শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৩৩]

0
402

পর্ব ৩৩

তমালকৃষ্ণের স্বভাব চিরকাল অন্তর্গত। ক্ষোভ কিংবা বেদনার প্রকাশ তার আচরণে কোনোকালেই স্পষ্ট নয়। তবু কেন যে আজ, এতদিন ধরে চেপে রাখা যন্ত্রণার পোকাটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বার বার। বহুকাল হয়ে গেল বুকের গভীরে এক ঘুণপোকা আবাস করেছে। মাধবী জানতে পারেনি। কতগুলো অনিয়ন্ত্রিত অসাবধানী বাক্যের দূরত্বে আজ মাধবীর সাথে তার অবস্থান, যদিও একই ছাদের নিচে। ঘুণটিও তাই খুব সন্তর্পণে কেটে চলেছে তমালকৃষ্ণের আত্মার পরিশুদ্ধির বিস্তার। কেটে চলেছে নিভৃতে গোপনে। আদর্শ নীতি আর দেশপ্রেমের প্রিয় প্রতুল বোধগুলোকে বাঁচাতে তিনি প্রাণপণে চেষ্টা করে চলেছেন। কিন্তু তার নিস্তার মেলেনি। কেটেই চলেছে। কেটেই চলেছে। তিনি যেন সেই বিখ্যাত ট্র্যাজেডির নায়ক। যিনি বীর। ভয়হীন নির্ভীক এক যোদ্ধা। যিনি অসাধারণ রূপবান এক পুরুষ। যিনি প্রেমিকও বটে। যিনি স্বদেশের জন্য প্রাণ দিতে সদা প্রস্তুত, বীর তিনি। ত্যাগে পিছপা নন কখনো।। দায়িত্বে তিনি নিষ্ঠাবান আর বিচারে ন্যায়পরায়ণ। তিনি প্রিয়, তিনি প্রিয়তর। তবু আপোষ তবু স্খলন অনিবার্য করে তুলেছে তার পতন বার বার। নিয়তির কোন এক ছিদ্রপথে ঢুকে গেছে ঘুণপোকা। আর দিনে দিনে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছে পরাজয়। এ এক ভীষণ পরাজয়! অবলুপ্ত আলোয় আবছা মৃয়মান আজ তার স্বপ্নের উড্ডীন। ঘোর অন্ধকার। সেই কবে যেন এক কঠিন বরফযুগের অন্ধকার থেকে হাতে নিয়ে দীপশিখা উঠে আসছেন তিনি আলোর পৃথিবীর ঠিকানা জানাতে, ঝড়ের বাতাসের মধ্য দিয়ে। অথচ এক গভীর তমসাচ্ছন্নতায় আক্রান্ত প্রতি পল। শত আচ্ছাদনেও ফেরানো যাচ্ছে না সবেগ বাতাসের প্রবাহ। বাতি নেভাতে উদ্যত সে। ঠিকানা যোজন দূর। নিজেরই রক্ত, ছোট ভাই দেশের স্বাধীনতার শত্রু। ঘরে একমাত্র পুত্র টুলটুল অস্থির। বাবার আদর্শ কিংবা সুষম সমাজের স্বপ্ন তাকে আবিষ্ট করেনি কোনো কালেই। টুলটুলের ভেতরেও ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে এক বুর্জোয়া আত্মকেন্দ্রিক প্রবল অপরিশুদ্ধ ব্যক্তিমানস। এটা বুঝতে তার খুব একটা সময় লাগে নি। মাধবী বদলে গেছে অনেক। সারাদিন পূজা-অর্চনা নিয়েই পড়ে থাকে। ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পরিশুদ্ধ করে সকাল। বিকেলে ধুপধুনো আর আরতির ঘূর্ণিতে শাঁখের শব্দে ভারি করে তোলে বাতাস। বাপঠাকুর্দার ভিটেবাড়িতে স্ত্রী-পুত্রসহ আজ তার জীবন অস্তিত্বের সংকটে আকীর্ণ। কিন্তু একের পর এক স্থানান্তর, এও কী কোনো সমাধান হতে পারে! না। এবার তিনি আর সরবেন না তার সিদ্ধান্ত থেকে। এবার আর তিনি নড়বেন না প্রিয় স্বদেশভূমি থেকে। চিন্তার জালটা ছিন্ন হয়ে যায় মাধবী আর টুলটুলের কথায়…
-আর কত মানে?
