শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৫৫]

0
661

আগে যা ঘটেছিল >>

পুজার একটা অনুষ্ঠানে মনস্বিতার সঙ্গে টুলটুলের দেখা হয়। দেখেই নিজের মধ্যে একধরনের সম্মোহন বোধ করতে থাকে মনস্বিতা। সেই সাক্ষাতের পরবর্তী ঘটনা নিয়ে বর্তমান পর্বটি। ঘটনাটি কোন দিকে কীভাবে বাঁক নিচ্ছে, পড়ুন এই পর্বে।

পর্ব ৫৫

মনস্বিতার উন্মীলিত প্রক্ষিপ্ত দুই চোখে টুলটুলের চোখ নিবন্ধ। টুলটুল কি পরাজিত হবে এ-প্রখর দৃষ্টিপাতের আঘাতে? এত সম্মোহ এ মেয়েটির চোখে? এমন জলটল্মল্ দীঘির মতো চোখ আর কখনো কি দেখেছে? এই বুঝি চোখের কাজল গড়িয়ে টুপ্ করে ঝরে পড়বে একফোটা জল। গভীর করে টানা কাজলের রেখাটিও এমনি তোলপাড় করে বুকের ভেতরটায়। যদিও টুলটুল তমালকৃষ্ণের কাছে শুনেছে যে মেয়েটি বছরখানেক হলো সন্তানহারা তবু, সিম্পলি, একটা তীরের মতো ধার চকচকে শরীর। কিছুকালের সতৃষ্ণ টুলটুলকে ঠিক কোন্ কোন্ স্নায়ুর অনুরণনে ভাবিয়ে তুলছে সেটা এই মহূর্তে এক জটিল প্রশ্ন হয়ে দেখা দেয়। মাথার লম্বা ঘন কালো একঢাল চুল মেয়েটি কেন যে এমন অগোছালো ছড়িয়ে রেখেছে? নাম না জানা কেমন একটা বুনোফুলের ঘ্রাণ উঠে আসছে এই এলোমেলো অযত্নে বেড়ে ওঠা নারীর গা থেকে। এ কী কোনো পাহাড় থেকে নেমে এসেছে? কোনো ঝর্ণার জল কি এর গায়ে লেগে আছে? পরিশ্রান্ত শরীর দেখেই বোঝা যায়, তার সাথে ওই বুনোগন্ধ টুলটুলের শরীরে মনে কী এক অদ্ভুত আলোড়ণ তুলে হারাচ্ছে অজানায়। পুকুরের জলে ঢিল মেরে তরি করা এ যেন জলের অনন্তর বন্ধন। কেন্দ্র থেকে পরিধিগামী স্পন্দন কিন্তু দ্রুতই যে বদ্ধজলে ফিরে আসবে আবার কেন্দ্রেরই অভিমুখে। পরনের কাপড়ে নেই নিপাট ভাঁজ। দামী পারফিউমের গন্ধে নেই উত্তাল ঝড়ো হাওয়া। ওই অগোছালো চুলের ফাঁকেই উঁকি দিচ্ছে কদিন আগের মাথার সেলাইয়ের কাঁটা দাগটিও। এ নারীর কোনো যত্ন নেই নিজের প্রতি। না চেহারায় না পোশাকে। না শরীর না চুলের। ওর দিকে তাকালেই বোঝা সহজ অনেককিছু। মনে হয় মনেরও একই অবস্থা। আহত অবস্থায় ঢলে পড়ে যাচ্ছিল সেদিন ওর বাবার সাথে রাস্তায় গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে। ঠিক ওই সময়ই তমালকৃষ্ণ তাকে নিয়ে বের হয়েছিলেন। বাবার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না কদিন ধরেই। বললেন তাকে একটু ড্রাইভ করে নিয়ে যেতে। গাড়িটা কিছুদূর যেতেই তমালকৃ্ষ্ণ বললেন :
-আরে আরে, মনস্বিতা না? টুলটুল একটু রাখ তো গাড়িটা। বাঁদিকে রাখ। ওইযে মেয়েটা, হ্যাঁ হ্যাঁ। ওর কাছে রাখ গাড়িটা।
