শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৪৮]

0
275

পর্ব ৪৮

তমালকৃষ্ণ রাজ চক্রবর্তীর কথাটা রাখা মনস্বিতার কাছে আজ আর সমীচিন মনে হয়না। ফারুক তমালকৃষ্ণের সাথে দেখা করার সময় চেয়েছে এটা সে জানে। কিন্তু সে মনস্বিতাকে বলেনি আদৌ দেখা হয়েছে কি হয়নি। তমালকৃষ্ণকে প্রশ্ন করে জেনে নেবে এমন জ্ঞানহীনের মতো কাজটি মনস্বিতা কোনকালেই করতে পারবে বলে মনে হয় না। তমালকৃষ্ণকে বলবে ফারুকের এই নোংরা সন্দেহের কথা? ছিঃ ছিঃ। একথা কষ্মিনকালেরও মনস্বিতা তমালকৃ্ষ্ণকে বলতে পারবে না। নিজেকে নিজের স্বামীকে এতটা নীচে মনস্বিতা কি করে নামাবে? তাছাড়া তমালকৃষ্ণকেও তো খুব ছোট করা হবে। দুঃখ দেয়া হবে। কিন্তু এ সম্পর্কটিকে তো আর বাড়তে দেয়া তার ঠিক হবে না। হঠাৎ আবার তাকে আর তমালকৃষ্ণকে একসাথে ফারুকের চোখে পড়ে গেলেই উল্টোপাল্টা সন্দেহে ব্যতিব্যস্ত করে তুলবে আবার দিন আর রাত। কিন্তু তাতে কি আসে যায় আর মনস্বিতার! মান সম্মানের আর কী অবশেষ রেখেছে ফারুক নিজেরই কাছে। কিন্তু মনস্বিতা চায় না তমালকৃষ্ণকে কোনো ধরণের আঘাত করুক ফারুক কিংবা কোনো অনভিপ্রেত ঘটনার মুখোমুখি করুক তাকে। এমনিতেই টুলটলের সাথে দীপার বিচ্ছেদের যণ্ত্রণায় মাধবী আর তমালকৃষ্ণ দুটো মানুষই যেন মরণগ্রস্ত। একের পর এক মর্মস্পর্শী আঘাত এরাই বা সইবে কেমন করে! তমালকৃষ্ণের মুখটি মনে পড়ে যায়। কাঁচাপাকা চুলের একটা আকাশ উড়িয়ে যেন তিনি আসেন তার সামনে একেকবার। বুকের কোথায় যেন তখন রিনরিন করে ব্যথা বাজে! এ ব্যথা বোধ করি তমালকৃষ্ণের বুকেও একই সুরে বাজে। তমালকৃষ্ণের সেই প্রথম সন্তানটি কি তবে মনস্বিতা নিজেই! ধর্মাধর্মের ক্ষুরধার পথ তার তত জানা নেই। অজানিতে কী একজন মুসলিম হিসেবে তার ভাববার কথা এমনি করে! পরজন্ম! এও কি সম্ভব! তবে কেনইবা এই মানুষটির জন্য তার মনের গহণে এক গভীর ভালোবাসা মিশে থাকে! তার সন্তানের যাতনা মনস্বিতারই বুকে বেঁধে কেন! তমালকৃষ্ণের দুঃখে মনস্বিতা গলে গলে জল, কেন বাজে তার হাহাকার নিজেরই বুকের মাঝে এমনি ধারায়! তিনিই কেন আসেন অবতার হয়ে ঘনঘোর ঝড়-বাদলে বৃষ্টি বন্যায় কিংবা ক্ষরার দুঃসহ যাপনের কালে বারবার, বহুবার! নিজের মৃত কন্যার দেহ শেষ মানবস্পর্শটি নিয়েছিল তমালকৃষ্ণেরই হাত হতে! ওই দুঃসহ কালো মেঘের আঁধারে সেদিন তিনি এসে দাঁড়িয়েছিলেন আকাশ ভরা জোৎস্না নিয়ে! হঠাৎ চিন্তার বেড়াজালটা ছিঁড়ে যায় মনস্বিতার।
-না না। এভাবে ভাবলে চলবে না। মনকে অতটা নরম করলে চলবে না মনস্বিতা। তুমি নেমে পড়ো। তুমি একাই বাড়ি চলে যাও।