মাধবীর গলার স্বর রুক্ষ :
-আমি সম্পত্তি বণ্টন করার অধিকার রাখি না। বাবা কিছুই বিলি-ব্যবস্থা করে দিয়ে যাননি। সম্পত্তি বিলি-ব্যবস্থা করতে হলে তরুণ আর শৈলর সাথে বোঝাপড়া করেই করতে হবে।
-বাবা, কি বলছ? ওই শৈল, যে আমাকে আজ হত্যা করার সাহস দেখালো। আগামীকাল সে আমাকে শেষ করে দিতেও পারে। তোমাকেও।
-আরে, এটাইতো বাপ-বেটাতে চাইছে। আমরা যেন এ ভিটা ছেড়ে চলে যাই। এই তো বুঝেছ টুলটুল। এবার তুমিই বলো তাহলে এখন কী করা দরকার।
-বাবা, তুমি ওদের না জানিয়ে পুরোটা বিক্রি করে দাও। ঠাকুর্দাতো সব দলিলপত্র তোমার কাছেই রেখে গেছেন?
তমালকৃষ্ণ একমুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। বিস্মিত কণ্ঠে প্রশ্ন করেন :
-কী বললে তুমি?
টুলটুল খুব স্বাভাবিক গলায় বলে :
-হ্যাঁ। আমি কি কিছু ভুল বললাম? আজ যদি আমায় খুন করে বসতো? কাল তোমায়? মাকেও? তাহলে কী হতো তোমার এই সম্পত্তি দিয়ে? আর ওই রাজাকার কাকার জন্য তার প্রাপ্য সম্পদ তুমি রক্ষা করছ?
মাধবী পছন্দ হয় না এসব কথাবার্তা। সে মাঝখানে ঢুকে বলে :
-চলো, আমরা ভারতে চলে যাই।
সাথে টুলটুল তাল মেলায় :
-হ্যাঁ। মা ঠিকই বলেছে। সব বিক্রি করে দিয়ে ভারতে চলে যাই। ওখানে বেশ শান্তিতে থাকা যাবে।
মাধবী আর টুলটুরের কথার উত্তরে তমালকৃষ্ণের কণ্ঠ খানিকটা তিরিক্ষি শোনায়।
-না। আর নয়। আমি বাংলাদেশ ছেড়ে আর কোথাও যাব না।
-যাবে না? এখানে আমাদের মৃত্যুর মুখে রেখে পড়ে থাকবে?
তমালকৃষ্ণ আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেন না :
-মাধবী, কী পেয়েছ বলতো? কেবল এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় পালিয়ে বেড়ানো কী সমাধান? তাছাড়া মৃত্যুর মুখে আমরা সকলেই রয়েছি আজ বোঝা গেল। আজ সময় মতো না গেলে টুলটুলকে নিয়ে ঘরে ফেরা যেত কী? তোমরা এত তাড়াতাড়ি ধৈর্য হারালে চলবে কি করে? আমাকে ভাবতে দাও। তাছাড়া বেশ রাত হলো। সকলেই ঘরে যাও।
একই বিছানায় শুয়ে আজ আর ঘুম আসেনা মাধবীর। এক অজানা শঙ্কায় উদ্ভ্রান্ত আজকের রাত। তমালকৃষ্ণও অস্থির। চোখে বার বার ভেসে উঠছে পেছনে হাত বাধা উস্কোখুস্কো চুল, ঠোঁটের একপাশে গড়িয়ে শুকনো হতে থাকা রক্তের ধারা, ল্যামপোস্টের নিচে দাঁড়ানো টুলটুল। তার বুকের উপর শৈলর ছুরিটা যেন আবার তমালচক্রবর্তীর চোখের সামনে আবার ঝিলিক দিয়ে ওঠে। শৈলর ধরে রাখা হাতে চকচকে ছুরিটা যেন এখনো বাতাসে এফোঁড়-ওফোঁড় করছে। টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে তার আত্মা স্বাধীন বাংলাদেশের সদ্য শুকানো শহীদের লাল রক্তের উপর। আহ, সোদা মাটির হৃদয় উথালপাথাল করা এ অদ্ভুত ঘ্রাণ। আর বাড়ির আনাচেকানাচে লেগে আছে বড় ছেলেকে হারিয়ে তার অসহায় বাবার গায়ের ঘ্রাণ। ওই বুঝি তার অভিমানী মা দূরে দাঁড়িয়ে হাসছেন। মাকে ফেলে মাধবীর পিছুপিছু চলে যাওয়া বড় সন্তানটির উপর তার আর কোনো অভিমান নেই। তিনি হাসছেন। ওইতো দূরে মায়ের আঁচল নড়ছে বাতাসে। আঁচলে লেগে আছে শ্রমক্লান্ত রাধুনির রান্নার তেল-মশলার দাগ, আর তারই এক কোণা তুলে তমালের চোখ মুছে দিতে দিতে বলছেন :