গাড়িটা থামতেই পাগলের মতো ছুটে বেরিয়ে মেয়েটিকে বুকে করে নিয়ে এসে বসেছিলেন গাড়িতে। বাবার শার্টটা মেয়েটির মাথা থেকে গড়িয়ে-পরা রক্তে লাল হয়ে গেছিল। তারপর হসপিটাল। বাড়ি। আর তারই ঘণ্টাখানেক বাদে মেয়েটির কি ভীষণ তেজস্বী শক্তিময় রূপ দেখেছিল টুলটুল। দারুণ রোষে একহাতে ধরে রেখেছিল ফারুকের শার্টের কলার। তখনো মাথার সেলাইয়ের ফোঁর কাঁচা। প্রচুর রক্তক্ষরণে ক্লান্ত অবসন্ন। অথচ পূর্ণ শক্তিতে ধরে রেখেছিল একজন জোয়ান পুরুষের কলার। নড়তে পারছিল না ওর স্বামী। আর একই রকম তেজস্বী চিৎকারে টুলটুলকে নির্দেশ করছিল;
-আপনি গাড়ি ছাড়ুন, তাড়াতাড়ি। চলুন…প্লিজ
সেদিনের সে কালিরূপিনীর আজ এই আলাভোলা রূপ বড় ধন্ধ জাগায় টুলটুলকে। সে ধন্ধ নারীর অহংয়ের। নারীর শক্তিমত্তার। সে ধন্ধ নারীর প্রেম ও ঘৃণার। তুচ্ছতার। নারীর অবহেলার আর বেশ খানিকটা মুগ্ধতারও। তেজস্বী মনস্বিতার অনির্বচনীয় সে ছায়াটাও এসে দাঁড়িয়েছে অলক্ষ্যে সকলের অজ্ঞাতে টুলটুলের চোখের সামনে দাঁড়ানো এই মনস্বিতারই শরীরের পেছনে। আজ তার অন্যরূপ। এই উজ্জ্বল সন্ধ্যায় এই শ্যামাকে পড়ন্ত বিকেলের রোদের মায়ামাখা হিজলের কাঁচা রঙের মতো দেখায়। যেন ঝুকে পড়েছে জলের উপর, সতৃষ্ণ ঠোঁটে। এ কি সেই পদ্মাবতী! মড়াল গ্রীবা টিয়াপাখি নাক পানপাতা মুখ ধনুকের মতো ঋজু অহংবোধ আর লম্বা লতানো শরীরে এক অভূতপূর্ব স্বয়ংপ্রভা?
ধ্যাৎ, কেমন গুলিয়ে দিচ্ছে মাথার ভেতরটা। এই ক্ষণকালেই জমেছে অজস্র কুয়াশা। সুস্থ ক্রিয়াশীল ভাবনাগুলো নিবিষ্টতা হারাচ্ছে। অদ্ভুত তো! টুলটুল দুহাতে নিজের মাথার ভেতরের কুয়াশা সরানোর চেষ্টা করে। পারে না। সে কুয়াশার ভেতর দিয়ে ত্রস্ত দুটো পা হেঁটে চলে যায় অলক্ষ্যে। নিজেকে চিনতে খুব কষ্ট হয় এই মুহূর্তে। দীপা একটা অন্ধকার দ্বীপ রেখে গেছে তার জন্য। চারপাশে যার জল থৈ থৈ। কোনো জনমানুষ নেই যে দ্বীপে। জল পেরিয়ে বহুদূর থেকে এখানে খাদ্য আহরণ করে আনতে হয়। ঝড়বৃষ্টিতে বুনে রাখা চারাধানের মাথা নুয়ে পড়ে ভূমিতে। হায় হায় রব ওঠে চারপাশে তখন। ফসলবিলাসী কৃষকের মাথায় বাজ পড়ে। সব হারিয়ে পথে বসবার যোগাড়। এ কী সেই অন্ধকার দ্বীপে আলো জ্বালাতে এসেছে? কৃষাণী? না হলে এমনি সময় কেন এর আগমন? আর কেনই বা এতটা ছায়া-মায়া-কায়া নিয়ে খেলে চলেছে! চোখে এমন কী সম্মোহন যে সরে যেতে পারছে না টুলটুল! নিজের দৃষ্টিটাও সরাতে পারছে না! মেয়েটিও এক অদ্ভুত চরিত্রের। ওই প্রগাঢ় দৃষ্টিতে এভাবে কোনো পুরুষের চোখে চোখ রাখতে হয়? জানে না এই নারী? এ-নারীর আসলে নিজের সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই।
