শাপলা সপর্যিতার ধারাবাহিক উপন্যাস >> সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক [পর্ব ৭]

0
353
Shapla2
নকশালবাড়ি আন্দোলন আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে এই গল্পের শুরু। সীমান্তের এপার-ওপারের গল্প। সে ছিল উন্মুখর জটিল এক সময়। পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ঘটে যায় আরও অনেক কিছু। এই ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র মনস্বীতা। সাধারণ এক নারী। নারীজীবনের প্রত্যাশা পূরণের আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে সে। কিন্তু বার বার কেন যেন ভুল হয়ে যায়। ফলে, জটিল এক জীবনের মুখোমুখি হয় সে। ত্রিমাত্রিক এক সম্পর্কের কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। এই জীবনে যুক্ত হয় এক অনাগত সন্তান। আসলে এরপর কী ঘটেছিল মনোস্বীতার জীবনে, পড়ুন এই উপন্যাসের সপ্তম পর্বে।

পর্ব ৭

মনোস্বীতা যখন হসপিটালের বেডে একা, মৃত সন্তানের গায়ে গায়ে প্রাণের তুমুল ঘ্রাণ নিতে নিতে দগ্ধ। মৃত্যু নামক জলজ্যান্ত সত্যটাকে এড়িয়ে ‘জীবন’ নামের মিথ্যেটাকে আঁকড়ে ধরবার ব্যর্থ চেষ্টায় পরাক্রান্ত। নিথর মাংসপিণ্ডে মৃত্যুর পরম বিষ… তারই আসক্তি কাটিয়ে ওঠার শেষ চেষ্টায় জীবনের কাছে অবনত। নিঃস্ব হতে লেগেছে তার বেঁচে থাকবার শেষ প্রেরণাটুকু তখন উদভ্রান্ত তমালকৃষ্ণ রাজ চক্রবর্তী মনোস্বীতার খোঁজে। মনোস্বীতাকে নামিয়ে দিয়ে কাজ সেরে ফিরছিলেন যখন কেন যে বার বার মেয়েটির মুখ মনের পর্দায় ভেসে উঠছিল কে জানে। পরদিনও তাকে নিয়ে যাবেন নিজের গাড়িতে এই কথা দিয়েছিলেন তাকে। কিন্তু না। পরদিন থেকেই সে নেই। কোথাও নেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে নেই সে। কোথায় হারালো! গাড়ির জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা মুখ মনে পড়ে। তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে ঝড় জল পেরিয়ে সন্তানসম্ভবা যুদ্ধাহত মেয়েটি চক্রবর্তীর নিজের জীবনের যুদ্ধ, আন্দোলনের গাথা শুনতে শুনতে কি মায়ায় যে বেঁধেছিল তাকে। মনে পড়ছিল তার নিজের কথা। মাধবীর কথা।
১৯৬৭ সালের শেষ দিক তখন। পূর্ব বাংলার কমিউনিস্টরা বিপ্লবের পথ খুঁজছে। পার্টিতে ভাঙন ধরছে। নকশাল বাড়ির কৃষক বিদ্রোহের ঘটনা পূর্ব বাংলার কমিউনিস্টদের সামনে বিপ্লবের পথ খুলে দিল। মস্কোপন্থীদেরকে আকৃষ্ট করতে পারেনি এই পথ। কিন্তু কমিউনিস্ট মনোভাবাপন্ন পার্টি বহির্ভূত অনেকেই আবার কৃষক আন্দোলন দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। পূর্বপাকিস্তানে (তৎকালীন বাংলাদেশে) তখন ইয়াহিয়া খানের বিরুদ্ধেও ছাত্র অসন্তোষ ভেতরে