শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৩২]

0
393

পর্ব ৩২

দাদা ঠাকুরদার পৈত্রিক সম্পত্তিতে ভাগ বসাতে নতুন করে ভারত থেকে ফিরে এসেছিলেন তমালকৃ্ষ্ণ রাজ চক্রবর্তী। এটাই তার ছোট ভাই তরুণকৃষ্ণ ও তার একমাত্র ছেলে শৈলরাজের ধারণা। যদিও ফিরে যখন এসেছেন সম্পত্তির ভাগ তো তিনি পাবেনই, এও সত্য। কিন্তু তিনি আসলে ফিরে এসেছিলেন মাধবীর ইচ্ছে, আগ্রহ সর্বোপরি উপর্যুপরি চাপের কারণে। দ্বিতীয় সন্তানের ভবিষ্যত ভাবনায় উৎকণ্ঠিত মাধবীর চাপিয়ে দেয়া ক্রমাগত মনোদৈহিক আগ্রাসনকে তিনি মেনেও নিতে পারেননি। অস্বীকারও করতে পারেন নি। ফিরে এসেছিলেন দশমাসের শিশুপুত্র টুলটুলকে নিয়ে। কিন্তু এতকাল নিখোঁজ থাকবার পরও আবার কোনোদিন তারা ফিরে আসতে পারেন, সঙ্গে একজন ছেলে সন্তানের উত্তরাধিকার নিয়ে এটা তার ছোটভাই তরুণকৃষ্ণ রাজ চক্রবর্তী, ভাইয়ের বৌ আর ভাগ্নে আজও মেনে নিতে পারেনি। তাছাড়া দীর্ঘ যোগযোগহীনতার পর দেশে ফিরেই তার চোখে পড়েছে আপন ছোট ভাইয়ের নৈতিক স্খলন। নিজের ভাইয়ের দেশদ্রোহীতা দেখে তিনি ভেতরে ভেতরে রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত হয়েছিলেন, বিষণ্ন নির্বাক হয়েছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশেও গা ঢাকা দিয়ে রাতের অন্ধকারে ছোট ভাইয়ের বাড়িতে রাজকারদের আসা যাওয়া মেনে নিতে তার হৃদয় জীর্ণ হয়েছে। মনে পড়ে যায় সেদিনের ঘটনা। ১৯৭২ সাল। দেশ স্বাধীন করে ফিরে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধারা তখনও অস্ত্র সমর্পন করেনি। কোনো এক মধ্যরাত। হঠাৎ দরজায় ঠকঠক শব্দে তন্দ্রা ছুটে যায় তমালকৃষ্ণের।
-দরজা খুলুন। দরজা খুলুন।
দরজাটা প্রায় ভেঙেই ফেলবে মনে হচ্ছে। কিন্তু অত রাত্রিতে? কে? কারা?
-দরজা খুলুন। না হলে দরজা ভেঙে ফেলবো। বলছি দরজাটা খুলুন।
দরজাটা খুলেছে কি নিচের ঘরে? তমালকৃষ্ণ উন্মুখ। ঘরে বাতি জ্বালান না। সিঁড়ির কোঠায় গিয়ে উঁকি দিয়ে বুঝবার চেষ্টা করেন। নাহ, নিচের ঘরে কোনো সাড়াশব্দ তো শোনা যাচ্ছে না। তরুণ আছে কি ঘরে? ওর বৌ? ছোট বাচ্চাটি, শৈল? আবার নিজের দোতলার ঘরে ফিরে এসে বারান্দা ধরে নিচে তাকান। নিচে পাঁচ ছজন তরুণ যুবক। মুক্তিযোদ্ধাই হবে। হাতে অস্ত্রশস্ত্র আছে, বোঝা যাচ্ছে অন্ধকারেও। ততক্ষণে উঠে এসেছে মাধবীও। ঘুম ঢুলঢুলু চোখে মাধবী বুঝতে পারে না তেমন কিছু। কণ্ঠস্বর খানিকটা নিচে নামিয়ে প্রশ্ন করে :
-কী হয়েছে? কী হয়েছে বলতো?