-ফিরেছিস নিজের ভিটায়? ভালো থাকিস বাপ আমার।
তারপর আঁধারের অবগুণ্ঠনে হারান মা। চোখের কিনার বেয়ে ঝরে পড়ে অশ্রু। আশ্বিনের শিশিরে স্নাত ফুলের ঘ্রাণ ভেসে আসে নিচের শিউলি গাছ থেকে।
-এ মাটি ছেড়ে, এ বাড়ি ছেড়ে আমি আর কোথাও যাবো না মা, কোনোদিন যাবনা।
বাইরে অন্ধকার রাত। টুলটুল নিজের ঘরে জানালার বাইরে দৃষ্টি মেলে দিয়ে উদাস। বাইরের বাতাস থেকে থেকে পূজোর ঘ্রাণ নিয়ে আসছে ঘরের ভেতর। হালকা কুয়াশা ফিনফিনে চাদর বিছিয়েছে রাতের গায়ে। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। চাঁদের গায়ে দীপার মুখ দেখা যায়। টুলটুলের বুক চিড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে। মেয়েটা কী চেয়েছিল স্পষ্ট করে বলেনি কোনোদিন। দীপাকে টুলটুল খুব ভালোবাসতো। চুরি করে বিয়ে করেছিল। কোর্টে রেজিস্ট্রি করে। ভাইয়ের বাড়িতে বৌদির অত্যাচার মাত্রাধিক্যে পৌঁছালে দীপার সহ্যের সীমা অতিক্রান্ত হয়। টুলটুল দীপার এ কষ্ট আর সইতে পারছিল না। তাই লুকিয়ে বিয়ে। মা কোনোমতে বাবাকে বুঝিয়ে সমাজসিদ্ধ করে ঘরে তুলবেন এমনি পরিকল্পনা মাফিক কাজ চলছিল। কিছুদিন ওদের বাড়িতে এসে থেকেও ছিল দীপা। হঠাৎ কী হলো। দুই বাড়িতেই সেদিন হলুদের আয়োজন। সন্ধ্যারাত। বরের আসন পাতা হলে নতুন ধোয়া সাদা পাঞ্জাবিটা মাত্র গায়ে দিয়ে বসেছে আসনে। পেছন থেকে বন্ধুদের কেউ একজন কানে-কানে কী একটা বলতেই উঠে যায় টুলটুল। বন্ধুর সাথে মাঠের কোণাটায় গিয়ে বিস্মিত হয় টুলটুল। দীপা দাঁড়িয়ে। মাঝারী গড়নের উজ্জ্বল ফর্সা গায়ের রঙে উচ্ছ্বল এক তরুণী। সোজা তাকিয়ে টুলটুলের দিকে। দৃষ্টিতে ভ্রম নেই কোনো। কপালে অল্প করে সিঁদূর লাগাতো। তার রঙও মুছে ফেলেছে। শুধু তার হালকা ছোঁপ-ছোঁপ রেখাটা এখনো লেগে রয়েছে। সেই দীপা। চোখে-মুখে তার ভালোবাসার রেশ মাত্রও নেই। অদ্ভুত ভাবলেশহীন নির্লিপ্ত দুই চোখ। নির্লিপ্ত সন্ধ্যা যেন এগিয়ে চলছে তখন হালকা বাতাস কেটে কেটে। নাহ্, আর পারছে না টুলটুল। প্রশ্ন করে :
-দীপা! তুমি এখানে কেন? এখানে…
টুলটুলের কথা শেষ হতে না হতেই ‍জবাব আসে দীপার কাছ থেকে :
-এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি তোমার জন্য।
-আমার জন্য? এখানে? বাড়িতে হলুদের আয়োজন ফেলে রেখে!
-না। আমার বাড়িতে কোনো আয়োজন চলছে না।
-কী অর্থ তোমার কথার?
দীপা বেশি কথায় যায় না। খুব সংক্ষেপ তার জবাব। এ দীপাকে টুলটুল চেনে না।
-আমি আসলে এই বিয়েটা আর দীর্ঘ করতে চাইছি না।
-কী বলছ তুমি! বাড়িভর্তি আত্মীয়স্বজন। পাড়ার সকল লোককে নিমন্ত্রণ করা হয়ে গেছে। তাছাড়া। কী হয়েছে? কী ঘটেছে এমন, আমাকে খুলে বল?
-বলবার তেমন কিছু নেই টুলটুল। তোমার সাথে আমার আসলে যায় না। আমি বিয়েটা আর দীর্ঘায়িত রাখতে চাই না।
-দীপা!
