শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৩৯]

0
274
পর্ব ৩৯
সুপ্রভ আলোর পরশে দিনের শুরুটাতে ছিল না সেদিন কোনো মধুরতা। মৃত সন্তানের মুখের ছায়াটি মিলিয়ে যায়নি এতটুকু। তখনো তীব্র তীক্ষ্ণ আগ্রাসী তার মায়া। ফারুকের ক্রুদ্ধ আস্ফালন আর ভোরবেলা তার মোবাইলে আসা ‘আই লাভ ইয়্যু ট্যু’ ম্যাসেজটি মনস্বিতাকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। জানালা দিয়ে ভোরের আলো এসে পড়ে সারা ঘরে। মনস্বিতার মুখেও সে আলো মায়া ছড়fয়। সোনা সোনা হালকা নরম রোদে জানালার ধারে বসে থেকেও আজ যেন সে জীবনের কাছ থেকে অনেক দূরে কোনো এক নির্বাসিত দ্বীপবাসী। সাধারণত ভোরের আলোর স্নিগ্ধতা মনস্বিতাকে মুগ্ধ করে। সচকিত করে। কাজের প্রেরণা এনে দেয়। সেই পাহাড়ের জীবন মনে পড়ে যায় তার আর সাথে সাথেই জেগে ওঠে ভেতরের নিঃশেষ হতে থাকা ম্রিয়মাণ প্রাণ বনপাহাড়ের ছোট্ট চারাগাছটির মতো। মনস্বিতার সারাটা দিন আর রাতের পরিশ্রম যুদ্ধ বর্জন আর আপোষের মীমাংসা যেন পৃথিবীর এই প্রথম আলোটি। মায়া কাড়ে। দুঃখ ভোলায়। শক্তি দেয়। স্বপ্ন আঁকে। প্রতিদিন এভাবেই শুরু হয় তার প্রভাত, সকাল। কিন্তু আজ পরম আলোর পরেও কেন সব অন্ধকার! সে তো মানিয়ে নিচ্ছিল সব। মনে নেবার মতো নেই তো এখানে কিছুই। অথচ আজ ফারুক আর তার মাঝে একজন অন্য নারীর আগমন কেনই বা মনস্বিতাকে এতটা বিমুঢ় করে তুলছে ভেবে বিস্মিত মনস্বিতা। এতদিনের ভাবনার সাথে আজ আর মেলেনা কিছুই। তবে! মনে নেয়া আর মেনে নেয়ার পার্থক্যটাই সবেতেই প্রকট হয়ে ওঠে আজ। নিজের মনে অসংখ্য প্রশ্ন আজ ভীড় করে আসে;
-মনস্বিতা, তাহলে বলতে হয় তুমি ফারুককে ভালোবাসো। নয়?
-হয়তো।
-হা হা হা । হয়তো কেন? এতো দ্বিধাদ্বন্দ্বের কথা হতে পারে না।
-কি জানি! তার সাথে তো আমার রুচি সংস্কৃতি কিছুই মেলেনা।
-তাহলে কেন এই দুঃসহবাস?
-মায়া!
-মায়া মনস্বিতা মায়া। এ মায়া। তোমাকে সর্বসান্ত করবে।
-সর্বশান্ত হবার আর বাকি আছেটাই বা কী!
একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে মনস্বিতার বুক চিরে। আর তাতে ভেসে যায় সব…। সন্তান গর্ভে নিয়ে আট মাসের মরণোন্মুখ যাত্রাশুরু আর যাত্রাশেষের দিনগুলোর বিভীষিকা আজ যেন নতুন করে অক্টোপাশের মতো আঁকড়ে ধরে মনস্বিতাকে।
-এবার কী আর নিজেকে ক্ষমা করা উচিৎ হবে, মনস্বিতা?
-ফারুককে প্রশ্ন করবে, কে এই নারী?
-ছিঃ। এতটা নীচে নামা কী আদৌ কোনোদিন সম্ভব হবে মনস্বিতার পক্ষে! তাছাড়া কেন প্রশ্ন করবে? কি অধিকারে?
