শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ২৫]

0
316

পর্ব ২৫

-মাধবী মাথা ঠাণ্ডা কর।
-আমার মাথা খুব ঠাণ্ডা আছে।
-তাহলে এসব কি বলছ?
-আমি আমার শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশে ফিরে যাব।
-তুমি জানো আমি সব ফেলে এসেছি।
-তাতে কী হয়েছে। আবার নতুন করে ফিরে পাবে সব
-ফিরে যে পাবেই তার কী নিশ্চয়তা!
-আমি জানি।
মাধবীর কণ্ঠে কেমন এক আত্মবিশ্বাসের সুর। তবু চক্রবর্তী ভাবতে পারে না এ অসম্ভবকে।
-এ সম্ভব নয়। মা জীবিত নেই। বাবা ছোটভাই কীভাবে নেবে তোমাকে আমাকে এত বছর পর। কে বলতে পারে।
বিষণ্ন হয়ে ওঠে চক্রবর্তীর মন। নিজেকে এতটা অসহায় লাগছে। মাধবীকে কী করে বোঝাবে সে। মাধবী এতটা অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে কী সত্যিই তার জীবন-সংকটের কথা চিন্তা করে? না কী অন্য কিছু আছে। সন্তান হারানোর ব্যথা আর শংকা এক করে তাকে বিস্রস্ত করে তুলেছে হয়তো। প্রথম সন্তান হারানোর দায়ে নিজেকেই কেন যেন বার বার অভিযুক্ত করে চক্রবর্তী। মাধবীও কী মনে মনে তাই ভাবে! ভাবলেই আর বেচারির দোষ কোথায়! হয়তো সে দুঃখ পাবে বলে কখনো প্রকাশ করেনি কথায়। কিন্তু বুকের গভীরে তার চাপা কষ্ট কী চক্রবর্তী বুঝতে পারবে না! কিন্তু কী করবে এবার তবে! মাধবীর রূপ পাল্টে যায়। কিছুক্ষণ আগের ধারালো বিশেষজ্ঞ রাজনীতিকের মতো কথা বলা মেয়েটা এক অদ্ভুত কোমলতায় ভরে তোলে ঘরের চার দেয়াল। ঝুম বৃষ্টি বাইরে। অঝোরে বর্ষা তখন। কিছুক্ষণ জানালায় একা দাঁড়িয়ে থাকে মাধবী। বাইরে দূরে নিঝুম পাহাড়। ঘোর বরষার আলো অন্ধকারে দারুণ সুন্দর তার রূপ। কতদিন যেন জলে ভেজা হয় না! রাত কত হবে! ঘড়ির দিকে তাকাতেও আজ আর ইচ্ছে হয় না। অন্য সময় হলে এই ঘোর বর্ষায় মাধবী ডেকে টেনে তুলতো চক্রবর্তীকে।
-চল চল বৃষ্টিতে ভিজি এসো…
এই করে করে ধরে নিয়ে যেত খোলা আকাশের নিচে। মেঘে জলে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে একাকার হতো। কিন্তু আজ আর সে ইচ্ছে করে না। অদ্ভুত এক চাপা অভিমান তার বুকে বসে রয়েছে। এ কী অভিমান না যন্ত্রণা! সন্তানের মৃত মুখটি কিছুতেই ভোলাতে পারে না তাকে আর কোনো সুখে। আগের সেই প্রেম সেই সঙ্গসুখ প্রিয়তরের জন্য অধীর অপেক্ষা কামনার আতিশয্যে উন্মার্গ প্রহর যাপন- কোথায় হারালো সব! তবু বাতাসের একটা ঝাপটা এসে লাগে চোখে মুখে তার। ভিজিয়ে দিয়ে যায় গভীর কালো চোখ আর দীঘল পাপড়ির ছায়া ঘন অন্ধকার। হাট করে দরজাটা খুলে দেয় হঠাৎ। সব অভিমান আজ ধুয়ে যাক জলে। মুছে যাক সব অন্ধকার কালো। আলো আসুক না হয় আজ এই মেঘে ভিজে ভিজে। রাত মধ্য। দূরে পাহাড়। কিছু কাছেই চা বাগানের ঘনছায়া, এই ঘোর বাদলেও অপরূপ। লম্বা ছায়াবৃক্ষগুলো কেমন যেন প্রীতিময়ী- ভয় নয় আশ্লেষে নির্বাক সুরে ডেকে চলেছে তাকে। ছন্দার বাড়ির উঠোনে তখন ধারা অঝোরে। নিজেকে পুরোটা ছেড়ে দিয়ে যেন উড়ে উড়ে ভিজে মেঘের রাতে এক আশ্চর্য বনপাখি এইক্ষণে মাধবী। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছে জলে সমর্পণ করে সকল আঁধার। কেউ নেই কিছু নেই তার চারপাশে ঠিক এমনি এক শূন্যতার ভেতর থেকে ক্রমান্বয়ে উঠে আসছে যেন তারই শব। মাধবী নয়। সে মাধবী নয়। সে অন্য কেউ। চারপাশে ঘোর আবছায়া। সেই গভীর আবছায়ার ভেতর থেকে কেউ যেন ডেকে ওঠে হঠাৎ।
-মা
বৃষ্টির শব্দে চক্রবর্তী ঘুরে ফিরে তাকায় জানালায়। কপাট খোলা। প্রচুর বৃষ্টির জল ঢুকেছে ঘরে। মাধবী নেই। ওদিকে দরজাও খোলা। চমকে উঠে পড়ে। দূরে দেখতে পায় উঠোনে একঠায় দাঁড়িয়ে ভিজে চলেছে মাধবী। ঘড়িতে রাত প্রায় একটার মতো বাজে দেখে লাফ দিয়ে বিছানা ছাড়ে। হঠাৎ দূর থেকে ডাকে না আজ আর তাকে। তাড়া দেয় না।
-এসো ভেতরে এসো। জ্বর আসবে। এত রাতে কেন ভিজছ?
