবি গভীর মনযোগ দিয়ে সুরটি শুনলেন। বললেন, “এটি তুমি পরম যত্নে সংরক্ষণ করো, এই সুরের সমান সুন্দর একটি গানের বাণীর জন্য।”

শচীন কর্তা দুটো সূত্রকেই স্বীকার করলেন। একটি গান যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর মনে না হতো যে একদম ঠিকঠাক হলো, তিনি সেই গান নিয়ে ভাঙাগড়া চালিয়েই যেতেন। যে-কোনো গানের সূক্ষ্মতার শীর্ষ তিনি স্পর্শ করতে চাইতেন। অন্যকথায় বলা যায়, তিনি বিডোভেনের সেই বাণীকেই ভাবনায় আর কর্মে ধারণ করতেন, লালন করতেন : I compose, decompose and recompose. নিজের সৃষ্টির আদিকণাটিকে তিনি নিজের খেয়ালে ভেঙেচুরে গড়ে তুলতেন। সৃষ্টি করতেন, তাকে ভাঙতেন আবার সেটিকে বিনির্মাণ করতেন।
একবার রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে শচীন কর্তার সাক্ষাৎকারের সুযোগ হলো। তিনি রবীন্দ্রনাথকে বললেন, “আমার মনে একটা সুর গুনগুন করছে, অনুমতি দিলে আপনাকে শোনাবো।” কবি গভীর মনযোগ দিয়ে সুরটি শুনলেন। বললেন, “এটি তুমি পরম যত্নে সংরক্ষণ করো, এই সুরের সমান সুন্দর একটি গানের বাণীর জন্য।”
শচীন দেবের সুরকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছিল সাহির লুধিয়ানির গানের বাণী। আশ্চর্য সুন্দর এক জুটি তৈরি হয়েছিল হিন্দি চলচ্চিত্রের গানে। একে একে সৃষ্টি হলো, ‘তুম না জানে কিস জাহাঁ মে’ (সাজা, ১৯৫১), ‘দিল সে মিলাকে দিল পেয়ার দিজিয়ে’ (ট্যাক্সি ড্রাইভার, ১৯৫৪)। এরপরে আরো আরো গান! তবে লুধিয়ানি ছাড়াও অন্য গীতিকবিদের গানের বাণীতে এসডির সুর বসিয়ে সেই গান বিখ্যাত হয়নি, তাও কিন্তু নয়। আমরা কী করে ভুলি, মাজরুহ সুলতানপুরির লেখা সেই জনপ্রিয় গান, ‘চান্দ ফির নিকলা মাগার তুম না আয়ি’ (পেয়িং গেস্ট, ১৯৫৭)! ঈশ্বরীকণ্ঠের লতা মুঙ্গেশকর অমর করে দিলেন এই গানটিকে তাঁর অনন্য কণ্ঠ আর গায়কীতে।
‘ওয়াক্ত নে কিয়া, ক্যা হাসিন সিতাম’ (কাগাজ কা ফুল, ১৯৫৭)… গীতা দত্তের সুমিষ্ট কণ্ঠের এই গানটি কায়ফি আজমি লিখেছিলেন শচীন দেবের জন্য। সুর আর বাণী এভাবেই পরিপূরক হয়ে উঠেছিল হিন্দি চলচ্চিত্রের গানে, সেই সময়ে। শচীন কর্তা এতটাই পারফেকশনিস্ট ছিলেন, গীতা দত্তের কণ্ঠে এই গানটি এগারবার রেকর্ডিং করিয়েছিলেন! এদের মধ্যে যে গায়কীটাকে তিনি সর্বোত্তম মনে করলেন, চলচ্চিত্রের জন্য সেটাই রাখলেন।
অবাক করা বিষয় হল, শচীন কর্তা হিন্দি জানতেন না, উর্দুও না। অথচ হিন্দি গানে যখন সুর বসাতেন, কী অসাধারণ এক সঙ্গীতায়োজন হতো! গীতিকারদেরকে তিনি বলতেন, “তোমার গানটা আমাকে বিস্তারিত বোঝাও। গানের ভাব বুঝে আমাকে সুর বসাতে হবে।” ১৯৬৪ সালে ‘বেনাজির’ চলচ্চিত্রের এই গানটি সুপারহিট হলো – ‘দিল মে এক জানে তামান্না।’ বিখ্যাত গীতিকবি শাকিল বাদাউনি লিখেছিলেন এই গজল। এই গজলে কিছু কঠিন শব্দ ছিল, যা এসডির পক্ষে ছিল দুর্বোধ্য। তিনি শাকিলজিকে বললেন, “আমাকে এটা ইংরেজিতে বা খুব সহজ হিন্দিতে বুঝিয়ে দাও।” কবি খুব একটা ধৈর্যশীল মানুষ ছিলেন না। কয়েকবার ব্যাখ্যা করার পরেও যখন শচীন কর্তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারলেন না, খুব অস্থির হয়ে বললেন, “রাফি আপনাকে এই গানটি বুঝিয়ে দেবে। ওকে ডাকুন।” খুবই জনপ্রিয় হওয়া এই গানটি মোহাম্মদ রাফি-ই গেয়েছিলেন।
কিশোর কুমার, লতা মুঙ্গেশকার আর মোহাম্মদ রাফি, এই তিনজন শিল্পী মিলে শচীন কর্তার সৃষ্টিগুলোকে অনন্যসুন্দর মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। কিশোর কুমার এত এত গান গেয়েছেন তাঁর, তবে সমস্ত গানের মধ্যে এসডির সবচেয়ে পছন্দ ছিল, ১৯৭১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গ্যাম্বলার’-এর ‘দিল আজ শায়ের হ্যায়।’ শৈলেন্দ্র ছিলেন শচীন কর্তার সবচেয়ে প্রিয় গীতিকার। এই গীতিকবির গানের কাব্য তাঁর মন ছুঁয়ে যেত সবসময়। তিনি মনে করতেন, নিজের করা সুরারোপিত সৃষ্টিগুলোর মধ্যে ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গাইড’-ই সেরা। তিনি নিজেও চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অনেক। নিজের কণ্ঠকে তিনি বর্ণনা করতেন খানিকটা ‘বোকা-বোকা’ আর ‘ভাঙাভাঙা’ নামে। আর এই ধরনের একটু অন্যরকম কণ্ঠ-বৈশিষ্ট্যের জন্য গানগুলোও তিনি সেরকমভাবেই বেছে নিতেন।
শচীন দেবের সংগীত জীবনের অনেক অজানা গল্প জানা যায় তাঁর লেখা আত্মজীবনী ‘সারগামের নিখাদ’ থেকে। এই জীবনীটি প্রকাশিত হয়েছিল ‘দেশ’ পত্রিকায় ১৯৭০ সালে। পরে খগেন দেব বর্মণ শচিন কর্তার মূল আত্মজীবনীটি অনুবাদ করেন ইংরেজিতে, শিরোনাম ছিল ‘শচীন কর্তার গানের ভুবন।’ এই গ্রন্থে তাঁর জীবনের গানের পর্ব ছাড়াও, তাঁর পরিবার, শৈশবকাল, ত্রিপুরা, কুমিল্লায় কাটানো তাঁর দিনগুলোর স্মৃতি পাঠকের সামনে উঠে এসেছে। বিভিন্ন বিখ্যাত শিল্পীর সাথে তাঁর সুরের জনপ্রিয় গানগুলোর গান হয়ে-ওঠার গল্পও তিনি লিখেছেন এখানে। এমনকী, শচীন কর্তার পুত্র রাহুল দেব বর্মণের সাথে তাঁর গানের রুচির মতপার্থক্যের বিষয়েও কোনো আড়াল রাখেননি সারগামের নিখাদ-এ।

