শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ১৭]

0
479

পর্ব ১৭

এত বিভ্রান্তি এ পথ চলায়। ঘোর বিপদ পদে পদে যাপিত এই বিপ্লবী জীবনে। ভীষণ দ্বিধা এখানে মানুষে, বিশ্বাসে। মারাত্মক বিভ্রম এর পথে পথে বরফে জঙ্গলে আর পাহাড়ে। এ যেন অপার এক বিস্ময় চক্রবর্তীর জীবনে। লোকগুলো সাধারণ মানুষ। তবু মানুষে ভয়। অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। হতে পারে এরা ছদ্মবেশী গেরিলা। হতে পারে ছদ্মবেশী কোনো গুপ্তচর। এই মুহূর্তে ঠিক কোন জায়গাটিতে আছে তারা, ঠাহর করা যাচ্ছেনা। মিরিক শেষ করে তিব্বতের কাছে কোথাও কি? ওদিকে তিব্বত দখল করে আছে চীন। পৃথিবীর সুউচ্চ ওই শিখরে এখনো ভীষণ অস্থিরতা। যখন তখন তিব্বতি জওয়ানরা সুবিধামতো বাগে পেলেই হামলা করছে চীনাদের উপর। চলছে গেরিলাদের প্রহরা। আমেরিকা মদদ দিচ্ছে তিব্বতকে। তিব্বতের অষ্টম দালাই লামা দেশান্তরিত হয়ে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। কোনো ধরনের ধর্ম প্রচারণার কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এই শর্তে তাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। এমনই ভয়ঙ্কর উত্তেজনাপূর্ণ তিব্বত সীমান্ত দিয়েই হাঁটাপথে ঢুকতে হবে চীনে। যে কাউকে সন্দেহ করবে তিব্বতি গেরিলারা। চীনারাও সদা সতর্ক। দুদিক থেকেই তাদেরকে ছদ্মবেশী যোদ্ধা কিংবা গুপ্তচর ভাববার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। চীনারা ভাবছে ছদ্মবেশে কখন কোন তিব্বতি কিংবা তিব্বতের দালাল ঢুকে পড়ে চীনে। অন্যদিকে তিব্বতিরাও ভাবছে কোন সুযোগে চীনের গুপ্তচর ঢুকে পড়ে তিব্বতে। ঠিক এরকম একটা অবস্থায় শর্মা আর চক্রবর্তী চারু মজুমদারের দলিল নিয়ে চলেছেন চীনের লালফৌজের কাছে পৌঁছে দিতে। যে কোনো মূল্যে ওগুলো পৌঁছাতে হবে মাও সে তুঙের কাছে। দলিলগুলো নিয়ে তাঁর মতামত খুব দরকার। কমরেডের নির্দেশ। দুটো লোক দাঁড়িয়ে আছে শর্মা আর চক্রবর্তীর সামনে। হাতে বিশাল দুটো রাম দা। যেন কোনো শত্রুপক্ষ। বাগে পেয়েছে, এখনি দেবে কোপ। না। তা আর হয়নি। এই সাধারণ মানুষগুলো কেন জানিনা কৃষ্ণভক্ত শর্মা আর চক্রবর্তীকে খুব আদর করেছিল। জঙ্গলের গাছ লতাপাতা দিয়ে ওষুধ মালিশ করে দিয়েছে ফোলা পায়ে। ওদের কাছ থেকে পুরোনো কিছু কাপড় চেয়ে গায়ের কাপড়গুলোও পাল্টে নিয়েছেন দুজনেই। কারণ এই পোশাকগুলো সিপাহীদের চেনা। এই পোশাকে বেশি দূর যাওয়া যাবেনা। চিনে ফেলতে পারে পথিমধ্যে কেউ না কেউ। তখন নিথর রাত। ঘুমিয়ে আছে বাড়ির সকলেই। এমনি সময়ে হঠাৎ ঘুম ভেঙে জেগে উঠলেন শর্মা।
– কমরেড? কমরেড? উঠে পড়ুন।
ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসে চক্রবর্তী। চোখ রগ্‌ড়ে চারপাশে তাকিয়ে দেখতে পায় নিশুতি রাত। কিছু বুঝে উঠবার আগেই শর্মা বলেন :
– উঠুন কমরেড। পালাতে হবে। এখনই সময়।
– কোন দিকে কমরেড?