-যে স্বামী সন্তানের বিয়োগব্যথায় স্ত্রীর সমব্যাথী নয়, তার ভেতর পিতৃত্বের কোনো বোধ কী ছিল কোনোদিন! অসহযোগ আর মানসিক নিপীড়নের দায়ে আজ যদি মনস্বিতা তার সন্তানের হন্তারক বলে দাবি করে ফারুককে? কী বলবার আছে তার? দিনের পর দিন অকর্মণ্য অস্থির জীবনযাপনই যার আনন্দ। অদূরদর্শী। বাক্যপ্রক্ষেপণে অনিয়ন্ত্রিত। মানবিক আবেগ যার কাছে তুচ্ছ আর উপহাসের বস্তু। ক্রুদ্ধতাই যার পৌরুষ! মারাত্মক শারীরিক আগ্রাসনের পরেও স্ত্রীকে যে ভোগ করতে উদ্ধত, তাকেই তো মানায় পরনারীর প্রতি আসক্তি। কি বল মনস্বিতা?
নিজেকে এই কঠিন প্রশ্ন করতে করতে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় মনস্বিতা। বাইরে, দিনের প্রথম আলোর নম্র্তা কমে আসছে ক্রমশ। ধারালো আর তীব্র হতে শুরু করেছে সূর্যের পৌরুষ। আয়নার সামনে দাঁড়ায় দীর্ঘদিন পর। কপালে কিসের ভাঁজ এগুলো? চুলে তেল নেই কতকাল। গালে কান্নার জলের শুকনো অবশেষ, এ কী! নিজেকে এতটা অচেনা লাগছে। এ কোন মনস্বিতা? ফিরে এসো মনস্বিতা। আপন রূপে পূর্ণ গৌরবে চলো। সামনে হাঁটো। মাথা উঁচু করো। তোমার অনিঃশেষ দান যে করেছে খর্ব, যে করেছে তুচ্ছ, তার পথ তাকেই করে নিতে দাও। জেগে ওঠ তুমি। আর কত ঘুমোবে মনস্বিতা! পৃথিবীর পুঁতিগন্ধময় নর্দমার ক্লেদ ঝরিয়ে ফেলো তোমার গা থেকে। নিজের মুখটা খুব দ্রুত ধুয়ে ফেলে মুছে দিতে চায় কান্নার জলের শুষ্ক রেখাগুলো। মুখে লোশন দিয়ে তাকিয়ে দেখে কপালের ভাঁজগুলো কী আসলেই খুব গভীরে! চোখের কাজল দিতে গিয়ে ভেসে ওঠে মৃত কন্যার চোখ। তার চেয়ে থাকা চোখের দৃষ্টিতো দেখার সৌভাগ্য হয়নি মনস্বিতার মতো ব্যর্থ মায়ের। মৃত কন্যার বুঁজে থাকা চোখের একটা টানা রেখাই দেখেছে কেবল। কিন্তু তাতে ছিল গভীর কালো ঘন আইল্যাশগুলো, যেন ছিল তারই মতো দীঘল। হঠাৎ মনে পড়ে তার মুখ। বুকের ভেতর পাহাড় ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে থাকে ক্রমাগত। সেই ক্রমঘাতক শব্দের কান্না বুকে নিয়েই কোনমতে একটা শাড়ি পরে বের হয়ে পড়ে মনস্বিতা। এক্ষুণি বের হয়ে না পড়লে আজ আর রক্ষা নেই। অবদমিত যন্ত্রণার কড়াল থাবা আজ তাকে গ্রাস করেই ছাড়বে। দমবন্ধ ঘরের প্রতিটি সেকেন্ড ঘন্টা মিনিট। তাই সূর্যর ক্রমক্রুদ্ধ আস্ফালনের মাঝেই নেমে পড়ে পথে। গন্তব্য অনির্দিষ্ট।
ফারুক যখন তমালকৃষ্ণের অফিসে পৌঁছেছে তখন প্রায় বেলা সাড়ে এগারোটা। খুব উদভ্রান্ত দেখায় তাকে। উস্কোখুস্কো চুল। মুখে ক’দিনের শেভ না করা দাড়ি। আগে একবারই তাকে দেখেছিলেন তমালকৃষ্ণ, মনস্বিতার বাসায়। তাই দেখেই চিনতে পেরেছেন। তমালকৃষ্ণ ফারুককে বসতে আহ্বান করেন।
-বসুন।
-আমি বসতে আসিনি।
-কথা বলতে এসেছেন তা জানি? কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকবেন?
