শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৪০]

0
978

পর্ব ৪০

তমালকৃষ্ণের তীর্যক কথার চাবুক ফারুকের পুরুষ্ট চামড়ার অহংবোধে খানিকটা হলেও আঘাত করতে সক্ষম হয়। তাই তমালকৃষ্ণের সাথে কথোপকথনের পরপরই তার অফিস থেকে বের হয়ে সারাদিন ঘুরে ঘুরে বন্ধুবান্ধবের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। চাকরি খোঁজে। বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় পোস্ট দখল করে আছে তার বেশকিছু বন্ধুবান্ধব, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়ররা, যারা তাকে সাহায্য করতেই পারে। কিছু জায়গায় সিভি দেয়া ছিল ঠিকই। কিন্তু ফারুকের অতীতের কাজগগুলো স্মরণ করে তার চাকরি দেয়াটা সবেই ঝক্কি মনে করে। আজ মনস্বিতা খুব দুঃখ পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। তাই হয়তো হাতখরচের টাকাটা দিয়ে যেতে ভুলে গেছে। বেলা সাড়ে বারোটায় মাথার ওপর সূর্যর তীব্র দহন আর তাপদগ্ধ পথে তাই আজ তার হেঁটে চলতে হচ্ছে। বিশেষত মনস্বিতার কাছে ফারুক টাকাপয়সা চায়না কখনো। সে জানে যত রাগ করুক আর দুঃখই তাকে দিক ফারুক, ঘর থেকে বের হবার সময় মনস্বিতা তাকে ডেকে বলবে :
-বাইরে যাচ্ছ? পকেটে টাকা আছে?
ফারুক তেমনি কঠিন স্বরেই বলবে :
-না।
নারীর কাছে নরম স্বরপ্রক্ষেপণে নিজের পৌরুষে কলঙ্ক লেখা হয়। এটা ফারুক জানে। মনস্বিতা তাকে দ্বিতীয় কোনো প্রশ্ন করবে না।
-নাও। এটা রেখে দাও।
এভাবেই হয়তো একশো কিংবা পাঁচশো টাকার একটা নোট রাখবে ওয়ারড্রোবের ওপর। তারপর নিজের কাজে যাবে। ফারুক যত খারাপ ব্যবহারই করুক না কেন মনস্বিতা কখনো বাড়ি ছেড়ে ভাই বোন কিংবা বন্ধুর বাড়ি চলে যাবে না। দিন শেষে ফিরে আসবেই। রাগ করে রান্না না করে শুয়ে পড়বে না। ঠিকই ভাত তরকারি রান্না করে অভিমানে শুয়ে পড়বে না খেয়ে। ফারুক এসে ঠিকই দেখবে টেবিলে ভাত বেড়ে রেখেছে। বোঝাই যাচ্ছে সে খায়নি। তবু ফারুকের কখনো মনে হয়নি ওকে ডেকে নিয়ে খাওয়াটা দরকার। অভিমান ভাঙানোর মতো কাপুরুষের কাজ ফারুকের নয়। তাই এমন ঝগড়াঝাটি হলেও ফারুক নিশ্চিন্তে থাকে তার পৌরুষের আস্ফালনে মোটেও ঘাটতি পরে না। আজই প্রথম মনস্বিতা ভুলে গেছে তাকে টাকাটা দিতে। মনে মনে তমালকৃষ্ণকে একটা গাল দেয়।
-কুত্তার বাচ্চা একটা।
পথে হাঁটতে হাঁটতে নিজের সাথে কথা চলতে থাকে তার।
-গালাগাল করছো কেন? কী করেছে সে?
-মনস্বিতার প্রেমে পড়ে বেটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে।
-তুমি ভুল করছ না তো ফারুক?
-আরে নাহ, এইসব পুরুষগুলোকে আমি চিনি। মানসিকভাবে দুর্বল আর সংসারে যাদের টানাপোড়েন লেগে আছে, বিশেষ করে স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ার মাঝখানে ওরা ঢুকে পড়ে। সুযোগ নেয়। ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে নারীদের।
-কী বল?