– চলুন তো আগে।
বাইরে বের হয়ে দেখা যায় দূরে নাম না জানা কোনো এক পাহাড়ের চূড়া। প্রশ্নচোখে তাকায় চক্রবর্তী শর্মার দিকে। অন্ধকারে ঠিক মতো দেখা যায় না কিছুই। চক্রবর্তীর চোখের দৃষ্টিতে প্রশ্ন, শর্মা দেখতে পেলেন না। তার দৃষ্টি কেবল ওই পাহাড়ের নিভু নিভু আলোর প্রদীপগুলোর দিকে। আপাতত ওটাই তার পথের দিশা।
– কমরেড। ওই যে দু-একটা আলো জ্বলছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেগুলোও নিভে যাবে। চলুন আগে বাড়ুন।
– চলুন তবে কমরেড।
সারাটি রাত পথ চললেন দুজনে। অবশেষে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে একবার পেছনে তাকালেন শর্মা। তার দৃষ্টি অনুসরণ করে চক্রবর্তী। সেই দৃষ্টিতে গ্রামটির মানুষগুলোর জন্য এক অপার্থিব মায়া ঝরে পড়ছে শর্মার। যেন তা বয়ে চলেছে এক অনন্ত নদীর মতো। ভীষণ গভীর তার অনুভব। বিষণ্ন তার স্রোত। অথচ তীব্র সে স্রোতের গতি। চক্রবর্তী অবাক চোখে চেয়ে রয়। মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধের কী এক অদ্ভুত নির্বাক প্রকাশ দেখা যায় সে দৃষ্টির অবগুণ্ঠনে। চক্রবর্তীরও চোখ ঝাঁপসা হয়ে আসে। একটি মাস ধরে নেপালে কাটানো ঠান্ডা শীতল আর যন্ত্রণাদগ্ধ দিনরাতগুলোর তুলনায় অনেক সুন্দর ছিল গতরাতের ওম্। এসব ভাবতে ভাবতে চোখে জল আসে চক্রবর্তীর। সেটা দৃষ্টি এড়ায় না শর্মার।
– কমরেড। চোখের জল বিপ্লবীর শোভা পায় না।
খুব লজ্জা পেয়ে চক্রবর্তী চোখ সরিয়ে নেয় দ্রুত। হাতের উল্টো পিঠে মুছে নেয় জল। ওই মানুষগুলোর মায়া আর মমতার পাশে পাশে মনে পড়ে মাধবীর মুখ। মাধবী তাকে এ অবস্থায় দেখলে না জানি কতটা যত্ন করতো। শাড়ির আঁচলে মুছে দিত তার পরিশ্রান্ত মুখ। গরম জলে ধুয়ে দিত পথশ্রান্ত ফুলে ওঠা পা। আর কত না যতনে পিঠের রক্তাক্ত যন্ত্রণায় মেখে দিত কোনো না কোনো ওষুধ। সারাটি গায়ের ক্ষত-বিক্ষত যন্ত্রণায় ব্যথিত মাধবীর নীরব কান্নার জল টুপটাপ ঝরে পড়তো তার পিঠে। আর তাতেই সেরে উঠতো নিমিষেই চক্রবর্তীর সমস্ত যাতনা। হয়তো নিমেষেই উঠে পড়তো। জড়িয়ে ধরতো একহাতে মাধবীর সরু কোমর। ঠোঁটের ভেতর হারিয়ে যেত দুজনার ঠোঁট। এক নিমেষেই অন্তর্হিত হতো যাবতীয় যন্ত্রণার ক্লেদ। হৃদয়ে হৃদয়ে বেজে উঠতো তীব্রতর কোনো প্রিয় সঙ্গীত। হয়তো তারও বেশি কিছু।
আচ্ছা মাধবী কি সেরকমই আছে? তার জন্য সেই গভীর ভালোবাসা নিয়ে পথ চেয়ে বসে আছে তো?