ততক্ষণে পিওন চা দিয়ে যায়। কী মনে করে ফারুক বসে পড়ে। চা পান করে। তমালকৃষ্ণ অপেক্ষা করেন। চায়ে চুমুক দিয়ে ফারুক দৃষ্টি নিবন্ধ করে তমালকৃষ্ণের চোখে, সরাসরি।
-মনস্বিতা মানসিকভাবে একজন অসুস্থ নারী। আপনি কী তা জানেন?
-কী বলছেন? আমি তার সাথে কথা বলেছি। আমার তো তা মনে হয়নি!
-আপনার মনে না হবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ আপনি তো তাকে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখেননি। পতনশীল অবস্থায় কেউ স্বাভাবিক বিষয়গুলো ধরতে পারে না। আপনি জানেন না?
-কী বলতে চাইছেন আপনি?
-বলছি আপনি মনস্বিতার প্রেমে পড়ে রয়েছেন। আপনার কাছে তার অস্বাভাবিকতা ধরা পড়বার কথা নয়।
এবার তমালকৃষ্ণ সত্যিই অবাক হন। বিস্মিত হন মনস্বিতা কী করে এই লোকটির সাথে সংসার করে চলেছে এতগুলো দিন ধরে এ্ই ভেবে। অনুমান নির্ভর একটি বিষয়ে ফারুকের এতটা আস্থা, তাকে চার্জ করা, তার অসংযম আর বিক্ষিপ্ত অবস্থা দেখে তিনি বুঝতেন পারেন লোকটি কতটা অর্বাচীন। তার হাসিও পায় খানিক। তিনি এবার খুব জোরে হেসে ওঠেন।
-হা হা । হা হা…
তাতে ফারুকের রাগ বেড়ে যেতে থাকে। চোখে-মুখে তা লুকোবার কোনো উপায় নেই। আর লুকোতে ফারুক নিজেও খুব একটা সচেষ্ট নয়। ছেলেটি অভব্য, এটুকু তিনি বুঝতে পেরেছেন শুরুতেই;
-আপনি হাসছেন কেন? আমি তো জানি আপনাদের সব।
-কী জানেন আপনি? আমাদের সব মানে কী বলুন তো? সীমা লঙ্ঘন করবেন না। অনুরোধ করছি। বি প্রাকটিকাল। আপনি জানেন আমার বয়স কত?
-আরে রাখুন আপনার বয়স। কত দেখেছি এসব। বুড়ো বয়সের ভীমরতি।
-ছিঃ ফারুক সাহেব। আপনার আচরণ যে ভদ্রতার সীমা লঙ্ঘন করছে এটা কী আপনি বুঝতে পারছেন আদৌ?
-নিজের দোষ লুকোতে আরও কত কী যে বলবেন তা আমার জানা আছে। কেন বুড়ো বয়সে কি প্রেম জাগে না? আপনি কী দেবতা না ঈশ্বর?
