শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৫০]

0
154

পর্ব ৫০

নিজেই গরম জল করে স্নান করতে গেছেন মনস্বিতার বাবা। জার্নিতে সারাদিনের শারীরিক ধকল তো গেছেই। মেয়ের সংসারে এসেপড়ে মানসিক ধকলটা বোধ করি আর সইতে পারছিলেন না। সন্তান হারানো অসুস্থ মেয়েটাকে দেখতে আসতে পারেননি এতদিন। বয়স হয়েছে যখন তখন একা চলাফেরা করতে সাহসের দরকার। অনেক অয়োজন করে যখন দেখতে এলেন, কী এক বীভৎস যণ্ত্রণার আগ্রাসনে পড়ে গেলেন! হৃদয় চিরে চিরে দুরন্ত দুঃসহ যাতনার বিশেষ কুড়ে কুড়ে খেয়ে চলেছে সমানে অস্তিত্বের প্রগাঢ় আলোর প্রহরগুলো। জারিন সূতোয় বোনা দারুণ জমিন। মেনে নিতে পারেননি তিনি। মেনে নেয়া কিংবা মনে নেয়ার ন্যূনতম সময়ও তিনি পাননি আসলে। এমনি ঘটনার আবর্তে ফেলে দিল জটিল রথচক্র যে তিনি অজান্তেই রথে চড়ে বসেছেন। আর দেখে চলেছেন কুরুপাণ্ডবের জটিল যুদ্ধের ভয়ানক আক্রোশ। যাপনের যাবতীয় যাতনা সংসারে নিত্যনৈমিত্তিক কলরব কিংবা টানাপোড়েন – সব কিছু থেকে পরিত্রাণ পেতে তার আছে একজনই ঈশ্বর। তিনিই সমাধান দেবেন। সব মুশকিল আসান করবেন তিনি, এই তার চিরকালের বিশ্বাস। তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শেষে তার প্রার্থনা কিংবা বিচার সব ইহকাল পার করে পরমাত্মার দরবারে। খুব বেশি বিচলিত নন তিনি। তথাপি সন্তানের এই জটিল সংসার নাগপাশ হয়ে রয়েছে মেয়েটির, তা কোনোকালেই জানা সম্ভব ছিল না। এইতো নিয়তি। তাই আজ এই সময়ে ঈশ্বর তাকে এনে ফেলে দিলেন এখানে। করাল অন্ধকার মনে হচ্ছে সব। সন্তানের জীবন সংশয় দেখতে পাচ্ছেন যেন চোখের সামনে। এভাবে ফেলে রেখে দেয়া যায় কি সব! কী আছে সফলতা তাহলে তার পিতৃত্বের। তার সন্তান নিজের ঘরে হাতের মুঠোয় জীবনটা নিয়ে সারারাত আধো-নিদ্রায় জীবন অতিবাহিত করবে, রাতদিন সংসারের চাকা সচল রাখতে জীবন উৎসর্গ করবে, আর তিনি পিতা হয়ে তা চেয়ে চেয়ে দেখবেন! কিছু একটা সমাধান দরকার। এভাবে চলতে দেয়া যায় না ভাবতে ভাবতে কুসুম কুসুম গরম জল গায়ে ঢালতে থাকেন মনস্বিতার বাবা। মনস্বিতার সামনে আপাত স্থিতধী হক সাহেবের চোখের জলে ভেসে চলেছে নিষ্ঠুর সময়। মনস্বিতা জানে না তার কিছুই। সাধারণত ঢাকা এসে পৌঁছাতে সময় লাগে আড়াই-তিন ঘন্টা। আজ কেন এতটা সময় লাগলো মনস্বিতার বাবার ঢাকা পৌঁছাতে, রাস্তায় কোনো ঝামেলা হয়েছিল কিনা, এসব জানতেও সময় পায়নি মনস্বিতা। তাছাড়া নিশ্চিতভাবেই হয়তো ভেবেছেন মনস্বিতা ফারুকের জন্য অপেক্ষায় অধীর হয়ে বাড়ান্দায় বের হয়েছে। মনস্বিতা যখন উন্মাদ বাঘিনীর মতো বাইরে বের হয়ে আসছিল তখন শুনছিল পেছন থেকে বলছিলেন :
-বেশি সময় বাইরে থেকো না। শরীরটা খুব দুর্বল তোমার।
কোনোমতে টলতে টলতে মনস্বিতা যখন ঘরে ঢোকে তখন বাবাকে আশেপাশে কোথাও দেখতে পায় না। বাথরূমে জলের শব্দ শোনা যায়। তখনই ঘটমান নাটকের এই শেষ মুহূর্তে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয় তার। আপাত কুৎসিত নাটকের শেষ দৃশ্যের বীভৎসতা তার বাবার চোখের সামনে ঘটেনি এই ভেবে। মনস্বিতা আর মনোভার নিতে পারছে না। ফারুকের জন্য চিন্তা হচ্ছে। জানালার পর্দা সরিয়ে দেখে আঁৎকে ওঠে।
-নেই? নেই!