চিন্তার জাল ছিন্ন হয় শর্মার ডাকে।
– ভোর হতে চলল কমরেড। ওই দূরে তাকিয়ে দেখুন।
শর্মার আঙুলের ইশারা অনুসরণ করে চক্রবর্তী দেখতে পায় দূরে বয়ে চলেছে এক অজানা নদী। কী তার নাম, জানা নেই। কী তার গতি, বোঝা যায় না, অতটা দূর থেকে। শর্মা ডাকেন চক্রবর্তীকে আবার।
– কমরেড। ওরা আমাদের মারতো। আর মনে পড়ে আপনার? একটা পাহাড়ের কথা বলতো? কী যেন নাম বলতো!
– হ্যাঁ, হ্যাঁ, কমরেড। ওখানে ভেড়ারা চড়ে বেড়ায়। একটা নদী পার হবার পর আর একটা পাহাড়। হ্যাঁ, মনে পড়ছে। এটা কোন পাহাড় তবে কমরেড? এটাই কি সেই? তবে কি মিরিকের শেষ সীমানায় কিংবা তিব্বতী সীমান্তের কাছাকাছি আমরা পৌঁছে গেছি?
– আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। চলুন নদীর তীর ধরে হাঁটতে শুরু করি। কিন্তু এখন নদীতে প্রবল স্রোত আর পানিও বেড়ে চলেছে।
নদীর কিনার ধরে হেঁটে চলেছেন দুজন নিরুদিষ্ট পথের অভিমুখে চলা মানুষ। ঝড় জল বন্যা তুষার কিছু কি তাদের রুখতে পারবে? মনে হয়না। এই তীব্র তুষারপাতের মাঝ দিয়ে দুজন মানুষ হেঁটে চলেছেন নদী ধরে। কতক্ষণ! ঘণ্টা সাত-আট তো হবেই। সূর্য মাথার উপর থেকে নামতে শুরু করেছে। ঠান্ডায় জমে বরফ হবার যোগাড় হয়েছে এই বেলাতে। দুপুর দুটোর মতো বাজে। বেশিক্ষণ বরফের মধ্যে এভাবে হাঁটলে আর বেঁচে থাকার উপায় নেই।
– কমরেড। চলুন একটা গুহার খোঁজ করি।
– কমরেড, রাত হয়ে যাবে ঘণ্টা দু-তিন পর।
– হুম, রাতটা গুহাতেই কাটাতে হবে। এ জন্যই একটা গুহার খোঁজ করা দরকার।
– কি বলছেন? রাতে ভালুক আসে যদি। শ্বেতভালুক?
– হা হা হা।
চক্রবর্তী কথাটা বলেই টের পায় বোকার মতো হয়েছে খানিকটা। আকাশ ফাটিয়ে যেন হাসছেন শর্মা।
– কি বলছেন আপনি কমরেড? মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে হাঁটছি আমরা। আর ভালুকের ভয়! কিন্তু বেঁচে থাকবার চেষ্টা তো করতে হবে।
কথা আর বাড়েনা দু’জনের। গুহার খোঁজ করতে করতে হিমে জমে আসে আঙুলের ডগা। চোখের পাতায় বরফ পড়ে জমতে শুরু করেছে। মাথায় পড়ে পড়ে জমে থাকা সাদা তুষার হিম ছড়াতে শুরু করেছে রক্তনালির ভেতরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্তব্ধ হয়ে পড়তে পারে তার চলন। সন্ধ্যে লাগো লাগো। প্রখর রৌদ্রজ্জ্বল প্রকৃতির চেয়ে এই ভীষণ হিম বরফে সন্ধ্যা নামার অনেক আগেই অন্ধকার হয়ে আসছে সব। ভয়ঙ্কর এক অনিশ্চিত রাত নেমে আসছে পথিমধ্যে। পথচারীরা চলা-ফেরার পথে রাত্রি যাপনের জন্য মাঝে মধ্যেই এমন গুহার খোঁজ করে। সেখানে তাদের ফেলে যাওয়া বাসন-কোসন, আগুন জ্বালাবার দিয়াশলাই, কিছু খাবারও পাওয়া যেতে পারে খোঁজ করলে।