ভেতরে দানা বাঁধতে শুরু করেছে ব্যাপকভাবে। এদিকে শহর থেকে গ্রাম, উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ জেঁকে বসেছে ইয়াহিয়া খানের বিরুদ্ধে। তারও মন তখন ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ। সেই অসন্তোষের ছোঁয়া তারও বুকে যে বাজেনি তা নয়। একদিকে প্রথম যৌবনের প্রেম, মাধবীর দুরন্ত আকর্ষণ অন্যদিকে শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে অধিকারবোধে সোচ্চার টগবগে তরুণ রক্তের মাতামাতি। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সালের দিকে পূর্ববাংলায় নকশালবাড়ি কৃষক আন্দোলনের প্রভাব তীব্র আকার ধারণ করে। তারই আগে আগে তিনি ভারতে। বয়স তখন কতই বা হবে। বড়জোর আঠারো কি উনিশ। মাধবী তার সমবয়সীই প্রায়। বাড়ির পাশের কালিমন্দিরে লুকিয়ে ‍দুজনে বিয়ে করেছেন সবে। ধারে-কাছে পোড়ো বাড়িটাতে গোপনে দু’একবার যে তাদের খুব ঘন হয়ে কাছে আসা হয়নি তা নয়। তখনই মাধবীর বাবা বাংলাদেশ ছাড়লেন পরিবারকে নিয়ে। মাধবী অসহায়। মাধবীকে ছাড়া সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ যুবক তখন চিন্তাও করতে পারতেন না। আহা মাধবীবিহীন জীবন এক দুঃসহ অন্ধকার।
সেই প্রথম যৌবন। মাধবীর শরীরের ঘ্রাণ সারাটা দিনই বুঝি ভরিয়ে রাখতো মোহন আবেশে। তার স্পর্শ যেন আগুন। জ্বালিয়ে রাখে আত্মার শিখা। লেলিহান সেই আগুনের প্রচণ্ড তাপ ছাড়া ওই শীতার্ত দিন মৌন রাত এই বাংলায় বসে কী করে যে তিনি পার করবেন! মায়ের প্রায় সব গহনা চুরি করে পালালেন ভারতে। মাধবীর পিছু পিছু। ভর্তি হলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সারা ভারত তখন উত্তাল। ভারতীয় মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি তখন নেতৃত্বের বিরোধীতা করে গঠন করেছে সিপিআই (মার্ক্সবাদী-লেলিনবাদী) বামপন্থী দল। চক্রবর্তী ভারতে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন সবে। সারা ভারতের তরুণ ছাত্রসমাজ তখন চারু মজুমদারের ডাকে নকশাল আন্দোলনে ছড়িয়ে পড়ছে, জড়িয়ে পড়ছে। চক্রবর্তীর গা ছমছমে ভাব। কিন্তু রক্তে কী এক আগুন মাঝে মাঝে জ্বালাও ধরায়। স্থির থাকতে পারেননি তিনিও। জড়িয়ে পড়েন। অন্যদিকে শুরু হয়েছে আরেক ঝামেলা। মাধবীর বাড়িতে তার যাতায়াত বন্ধ হয়েছে। কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছেনা। সেদিন দুপুরের পরই হঠাৎ মাধবী বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে এসে হাজির :
– চল, এক্ষুণি পালাতে হবে
– এক্ষুণি? কোথায় পালাবে?
– দার্জিলিং যাব।
চমকে ওঠে চক্রবর্তী।
– বল কি? অতদূর? কি খাবে? কি করবে ওখানে? কিভাবে বেঁচে থাকবো ভেবেছ এসব কিছু?
– হুম। ভেবেছি।
– ওখানে তো খুব ঝামেলা চলছে।
– সে চলবে ওদের মতো করে।
– ধুর। বললেই হলো। দেশের পরিস্থিতি ভালো না। আন্দোলন চলছে। কৃষকদের সাথে ওখানে জোতদার, চা বাগান মালিকদের খুব একটা বনিবনা হচ্ছেনা।
– জানি জানি। চিন্তা করোনা। ওতে আমাদের কিছু হবে না। ওখানে আমার কাকাতো ভাইয়ের বন্ধু থাকে। চা বাগানের ম্যানেজার। ওর বউ আমার ছোটবেলার বন্ধু। খবর করেছিলাম। সব ঘটনা জানিয়ে। সে বললো, এখানে চলে আয়। পরে যা ঘটে দেখা যাবেখন। নাও নাও ব্যাগ গুছিয়ে নাও। বাবা সন্দেহ করতে লেগেছেন। খুব সম্ভব টের পেয়ে গেছেন কিছু একটা। মায়ের নজরও খুব একটা সহজ লাগছে না। কোথাও বের হতে নিষেধ করেছেন। দেশের পরিস্থিতি খারাপ তাই। কিন্তু ঠিকই টের পেয়েছেন বাইরে বেড়িয়েছি। ধরা পড়লে আর রেহাই নেই।
সময়টা এমন যে দুজনে দুজনকে ছাড়া আর থাকা যাচ্ছেনা। কিছুই করবার নেই। অন্যদিকে ক্রমে চক্রবর্তীও জড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলনে। সেটাও মাধবীকে বলবার মতো সাহস অর্জন করতে পারছে না এখনই। এমনিতেই বাড়ির লোকেদের চাপে বেচারির নাজেহাল দশা। তার উপর এ কথা শুনলে নির্ঘাত হার্টফেল করবে। অনেক ভাবনার পর চক্রবর্তী বলে :
– বাড়িতে বলে দিলে কি হয়?
– কি বলবো?
– বল, আমরা বিয়ে করেছি।
– মাথা খারাপ হয়েছে তোমার?
– কেন?
– আমার বাবাকে চেনো না? জ্যান্ত পুড়িয়ে মারবে তোমাকে আর আমাকে।
– হুম।
মাথা নিচু করে ভাবে। মাধবী আবার বলে
– অত ভাববার আর সময় নেই। চলো। সন্ধ্যা ছটায় দার্জিলিংয়ের একটা ট্রেন আছে। ওটাতে চড়তে হবে।
– টিকেট?
– ও আমি করিয়ে নিয়েছি। চলো চলো, ওঠো।
তাড়া দেয় মাধবী। বিমর্ষ মনে উঠে দাঁড়ায় চক্রবর্তী। কী একটা চিরকূট লিখে রূমমেটকে দেয়। রুমমেট বের হয়ে যায় তড়িঘড়ি। তারপর ব্যাগ গুছাতে লাগে। কিন্তু মন সরে না। এদিকে বিপ্লব। দারুণ সব ঘটনা ঘটছে। ফুঁসে উঠছে সমগ্রভারত মারাত্মকভাবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই রূমমেট ফিরে এসে কানে কানে কিছু একটা বলে চক্রবর্তীকে। তার হাতে কিছু লেখা একটা চিরকূট ধরিয়ে দেয়। চক্রবর্তী একনজর চোখ বুলাতেই চকচক করে ওঠে তার চোখ। মুখ দিয়ে আপনাতেই বের হয়ে আসে অলক্ষ্যে একটি শব্দ :
-কমরেড, চারু মজুমদার!
