শাপলা সপর্যিতা > ধারাবাহিক উপন্যাস >> সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক [পর্ব ৯]

0
316

পর্ব ৯

 

জোতদারদের কর্তৃত্ব ধ্বংস করে প্রতিষ্ঠা করতে হবে কৃষকদের কর্তৃত্ব। চক্রবর্তী খানিকটা উদাস। মাধবীকে কি বলবে। ভেবে পায়না। পার্টি তাকে আজ রাতে সকলের সাথে থেকে যাবার নির্দেশ দেয়। চক্রবর্তীর চোখে ভেসে ওঠে মাধবীর অধর। কম্পিত ঠোঁট। তার কামনায় রাঙানো হাসির প্রভা আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয় চক্রবর্তী দুচোখ। নিজের মনেই সে বলে ওঠে – মাধবী, বিপ্লব সফল করেই তোমার কাছে ফিরে আসছি আমি।
আজ বাতাসও প্রবল। ঘরের পর্দা বাতাসের তাণ্ডবে উড়ছে তো উড়ছেই। তারই একচিলতে ফাঁক গলে মাধবীর দৃষ্টি চলে যায় বাইরে। চেয়ে থাকে চক্রবর্তীর দৌড়ে চলা পায়ের ছায়ার দিকে…বিস্মিত চোখে! এ তো তার চেনা চক্রবর্তী নয়! এ কে! কোথায় চলেছে এমন করে, তাকে এতটা অবহেলা করে! এ-ও সম্ভব! কিন্তু কেন? কে ডাকলো তাকে এমন করে? তাকে না বলেই বা কেন যেতে হলো? অনেকগুলো প্রশ্ন ঝড়ের সমুদ্রে উড়ে চলা শঙ্খচিলের মতো ঘিরে ধরে এক মুহূর্তে মাধবীকে। গতরাতের ট্রেনের কামরায় যাচিত কামের অমলিন স্পর্শ এখনো মন থেকে মুছে যায়নি। শরীরে এখনো তার নিকষ ঘ্রাণ আফিমের মতো নেশা ছড়াচ্ছে। পপির ঘ্রাণে তোলপাড় মাধবীর সারা শরীর। আকাশ তখনো ঢেকে আছে প্রমত্ত প্রেমের অবশ মায়ায়। হঠাৎ সমস্তটা আকাশ তার কী ভীষণ নীল নিয়ে এক বিষণ্ন বেদনায় আছড়ে পড়ে মাধবীর মনের ভেতর। এ কী বেদনা, নাকি শঙ্কা! মাধবী বুঝতে পারেনা। কেবল আকাশে উড়ন্ত শঙ্খচিলের কণ্ঠ বেয়ে নেমে আসা ঘূর্ণির ঝড় কানে এসে লাগে তার। একটানা। আকাশের কোণে কোণে তখনও ডেকে চলেছে চিলেরা … চি… চি… চি… ঘুরে দাঁড়ায় মাধবী, বলে :
– সুপ্রিয়দা? চক্রবর্তী কোথায় গেল বলতো?
সুপ্রিয় খানিকটা ইতস্তত করেন। কি বলবেন বুঝে পারছেন না। মাধবীর গভীর তীব্র দৃষ্টির কাছে মাতা নত করে কি বলবেন ভাবছেন। ততক্ষণে মাধবী আবার প্রশ্ন করে :
– তুমি জানো না? তোমাকে কিছু বলে যায়নি?
– হ্যাঁ, ওইতো কোথায় যেন একটা মিটিং আছে।
– কই, আমাকে তো কিছু বলেনি?
মাধবী কি বোঝে, সুপ্রিয়র কথায় সেটা বোঝা যায়না। কিন্তু সে আর কথা বাড়ায় না, ভেতরের ঘরের দিকে পা বাড়ায়।
– ও আচ্ছা।
দূরে দাঁড়িয়ে ছিল মংলু সাঁওতাল। তার সাথে সাথে মিটিংস্থলের দিকে রওনা হয় চক্রবর্তী।
– এই মংলু, তুমি তো কমরেডকে দেখেছ, না?
– কুন কমরেডের কথা বোলছেন ভাই?
– আরে কমরেড চারু মজুমদারের কথা, আর কার?