-হ্যাঁ, এটাই সত্যি।
-কিন্তু মনস্বিতাকে তো তুমি চেনো? সে কি অতটা দুর্বল মানুষ?
-তা নয়। কিন্তু আপাতত ওর মনটা খুব দুর্বল। মেয়েটা মরে গেছে। তার উপর আজ ভোরে শারমিনের মেসেজটি ওকে ভীষণ আহত করেছে।
-বাহ, অতটা বুঝতে পারো তবে কেন সব ঠিক করে নাও না? ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও। সব ঠিক করে নাও।
-ধুর। আমারে কী পাগলা কুত্তায় কামড়াইছে নাকি? একটা চাকরি জোগার করি। সংসারে টাকা ঢালতে পারি। দেখবে, ফারুক দেখবে, সব ঠিক হয়ে যাবে।
-টাকাই সব?
-হুম। টাকাই সব।
-তাহলে মনস্বিতা তোমার সাথে পড়ে রয়েছে কেন বলতো?
-আরে, ওর তো টাকার অভাব নেই। আমার কাছে স্বীকার করুক আর নাই করুক। আমি জানি ওর মা ওকে নিয়মিত টাকা পাঠায়।
-মা টাকা পাঠায়? ছিঃ ছিঃ। তাও নিয়মিত! তোমার মতো জওয়ান পুরুষ স্বামী থাকতে? আর তাতে তুমি নিশ্চিন্ত? তোমার কারণে মায়ের কাছে তার মাথাটা হেঁট হয়ে থাকে না? তাছাড়া তোমার জন্যই কি এটা সম্মানের?
-আরে, আমার অসম্মান কেন হবে?
-তুমি একজন যুবক। দিনের পর দিন কাজ করো না। মনস্বিতার চাকরির টাকায় চলো। আবার মায়ের কাছ থেকেও মনস্বিতার টাকা নেয়। এ কী গৌরবের?
-আরে ধুর কীসব কথা। আমি কী টাকা নেই নাকি? আমার হাতে তো কোনো কিছু দেয় না ওর মা। তাছাড়া কেউ কোনোদিনও বলতে পারবে না আমি মনস্বিতার কোনো আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নিয়েছি। হা হা।
নিজের মনকে অপরাধবোধ কিংবা গ্লানি থেকে এভাবেই মুক্ত করে রাখে ফারুক। বরাবরই রাখে। নিজের নিস্পৃহতা কিংবা দায়িত্বহীনতার কোনো দায়ভার তার নেই। কিন্তু আজ তমালকৃষ্ণের কথাবার্তাগুলো তার বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
-বুড়ো হাবড়া একটা! তুই পারবি মনস্বিতাকে সামলাতে? গাধা একটা। কতটুকু জানিস তুই মনস্বিতার? এমনি এমনি ওর ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে গেলি? হাহ্, তুই খুব জানিস যে আমার কারণে মনস্বিতার সব যন্ত্রণা! কে বললো তোকে আমি বসে বসে ওরটা খাই! আমি নিশ্চিত মনস্বিতা এসব তোকে বলেনি। মনস্বিতা এধরনের মেয়ে নয়। ওকে পড়া আমার সারা। ওর প্রতিটি আচরণ আমার মুখস্থ। তাহলে? সব আন্তাজ। আন্তাজে ঠিল ছুঁড়েছে সে।
-ফারুক এটা বুঝতে খুব একটা কষ্ট কারোরই হবার নয়। তোমার বাড়িতে দু’দিন পারা দিলেই যে কেউ বুঝতে পারবে। তাছাড়া তিনি তো বলেইছেন সেই বৃষ্টির দিনটাতে আটমাসের গর্ভস্থ সন্তান নিয়ে মনস্বিতা যখন পানি ভেঙে রাস্তায় জীবনপণ যুদ্ধ করছিল, তখনই তার সাথে পরিচয়। একজন স্বামী ঘরে শুয়ে ঘুমোচ্ছে আর একজন নারী এ অবস্থায় গতরাতের বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া রাস্তায় একা! কে না বুঝতে পারে, বলো!