কোথায় গেল ফারুক! যে জায়গাটায় মনস্বিতা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল ফারুককে সেখানটা শূন্য। এছাড়া আর কিছুই করার ছিলনা তার। তবু সে নিজের চরিত্রের এই ভয়ঙ্কর আর অজানা রূপোন্মচনের মুহূর্তেও ছিল পুরোপুরি সুস্থিত। নিজের উপর যে নিয়ন্ত্রণহীনতা জেঁকে বসবার কথা ছিল, তা তো হয়নি। এ-কারণে ফারুককে পাল্টা একটা চড় সে লাগায়নি। ফারুকের ন্যূনতম সম্মান রেখেই করেছে যা করার ছিল। এইসব ঘটনার দায় আজকাল আর সে নিজেকে দিতে চায় না। দেয়া উচিতও নয়। ভেতর থেকে কেউ আজকাল সত্যিই ডেকে বলে :
-ভালোবাসা নয় মনস্বিতা। এ ভালোবাসা নয়। এ জৈবিক। সম্পর্কটি পুরোপুরি জৈবিক। শুধুই জৈবিক মনস্বিতা। তাইতো কিছুই মিলছে না তোমার। এত করেও এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়। পাবে না তুমি। বের হয়ে এসো। যত দ্রুত সম্ভব। অস্বস্তি যা কিছু দ্রুত সমূলে উৎপাটন করো মনস্বিতা। দ্রুত…
তবু মন মানে না। নিজেকে বলে :
-না। হতে পারে না। এ ভুল। মিথ্যে কথা সব। এসব ভাববার দরকার নেই মনস্বিতা।
মায়া, এ এক বেঘোর আচ্ছাদন। বেসামাল অপরিত্রাণ। এত নিষ্ঠুরতার পরও মনস্বিতা ফারুককে ভীষণ ভালোবাসে জানতো। কিন্তু আজকাল ভ্রমগুলো অক্টোপাশের মতো প্যাঁচ কষছে কেন যে! কেন যে ভুগর্ভ থেকে তুলে নিয়ে আসছে দুরন্ত উত্তাপ! যেন কোন এক গভীরে তৈরি করবে কঠিন প্রলয় আর তারই কম্পনে প্রলয়ঙ্করী হয়ে উঠবে সমুদ্র! উত্তিত হবে দশহাতে দুর্গা। দুর্গতি বিনাস করবে সে সুনামীতে! গিলে খাবে তার সাধের সংসার। নতুন কোনো প্রাণের সম্ভাবনা। এ হতে পারে না। মনস্বিতা এ হতে দেবে না। প্রায়ই রেললাইন থেকে ছিটকে পড়া বগির মতো গতি হারায় ভাবনাগুলো তাই। সরে আসে অকাট নির্ধারিত সিদ্ধান্ত থেকে। দুলে দুলে ওঠে মন। কেঁপে কেঁপে ওঠে সংসার। তারচেয়েও বড় বেশি যেন শেকড়ের উন্মাদনা। এই ঘর এই সংসার ছেড়ে কোথায় যাবে মনস্বিতা! কেন যাবে! নিজের মনের দ্বিধাবিভক্তিটাও আজকাল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। প্রায় প্রায়ই তার ভেতরের ব্যক্তিমানসটি কী চাইছে কী চাইছে না, তা ভাবতে বসে যাচ্ছে সে যখন-তখন। এমন তো ছিল না। সেতো কোনোদিন স্বপ্ন দেখতে শেখেনি নিজের মতো করে। মায়ের স্বপ্ন বাবার ইচ্ছে স্বামীর স্বেচ্চাচারিতা মেনে নেওয়াই তার একমাত্র ধর্ম জেনে এসেছে চিরকাল। তবে আজ কেন মেনে নিতে পারছেনা ফারুকের স্বেচ্ছাচারিতা! এসব ভাবনা থেকে হঠাৎ অন্তর ঘটে মনস্বিতার। লাফ মেরে ওঠে বিছানা ছেড়ে আবার।