বলতে বলতে তমালকৃষ্ণের ঘাড়ের পেছন থেকে নিচে উঁকি দিয়ে দেখতে পায় সশস্ত্র যুবকদের। ভয় পেয়ে যায় মাধবী। বাহির বাড়ির দরজাটা ধাক্কা দিয়ে ভেঙে ফেলার জোগাড়। কিন্তু নিচে কোনো সাড়াশব্দ নেই। যুবকদের মধ্য থেকে কেউ একজন গলা বাড়িয়ে বলে :
-দরজা খুলুন। আমরা খবর জেনেই এসেছি। রাজাকার তরুণকৃষ্ণ ভেতরেই আছেন।
তমালকৃষ্ণ বুঝতে পারছেন না এই মুহূর্তে আসলে কী করা দরকার। ভীষণ আহত। ভীষণ ক্ষুব্ধ। বিব্রত নিজের কাছে। মাধবীর কাছে। ‘রাজাকার তরুণকৃষ্ণ’ শব্দটি যেন বার বার ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরছে তার কানে। আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ঘৃণা। বুকের ভেতর রক্তের তরঙ্গবিক্ষুব্ধ উন্মার্গ স্রোত এক অধিসত্তায় নিয়ে চলে তমালকৃষ্ণকে। বুকের পাঁজর ভেঙে রক্ত ঝরে। নীরবে। গোপনে। কেউ জানে না।
-আ…হ্।
একটা আর্তনাদ বের হয়ে আসে নিজের অজান্তেই তমালকৃষ্ণের বুক চিরে। যদি রক্ত বদলে নেয়া যেত! যদি নতুন করে আবার জন্ম নেয়া যেত পৃথিবীতে! তবে তিনি বদলে ফেলতেন তার জীবন। সেই এক অবুঝ কৈশোর। মনে পড়ে সেই অবুঝ বিভোর দিনগুলোর কথা। ক্রমেই তাকে ভারাক্রান্ত করে তোলে একটি মারাত্মক ভুল। সব বদলে নেয়া গেলে এ জীবনে তিনি ভারতে যেতেন না মাধবীর পিছু পিছু। প্রথম সন্তানের হন্তারক হয়ে আবির্ভুত হতেন না তিনি তার স্ত্রীর কাছে। নিজের দেশে ফিরে এসে পরাজিতের মতো, অবোধ অক্ষমের মতো চুপটি করে গোপনে ভয়ে ভয়ে জীবন অতিবাহিত করতেন না নিজেরই বাপঠাকুর্দার সম্পত্তিতে সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকারী হয়েও। সারাটি জীবন সুষম সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন বুকে লালন করেও আজ নিজেরই দেশে বসে মেনে নিতেন না ছোট ভাই আর তার ছেলে বৌয়ের আগ্রাসন। এখন কী করবেন তিনি? চোখের সামনে ছোট ভাইয়ের জীবন সংশয় আর অন্যদিকে নিজের ব্যক্তিক আদর্শ আর দেশ। কোনটিকে তিনি এখন প্রাধান্য দেবেন? এ এক বিভ্রান্তিকর অবস্থা, মুহূর্তের মধ্যেই তাকে বিক্ষিপ্ত রক্তাক্ত করে চলেছে। কী করবেন। কী করা উচিৎ ঠিক এমন সময়ে। এ দ্বিধা এ দুরন্ত দুঃসহ বিভ্রাট তিনি এখন কী করে এড়াবেন। হায়, এক বীভৎস অলঙ্ঘনীয় দুর্বার সত্যি যেন গ্রাস করে নিতে চলেছে এই মুহূর্তে তমালকৃষ্ণ রাজ চক্রবর্তীকে। একদিকে নিজের আপন ছোট ভাই রাজাকার, অন্যদিকে দাঁড়ানো বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন দেশ। কী করবেন তিনি এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে। হঠাৎই তার বিপন্ন ভাবনার জালটা ছিন্ন হয়ে পড়।
-আয় এদিকে আয়।
বলে টানতে টানতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা তরুণকৃষ্ণকে বের করে আনে রাতের অন্ধকারে বাড়ির বাইরে। পেছনে তরুণের বৌ এটাসেটা বলতে বলতে কান্না করছে। স্বামীর হাত ছাড়তে চাইছে না। একজন মুক্তিযোদ্ধা বলছে :
-বৌদি আপনি ভেতরে চলুন। একে ছাড়ুন।
আর একজন বলে ওঠে :
-দুটোকেই খতম করে দে না।
চারপাশের বেশকিছু বাড়িতে টিমটিমে আলো জ্বলে ওঠে। বোঝা যায় গোপনে সজাগ হয়েছে কেউ কেউ। কিন্তু আলো জ্বালবার সাহস করেনি। কেঁপে ওঠে তমালকৃষ্ণের বুক। মাধবী নিথর। ঠাণ্ডা শীতল অনুভব। চুপ করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে নিচে তাকিয়ে। হঠাৎ মাধবীর মনে বলে ওঠে :
-শৈল? ও কোথায়?