মংলু চক্রবর্তীর উত্তেজনা টের পায় খানিক। তাই বেশ রসিকতা করে :
– ভাই তুমি বেশ চিন্তিত আছ কি না? তোমার ঠোঁটৈর উপরটা ঘামে নেয়ে আছে তো। কমরেডকে দেখবেখন। তাই খুব উত্তেজিত আছ? হা হা হা…।
মংলুর কাছে ওর উত্তেজনার বিষয়টা ধরা পড়ে যায়। চক্রবর্তী পাশ কাটাতে চেষ্টা করে। কথা ঘোরায় :
– আচ্ছা, তোমরা এত বছর এই বাংলায় আছ। অথচ বাংলাটা এখনো ঠিক করে বলতে পারলেনা?
মংলু চক্রবর্তীর কথাটাকে যেন পাত্তাই দিল না। নিজের মনেই ফিরিস্তি দিতে লাগলো :
– হা হা । দেখেছি ভাই। ওনেক দেখেলিয়েছি। তুমি দেখলে ভাবতে পারবেনা ভাই জি, সে কি সুন্দর মানুস আছে।
– কি বল?
– আরে বলছি কি তার বাহারের কথা? ভেতর সুন্দর বাবু, ভেতর জানোতো?
– আচ্ছা।
– তার বুকের ভেতর বোমা আছে, বোমা।
চক্রবর্তী মংলুর ভালোবাসা টের পায়। ওর দিকে তাকাতেই আবার বলতে শুরু করে :
– কিন্তু একটতে তো চলবে না। আগুন ধরাতে হলে তো আরও অনেক লাগবেই। কেরোসিন ঢেলে দিয়ে তাতে দেশলাইর কাঠি ভি আগুন ধরিয়ে দিতে হোবে নায়?
– কি রে মংলু তোর আগুনের কী খবর বলতো?
– আগুন আছে ভি। কতকাল আর সইবেক?
কথার মাঝখানেই তাড়া দেয় মংলু :
– পাও চালাও ভাইয়া। ওই তো দেখো, ওই যে।
বলে সোজা হাতের আঙুলে বেশখানিক দূরের একটি বাড়ি দেখায়। ওখানেই বোধ করি মিটিং আজ।
ওরা যখন ক্যাডার মিটিংয়ে উপস্থিত হয় তখন এলাকার বহু কৃষক, কমরেড, পুরানো এবং নতুন নেতারাও উপস্থিত। চারু মজুমদার বসে রয়েছেন মাঝখানে। শুকনো ছিপছিপে চেহারার একজন দৃঢ়চেতা মানুষ যেন দাঁড়িয়ে রয়েছেন। খুব হালকা-পাতলা হবার কারণে তার উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিই দেখায়। বুদ্ধিদীপ্ত আয়ত বড় বড় চোখ তার, গভীর। ১৮ বছর বয়সে কলেজের পড়া শেষ করে রাজনীতিতে আসেন। গান্ধীবাদী কংগ্রেসী বাবা বীরেশ্বর মজুমদারের পথ অনুসরণ করেননি কোনোকালেই। বরাবর নিজেকে মার্কস লেনিনের ভাবধারাতে উজ্জীবিত রেখেছেন। তুখোর কংগ্রেসী বাবার সাথে প্রায়ই তার আলোচনা তর্কযুদ্ধ সবই চলতো। তবু তার বাবা ছিলেন তার প্রিয় বন্ধু। বীরেশ্বর মজুমদার ছেলের কাছে জানতে চেয়েছিলেন একদিন :
– রাজনীতিই যদি করবে, তবে কংগ্রেসের হয়ে নয় কেন? আমাকে বলতে পারো?
বাবাকে তার সোজাসাপ্টা উত্তর :
– সম্পদ কুক্ষিগত করে জনমানুষের সেবা করা যায়না।
বীরেশ্বর ছেলেকে জব্দ করার কোনো পথই খুঁজে না পেয়ে তীর্যক পথেই আগাতে চেয়েছিলেন :
– মার্কসবাদের বিদেশী ভাবধারা কি এ দেশের জনগণ গ্রহণ করবে?