-ফারুক এলো বোধ করি।
জানালার পর্দা সরায়। সুবেহসাদিকের হালকা আলোর রেখা ক্ষীণ একটা আশার রেখা টেনে দিয়ে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। হয়তো আলো ফুটতে ফুটতে ফিরে আসবে ফারুক। যত যাই ঘটুক না কেন, অফিসের দরকারি এডিটিং না থাকলে কিংবা ব্রডকাস্ট জাতীয় ঝামেলা না থাকলে রাতেও ফারুক বাড়ির বাইরে অবস্থান করে না। এই সময় যাবে কোথায়! মাথাটা এর বেশি ভার নেবার শৃঙ্খলতায় নেই আর এই মুহূর্তে। পুরো শরীর ঝিমঝিম করছে। হাত পা কাঁপছে। এই দুর্বলতার মাত্রা অতিক্রম করা শরীরে ফারুকের জন্য ভাবনাটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারে না। সহ্যের বাইরের অস্থিরতায় কতটা যে নিস্তেজ করে আনছে শরীর তা বুঝে উঠবার আগেই অচেতনের মতো ঘুমে ঢলে পড়ে মনস্বিতা। পড়ে থাকে সব – বাবার রাতের খাবার হয়নি, সকালে কি নাস্তা করবেন, ফারুক কি ফিরে আসবে! বাবা বাড়ি গিয়ে মাকে কি বলবেন এসব ভাবনা যেন কর্পূরের মতো বাতাসে মিলায়। নিজের শরীরটাকে এত হালকা লাগতে থাকে মনস্বিতার। মনে হয়, পলকা হাওয়ায় ভেসে চলেছে সে দূর কোনো ইপ্সিত স্বর্গের ধারে কাছে! সে-রাতে আর ফেরেনা ফারুক। বিবাহিত জীবনে এই প্রথম এমনটা ঘটলো। সারাদিনেও ফেরে না। হক সাহেব নামাজ পড়েন। মেয়ের বিছানার কাছে ফ্লোরে জায়নামাজে বসে মাথায় ফুঁ দেন ছোটবেলার মতো। মনস্বিতার চোখ বেয়ে জল আসে। নিজের জন্য। ফারুকের জন্য। বাবার বুকের ভেতরের ফাটলটা দেখতে পায়, তার জন্য। তার মা শুনলে কি ঘটবে তার জন্য। এই দুর্বল মাথা আর শরীর বিছানা ছাড়তে পারে না। বাবা নাস্তা বানান। নিজে খান। মেয়েকে খাওয়ান। ঘরে মাছ মাংস কিছু নেই। বাজারে যান। কাজের মেয়েটাকে দিয়ে মাছ তরকারি কোটান। মেয়েটি রান্না করে দিয়ে গেলে মেয়েকে বিছানায় এনে প্লেটে খাবার মেখে মুখে তুলে খাইয়ে দেন। মনস্বিতার চোখে জল বাড়ে। গড়িয়ে পড়ে। গাল বেয়ে জলের ধারা বসন ভেজায়। বাবা কিছু বলেন না। খাবার খাওয়ানোর পর জল পান করতে দেন। দাঁড়িয়ে থাকেন খালি গ্লাসের জন্য। তারপর সেটা ডাইনিং টেবিলে রেখে আসেন। বেলা পার হয়। আসর পার হয়। মাগরিবের সময় হয়। হক সাহেব নামাজ পড়েন। বিছানার কাছটাতে বসে দেখেন মেয়ে ঘুমিয়েছে কিনা। কিছু বলতে চান। বলবেন কি না ভাবেন। মনস্বিতার চোখ খোলা দেখে কিছু বলবেন ভাবতে ভাবতে কখন যেন কথা বের হয়ে আসে মুখে।
-মা?