বলেই এক দৌড়ে নিচে চলে যায়। একা ঘরে ঘুমন্ত শৈলকে দেখতে পেয়ে আর দেরী করে না। একটানে কোলে তুলে নিয়ে দোতলায় ঘুমন্ত টুলটুলের পাশে শুইয়ে দেয়। বের হয়ে এসে নিচে তাকায়। ততক্ষণে তরুণকৃষ্ণের দুই হাত বেঁধে লাইটপোস্টের নিচে দাঁড় করায় মুক্তিযোদ্ধারা। তমালকৃষ্ণ নিথর, পাথর। ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন। যেন এই মুহূর্তে তিনি এই পৃথিবীতে বিহার করেন না। কোনো এক দূর নক্ষত্রলোক থেকে তাকিয়ে দেখছেন নিজের আজন্মের লজ্জা, অক্ষমতা। এক ক্রোধান্ধ নির্বিকার অতিক্রান্ত সত্তার দহন দূর থেকে আলো দিয়ে চলেছে পৃথিবীকে। মাধবীর ধাক্কায় বাস্তবে ফেরেন :
-তুমি নিচে যাও।
বোকার মতো প্রশ্ন করেন :
-কোথায় যাব? গিয়ে কী করবো?
-যাবে না তো এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজের ভাইয়ের হত্যাদৃশ্য দেখবে?
-কী করবো আমি? কেন করবো?
মাধবী কোনো কথা শোনে না। তমালকৃষ্ণকে ঠেলে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় সিঁড়ি দিয়ে।
-দুটো ছোট বাচ্চা ঘরে না থাকলে আমি যেতাম তোমার সাথে। তুমি যাও ওদেরকে ফেরানোর চেষ্টাতো করো?
লাইটপোস্টের নিচে বাঁধা তরুণকৃষ্ণ রাজ চক্রবর্তী। সামনে বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা।
-ফায়ার কর। ফায়ার করছো না কেন এখনো। দেরী করছ কেন?
এই কথা শুনতে শুনছে অনতি দূরে ওই মুক্তিযোদ্ধা দেখতে পায় একজন খুব ভদ্রলোক গোছের লোক ধীর পায়ে হেঁটে আসছেন। তিনি তমালকৃষ্ণই হবেন সম্ভবত। তাদের কাছে খবর আছে উপরে বড় ভাই থাকেন। আর একজন মুক্তিযোদ্ধা তাড়া দেয় :
-তুমি ফায়ার করছো না কেন?
ততক্ষণে তমালকৃষ্ণ এসে গেছেন ওদের সামনে একেবারে।
বন্দুক নামিয়ে সোজা ‍দৃষ্টিতে তাকায় মুক্তিযোদ্ধা :
-কিছু বলবেন?
-হ্যাঁ, মানে ইয়ে…
-লজ্জায় নিজের মুখটা আর তুলে কথা বলতে পারছেন না তমালকৃষ্ণ।
-আসলে বলতে চাইছিলাম তোমরা যদি এই মুহূর্তে আমাকে হত্যা করতে।
-আপনাকে? কেন? আপনি ক’জন মা-বোনের ইজ্জত ছিনিয়ে নিতে পাকিস্তানি হানাদারদের সাহায্য করেছেন?
কথাটি শোনার সাথে সাথে তমালকৃষ্ণের মাথাটি নিচের দিকে নেমে এসে বুক ছুঁই ছুঁই করতে থাকে। কান দুটো যেন আর কোনো শব্দ না শোনে এই প্রার্থনা করেন তিনি মনে মনে। কিন্তু কিছুই করার নেই।
-আপনি কি জানেন এই এলাকার যত মুক্তিযোদ্ধা সকলের বাড়ি চিনিয়ে দিয়েছে আপনার এই ভাই? ও দেশের শত্রু। এদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।
পেছন থেকে এক মুক্তিযোদ্ধা অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে।
-অত কথা বলবার কী আছে?