উত্তরে চারু বলেছিলেন :
– ভাবধারা দেশী কি বিদেশী সে কথা নয়। রাজনীতি হবে জনগণের নীতি। জনগণের অধিকার আদায়ের নীতি। জনগণের সম্পদ দখলের রাজনীতি আমার নয়।
তারপর পুরোপুরি নেমে এসেছিলেন মাঠে। মাধব দত্তের হাত ধরে রাজনীতির দীক্ষা নিতে নিতে আর কৃষকদের সাথে মিলে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য নেমে এসেছিলেন রাজবংশীদের ঘরের কাছে। এইভাবে নিজেকে ডিক্লাসড্ করে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকের। কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন শ্রমক্লান্ত মানবিক সুবিধাবঞ্চিত, অধিকারবিহীন ভাগচাষীদের। চাষীদের রাজনীতি শেখাতেন তিনি। আধিয়ার আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হলেন। মাস ছয়েক জেলে বন্দী থাকবার পরও সরকার তাকে নজর বন্দী করে রাখলো। কিন্তু সমস্ত নজরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি বের হয়ে গেলেন একরাত্রিতে বিপন্ন কৃষকের কাছে যাবেন বলে। আত্মগোপনেই কাটছে মাসের পর মাস এই মানুষটির। আজ দেখে মনে হচ্ছে, এই ক্ষুদ্র দেহ আর অসুস্থ শরীরে কি ব্যাপক বিধ্বংসী এক মারণাস্ত্র যেন বয়ে বেড়াচ্ছেন আজও নিজেরই শরীরে। বেশ কয়েকবারই জেলে তাকে মারাত্মকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তারই ক্ষত ছড়িয়ে রয়েছে শরীরের এখানে-সেখানে। তার দুচোখ যেন এক-একটি গোলাবারুদ। বুকের ভেতের সাধারণ মানুষের মুক্তির মন্ত্র। চারু মজুমদারকে প্রথম দেখে চক্রবর্তীর তাই মনে হয়। বয়সের ভার এতটুকু মলিন করতে পারেনি তাকে। সুষম সমাজ গড়বার স্বপ্ন থেকে। কিন্তু কৃশকায় হয়ে গেছে শরীর, এটুকু বোঝা যায়। তিনি তখন ভুগছেন হৃদরোগে। হৃৎপিণ্ডের রক্তচাপ কখনো কখনো খুব কমে যায়। সেই সময় দেখা দেয় নানান জটিলতা। জেলে থাকা অবস্থায় নানা অত্যাচারের ক্ষত এখনো সারা শরীরে। আর সেই ব্যথা বেড়ে গেলে কখনো কখনো প্যাথিড্রিনও নিতে হয় ব্যথা কমাতে। চক্রবর্তী শুনেছিল, তিনি স্বল্পবাক। তিনি রবীন্দ্রসংগীত শুনতে পছন্দ করেন। একথা শুনে সেদিন খুব অবাক হয়েছিল। একজন জাত-বিপ্লবী, যিনি শত বছরের শোষণ থেকে কৃষকদের মুক্তির পথ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। মুক্তির পথে সশস্ত্র সংগ্রামের পথটাকে শতবছর ধরে ভারতে বাস করা এই মূর্খ অসহায় গরিব ভারতীয়, নেপালি কিংবা সাঁওতাল, ওঁরাও, মেচ, রাজবংশী কৃষকদের মধ্যেও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পেরেছেন। সেই নেতা মনোযোগ দিয়ে শোনেন রবীন্দ্রনাথের গান। সেটা নিশ্চয়ই রবীন্দ্রনাথের গানের বাণীর গভীরতার টানে! চারু মজুমদারের প্রতি চক্রবর্তীর শ্রদ্ধা সেদিন থেকে আরও বেড়ে গিয়েছিল। আজও নীরব সুনসান চারপাশ। তার ঘরে খুব মৃদু লয়ে তখনও বেজে চলেছে রবি ঠাকুরের গান। চক্রবর্তীর কানে ভেসে আসছে ঠাকুরের গানের সুদুরস্পর্শী আবছায়া বাণী। খুব শঙ্কিত মনে ভীরু পদক্ষেপে গিয়ে বসে কমরেডদের কাতারে। ততক্ষণে লোকে লোকারণ্য পুরো ঘরটি। ফিসফিসিয়ে এ ওর সাথে কথা বলছে। চারু মজুমদার উঠে দাঁড়ালেন। ইশারায় গান বন্ধ করতে বললেন বোধ করি কাউকে। এত এত লোক এখানে তবু অতটা সরগরম নয়। চারু মজুমদারের মুখে প্রথম শব্দ উচ্চারিত হলে শিহরিত হয়ে ওঠে চক্রবর্তী :
– প্রিয় কমরেড, আমরা বিচার করছি। আপনারাই বলুন, ভারতবর্ষে বিপ্লবের অবস্থা তৈরি হয়েছে কি হয়নি?
কমরেডগণ সমস্বরে বললেন :
– হয়েছে হয়েছে
– তবে, এবার কি করণীয় আমাদের? আপনারাই বলুন?