-রাখো তোমার প্রলাপ। এ ছিল মনস্বিতার জেদ। আমার সাথে জেদ করেই তো এসব করতে গেল।
-তা ঠিক আছে। কিন্তু এই সময়ে এই অবস্থায় জেদ করতে দেয়াটা কী স্বামী কিংবা ভবিষ্যৎ সন্তানের পিতা হিসেবে তোমার ঠিক কাজ ছিল?
-জেদ করলে করতে দেওয়াই উচিত কাজ।
-তাতে সন্তানের মৃত্যুভয় থাকলেও? ফারুক বলতো সত্যি করে, জেদটা কী আসলে মনস্বিতার নাকি তোমার? ডাক্তার সেদিনও বলে দিয়েছিলেন গর্ভস্থ সন্তানের সবরকম অবস্থাই ভালো আছে। তবু সন্তানটি মারা গেল। এ নিয়ে তোমার মনে কোনোই অপরাধবোধ নেই? কোনোই দায়ভার তোমার নেই?
-কেন আমার কেন হবে?
-তোমার কী উচিৎ ছিল না গাড়িটা ঠিক সময়ে এনে দেয়া। তোমার কী দায়িত্ব ছিলনা সন্তানসম্ভবা তোমার স্ত্রীর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটুকু নিশ্চিত করা? তাহলে কী মনস্বিতা এরকম জেদ করতে পারতো? তারপরও এমন ঝড়ের পরে পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তাটায় তোমার স্ত্রীকে তুমি কী করে ছেড়ে দিতে পারলে?
-আমি কী দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখবো তাকে?
-তোমাকে যদি মনস্বিতা সন্তানের হন্তারক ভেবে থাকে, তাতে কী খুব একটা ভুল হবে ফারুক।
-না না আমি কেন? আমি কেন সন্তানের হন্তারক হতে যাব? ধুর.., ধুর,.. দিনটাই আজ খারাপ যাচ্ছে।
এসব ভাবতে ভাবতে রাস্তায় হাঁটে ফারুক। অকারণে একটা গাছের ডাল ভেঙে দূরে ছুঁড়ে ফেলে চলার পথের পাশের ঝিলে।
-ধ্যাত্তেরি…
বাড়ি ফিরেছে যখন তখন সূর্য গড়িয়েছে পূবের সীমানায়। মনস্বিতা অফিসে গেলে সকালের বানিয়ে রাখা নাস্তা খায় উঠে। নিজের জন্য কিছু ভাত চড়িয়ে রান্না করে দুপুর বেলা প্রতিদিন ফারুক। হয়তো ডিম ভেজে কিংবা আলুভর্তা করে খেয়ে ফেলে। রাতে এসে মনস্বিতা মাছ তরকারি যা রান্না করার করে। ফ্রিজে মাছটাছ থাকলেও হাত লাগিয়ে ধুয়ে মশলা মেখে ভেজে খাওয়া ফারুকের পোষায় না। মাঝে মাঝে খুব ক্লান্ত থাকলে মনস্বিতা বিকেলে অফিস ফিরে বলে :
-একটু বেশি করে ভাত চড়ালেও তো পারতে। দুটো ডিম ভেজে ফেলতে। তাহলে তো আমার আর এখন এই ক্লান্ত শরীরে নিজেরটা করে খেতে হতো না।
কিন্তু এসব কথা অনেকবার শুনলেও ফারুকের কখনো মনে হয়নি মনস্বিতার জন্য একটা ডিম ভেজে রাখা যায়। আজ খা খা চালের ভাণ্ড। ফ্রিজে ডিম নেই।
-মনস্বিতাই বা কোথায় গেল? অফিসে গেছে নাকি এতদিন পর আবার? কই তাকে তো কিছু বলে নি। বরাবর যত যাই হোক সংসারে কোথায় যাচ্ছে, কখন ফিরবে সব কেমন লক্ষ্ণী মেয়ের মতো বলে যায় তাকে। নাকি ওই কুত্তার বাচ্চাটার সাথে বের হলো আবার! মনস্বিতা কী বদলে যা্চ্ছে!