ব্যাগটা গুছিয়ে নেমে পড়ে মনস্বিতা। অফিস ছুটি হয়ে গেছে অনেক্ষণ। তার সাহায্যকারী ছেলেটি বার দুই তাগাদা দিয়ে গেছে। সে বোধ করি অজানিতে আনমনেই অপেক্ষা করছিল তমালকৃষ্ণর জন্য। তাই এতটা দেরী হয়ে গেল। এবার বের হতে গিয়ে যদি দেখে তিনি নিচে আগে থেকেই অপেক্ষা করে বসে রয়েছেন, তাহলে সর্বনাশ। কেন যে অশনি সংকেত দিচ্ছে মনস্বিতার মনটা আজ! দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নেমে পড়ে। গলির পথটা পেরিয়েই এসে পেয়ে যায় মোহাম্মদপুর যাবার লোকাল গাড়িটা। ঝুলে ঝুলে লোক চলেছে। ভেতরে বসার জায়গা পাওয়া দূষ্কর। দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। মনস্বিতা লোকাল গাড়িতে দাঁড়িয়ে যেতে খুব ভয় পায়। কখন কার গায়ে পড়ে গিয়ে কি এক বীভৎস দৃশ্যের অবতারণা হয়, এটা ভেবে বরাবর সে খুব তটস্থ থাকে। কিন্তু আজ আর সে ভয় করবার ভরসায় থাকে না মনস্বিতা। সিটিং সার্ভিস গাড়িটার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হবে না। গাড়িতে উঠে একটিও সিট খালি না পেলে মাথার ওপরের স্ট্যান্ডটা এক হাতে ধরে দাঁড়াতেই মাথাটা কেমন ঘুরে ওঠে। সামনেই খানিক দূরে একই গাড়িতে একটা মুখ খুব চেনা লাগে। মাথাটা ঘুরে উঠতেই চোখ অণ্ধকার হয়ে আসে। শরীরটা এখনো ঠিক হয়ে আসেনি। সন্তান জন্মের পর যেভাবে নিজের যত্ন নিতে হয়, যেভাবে খাওয়া দাওয়া করে শরীরের হারানো পুষ্টি নিশ্চিত করতে হয়, তা তার পক্ষে করা হয়ে ওঠেনি একেবারেই। তার ওপর ফারুকের এহেন শারীরিক মানসিক অত্যাচারে মনস্বিতা পর্যুদস্ত হয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। কেবল নিজেকে নিয়ে ভয় আজকাল, কখন মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাথাটা ঘুরে ওঠায় খানিকটা টাল খেয়েছিল বোধ করি। তাই দেখে পাশের লোকটি উঠে পড়ে।
-আপনি বসুন। বসুন। পড়ে যাবেন তো!
মনস্বিতা বসতে বসতে ভাবে পৃথিবী জুড়ে এখনো কত কত ভালো মানুষ রয়েছে হাজারো লোকের ভীড়ে। খুব অল্পতেই তুষ্ট মনস্বিতার চোখ বেয়ে জল আসতে থাকে। চোখের কোণটা মুছে নিয়ে কোনোমতে সিটে বসে। পানির বোতলটি বের করে এক ঢোক পানি খেতে গিয়ে গাড়ির মাঝামাঝি একটা জায়গায় গাড়িভর্তি মানুষজনের ভেতরে একটি মুখের ওপর তার চোখটি আটকে যায়!
-ফারুক!
ফারুক খুব উদভ্রান্ত। মাথার চুলগুলো উস্কোখুস্কো। এদিক সেদিক তাকাচ্ছে কৌতুহলী চোখে। ফারুক কী কাউকে খুঁজছে। কোথায় যাচ্ছে? ওর নতুন অফিসটি কি এদিকে? নিজেকেই প্রশ্ন করে মনস্বিতা। কি যেন বলেছিল মনে করার চেষ্টা করে;
-না না। ওর অফিসতো এদিকটায় নয়!