চারু মজুমদারের প্রশ্নের উত্তরে একজন কমরেড বললেন :
– কমরেড, জমির মালিকদের হামলার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে কৃষকেরা।
– হুম। সেটা হয়েছে ঠিক। হুম। কৃষিবিপ্লব এই মুহূর্তের কাজ, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু তার আগে চাই রাষ্ট্রশক্তির ধ্বংস সাধন।
– সকলেই সমস্বরে বলে ওঠে
– বিপ্লব, বিপ্লব…
কিছুটা সময় নিয়ে কমরেড চারু আবার বলতে শুরু করেন :
– মার্কসবাদ লেনিনবাদ মাও সে তুঙ চিন্তাধারা আমাদের কি শিখিয়েছে কমরেডগণ? আপনারাই বলুন।
একজন কমরেড চারু মজুমদারের অষ্টম সংশোধনী উল্লেখ করে বললেন :
– যদি কোনো এলাকার কৃষককে রাজনৈতিক চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ করা যায় তাহলে সেই এলাকায় রাষ্ট্রযন্ত্র ভাঙার কাজে সে এগিয়ে আসবে।
পায়চারী করতে থাকেন কমরেড চারু মজুমদার। তার চোখ ঠিকরে যেন আগুন ঝরছে। আর সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ছে এখানে সমাগত সকল কমরেড কৃষক শোষিত বঞ্চিত অবহেলিত মানুষগুলোর বুকের ঠিক মাঝখানে। আর প্রচণ্ড দহনে ক্ষতবিক্ষত করে চলেছে তাদের পাঁজর। আর এমনি অনুভবের মাঝখানে তার বর্জ্রের মতো উচ্চারণ :
– সমগ্র ভারতবর্ষ আজ ডিনামাইটে পরিণত হয়েছে। কৃষকরা চুপচাপ রয়েছে। তার মানে এই নয় যে তারা জলের মতো ঠাণ্ডা। তাদের বুকের ভেতর হাজার বছরের জ্বলন। ওটা জল নয়। কেরোসিন কমরেডগণ। ওটা কেরোসিন, তা আপনারা জানেন। তাহলে এখন আমাদের কি কাজ?
একজন কমরেড বলে ওঠেন :
– আমরা তো বন্দুক দখলের আওয়াজ দিয়েছি।
চারু প্রশ্ন করেন :
– আওয়াজ দিয়েছি, দখলের দিকে এগুচ্ছি কি?
সকলেই নীরব। কয়েক মুহূর্ত। নিজেদের মধ্যে কানাঘুষা চলতে থাকে। চারু মজুমদার আবার বলতে শুরু করেন :
– এইভাবে আওয়াজ দিয়ে বসে থাকলে প্রতিক্রিয়াশীলরা আমাদের ছেড়ে দেবে কি?
সমস্বরে কৃষক চা বাগান শ্রমিক কমরেড সকলেই চেঁচিয়ে ওঠে :
– বিপ্লব। বিপ্লব। সশস্ত্র বিপ্লব…
– হুম।
কমরেডের ভাষণের পর শুরু হয় পরবর্তী কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা। ঠিক করা হয় প্রথমে জোতদারদের জমি ও বন্দুক দখল করতে হবে। কৃষক ক্যাডাররা সংগঠিত হয়ে গোলায় আগুন দেবে। সেখানে একটা দলের সাথে কাজ করবে চক্রবর্তী। জোতদারদের কর্তৃত্ব ধ্বংস করে প্রতিষ্ঠা করতে হবে কৃষকদের কর্তৃত্ব। চক্রবর্তী খানিকটা উদাস। মাধবীকে কি বলবে। ভেবে পায়না। পার্টি তাকে আজ রাতে সকলের সাথে থেকে যাবার নির্দেশ দেয়।
চক্রবর্তীর চোখে ভেসে ওঠে মাধবীর অধর। কম্পিত ঠোঁট। তার কামনায় রাঙানো হাসির প্রভা আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয় চক্রবর্তী দুচোখ। নিজের মনেই সে বলে ওঠে :
– মাধবী, বিপ্লব সফল করেই তোমার কাছে ফিরে আসছি আমি।
[চলবে]

পূর্ববর্তী পর্ব ৮

http://www.teerandaz.com/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF/?fbclid=IwAR0DzPFtuRF4Dv42NOpIBPpuqVkIIcSpbikGwKTzrXf2w2j_UgksJTSjCAM