মাথার ভেতর একলহমা আগুন উত্তাপ ছড়াতে শুরু করে আবার নতুন করে। ক্ষুধার পেটে হা হা শূন্য চারপাশ। উন্মত্ত অধীর আক্রোশগুলো গিলে সর্বশান্ত করেছে ফারুকের স্বাভাবিক বোধ। আজ সেগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সকাল থেকে। তমাকৃষ্ণের সাথে কথা বলার পর আজ সেটা লেলিহান শিখার মতো উদ্ধত। সকল পোড়াতে অধীর। কখন ঘুম নেমে আসে চোখে খবর নেই্। সন্ধ্যা লাগো-লাগো। একটা গাড়ির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় ফারুকের।
-নিশ্চিত, তমালকৃষ্ণ মনস্বিতাকে পৌঁছাতে এসেছে।
আলো জ্বালেনা। নীচতলা বাসার জানালার পর্দাটা সরিয়ে দেখে পাশের বাড়ির গাড়িটা এসে থেমেছে। নিজের ভেতরই ক্রমাগত রাগ উথলে উঠছে।
-ধ্যাৎ। গেল কোথায় মনস্বিতা?
পর্দাটা নামিয়ে কম্পিউটার অন করে বসে পড়ে। ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রিজুডিস’ ছবিটা ছেড়ে দেখতে বসে যায়্। মাথায় আগুন জ্বলতে শুরু করলে ফারুকের প্রিয় কাজ হয় এটিই। খুব মন দিয়ে দেখে শটগুলি। দেখে ক্যামেরার গ্রামার। খুঁটিয়ে বুঝতে চেষ্টা করে বিহাইন্ড দ্য সিন। কোন শটটি ক্রেনশট, কিভাবে ভয়ঙ্কর ঝুঁকি নিয়ে করতে হয়েছে। কোন শটটি ট্রেনের নিচ দিয়ে ট্রল করে তুলে নিতে হয়েছে। কিন্তু আজ কিছুতেই মন বসাতে পারছে না।
ঠিক এমনি সময়ে বেল বাজে। এবার নিশ্চিত মনস্বিতা এসেছে। দেয়াল ঘড়িতে চেয়ে দেখে আটটা বাজে। দরজা খোলে। মনস্বিতার হাতে একটা খয়েরি রঙের ঠোঙায় কয়েক কিলো চাল আর একটা পলিথিনে একহালি ডিম। ঘরে ঢুকতেই দরজাটা বন্ধ করেই একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয় মনস্বিতার গালে। মনস্বিতার হাত থেকে পড়ে যায় চালের ঠোঙাটা। ডিমগুলো পড়ে ভাঙে মুহূর্তেই। মনস্বিতা কোনো কথা বলে না। বিস্মিত নির্বাক চেয়ে থাকে ফারুকের দিকে। তারপর হাত থেকে গড়িয়ে পড়ে ভেঙে যাওয়া ডিমগুলোর দিকে অসহায়ভাবে তাকায়। হাতে টাকা নেই। মেয়েটা মরে যাবার পর আর অফিসে যায়নি। শূন্য হাহাকারভরা একটা মন নিয়ে কী করে অফিসে কাজ করবে! মাসের মাঝামাঝি এটা। পনেরো বিশদিন পর বেতন হবে। অনুপস্থিতির দিনগুলোর ছুটি ওকে গ্রাহ্য করবে কিনা আদৌ সে জানে না। না করলে এই ১৫ দিনের বেতনে সামনের পুরো মাস দু’জনের খাওয়া, অফিস যাতায়াতের খরচের জোগান আসবে কোথা থেকে তাই ভেবে সারা। মনটা ভেঙে খান খান হয়ে যায় মনস্বিতার। তবু কথা সরে না তার মুখে। লজ্জা হয় নিজের জন্য। ফারুকের জন্য। আজন্ম শিক্ষা রুচি সুন্দরতা পারিবারিক সংস্কৃতি