তার কণ্ঠস্বরে কী এক গভীর বেদনার উতরোল, মনস্বিতাকে একটানে গভীর পাতাল থেকে যেন টেনে আনে উন্মাতাল পৃথিবীতে। উঠে বসতে চায়।
-শুয়ে থাকো। উঠোনা। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো। তোমার নিজের জন্য আর কেউ নেই মা। আমি তোমার মা যতদিন বেঁচে আছি, তাও বৃদ্ধ হয়েছি দুজনেই। কিন্তু নিজের যত্ন করতে শেখো। নিজের মঙ্গল ভাবতে শুরু করো এবার থেকে, মা। ভাবো। তুমি সংশপ্তক, এটা তোমার জানা নেই এতটা বোকা নয় আমার কন্যা। তবু বলি, একবার কি ভাবা যায় না পিছু হটার কথা। নিজের কথা কি একবার ভাবা যায় না।
মনস্বিতার হৃদয় যখন বিদীর্ণ হয়ে চলেছে তখন একী কথা বলে চলেছেন তার পিতৃদেব! খুব কষ্ট হয়েছে তার, এটুকু মনস্বিতা জানে আর তাতেই ভীষণ উচাটন। আবার উঠে বসতে চায় বিছানা ছেড়ে। বাবা তাকে উঠতে দেন না। মাথার কাছে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলেন :
-আমার কথাগুলো ঠাণ্ডা মাথায় ভাববে। খুব গভীর মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণে করবে। অত উত্তেজিত হবার কিছু নেই। সেরে উঠবে তারপর ভাবনা শুরু করবে। সবের আগে নিজের যত্ন করবে।
মনস্বিতা এদিক সেদিন তাকায় একবার। কতক্ষণ ঘুমিয়েছিল ঠাহর করতে পারে না। প্রচণ্ড লজ্জা লাগে তবু বাবাকে প্রশ্ন করে :
-বাবা, ফারুক ফেরেনি?