বলতে বলতে তেড়ে এসে বেয়োনেটটা চার্জ করতে গিয়ে মিস করে। পেটের ভেতর ঢোকাতে গিয়ে টার্গেট মিস করে তরুণকৃষ্ণের ডান পায়ের মাসল ভেদ করে এফোর-ওফোর বের হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে দূরে কোথাও পুলিশের হুইসেল বেজে উঠতেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে মুক্তিযোদ্ধারা।
সে যাত্রায় এভাবেই বেঁচে গেছিল তরুণ। তিনি আর ভাইকে নিয়ে কোনো আয়োজনে জাননি। সেদিন পুলিশই নিয়ে গেছিল। তারপর হসপিটালে কয়েক মাস থাকবার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিল তরুণ। তিনি আর কোনো খোঁজ-খবর নিতে যাননি। নিজের ওপর দোষ চাপিয়েছেন নিজেই। আসলে ছোট ভাইটিকে মানুষ করার দায়িত্ব তো তার নিজেরও ছিল। বরং ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কারণে শোকে মা বিছানা নিয়েছেন। সেখান থেকেই বিদায় জানিয়েছেন পৃথিবীকে। বাবা বয়স্ক, ন্যুব্জ। জ্যেষ্ঠ সন্তান বিশ্বাসঘাতকতা করার পর তিনিও হয়তো দ্বিতীয় সন্তানের প্রতি হয়েছেন উদাসীন। নেই কোনো বড় বোনও। তাই তার চেয়ে বছর দুয়েকের ছোট ভাইটিকে সঠিক পথ দেখাবার ছিল না কেউ। ছোট ভাইয়ের এই নৈতিক স্খলনের দায় তমালকৃষ্ণ নিজেও এড়াতে পারেন না। তাই নির্বিকার সয়ে যাচ্ছিলেন ভাই ভাইয়ের বৌ আর ভাগ্নের শত অত্যাচার। মাধবীর ইচ্ছে ছিল না এমন। দেশে এসেই দারুণ এক দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হয়েছিলেন। ভারতে নকশাল নেতা সরোজ দত্ত তখন ধরা পড়ে খুন হয়েছেন। কমরেড চারু মজুমদার আত্মগোপন করে আছেন। হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে ইন্দিরা সরকার, চারু মজুমদারকে জীবিত অবস্থায় ধরার জন্য। চলছে জেলের ভেতরে নির্বিচারে নকশাল হত্যা। যেখানে-সেখানে গুম খুন হত্যা পাল্টা হত্যা। পথ দেখাবার নেই কেউ। যে সব তরুণ ছাত্র শহর ছেড়ে গ্রামে এসে জড়ো হয়েছিল, গ্রাম দিয়ে শহর ঘিরে ফেলার স্বপ্ন চোখে নিয়ে, আজ তারা মুক। দিগভ্রান্ত। স্বপ্নহীন। শ্রেণিশত্রু খতম করে রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্রযন্ত্র দখলের স্বপ্ন আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। চারু মজুমদারের পার্টি-লাইন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভেতরে ঘুনপোকারা মারাত্মকভাবে খেয়ে ছিঁবড়ে ফেলছে সমাজ বদলের স্বপ্ন। একশ্রেণির সুবিধাভোগী নকশালদের ছদ্মবেশে দখল করে চলেছে তখন জোতদারের জমি-জমা বাড়ি-ঘর ভিটে-মাটি। জ্বালিয়ে দিচ্ছে জমির দখলদারকে। ছিনিয়ে নিচ্ছে সম্পদ। লুণ্ঠন করছে তাদের স্ত্রী-কন্যার সম্ভ্রম। কারা নকশাল আর কারা নকশাল নয়, চেনাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। শহর ছেড়ে গ্রামে এসে জড়ো হওয়া ছাত্র-নকশাল পাতি নেতা কমরেডরা কাণ্ডারীবিহীন যোদ্ধা। বিমূঢ়। বিভ্রান্ত। যে যেখানে পারছে, সরে পড়ছে। নীতি হয়ে পড়েছে ভ্রষ্ট। নৈতিকতাও প্রশ্নের সম্মুখীন। তমাল কী করবে? মাধবীর সাথে অন্তর্ময় যোগাযোগ ক্ষীণ হয়ে এসেছে কবেই। প্রথম সন্তানটি মৃত প্রসব করার পর থেকেই মাধবীর মনোজগতে নিদারুণ দিকভ্রম। অনেকবারই তমাল নিজেকে এই প্রশ্নটা করেছেন :
-আচ্ছা এমন কী হয়না, কখনো হয়নি ইহজগতে? মানুষের সন্তান মারা যায়। মৃত সন্তান প্রসবও করে কোনো না কোনো কারণে। কিন্তু তার দায়ভার মাধবী এভাবে চাপাবে তমালকৃষ্ণের উপর!
চিরকালের অন্তর্বাক তমালকৃ্ষ্ণ নির্বাক এক যন্ত্রণায় দাহ্য। থেকে থেকে জ্বলে ওঠে আগুন বুকের গভীরে। এমনি অবস্থায় তিনি ফিরে এসেছিলেন সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে। অথচ তারই ছোট ভাইয়ের ছেলে এভাবে তার নিজের সন্তান টুলটুলের প্রাণবধের চেষ্টায় প্রবৃত্ত? টুলটুল তমাকৃষ্ণের পাশের চেয়ারটায় বসতে বসতে বলে :
-বাবা, এতটা সহ্য করা যায় না। কিছু একটা করতে হবে।
-কী করতে চাও বল?
মাধবীও উৎকণ্ঠিত।
-আমরা তো পুরোটাই মৃত্যুঝুঁকিতে আছি, এখন বোঝা যাচ্ছে। তুমি সম্পত্তি বণ্টনের ব্যবস্থা করো। তারপর আমরা আমাদের অংশ বিক্রি করে দিয়ে অন্য কোথাও চলে যাবো।
তমালকৃষ্ণের বুক চিরে একটা হাহাকার বের হয়ে আসে।
-আর কতবার মাধবী…? আর কত?
[চলবে]

পূর্ববর্তী পর্ব ৩১

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-25/