কোথায় গিয়েছিল, কোথা থেকেই বা এলো, আর যাচ্ছেই বা কোথায়, এসব ভাবতে ভাবতে মনস্বিতা একবারের জন্যও ফারুকের দিক থেকে চোখ ফেরায় না। তাকিয়েই থাকে। নিশ্চিত হয়, হ্যাঁ ফারুক কাউকে খুঁজছে। খুব অস্থির চোখে। মনস্বিতা চাইলে এড়িয়ে যেতে পারতো। কিন্তু সে চায় ফারুক দেখুক মনস্বিতা ফারুকের ওই চোখে ঔৎসুক্য বুঝে ফেলেছে। তাই দৃষ্টি আকর্ষণের চৌম্বক চোখে তাকিয়ে থাকে। এবং তাতেই কাজ হয়। খুঁজতে খুঁজতে ফারুকের চোখ আটকে যায় মনস্বিতার চোখে। একপলক মনস্বিতার চোখে তাকিয়ে ঠিক পরের স্টপেজে নেমে যায় ফারুক।
বিকেলের গোধূলি আলোয় নরম কোমল পৃথিবীর মায়া। ঠাণ্ডা হতে শুরু করেছে বাতাস। পাশের বাড়ির শিউলি গাছে এই শেষ হয়ে আসা দিন কিংবা সন্ধ্যার আলোতেই ফুটতে শুরু করেছে শিউলির কলিগুলি। সারারাতের আদরে সোহাগে পুরোপুরি ফুল হয়ে ফুটে উঠবে তারা। তারই সুবাস ছড়িয়ে ভরিয়ে তুলেছে যখন মনস্বিতার ঘর, তখনই এক মাথা অপমান আর শারীরিক দুর্বলতার জ্বালা নিয়ে ঘরের তালাটা খুলে নিজের ঘরে ঢোকে মনস্বিতা। ঘর খালি। অন্ধকার। আলো জ্বালতে ইচ্ছে হয় না মনস্বিতার। মন আর শরীরের সাথে পেরে ওঠা যাচ্ছে না আজকাল। ফারুক এতটা ছোট? এতটা নীচ চিন্তাও করতে পারে! বুকের ভেতর তীব্র জ্বালা। গাড়িতে ওঠার পর থেকেই মাথাটা যে ঘুরে উঠেছিল সেটা আরও বাড়ছে। মাইগ্রেনে ধরেছে কিনা কে জানে? ব্যথা বাড়তে বাড়তে আজকাল শেষ বেলায় বমি হয়ে যায়। এইসব বাজে নোংরা পরিস্থিতিগুলো ভাবতে ভাবতে মাথার রক্তটা চাড়া দিয়ে ওঠে আজ মনস্বিতার। তাছাড়া ওই লোকাল বাসের জার্নি ধোঁয়া আর মানুষের ধাক্কায় শরীরটা আজ খুব বিগড়েছে। প্রচণ্ড বেগে বমি আসছে। কোনোমতে দৌড়ে ওয়াশরুমের বেসিনে গলগল করে বমি করে মনস্বিতা। আজ কেন এমনি শরীরের ভারটা ছেড়ে দিচ্ছে মনস্বিতার বুঝেই উঠতে পারছে না। মাথাটা টেনে উপরের দিকে ওঠাতে পারছে না। কী করে ফিরবে বিছানায়! চোখে নাকে মুখে কয়েক ঝাপটা পানি দেবার পর কোনোমতে দেয়ালটা ধরে ধরে বিছানার কাছে পৌঁছাতে যেন লেগেছে এক যুগ। শুয়ে পড়ে। আজ আর রান্না খাওয়া সম্ভব নয় তার দ্বারা। ঘুমিয়ে পড়া দরকার। ঠিকঠাক মতো একটা নিবিড় ঘুম হেলে জেগে দেখবে সব ঠিকঠাক।