-আপনার জানার পরিধিটি কেবল আপনার সাজানো বানানো গল্পের কাহিনিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে ফারুক সাহেব। আপনি হয়তো আমাকে জানেন না। সত্যিই যদি আমি মনস্বিতার প্রণয়প্রার্থী হতে পারতাম তবে আমি গর্বিত হতাম আজ এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে। আমি মিথ্যে কথা না বলে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতাম আপনার সামনে। হয়তো একটি অসহায় মেয়েকে আমি জীবনের পরম প্রাপ্তির আনন্দ দিতে পারতাম। কিন্তু আফসোস সে আমার সন্তানের মতো। তার মাঝে আমি বহুকাল আগের আমার মৃত কন্যাকে দেখতে পাই।
তাকে অবজ্ঞা করে তমালকৃষ্ণের হাসিটা ফিরিয়ে দেবার সুযোগ আর হারাতে চায় না ফারুক এই মুহূর্তে।
– হা হা। হা হা। সন্তানতুল্য! হা হা। হা হা। বাহ বাহ। কন্যার মৃত্যুর ঘটনাও মিলিয়ে ফেলেছেন দেখছি।
ফারুকের হাসিতে তমালকৃষ্ণ রাজ চক্রবর্তীর অফিসের লোকজন কিছু ভাবলো কি-না সেটা তার খুব একটা যায় আসেনা। সে হাসি থামিয়ে আবার বলে :
-আপনাদের ভালোর জন্য বলছি। মনস্বিতা মানসিক রোগী। তাছাড়া বরাবরই একটু সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্সে ভোগা মানুষ। তাছাড়া আমারও চাকরিবাকরি নেই, অনেকদিন। সংসারের চাকা ঠেলতে ঠেলতে ও হয়তো একটু বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছে আজকাল- আমার এবং সংসার দুটোরই প্রতি। তাই হয়তো বেসামাল পা ফেলছে। আপনি তার সুযোগ নিচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখবেন আমি কিন্তু খেয়াল রাখছি। আপনি সরে আসুন। ওর পথ থেকে আপনি সরে আসুন। আমি অনুরোধ করছি।
-যে পথে পা বাড়াইনি সে পথ থেকে সরে যেতে বলা আপনার পক্ষে যতটা সম্ভব, আমার পক্ষে সরে আসা ততটাই অবান্তর? সে আমার আরেক কন্যা, ফারুক সাহেব। মানুষে বিশ্বাস রাখুন।
-ভং ধরবেন না তমালকৃষ্ণ।
ফারুকের চোয়াল শক্ত হতে শুরু করে। সে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। তমালকৃষ্ণ ফারুকের সাথে কথার শুরুতেই বুঝে গেছেন কতটা অভব্য হয়ে উঠতে পারে এই মানুষটি যে-কোনো সময়। তাই তার মানসিক প্রস্তুতি হয়েছে তার সাথে কথা বলতে বলতেই। তিনি তাই বিচ্যুত হননি ধৈর্য্য ধরতে। অবাকও হননি এতটুকু ফারুকের তার মতো এতটা বয়ষ্ক একজন মানুষকে নাম ধরে ডাকার জন্য। কিন্তু তিনি বারবার অবাক হচ্ছেন মনস্বিতা কখনো তাকে এই উদ্ধত অসামাজিক অসংস্কৃত মানুষটির বিষয়ে কিছু বলেনি। তবু ফারুক সাহেবকে উত্তরটি দেয়া প্রয়োজন মনে করেন তিনি।
-ফারুক সাহেব আপনি যেহেতু আমার কাছে এসেই পড়েছেন আমার কয়েকটি কথা আপনাকে বলার প্রয়োজন অনুভব করছি। আপনার ঔদ্ধত্য আর অসংস্কৃত ব্যবহার আমাকে পীড়া দিলেও। আমার কথা আপনি হয়তো এ-কানে ঢোকাবেন, ও-কান দিয়ে বের করে দেবেন। তথাপি বলা দরকার। আপনার কী সে ধৈর্য হবে?