অবশেষে পাওয়াও যায় একটি গুহা। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে ফেলে যাওয়া অবশিষ্ট কিছু জিনিসপত্র। আগুন জ্বালাবার কয়লা। একটা আধপোড়া মশাল। মশাল জ্বালাবার কি যেন কি একটা তেল একটা টিনের বাটিতে রাখা। ওটাই মশালে ঢেলে আগুন জ্বালায় চক্রবর্তী। কোনো মতে হাত ঘসে কিছুটা তো উষ্ণতার ব্যবস্থা করা গেল আপাতত। দূরে পাহাড়ের যে চূড়াটা দেখা যাচ্ছে সেটা বরফে পুরোপুরি ঢেকে গেছে। কাছে পড়ে থাকা কাঠ কয়লায় আগুন জ্বেলে শর্মা কেবল শরীরটা এলিয়ে দিয়েছেন পড়ে থাকা কিছু ঘাসের বিছানায়। চোখ আটকে যায় তখন চক্রবতীর দূরে।
– কমরেড দেখুন ওদিকে তাকিয়ে।
শর্মা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিবন্ধ করেন সেদিকে। তারপর খুব গম্ভীর কণ্ঠে বলে ওঠেন :
– হুম। বরফের পাহাড় থেকে তুষার ভালুক নেমে আসছে একটা। যদি এদিকেই আসে…।
কথা শেষ হয়না কৃষ্ণভক্ত শর্মার।
– কমরেড। দেখুন দেখুন। আরও একটা ভালুক আসছে। এ-কী, দূরে তো বোধকরি আরও একটা ভালুক আছে।
– হুম মোট তিনটে কমরেড।
সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন দুজন। কাছাকাছি আসতেই বোঝা যায় এরা ভালুক নয়। তীব্র শীতে ফারের কাপড় পরা তিনজন গেরিলা। দূর থেকে পোশাক আর তুষারপাতের কারণে ভালুকের মতো দেখাচ্ছিল। প্রমাদ গুণতে থাকে চক্রবর্তী। ওরাই খাম্পা গেরিলা নয়তো! ওরা কিছু বুঝে উঠবার আগেই তিনজন গেরিলা ঢুকে পড়ে গুহার ভেতর। বোঝা যায়, যাতায়াতের পথের মধ্যে ওরা এখানে এসে প্রায়ই হয়তো আশ্রয় নেয়। তাদের সাথে অনেক জিনিষপত্রের বোচকা। সেগুলো মাটিতে রেখে দেয়। শর্মা ওদের ভাবগতিক বুঝে দলিলের ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিয়েছেন উঠতে যাবেন করে, অমনি একজন গেরিলা তার চুলের মুঠি ধরে একটানে ছুঁড়ে মারে একেবারে গুহার বাইরে। কী প্রচণ্ড শক্তিরে বাবা। একেবারে একটা বড় পাথরের সাথে ধাক্কা খেয়ে আটকে যান শর্মা। বাঁ হাতের কনুইটা বুঝি ভেঙেই গেছে। ধাতস্থ হয়ে উঠে বসতে না বসতেই তার গায়ের ওপর এসে আছড়ে পড়ে যায় চক্রবর্তীও। ওদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে গেরিলারা ঘাসের যে বিছানাটায় শর্মা শুয়েছিলেন, সেটাতেই আয়েশ করে শুয়ে পড়ে। ওদের দিকে আর ফিরে তাকায় না ডাকাতগুলো। নিজেদের ভাষায় যা বলাবলি করছিল তার কিছুটা আন্দাজ করতে পারলেও ওরা যে হিন্দি কিংবা বাংলাভাষাভাষী নয়, এটা স্পষ্ট বোঝা যায়। ওরা নীরবে শুয়ে পড়লে আবার গরম হয়ে ওঠা গুহার কাছে ঘেঁষে আসেন শর্মা। সাথে চক্রবর্তীও। কাঠকয়লার ধিকিধিকি আগুনে আরও গরম হয়ে ওঠে গুহার ভেতরটা। আরামে ঘুমিয়ে পড়েছে ডাকাতগুলো। ঠিক করেন ওই আগুনের দিকে তাকিয়ে এখানে বসেই পার করে দেবেন সারাটা রাত। কারণ এই হিম ঠান্ডায় বের হলেও একই কথা। মৃত্যু। তীব্র তুষারে জমে বরফ হয়ে মরণের পথেই এগিয়ে যাওয়া। তাই শর্মা ঠেস দিয়ে বসেন। ভাবটা যেন এমন, ওই গুহার গরম ওম্ তার গায়েও এসে লাগছে। আর তাতেই হিমে জমতে থাকা তার রক্তনালিগুলো আবার সচল হয়ে উঠছে। পরিশ্রমে ক্লান্ত চোখে দুজনেরই ঘুম নেমে আসতে থাকে। চক্রবর্তী জানতে চায় :
– এরা কি আমাদের বাঁচতে দেবে?