এমন কোনো কথা নেই আজ। মনে মনে হয়তো ভাবছে ভিজুক। কেঁদে জলে জলে যদি ভুলে যায় সব। কিন্তু বেশিক্ষণ আর ওকে এভাবে একা থাকতে দেয়া চলে না। নিজেও নেমে আসে উঠোনে। সেই সরু কোমড়, অদ্ভুত দাঁড়ানোর ভঙ্গী, ধারালো মেদহীন পিঠের উপর থেকে খানিক সরে যাওয়া শাড়ির আঁচল চুঁইয়ে পড়া জল আগুন জ্বেলে দেয় কোথাও আজও, গোপনে। কিন্তু তার প্রকাশ ভিন্ন। মাঝে কিছু সময়ের দূরত্ব, একটি সন্তানের অপমৃত্যু কেমন যেন দ্বিধাগ্রস্ত, মায়াহীন এক শঙ্কায় ভরে তুলেছে সকল। তবু এভাবে মধ্যরাতে ভিজতে দেয়া চলে না। পেছন থেকে আলতো জড়িয়ে ধরে মাধবীকে। ভেতরে তোলপাড় অথচ অচঞ্চল আজ সময়ের গতি। কিন্তু তার সব ভাবনার জাল ছিন্ন করে জড়িয়ে থাকা দুহাতের ভেতর মাধবী কেঁপে ওঠে। ফিরে তাকায় চক্রবর্তীর দিকে জলভরা চোখে। নিবিড় আদরে চোখের জল যতই মুছে দেয় ততই ভিজে ওঠে বৃ্ষ্টি আর অভিমানে। তারপর সব অভিমান মুছে যায় একসময়। দুজনের ঠোঁটে ঠোঁটে, প্রগাঢ় চুম্বনে মৃত্যু ঘটেছে কী তীব্র অভিমানের! হঠাৎ ফিরে পাওয়া গেছে কী তবে সেই মাধবীকে! হ্যাঁ। এইতো সেই স্পন্দিত রক্ত চলাচল রক্তিম করে তুলেছে গাল। ছন্দিত শরীরে বিক্ষুব্ধ নদীর ঘনস্রোত। তীব্র কামনার দ্বিধাহীন প্রকাশ। আসঙ্গলিপ্সার দুরন্ত গ্রহণ…কোমল আঘাত প্রতি আঘাতে মর্মরিত পাতা বন বৃক্ষ জল।
দিন চলে দিনের গতিতে। সময় দুর্বার। চক্রবর্তীর মতো অসংখ্য যুবকের মাথায় মনে শরীরের প্রতিটি রক্তকণায় দাউ দাউ করে জ্বলছে তখন বিপ্লবের লাল আগুন। কপালে লাল ফিতেয় বাধা তারই উড্ডীন পতাকা। সমাজ বদলের স্বপ্ন তখন সারা ভারতের ছাত্রদের ঘুমোতে দেয় না দিনের পর দিন। ভোটের জন্য যুদ্ধ, ক্ষমতার জন্য যুদ্ধে যুদ্ধে ছাত্ররা হতাশ, বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছে এই ঘৃণ্য রাজনীতি আর রাজনীতিকদের প্রতি। এই দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতি। তাই ক্যারিয়ারের স্বপ্ন বলতে ছাত্রদের আর কিছু নেই। তার বদলে মনে জায়গা নিয়েছে সমাজবদলের স্বপ্ন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে চলছে বিপ্লবী আন্দোলনের দারুন জোয়ার। যুদ্ধবিরোধী মিছিলের স্লোগানে মুখরিত চারপাশ। কাঁপছে ইউরোপ আমেরিকারও পথঘাট। আর এরই ফলশ্রুতিতে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ম্যাকনামাকে ভারতের মাটিতে পা ফেলতে দেয়নি, ‘গো ব্যাক গো ব্যাক’ চিৎকারে বিতাড়িত করেছে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ছাত্ররা। ভিয়েতনামেও তখন চলছে মার্কিন