ফারুক আজ খুব দ্রুত বাড়ি ফেরে। মনস্বিতার চোখটা লেগেছে কি লাগেনি, এমন সময় কলবেল বেজে ওঠে। মনস্বিতা কোনোমতে উঠে দাঁড়ায়। দরজা খুলতেই হন্তদন্ত হয়ে ফারুক ঘরে ঢোকে। হাত মুখ ধুয়ে ফারুক যখন বের হয়েছে তখন মনস্বিতা আর ফিরতে পারেনি বিছানায়। শরীরটা ঝিম ঝিম করছে। সোফায় বসে পড়ে। ফারুক কোনোকালেই খুব ভালো করে দেখে না মনস্বিতার মুখ। অসুখ কিংবা অসুখ নয় আনন্দ কিংবা বিষাদ কখন কীভাবে খেলা করে মনস্বিতার চোখে মুখে, তা সে কস্মিনকালেও জানে না। আজও তেমনি অজানার সম্ভার নিয়ে মনস্বিতার পাশে বসে পড়ে। শারীরিক দুর্বলতা লোকাল বাসের জার্নি এসব কিছু নিয়ে মনস্বিতার মেজাজটি এমনই বিগড়ে আছে। সবচেয়ে বেশি লেগে আছে ফারুকের ওমন উৎসুক চোখে মনস্বিতাকে ফলো করা। আজ আর কথা না বলে থাকতে পারে না।
-তুমি আমাকে ফলো করছিলে?
-না, কই?
-তাহলে বাস থেকে নেমে পড়লে কেন?
-এমনি।
-তুমি আমার অফিসের ওদিকে গেছিলে?
-হ্যাঁ। ওই একটা কাজে?
-কি কাজ?
কথাটা বলতে বলতে মনস্বিতা ভেতর ঘরের দিকে আগায়। ফারুক পিছন থেকে এসে মনস্বিতাকে জড়িয়ে ধরে। তিরিক্ষি মেজাজটি আরো রুক্ষ হয়ে ওঠে। ফারুকের হাত দুটো ছাড়িয়ে বিছানায় বসে পড়ে মনস্বিতা। একে তো শরীর খারাপ লাগছে, তার ওপর ফারুকের মিথ্যে কথা বলা দেখে মেজাজাটা তিনগুণ তিরিক্ষি হয়ে ওঠে। ফারুক কথা ঘোরাতে চায়। মনস্বিতার কাছে আসতেই মনস্বিতা তীব্র বেগে ওকে সরায়। বুকের মাঝখানে দুহাত দিয়ে ধাক্কা দেয়াতে ফারুক খানিকটা টলে পড়ে। রাগে অন্ধ হয়ে যায়। মনস্বিতাও আজ লাগাম ছাড়া। চিরকালের শিক্ষা ধৈর্য সব যেন আজ লোপ পেয়েছে।
-কি পেয়েছ তুমি?
– কি পেয়েছি মানে?
-তুমি পরপুরুষের সাথে বেলেল্লাপনা করবে আর আমি খোঁজ নিতে গেলেই দোষ?
চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে আসে মনস্বিতার।
-খোঁজ? তুমি আমার অফিসের আশে পাশেই ছিলে তবে?
-হুম।
-ছিঃ, তোমার এতটা অধঃপতন! অধঃপতন আর কাকে বলি। তোমার এসব শিক্ষা কি কোনোকালেই ছিল?
-মানে? কি বলতে চাও তুমি?
-বলতে চাই, তুমি কি করে পারলে?
-কেন, তোমার অফিসের চারপাশটা কি তোমার কেনা না নাকি যে ওদিকে যাওয়া যাবে না? আমিতো একদিন তমালকৃষ্ণের অফিসেও গেছি।
-মানে?
-হ্যাঁ। ওকে সাবধান করতে।
-কি বললে তুমি? ছিঃ।
-অত ন্যাকা সেজো না।
-ন্যাকা সাজার কি আছে? কি কথা বলেছ তুমি তার সাথে?