– এটাই দেখবার জন্য ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করছি কমরেড।
চক্রবতী কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে থাকে। নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য এভাবে অপেক্ষা করতে তার ইচ্ছে করে না। এর চেয়ে বাঁচার জন্য লড়াই করতে করতে মরাও ভালো। এই হালকা চাঁদের আলোয় সে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে কৃষ্ণভক্ত শর্মার মুখের দিকে। ততক্ষণে নিশ্চিত মৃত্যুর আগে যেন পরম শান্তিতে পার্থিব ঘুম তিনি ঘুমিয়ে নিচ্ছেন অশ্রুকবলিত এই গুহার বাইরে একধারে। এ যেন শত্রুর কাছে পরমতর সমর্পণ। অদ্ভুত লাগে তার। মন সায় দিতে চায়না। যে লোকটি নিজের জীবন তুচ্ছ করে দলিল পৌঁছানোর কঠিন দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি অত সহজে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করবেন বিনা যুদ্ধে, তা কি করে সম্ভব! কত হবে বয়স লোকটির। তিরিশ, বড়জোর বত্রিশ। অথচ কি কঠিন তার শপথ। কী অক্লেশে চলেছেন রুদ্র ভয়ঙ্কর পথে। চক্রবর্তীর চোখে ঘুম নেই। রাতের শেষ প্রহর। দূরে মরু ভালুকেরই ডাক শোনা যায় বোধকরি। আকাশের কোণে হালকা আলোর রোশনাই দেখা দিয়েছে একচিলতে। দিনের আভাসে দূরে বরফের চাঁইগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শর্মা ঘুমে নিবিষ্ট। সত্যিই গুহার গায়ে ঠেস দিয়ে বেশ ওম্ অনুভব করেছে সারাটা রাত। এবার তো উঠে পড়া দরকার। গুণ্ডাগুলো জেগে ওঠার আগেই কি বের হয়ে পড়া দরকার না? কিন্তু শর্মাতো কিছু বলেননি এ-বিষয়ে গতরাতে। জাগানোটা ঠিক হবে তাকে? এসব ভাবছে যখন তখনই সামনে এসে দাঁড়ায় দুজন খাম্পা। বন্দুক তাক করে দাঁড়ায় একজন।
– এদের মেরে ফেল।
ভাষায় স্পষ্ট বোঝা যায় না। কিন্তু ওদের ভাবেসাবে এমনই মনে হয়। শর্মা তখনও নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন। তাই দেখে রাগে জ্বলে যায় অন্য গেরিলা। খুব কষে একটা লাথি লাগায় কৃষ্ণভক্ত শর্মার কোমর বরাবর। হন্তদন্ত হয়ে চোখ খুলে তাকান শর্মা।
– চল। ওঠ।
[চলবে]
পর্ব ১৬-এর লিংক

http://www.teerandaz.com/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%9F-11/