মাধবী তখন মন দিয়ে টেবিলের বই গুছিয়ে চলেছে। রূমমেটটি মাধবীর দিকে একনজর তাকিয়েই চোখের ইশারায় তাকে সাবধান করে দেয়। সাথে সাথে বুক পকেটে ভরে নেয় চিরকূটটি। আড়চোখে তাকিয়ে দেখে মাধবী তার শার্টটা খুব যত্ন করে ভাঁজ করছে।
– যাক, দেখেনি। সন্দেহ করতো দেখলে। অথবা জানতে চাইতো কি লেখা আছে ওতে।
শিয়ালদাহ স্টেশনে যখন পৌঁছেছে ওরা তখন আকাশে সন্ধ্যার আবীর গাঢ় হতে লেগেছে। রঙের ধারা ঝরে পড়ছে দুজনের মনে আর শরীরেও। সারারাত পার হয়ে ভোরেরও আরও পরে পৌঁছুবে দার্জিলিং। অন্ধকার রাত, ট্রেনের একটি কামড়ায় মুখোমুখি দুটো সিট। মাধবী আর চক্রবর্তী মুখোমুখি বসে। মাধবীর বুদ্ধিও খুব। কী করে যে সে একটা কেবিন ভাড়া করে ফেললো সে-ই জানে। চক্রবর্তীর খুব পছন্দ হয়, বলে :
– বেশ হয়েছে কিন্তু।
– হুম। আমাদের জন্য।
– সে তো বুঝতেই পারছি। তুমি বেশ গুছিয়ে কাজ করতে পারো।
– সারারাত প্রেম করতে করতে যাবতো। তাই এটা। তোমার পছন্দ হয়নি?
– খুব পছন্দ হয়েছে।
বিপ্লব সংক্রান্ত কিছু একটা বই খুলে বসে চক্রবর্তী। সঙ্গে সঙ্গে মাধবী বইটি কেড়ে নিয়ে এমন দৃষ্টিতে তাকায় যে চোখের দৃষ্টিতে আগুনঝরা তীব্র নেশা ছাড়া আর কিছু নেই। মাধবীকে আজ অদ্ভুত সুন্দর দেখায়। হাতে রেশমি কাঁচের চুড়ি। গাঢ় নীল স্লিভলেস ব্লাউজ পরেছে আজ। তার উপর হালকা ফিনফিনে ক্রিম রঙের শাড়িতে বুকের ভাঁজ স্পষ্ট। নিজের বউ। আগেও দেখেছে ওকে। ভাঙা মন্দিরের ভেতর পুরোনো দেয়াল আর গাছগাছালির ফাঁকে একচিলতে দিনের আলোতে। খুব তাড়াহুড়োর মধ্যে। দুরুদুরু বুকে ভয় নিয়ে। কী জানি কখন কে এসে পড়ে। এমনি ছিল তাদের প্রথম কাছে আসা। কিন্তু আজ যেন স্বপ্নের মতো সব।
ট্রেন ছুটতে শুরু করেছে। রাতের প্রকৃতির আলো আঁধারির সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করবে বলে মাধবী ট্রেনের ভেতরের আলোটা বন্ধ করে দেয়। জানালার কাঁচে চোখ। দূরের রিমঝিম আলোর ঝর্ণাগুলো এক-এক করে সরে-সরে যাচ্ছে চোখের সামনে থেকে দূরে। পড়ে রয়েছে পেছনে কোনোটি। আবার আরও একটি আলোর ঝালর চলে আসছে সামনে। বেশ অনেকদিন পর দুজনের কাছাকাছি, এভাবে, একলা, নির্জনে। আধো আলো আধো অন্ধকারে। ভেতরে আগুন। বাইরে নদী। বুকে ঝোড়ো বাতাস। জানালার কাঁচে উপুড় হয়ে পড়েছে আজ সমস্ত আকাশ। তাতে পুর্ণ মাধুরী চাঁদ ঢালছে হেমলক জোৎস্না। যে জোৎস্নায় পুড়ে মরতে সাধ হয় খুব। মাধবীর কাছে ঘেঁসে আসে চক্রবর্তী। আর অমনি একঝলক ঠাণ্ডা বাতাসের সাথে উড়ে এসে ছড়িয়ে পড়ে ছেড়ে দেয়া মাতাল চুল চক্রবর্তীর