-বলুন। বলুন না কী বলবেন? শুনে তো যাই।
-শুনুন তবে, ভালোবাসা একটি চারাগাছের মতো। একে কেবল মাটিতে গেঁথে দিলেই চলে না। দিনের পর দিন জল ঢালতে হয়। পরিচর্যা করতে হয়। রোদে পড়ে গেলে ছায়ার ব্যবস্থা করে দিতে হয়। তীব্র শীতে পাতায় ধুলা জমলে পাতা মুছে দিয়ে গাছের রান্নাঘরটি পরিষ্কার করে দিতে হয়। জীবনকে সুন্দর করা শিখুন। এ এক নিরন্তর চর্চা। এখানে প্রভুত্ব স্বামীত্ব আগ্রাসন কিছুই যায় না ইয়ং ম্যান। আপনি ভাগ্যবান। মনস্বিতার মতো বিদুষী গুণী স্ত্রী পেয়েছেন। তাকে যত্ন করুন। ভালোবাসুন। দেখবেন সব ঠিক হয়ে আসবে।
-হাহ্, বিদুষী! গুণী ! যতসব ছাইভস্ম।
-আপনার একথার এমন অকাট্য জবাব আমি দিতে পারি ফারুক সাহেব। সেদিন আট মাসের সন্তান গর্ভে নিয়ে যে নারীটি হাঁটুজলে নেমে অফিসে যাবার জন্য একাকী প্রাণপাত করছিল, সেদিন এই স্বামীত্ব কিংবা প্রভুত্ব আপনার কোথায় ছিল এই প্রশ্নটি করে। যে কতৃত্ববোধ কিংবা স্বামীত্বের অধিকার নিয়ে আজ আমার সামনে দাঁড়ালেন, সেদিন কোথায় ছিল আপনার স্বামীত্ব? সেদিনই আমার মনস্বিতার সাথে পরিচয়। আপনার পিতৃত্ববোধের স্তর নিয়েও আমি শংকিত হয়েছিলাম সেদিন। কিন্তু আমিতো আমিতো… আপনাকে প্রশ্ন করার অধিকার রাখি না। তাছাড়া আপনাকেও আমার একথার মর্ম বোঝার মতো প্রজ্ঞাবান মনে হয়নি আজকের কথাবার্তায়। আগে তো জানতাম না আপনাকে। আজ খানিকটা জেনেছি যা তাতে আমার এই মনে হল। তবু বলি, সুন্দরের পথে কোনো কাঁটা নেই। মেয়েটি যুদ্ধ করছে। হয়তো তার নিজের চেয়ে এ যুদ্ধের কারণ আপনিই বেশি। সুবিধাভোগীও আপনিই অধিকতর। সেটা অনুভব করুন। স্বীকার করুন। সমব্যাথী হবার চেষ্টাতো করা যায়? ভুলগুলোই বা শুধরে নিতে কতক্ষণ?
-রাখুন আপনার জ্ঞানবিতরণ। হুহ। দাতা হাতেম তায়ী হয়েছেন। জ্ঞান দিতে তো পয়সা লাগে না। আমার অত সময় নষ্ট করার সময় নেই। আমি আপনাকে সাবধান করে দিয়ে যাচ্ছি। মনস্বিতার সাথে আপনাকে আর কখনো দেখলে তার ফল ভালো হবে না।
হেঁটে যেতে উদ্যত ফারুক। তমালকৃষ্ণ তাকে থামান। চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে তার ঘাড়ে হাত রাখেন।
-আপনি চাকরিবাকরি করছেন না কেন ফারুক সাহেব? নওজওয়ান আপনি। বসে বসে স্ত্রীর আয় রোজগারে চলা আপনাকে মানায় না। কাজ করুন। অযথা সময় নষ্ট করবেন না। কাজে লেগে থাকলে মাথার ভেতরের শয়তানটা সাহসী হয়ে উঠতে পারে না। আইডল ব্রেইন ইজ আ ডেভিলস ওয়ার্কশপ, ভুলে যাচ্ছেন কেন?
হাতটা একঝটকায় সরিয়ে হনহন করে বের হয়ে আসে ফারুক তমালকৃষ্ণের অফিস কক্ষটা ছেড়ে। তার কথাটা চট করে ফারুকের মাথায় বসে যায়। রাগে গা জ¦লে ওঠে তার। এর মাঝে সে কোনো ভালই দেখতে পায় না। কেবল মনে হতে থাকে, ওই বুড়োটা মনস্বিতার প্রেম-পিয়াসী। মনস্বিতার আস্কারা পেয়েই আজ সে এতগুলো কথা তাকে শোনাতে সাহস পেল। এমনকি তাকে শয়তান বলে গালিও দিতে ছাড়লো না।
-এর ফল, মনস্বিতা, তোমাকেও ভোগ করতে হবে। আর চাকরি? আমি এ মাসের মধ্যেই যদি কাজে না লাগি…
ফারুক যখন বের হয়ে এসেছে তমালকৃষ্ণ রাজ চক্রবর্তীর অফিস থেকে। তখনই আজই প্রথম হঠাৎ মনস্বিতা উপস্থিত হয় আবার নিজের অফিসে।
[চলবে]
পূর্ববর্তী পর্ব ৩৮-এর লিংক

http://www.teerandaz.com/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%9F-31/