-হ্যাঁ। আমি কোর্টে যাব নিষ্পত্তির জন্য। তোমাকে জানাতে এসেছি।
বলেই সামনে আগায় দীপা। দীপার চলে যেতে থাকা পথের দিকে তাকিয়ে টুলটুল শেষবারের মতো ডেকেছিল :
-দীপা? দীপা! শোনো। কী অপরাধ আমার বলে যাও।
পেছন থেকে হাতটা ধরে টুলটুল। এক ঝটকায় টুলটুলকে ছাড়িয়ে সামনে হাঁটতে লেগেছিল সেদিন দীপা। অন্ধকারে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতে থাকা দীপার পায়ের ছাপগুলো এখনো থাবা মেলে গভীরে বসে রয়েছে টুলটুলের বুকের ঠিক মাঝখানে। দীপা একবারের জন্যও সেদিন পেছন ফিরে তাকায়নি। টুলটুলের ডাক দীপার কানে গেছে কি যায় নি, তাও সেদিন বুঝতে পারে নি। বাড়িতে ফিরে এসেছিল মাথা নীচু করে। মনে আছে বাবা তমালকৃষ্ণ সব শুনে ফ্যাকাশে মুখে নিজের বুকের বাঁ পাশে জোরে চেপে ধরে ছিলেন কিছুক্ষণ। তারপর প্রায়ই বাবাকে বুকের বাঁ পাশে চেপে ধরতে দেখেছে। মা নির্বাক। পাড়া প্রতিবেশীরা যারা হলুদের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন, সকলেই কেমন একটা ছেই ছেই মনোভাব নিয়ে তাকাচ্ছিলেন চলে যেতে যেতে। এতটাই ঘটনাটা ঘটে গেছিল, অথচ নিচের ঘর থেকে কাকা-কাকী কিংবা শৈল কেউ উপরে উঠে আসেনি তাদের খবর নিতে সেই সন্ধ্যায়। সন্ধ্যা পার হয়ে রাত। রাতে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে করতে টুলটুল তার ঘরে বালিশের নিচে কয়েকটা নাম না জানা পিল পেয়েছিল। পরে জানতে পেরেছিল সেগুলো ভ্রূণহত্যার পিল। ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে খুব কেঁদেছিল অঝোরে। তারপর থেকে নীরব। দীপার চলে যেতে থাকা পায়ের ছায়াগুলো প্রায়ই মধ্যরাতে ফিরে ফিরে আসে দরজায়। কড়া নাড়ে। সেই রাতগুলো হিংস্র বিষাক্ত রক্তাক্ত। মাঝে-মধ্যে দীপাকে একজন টাকাওয়ালা মানুষের সাথে দামি গাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে তার বন্ধু-বান্ধব। টুলটুলের এই মধ্যবিত্ত জীবন জৌলুসহীন ঘর প্রাচুর্যহীন জীবনে দীপা তার ইপ্সিত সুখ খুঁজে পাবে না সেটা বুঝে গেছিল হয়তো। একটা মরচেধরা ছুরি কেবল বুকের ভেতর শান দিতে থাকে টুলটুল। অনেক টাকার দরকার তার। একটা টাকার পাহাড় বানানো দরকার। পাহাড়ে অবকাশ যাপনের জন্য একটা বাড়ি বানানোর দরকার। কিন্তু কিছুতেই ভাগ্য তার সহায় হচ্ছেনা। বাড়িটার ভাগবাটোয়ারাতে ঝামেলা লেগে রয়েছে। একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কাজ করতে ঢুকেছিল সেখানে মানাতে পারেনি। ছেড়ে দিয়েছে। মনে মনে ভাবছিল বেশকিছু পরিমানে টাকা পাওয়া গেলে একটা ব্যবসা করা যেত। তাই খুব করে চাইছিল বাড়ির ভেজাল মিটে গেলে বাবাকে রাজি করিয়ে বাড়িটা বিক্রি করে দেবে। বাড়ি বিক্রির টাকা থেকে কিছু টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করবে। কিন্তু কিছুতেই কিছু করে উঠতে পারছে না। আসলে বোধ করি দীপাই টুলটুলের জীবনে অভিশাপ। কোর্ট ছমাস সময় দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ছ মাস শেষ হবে। টুলটুল মনে মনে ঠিক করে রেখেছে খুব নীরবে সাইন করে দেবে। নিজেকে সামলে নিয়েছে ছ মাসে। একটা সানগ্লাস পড়ে যাবে সেদিন। দীপার চোখের দিকে তাকাবে। অথচ দীপা তার চোখ দেখতে পাবে না। কোর্ট দীপার আলাদা বসবাসের আর্জি মেনে হয়তো সিদ্ধান্ত দেবে। তারপর অভিশাপ মুক্ত হবে টুলটুল। নতুন করে গুছিয়ে নেবে সব। এই মধ্যরাতে একটা টাকার পাহাড়ের নেশায় ধরেছে তাকে। ঘুম আসে না কিছুতেই আর…
[চলবে]

পূর্ববর্তী পর্ব ৩২

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-26/