নাকে চোখে ‍মুখে। নিজেকে সংবরণ করা খুব অসম্ভব ঠেকে তখন। হালকা বাতাসে তার পরনের শিফন শাড়ি উড়ছে। স্লিভলেস ব্লাউজে মাধবীর দুই বাহু যেন আজ উড়ন্ত এক রূপসী পরির ডানা। উড়ে চলেছে শূন্যে। ডান হাতের বাহুতে গভীর কাটা দাগ পাগল করে তোলে চক্রবর্তীকে। তার ঠোঁট নুয়ে আসে বাহুর কাটা দাগে। তাতেই মাধবীর পুরো শরীরে শিহরণ তোলা মাধুরী ছড়িয়ে বেজে চলে এক গভীর রাগিনী। চাঁদের ঝলক ঠিকরে পড়ছে মাধবীর গভীর নাভীতে :
– এত গভীর নদী এখানে…।
– হুম। নদীতো।
বলতে বলতে দু’হাতে খামচে ধরে চক্রবর্তীর চুল।
– ওখানে ডুবে মরতে সাধ…
তারপর উন্মাতাল সকল। হেসে ওঠে মাধবী। যেন বাঁশিতে বেজে ওঠে জোৎস্না। মোহনীয় হয়ে ওঠে রাত। এপ্রিল-মে মাসের গরম, তবু গাড়ির গতি আর নির্জন গাছপালার অন্ধকারে রাতের বাতাসে শিরশিরে ঠাণ্ডা অনুভব ছিল কিছুক্ষণ আগেও। এখন তা নেই। দু’পায়ের মাঝখানে মাধবীকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে জড়িয়ে ধরে তার সরু কোমর। নাভির গভীরে জিভের মাতাল সঞ্চালন… বাতাসে উড়ে চলে বুকের আঁচল। মাধবীর দু’হাতের অঞ্জরিতে উঠে আসে চক্রবর্তীর মুখ। জিভে নোনা স্বাদ। দুজনের শরীরে উড়ে এসে যেন জুড়ে বসেছে একজোড়া কামুক সারস। চক্রবর্তীর ঠোঁটে ঝুঁকে আসে মাধবীর দুই ঠোঁট। ঠোঁটে ঠোঁটৈ প্রচণ্ড উন্মাদনায় যখন ভেঙে পড়ছে ওই যে সুন্দরী চাঁদ। গাছেদের পাতায় নিশীথের ব্যথাগুলো আনন্দ হয়ে। প্রখর তখনো বাতাস। এ সময়ে বুঝি ঈশ্বর নেমে আসছেন স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে। বুকের কপা্ট খুলে গেলে আছড়ে পড়ে মাধবীর ঈষৎ উষ্ণ বুকের উপর চক্রবর্তীর ঠোঁটে বেজে-চলা রাগিনী। ঠোঁট ছুঁয়ে ছুঁয়ে বুকের পাঁজর, পাঁজরের সঙ্গে পাঁজরের ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে আগুন। বেজে চলে মুখর মধুরতম সঙ্গীত। মধ্যরাতের ট্রেন ছুটে চলছে। দুরন্ত তার গতি। তার চেয়েও দুরন্ত দু’জন মানুষের শরীরেও তখন শেষের প্রহর। চাঁদের নিচে ট্রেনের কামড়ায় মধুযামিনী। অঙ্গাঙ্গী যাপনের মাঝ দিয়ে ‍দুজন মানুষের বস্তুগত সুখ কখন যে এক হয়ে পৌঁছে গেছে ঊর্ধ্বতর একটি মাত্র সত্তায়, সেটা বোঝা যায় ভোরের হালকা আলোয় যখন রাতের গর্ভে জন্ম নিতে শুরু করে আরও একটি দিন। তখনো লতার মতো জড়িয়ে থাকা দুটো শরীরের ভাঁজে ভাঁজে যা কিছু রয়ে গেছে অবশিষ্ট তারই নাম বোধ করি প্রেম।
[চলবে]

পূর্বে প্রকাশিত পর্বসমূহ : ১-৬

http://www.teerandaz.com/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%9F-5/