সত্যিই তো তাই। মনস্বিতা কোনোদিন জানেনি তার ভেতরে কী কী লুকানো রয়েছে। মুক্তো মানিক। আছে কীই-বা বাহ্যিক? তার মুখের দীপ্তিতে রয়েছে কোন আলোর উদ্ভাস? কেবল একজন একদা বলতো :
-তুমি, সুন্দর।
মনস্বিতার তাতে অহংকার হতো না। বরং আনন্দে হেসে গড়িয়ে পড়তো তার গায়ে গায়ে। ধুমল বৃষ্টির মতো গলে গলে পড়ে যেত তখন মনোলোকের গভীরে লুকোনো কিছু মেঘ। দুলে দুলে উঠতো তখন বুকের ভেতরে যত সুগন্ধী ফুল। দুজনেরই।
-তোমার, চোখ সুন্দর।
বলে মুগ্ধ চোখে চেয়ে থাকতো তার কবি। একআকাশ আলো জ্বলে-নিভে তোলপাড় করতো তখন মনস্বিতার সারাবেলা এসব চূর্ণ কথায়।
-তোমার হাসি বুকের গভীরে তোলপাড় করে।
-তোমার লেখা নক্ষত্রের মতো।
-তোমার স্পর্শ শরীরে কাঁপন তোলে।
-তুমি কবিতা তুমি কথা তুমি প্রেম তুমিই ব্যথা।
আহা। অথচ ব্যথা দিয়ে গেল। মনস্বিতা নয় সে-ই ব্যথা দিয়ে গেল। কী সুন্দর সে সব সোনাঝরা দিন। এত কাজ এত ব্যস্ততা রাজনীতির ঘেরাটোপে প্যাঁচ খেতে খেতে কবে কখন কোথায় হারালো সে কবি। মনস্বিতা তাকে খুঁজতেও গিয়েছিল। তখন তুমুল অস্থিরতা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বৈরশাসনের তুমুল দাপটে ভেঙে পড়ছে পূর্বাপর সমস্ত রাজনীতি। ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে ঢাকায়। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ছাদে ছাদে ছাত্রছাত্রীরা মিছিল করছে। ১৪৪ ধারা শিথিল করা হলে শুরু হয়েছে নতুন আন্দোলন। ঘন ঘন ছাত্ররা মিছিল করে প্রতিবাদ করছে। রাজপথ প্রকম্পিত হয়ে উঠছে মুহূর্মুহু। তখন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটি মিছিল যাচ্ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুলিস্তানের দিকে। এক ট্রাক পুলিশ তখন মিছিলটিকে ধাওয়া করে। উন্মত্ত পিশাচের মতো ট্রাকটিকে উঠিয়ে দেয় মিছিলের ছাত্রদের ওপর। এই আঘাতে দুজন ছাত্রনেতা ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরদিন শুরু হয় এই নির্মম হত্যার বিরুদ্ধে নতুন করে প্রতিবাদ। আবার মিছিল। হরতালের আহ্বানে সারা ঢাকা শহর তখন উত্তাল, উত্তপ্ত। প্রতিবাদে প্রতিবাদে মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মনস্বিতা কোনোভাবেই তার সাথে যোগাযোগ করতে পারে না। সকলে ছাত্র নেতাই তখন ভেতরে ভেতের ফুঁসে উঠছে দারুণ রোষে। জ্বলছে। কে মনস্বিতা- কার প্রেমিকা- ভাবছে কার কথা। এসব ভাববার তখন সময় নেই কোনো ছাত্রনেতার। সেদিন এফ রহমান হলে সরকার সমর্থক একটি সশস্ত্র দল গুলি চালালো। ওদের দিকে পাল্টা গুলি ছুঁড়ছিল মহসিন হল থেকে প্রতিপক্ষ অন্য একটি দলের ছাত্ররা। তৃতীয় আরেকটি দল দুই দলের মাঝ বরাবর চলে আসে। তারা এই পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির কথা জানতো না। এই মিছিলেরই পুরোভাগে ছিল মনস্বিতার কবি। হঠাৎ করেই মিছিলটি সশস্ত্র দুই দলের মাঝে পড়ে যায়। আর সাথে সাথেই একটি বুলেট এসে বিদ্ধ করে মনস্বিতার কবিকে। বুকের রক্ত দিয়ে অমর কবিতা লিখে রেখে দিয়ে চলে গেছে সে চিরতরে। দেশের জন্য। মনস্বিতার জন্য। সে গেছে। নিয়ে গেছে মনস্বিতার জীবনের সব সুন্দর। সব প্রেম। সব মধুরতম আল্পনা। মধুরতম শব্দ বাক্য প্রেম কবিতা আর জীবনজয়ের পতাকাটিও। তার মরদেহের ওপর রক্তের অক্ষরে লেখা ছিল হয়তো দেশ আর মনস্বিতাকে নিয়ে তার শেষ কবিতা। শেষ শ্লোগান।
তারপর আর কখনো তো কেউ বলেনি সে সুন্দর! আর কখনো চিনতে পারে নি মনস্বিতা নিজেকে। সে গেছে। সে ছিল মনস্বিতার প্রণয়প্রার্থী, প্রেমিক। সে ছিল একমাত্র প্রণয়গ্রাহী। সে মনস্বিতার কবি। কবির বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ অনুযোগ মনস্বিতার মনে স্থান পায়নি। সে নিয়ে গেছে মনস্বিতার যা কিছু আপন। সব স্বপ্ন আর অনুরোধ বিরোধের যাবতীয় অনুভবও যেন গোপনে নিজের ভেতরে ডুব দিল। মনস্বিতা টের পায় এটা। এইটুকু অভিমানই সৃষ্টিকর্তার প্রতি মনস্বিতার যাপনের মাঝে খুব সঙ্গোপনে রয়ে গেছে। ফারুকের সংসারের দায়িত্ব পালন করতে করতে আর কঠিন সংগ্রামে যাপিত জীবনের ফাঁক-ফোঁকরে কখনো নিজের চেহারা আয়নায় দেখার সুযোগ হয়নি তার। চোখের কোণে কাজল টেনে আয়নার ভেতর দিয়ে ফারুকের দিকে তাকালে দেখতো ফারুক খুব যত্ন করে বসে পায়ে জুতো পড়ছে। সাজের শেষ বেলায় বড় ভাইয়ের বিদেশ থেকে আনা খুব আদরের পারফিউমের শিশিটা হাত থেকে পড়ে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলে মনস্বিতার হৃদয়টাও ভেঙে পড়তো কাঁচের মতো। অসহায়ের মতো ফারুকের দিকে তাকাতো। হৃদয়বেদনার তুচ্ছতার যে-ভারটুকু ফারুকের দুটো সমব্যথী শব্দ-উচ্চারণের দ্বারা মুহূর্তেই দূর করা যেত তাই যেন ঠিক উল্টো পথে জেঁকে বসতো হৃদয় ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে। ছড়ানো ছিটানো পাতলা কাঁচের টুকরোগুলো জোড়া লাগানোর কোনো তাগাদা ফারুকের থাকতো না। মনস্বিতার হৃদয় বিদীর্ণ দেখেই ফারুক উল্টো দিকে ঘুরে পড়তো। আর তারস্বরে ডাকতো;