সেনাদের ভয়ঙ্কর নৃশংস অত্যাচার। তার খবরও প্রচারিত হচ্ছে সংবাদপত্রে। ফলাফলে রাশিয়া নয় চীন হয়ে উঠেছে ছাত্রদের কাছে সমাজতন্ত্রের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। অন্যদিকে জনজোয়ার এল খাদ্য আন্দোলনে। খাদ্য আন্দোলনে তৈরি হয় পশ্চিমবঙ্গে জনজোয়ারের আরেক পটভূমি। কলেজস্ট্রিটে অবস্থিত প্রেসিডেন্সি কলেজের পাঁচজন ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয় এই আন্দোলনের কারণে। আর তারই ফলশ্রুতিতে কলেজস্ট্রিট হয়ে ওঠে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। যোগ হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, সায়েন্স কলেজের অর্থনীতি বিভাগ ও কফি হাউজ। দলের সাধারণ সভা বসতো বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রেসিডেন্সি কলেজের আনাচে কানাচে। কলেজস্ট্রিট হয়ে উঠেছিল জ্বলন্ত বারুদ। যখন তখন পুলিশের সাথে ছাত্রদের দাঙ্গা চলছেই। শুরুতে কলেজস্ট্রিটে যে দাবানল জ্বলে উঠেছিল, তাতেই ঘি ঢালে নকশালবাড়ি আন্দোলন। ১৯৬৯ সাল। ২২ এপ্রিল। লেলিনের একশতম জন্মদিন। ১লা মে, ময়দানে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই -এমএল) পার্টি গঠনের ঘোষণা আসে। পার্টির প্রথম সম্পাদক চারু মজুমদার। অন্যদিকে মে দিবসের ডাকে ময়দানে অন্য ট্রেড ইউনিয়নগুলোরও সমাবেশ ছিল। ওইদিন ময়দান জুড়ে চলে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ, পুলিশের লাঠিপেটানো, বোমা গুলির শব্দে আর বারুদের গন্ধে কলকাতা ছিল এক জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। কৃষক আন্দোলনের সাথে এল পার্টিতে খতম লাইন। শুরু হয়ে গেল গুপ্তহত্যা। সিপিআইএমএলের মুখপত্র ‘দেশব্রতী’ পত্রিকার দায়িত্ব নিলেন সুশীতল রায় চৌধুরী। চারু মজুমদারের সাথে কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক সরোজ দত্ত। ছাত্ররা কোনো কোনো অ্যাকশনে বাড়াবাড়ি করলে যখন পার্টির বড় বড় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করতেন, তখন সরোজ দত্ত বলতেন :
-রিভোলিউশনারী সিচুয়েশনে এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। ছাত্ররা বিক্ষোভ করতে করতে একটু বেশিই উত্তেজিত হয়ে পড়বে। তাতে আমাদের বিষোদ্গার করলে চলবে কেন। এতো তেজ। এতো আগুন। এ আগুনেই তো জ্বলে পুড়ে মরবে শাসক-শোষক।
অন্যরা প্রায়ই এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে বলতেন :
-কিন্তু তাই বলে এতো? পার্টির নির্দেশ ভেঙে মূর্তি ভাঙা?