এসে রোধ করে দাঁড়ায় মনস্বিতার বাক্য প্রক্ষেপণের সকল পথ। সে নিজের শোবার ঘরের দিকে আগায়। মনস্বিতার কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখে ভেতরের আগুন আরও দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে ফারুকের। শোবার ঘরে মুখে চুলের মুঠি ধরে হাতটা পেছনমোড়া করে ধরে একটা মোচড় দেয়। এতক্ষণে ‘আ’ – একটা শব্দ বের হয়ে আসে মনস্বিতার মুখ দিয়ে। একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় মনস্বিতাকে বিছানায়। বুকের উপর হাঁটু গেড়ে উঠে বসে। বালিশটা চেপে ধরে মনস্বিতার মুখে। মনস্বিতা প্রাণপণে চেষ্টা করে নাকমুখের ওপর থেকে বালিশটা ছাড়াতে। পারে না। স্তব্ধ বিস্মিত এপার-ওপারের সব বোধের তীক্ষ্ণ অণুপরমাণুগুলো এক অ্দ্ভুত আর উন্মত্ত প্রহেলিকার মতো দুলে ওঠে বন্ধ হয়ে আসতে থাকা চোখের সামনে। খুব জোরে শ্বাস নেবার প্রাণপণ চেষ্টায় মরণোন্মুখ আজ। পারে না। কোনোমতেই শ্বাস নিতে পারে না। দু’হাতের শক্তিতে একজন পুরুষের পাশবিক শক্তির সাথে পেরে ওঠা কী অতটাই সহজ! তবে কী আজই শেষ হয়ে যাবে এই অপাপবিদ্ধ অথচ গ্লানির জীবন! এভাবে! নাকি তার নতুন আলোর জীবন শুরু হতে যাচ্ছে আজই। হঠাৎ একটা চিৎকার শুনতে পায় নাম না জানা কোনো এক গভীর অন্ধকারের ভেতর থেকে। এই তীব্র গভীর অন্ধকারের ভেতর থেকে আলো হাতে উঠে আসছে কেউ তাকে বাঁচাতে! নাকি তাকে নিয়ে যেতে অ্ন্য এক আলোর ভূবনে। কে জাগাতে এল আজ এই অন্ধকার পৃথিবীতে অনাস্বাদিত অপরূপ অপার্থিব মায়া?
-মা…
শেষবারের মতো মাথাটা তুলতে চেষ্টা করে মনস্বিতা। দুহাতে সর্বশক্তি দিয়ে জোরে ধাক্কা দিতে চেষ্টা করে ফারুককে। আবার শুনতে পায় সেই অপরূপ শব্দের তুমুল অনুরণন।
-মা-আ-আ-আ। মা-আ-আ…
-কে?
কে ডাকে তাকে সন্তানের অপরূপ কণ্ঠে! অদ্ভুত এক মা-ডাকের স্পর্শে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণও যেন পরম প্রিয়তর হয়ে দেখা দেয়। সন্তানের সাথে মিলনের পরম আকঙ্খায় এই মুহূর্তে মরণও বড় আপন মনে হয় মনস্বিতার। গভীর আর আবছা এক অদ্ভুত আলোর পৃথিবীর দিকে চলে যেতে থাকে মনস্বিতা। সেখানে গভীর অন্ধকারের ভেতর থেকে উঠে এসেছে এক দেবশিশু। তাকে মা-মা করে ডাকছে। পৃথিবীর সকল আনন্দ উপুর করে কেউ যেন ঢেলে দিয়েছে আজ মনস্বিতার রিক্ত, খা খা করা শূন্য বুকটার কানায় কানায়। কিন্তু না। তার কাছাকাছি যাওয়া হয়না তবু মনস্বিতার আজও।
[চলবে]
পূর্ববর্তী পর্ব ৩৯

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-32/