বাবা নির্বাক হয়ে থাকেন। এতক্ষণ যে কঠিন শপথে বুকের ভেতর খুবলে ওঠা রক্তকে প্রবোধ দিয়ে চলেছেন মেয়েটি কেন অঞ্জলি ভরে তাই তুলে নিতে চাইছে সেটাই বুঝতে পারেন না তিনি। কী বলবেন ভেবে পাচ্ছেন না যখন, ঠিক তখনই কলবেলটা বেজে ওঠে। উস্কোখুস্কো চুলে ফিরে এসেছে ফারুক। মনস্বিতার বাবা দরজা খুলে দিলে কোনো দিকে না তাকিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। মনস্বিতার দিকে একপলক তাকিয়েই স্নানঘরে ঢুকে যায়। পরিস্থিতি খানিকটা ঠাণ্ডা হতে থাকে। মনস্বিতা উঠে দাঁড়াতে পারে। মাথায় ব্যাণ্ডেজটা খুলে পরীক্ষা করা হয়। সব ঠিক আছে। ঘা শুকোতে শুরু করেছে। সাতদিন পার হয়। মনস্বিতার বাবার উদ্বেগ খুব সামান্যই কমে। তাকে বাড়ি ফিরতে হবে এবার। যাবার বেলা ফারুকের সাথে কোনো কথা বলেন না তিনি। ফারুকও নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকে। মনস্বিতা বাবাকে গাড়িতে তুলে দিতে যেতে চায়। তিনি নেন না। মনস্বিতার খুব ইচ্ছে হয় ফারুক অন্তত যাক বাবাকে তুলে দিতে। বলতে জিভ সরে না। যতদূর পথ দেখা যায় মনস্বিতা তাকিয়ে থাকে। বাবাও রিক্সাটা যতদূর গেলে মেয়ের মুখ দেখা যায় ততদূর অবধি চেয়ে থাকেন। শেষবেলায় গলাটা একটু বাড়িয়েও তাকান। মনস্বিতার বুকের ভেতরটা কেন হূ হূ স্বরে কেঁদে ওঠে। আঁচলে চোখ মুছে কান্না ঢাকতে ভেতরে যেতে যেতে শোনে ফারুকের কণ্ঠ।
-ন্যাকামীর শেষ নেই।
হক সাহেব যখন ময়মনসিংহে তার বাড়িতে ঢুকেছেন, তখন বাড়িতে তার শ্যালক এসেছেন। মনস্বিতার মায়ের সাথে তুমুল বাকবিতণ্ডা চলছে শুনতে পান। হক সাহেবের শ্বশুর মারা গেছেন প্রায় ৩০ বছর তো হবেই। তারপরেও সতেরো বছর তালুকদারি সামলেছেন তার শাশুড়ি। তিনি গত হয়েছেন সেও প্রায় ২০ বছর হবে। মনস্বিতার মায়েরা তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে মনস্বিতার মায়ের অর্থনৈতিক অবস্থাই কেবল অন্যদের তুলনায় একটু খারাপ। তাই তিনি ভেবেছেন, বাবার তালুকদারিতে তার প্রাপ্য সম্পত্তি তিনি ছোট ভাইয়ের কাছে চাইবেন। ট্যারিফ কমিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে অবসর গ্রহণের পর তিনিই তালুকদারি দেখাশোনা করছেন। ভাইবোনের উত্তপ্ত কথাবার্তা শুনে হাতমুখ ধুয়ে এসে তিনি বসেন তাদের মাঝখানে। শ্যালক তখন তার মেঝো বোনকে তুমুল গালাগালি করছেন।
-কি পাইছিস বুজান তুই?
-কেন আমার প্রাপ্য অংশ আমার দরকার।
-হঠাৎ কি হইলো তোর?
-আছে কিছু দরকার।
-কি বলতে চাস তুই। যদুবংশে কুড়াল নিয়া নামছস তুই!
–তা তুই যা-ই গালাগালি করস, আমার কিছু বলার নাই।
–আমি এই সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা করবো না।
–আমার টাকার দরকার।
–কত টাকা দরকার তর?
–অনেক।
মনস্বিতার মামা মনস্বিতার বাবার দিকে তাকিয়ে যেন বিচার করবেন তিনি এমন আশায় বলেন :
–দুলাভাই কন, এইটা কোনো কথা? এত বড় সম্পত্তিটা ভেঙে টুকরা করা কোনো কাজের কথা? কিছু বলেন না কেন দুলাভাই?
–বল, কত টাকা দরকার তর!
–প্রায় কোটি টাকা।
–আমি দুই কোটি টাকা দিমু তরে, চলবো?
–টাকাটা আমার খুব তাড়াতাড়ি দরকার। এটা মনে রাখিস।
মনস্বিতার মা উঠে ভেতরে চলে যান।

[চলবে]

পূর্ববর্তী পর্বের (৪৯) লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-41/

পরবর্তী পর্বের (৫১) লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-43/