মূর্তি ভাঙা হয়েছিল কিছু ছাত্রদের অত্যধিক উৎসাহে।
এই নিয়ে পার্টির ভেতর যখন দ্বিমত ত্রিমত চলতো তখন সরোজ দত্ত বলতেন :
-যারা যুবক তারা অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পায়। তাদের দৃ্ষ্টিভঙ্গী আমাদের অনেকের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ।
চারু মজুমদার এর সঙ্গে আরও যোগ করে বলতেন :
-সামিং আপ অফ এক্সপেরিয়েন্স হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। মাও সে তুঙের চিন্তাধারা দিয়ে দেখলে অনেক জিনিস স্বচ্ছ দেখা যায়।
‘দেশব্রতী’তে প্রকাশিত হলো চারু মজুমদারের লেখা ‘এগিয়ে চলুন’ প্রবন্ধটি। সাথে সাথে কলকাতায় পুলিশ তালা লাগালো দেশব্রতীর অফিসে। আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে শুরু হলো অপারেশন – গুপ্ত হত্যা। শ্রেণিশত্রু খতম, ‘সত্তরের দশককে মুক্তির দশকে পরিণত করুন’ এই ঘোষণা ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরলো শহর থেকে গ্রামে। জেলখানা উপচে পড়লো বন্দিতে। রক্তে রক্তে লাল হয়ে উঠলো পশ্চিম বাংলার রাজপথ আকাশ বাতাস। জেলে জেলে চলছে তখন নকশাল-পীড়ন, নেতারা আত্মগোপন করে আছেন। তাদের ধরে ধরে জেলে গুম হত্যা উৎপীড়ন করছে সরকার। ১৯৬৯ সাল – নভেম্বর ডিসেম্বরের হালকা শীতের আসি আসি আমেজ শহরে। আগুনে আগুনে শীতরাত্রেও যেন উত্তাপ ছড়ায় শহরে। মাধবী দ্বিতীয় বারের মতো সন্তান ধারণ করে।
ওদিকে বসন্ত রায় রোডের রহরায় নয়-বি নম্বর বাড়িটিতে প্রায়ই চারু মজুমদার আর সরোজ দত্ত আসেন, বেশ অনেক দিন, কখনো মাস দেড়েক করেও গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় একজন মার্কসবাদী লেখক। তিনি তখন সিপিআই এমএলের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তারই বাড়ি এটি। এখানেই প্রথম সেন্ট্রাল কমিটির মিটিং হয়। চারু মজুমদার সরোজ দত্ত ছিলেন হরিহর আত্মার মতো। তারা ছিলেন একজন আর একজনের পরিপূরক। চারু মজুমদারের শরীর ক্রমে অবনতির দিকে চলেছে। মাঝে মাঝে রক্তবমিও করছেন। আর সরোজ দত্ত ছিলেন অকুতোভয়। যেমন খুশি তেমন ঘোরাফেরা করতেন। দেবীপ্রসাদ চট্টপাধ্যায়ের বাড়িতে আসতেন যেতেন। দেবীপ্রসাদ চট্টপাধ্যায়ের স্ত্রী মঞ্জুষা চট্টপাধ্যায়কে মধ্যরাতে বসে ‘দেবী চৌধুরানী’ পড়ে শোনাতেন। আর বঙ্গিমচন্দ্র কীরকম ব্রিটিশভক্ত হয়ে পড়ছেন কোন জায়গাটায় এসে, কোন জায়গাটায় বোঝা যাচ্ছে বঙ্কিমচন্দ্র সিভিল সার্ভিসের লোক- এসব বুঝিয়ে দিতেন। চারু মজুমদারের চোখে খুব সহজে জল আসতো। কিন্তু সরোজ দত্ত কাঁদতে পারতেন না। আর তাতে দেখা যেত তার চোখ লাল হয়ে যেত। তিনি কাঁপতে থাকতেন আর বলতেন :
-দেখুন, এই বর্ণনাটি। বঙ্কিম কতটা বুঝতেন। কিন্তু সার্থের জায়গাটাতে সব জেনে বুঝে সারেন্ডার করতেন।
তারপর আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়তেন। এভাবেই আত্মগোপনের দিনগুলো চলছিল। বছর দুতিন ধরে দেবীপ্রসাদের বাড়িতেই আত্মগোপন করেছিলেন নেতারা। কারণ বাড়িটা নিরাপদ ছিল। একদিন চারু মজুমদার বাইরে বেরুলেন। বাড়িতে ছিলেন সরোজ দত্ত, মঞ্জুষা আর দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। রাত প্রায় সাড়ে বারোটা। খুব জোড়ে কলিং বেল বেজে উঠতেই সকলের সন্দেহ হলো। বুকের ভেতর হিম হয়ে এলো। সরোজ দত্ত যে ঘরে সেই ঘরের সিটকিনিটা বন্ধ করে এসে দেবীপ্রসাদ দরজা খুলে দিলেন। কোনো লাভ হলোনা। পুলিশ পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলেছে। ঘরে ঢুকে পড়লো তারা।
-ইনি কে?
-আমার স্ত্রীর মামা।
-এখানে কেন?
-তিনি এমনই। মাঝে মাঝে আসেন।
-মাঝে মাঝে আসেন?
বলে একজন পুলিশ ‘বাইরে আসুন’ ‘বাইরে আসুন’ করে সরোজ দত্তকে নিয়ে এলেন। জিজ্ঞেস করলেন :
-আপনার নাম?
সরোজ দত্ত বললেন :
-বীরেন রায়
পুলিশ সন্দেহভরা চোখে একবার তাকালো দেবীপ্রসাদের দিকে। আর একবার সরোজ দত্তের দিকে।
[চলবে]

পূর্ববর্তী পর্ব ২৪

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-19/