ইংরেজ কবি জন কিট্‌সকে তিনি প্রায়ই উদ্ধৃত করতেন নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে : My name will be written on water. শেলি, কিট্‌স আর বায়রনের কিছু কবিতা বেছে নিয়েছিলেন তিনি, তাতে সুর বসাবেন বলে। সেই কাজ তাঁর অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে।

গানের কথা যদি তাঁর পছন্দ হতো একবার, সেই গানের সুরও খুব অনায়াসে তাঁর কাছে ধরা দিত। সুর আর বাণীর রসায়নকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। মৌলিকভাবেই কোনো কবিতা যদি খুব ভালো হয়, সুরটা অবধারিতভাবেই তাঁর সমান হয়ে ওঠে, এই ছিল তাঁর বিশ্বাস। এত গুণী একজন সঙ্গীতকার হয়েও শচীন কর্তা সবসময় একটা সংশয়ে থাকতেনই। আগামী প্রজন্ম তাঁর গান কতটুকুই বা মনে রাখবে, এই ছিল তাঁর সংশয়! তিনি আত্মসমালোচনা করতে এতটুকু দ্বিধা করতেন না। ইংরেজ কবি জন কিট্‌সকে তিনি প্রায়ই উদ্ধৃত করতেন নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে : My name will be written on water. শেলি, কিট্‌স আর বায়রনের কিছু কবিতা বেছে নিয়েছিলেন তিনি, তাতে সুর বসাবেন বলে। সেই কাজ তাঁর অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে। যে-কোনো কিছুতে বায়রনকে উদ্ধৃত করতে তিনি খুব পছন্দ করতেন। প্রয়াণের কিছুদিন আগে শচীন কর্তা একজন বাঙালি সাংবাদিককে বলেছিলেন, “বিশ্বের মানুষ মোজার্ট আর বিডোভেনকে দীর্ঘদিন মনে রাখবে। আমার মতো একজন সঙ্গীতকারকে তারা মনে রাখবে না।”
শচীন কর্তার সেই কথা সত্য হয়নি। আজও আমরা, অজস্র সঙ্গীতানুরাগী, তাঁকে হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান দিয়েছি। সঙ্গীতের বরপুত্র হয়েই তিনি আজও বেঁচে আছেন সংগীতপিপাসুদের কাছে। মাটির সুরে সুরে সংগীত অনুরাগীদের আত্মার কাছে তিনি থেকে যাবেন আগামী আরো আরো অনেককাল।

[সুমিত পালের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত লেখার অনুসরণে]