-বলেছি, তোমার পিছু ছাড়তে।
বিস্ময়ে হতবাক হয়ে চেয়ে থাকে মনস্বিতা ফারুকের দিকে। ওর চোখের দৃষ্টি দেখে ফারুক ভীষন বিরক্ত হয়।
-ওমন করে চেয়ে আছ যেন গিলে খাবে?
-থুঃ।
-নিজের পকেটে অন্য নারীর চেইন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছ আর আমাকে যা তা বলে চলেছ? পিতার মতো একজন দুঃখ ভারাক্রান্ত মানুষের সাথে তুমি এমন ব্যবহার করতে পারলে?
-পিতার মতো! হা হা। মনস্বিতা সে তোমার প্রেমপ্রার্থী! তুমি ভুল করছ্।
-আচ্ছা। অনেক খেলেছ আমার মান সম্মান নিয়ে। আমি আর তোমাকে এসব নোংরা খেলা খেলতে দেব না।
-কি করবে তুমি?
হঠাৎ খামচে ধরে ফারুকের শার্টটা। তারপর একটা জোর ধাক্কা দিয়ে পেছনে ঠেলে দিয়ে বলে :
-তুমি এবাড়ি থেকে বের হয়ে যাও।
দু’ সেকেন্ড, ফারুক বিশ্বাস করতে পারে না। একি সেই মনস্বিতা। এত বড় সাহস! তাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলছে?
-কি বললে?
-হুম। গেট আউট।
-এত বড় সাহস?
-সাহসের কি আছে। দিনের পর দিন চাকরি-বাকরি ছেড়ে ঘুরে বেড়াবে। আমার ওপর নিশ্চিন্তে চলবে আর আমার মান-সম্মান নিয়ে খেলবে! আমার বুকের ওপর উঠে বসবে তুমি হত্যা করার জন্য! জাস্ট গেট আউট।
রাগে উদভ্রান্ত হয়ে ওঠে ফারুক। মনস্বিতার এমন তীব্র প্রত্যাঘাত, চিৎকার কিংবা প্রতিবাদ সে আগে কখনো দেখেছে কিনা মনে করতে পারে না। রাগে সমস্ত শরীর রিরি করছে। হাতের কাছের ফুলদানিটা নিয়ে ছুঁড়ে মারে মনস্বিতাকে লক্ষ্য করে। আর সেটা মনস্বিতার মাথায় লেগে কেটে গিয়ে ঝরে পড়তে শুরু করে রক্ত। মনস্বিতা মাথায় হাত দিয়ে চেপে ধরে। হাত বেয়ে গলগল করে পড়ে তাজা লাল রক্ত। ফারুকের সেদিকে খেয়াল নেই। হনহন করে সে বাইরে বের হতে গিয়ে দেখে বাড়ির দরজা ভেদ করে ঘরে ঢুকে পড়েছেন মনস্বিতার বাবা। বিস্মিত চোখে চেয়ে থাকে। মনে মনে অনেক কথা ভাবে। তার শ্বশুর কথন এলেন? হঠাৎ কেনই বা এলেন এমনি না জানিয়ে। ঘরেই-বা ঢুকলেন কি করে। মনস্বিতা কি তবে সব জানতো? ফারুকের অস্থির তীব্র অসংলগ্ন দৃকপাতের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। বুঝতে পারছে না মনস্বিতার স্বামী তার জামাতাটি কেন তাকে বসতে বলছে না। ঘরে যেতে ডাকছে না। বরং হন হন করে তার সামনে দিয়ে বের হয়ে চলে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর দিকে পা বাড়ান তিনি। মনস্বিতা তখনো মাথার কাছটা হাতে চেপে ধরে রয়েছে। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল। মনস্বিতার বাবা এসে দাঁড়ান কন্যার সেই আহত বিষণ্ন বিষাদাক্রান্ত প্রতিতূর্তির সামনে।

[চলবে]

 

পূর্ববর্তী পর্বের [৪৭] লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-39/

পরবর্তী পর্বের (৪৯) লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-41/