-কই? অত সময় লাগে সাজতে।
তারপর পরই ভীষণ বিরক্তি আর অধৈর্য থেকে উচ্চারণ করতো একটা শব্দ :
-ধ্যাত্তেরি। মেয়েমানুষ নিয়েই যত ভোগান্তি।
টুলটুলের দৃষ্টিতে আজ এমন কি সম্মোহন রয়েছে! এমন দশাসই একজন পুরুষ এভাবেই বা তাকিয়ে রয়েছে কেন তার দিকে। টুলটুলের গায়ে এখনো আরতি নৃত্যের ধোঁয়ার ভাপ উঠছে যেন। ধোঁয়ার কুণ্ডলিগুলো যেন পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে উঠছিল টুলটুলকে বেষ্টন করেই। দূরে বসে বসে মনস্বিতা দেখছিল নিবিষ্ট চোখে। এখন যেন সে ধূপের ঘ্রাণ উথলে উঠছে টুলটুলের শরীরের নানান প্রান্ত থেকে। মনস্বিতার নাকের রন্ধ্র বেয়ে সে-ঘ্রাণ উঠে যাচ্ছে মস্তিস্কের এখানে-ওখানে। স্নায়ুতন্ত্রগুলো কী অসাঢ় হয়ে পড়ছে মনস্বিতার? মনস্বিতা কী মুগ্ধ? নাকি বহুকাল পর অর্ধ-উন্মু্ক্ত এক পুরুষের শরীর তাকে উতলা করে তুলছে বস্তুগত কোনো জৈবিক তাড়নায়? না হলে নড়তে পারছে না কেন সে? সরাতে পারছেনা কেন ওর চোখের থেকে নিজের দৃষ্টি?
টুলটুল কোনদিনই ভাবেনি ওই দুটো পা এমন সম্পূর্ণ কায়া নিয়ে এসে দাঁড়াবে ওর চোখের সামনে কোনোদিন সমূর্তিতে। হঠাৎ খেয়াল হয় এই মনোজাগতিক মহাপরাক্রম থেকে মুক্তি পাবার জন্য তার মন উতলা। তাই ঠোঁটের কোণে একটা দ্ব্যর্থক হাসি ঝুলিয়ে মুখ খুলে প্রথম কথাটা উচ্চারণ করে;
-আপনার চোখের দৃষ্টি না সরালে তো আমি ভেতরবাড়ি যেতে পারছি না। ওমন গাঢ় করে টেনেছেন কাজলের রেখা!
মনস্বিতা খুব লজ্জা পেয়ে যায়।
-ওহ, আচ্ছা।
শাড়ির আঁচলের কোণে চোখের কাজল মুছতে শুরু করে দ্রুত। তাই দেখে টুলটুল তো অবাক-দিশেহারা।
-হা হা হা। হা হা। এমন সরলও মানুষ হয় এ-যুগে। এ কারণেই মেয়েটি এ-যুগে বসেও বর্বরযুগের নারীদের মতো স্বামীর হাতে মার খায়।
বলতে বলতে ভেতর বাড়ি যায়। টুলটুলের হাসির রেশটুকু কেবল বয়ে যায় মনস্বিতার শরীরে মনে। কিন্তু বাকি কথাটুকু আর কানে প্রবেশ করার মতো শ্রুতিশক্তি সে মুহূর্তে মনস্বিতার কান তো দূরে থাক সজাগ মস্তিস্কের দ্বারাও সম্ভব ছিল না।
[চলবে]
নিচের লিংক থেকে পূর্বের পর্বটি (৫৪) পড়তে পারবেন

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-46/

পরবর্তী পর্বের (৫৬) লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-48/