শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৫৬]

0
179

আগে যা ঘটেছে

ফারুকের সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটার পর রাজচক্রবর্তীর বাড়িতে মনস্বিতার দেখা হয়েছিল তার ছেলে টুলটুলের সঙ্গে। মনস্বিতা ও টুলটুল দু’জন দু’জনকে দেখে মুগ্ধ। এরপর কী ঘটেছিল, পড়ুন এই পর্বে।  

পর্ব ৫৬

মনস্বিতা কি ভেতরে ভেতরে কাঁপছে এখনো? পুরোটা মুখ লজ্জায় লাল হয়ে আছে। নিজেরই অস্বস্তি লাগছে। এ কী কথা? এমন ভাবতাড়িত হবার কী আছে তার? সে একজন বিবাহিত নারী। পূর্ণ বয়স্ক। কিছুদিন হলো সন্তান ধারণ আর বিয়োগ ব্যথায় বিস্রস্ত। হোক স্বামী নিপীড়নের অসুখেও পর্যুদস্ত। অপমানে বিধ্বস্ত। তাতেই বা কি? বার বার কেন ঘুরে ফিরে সে তমালকৃষ্ণ রাজচক্রবর্তীর কাছেই ফিরে ফিরে আসে? এ কী সেই দ্বি-জাগতিক রক্তিয় কোনো বন্ধন! এ কি কোনো জৈবিক সম্পর্কের ধারনায় পড়ে? এ কি সত্যিই কোনো দ্বিজআত্মার সুদৃঢ় বন্ধনের বিস্ময়! শাশ্বত মায়ার জাল কেবল ঘিরে রেখেছে মনস্বিতা আর তমালকৃষ্ণকে এক বন্ধনে! মাধবীর সাথে প্রথম প্রেমের অযাচিত আনন্দ উদযাপনের মাঝে যে সন্তানের আগমন শঙ্খধ্বনি দিয়েও মুখদর্শনের সাথে সাথেই হারিয়ে গেল সন্তানের সে মায়ার আবেশ আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তমালকৃষ্ণ। তারই সাথে মনস্বিতার এ কোন অতীন্দ্রিয় মায়ার বন্ধন জেগে থাকে! বাবার সাথে প্রগাঢ় বন্ধুত্ব ছিল মনস্বিতার। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বাবার থেকে বহুদূর হলে বসবাসের সময় বাবা তার মেয়েকে অজস্র চিঠি লিখতেন। কত কত আনন্দ বেদনার কথা সেখানে খেলা করেছে পিতা কন্যার যাপিত জীবনের মাঝে। কখনো সেগুলো দিয়েছে জীবন চলার পথের দিক নির্দেশনা। কখনো দিয়েছে পরামর্শ কখনো দিয়েছে নিছক স্নেহানন্দ। কিন্তু যে মুহূর্ত থেকে মনস্বিতা নিজের জীবনের সব কষ্টগুলোকে, যুদ্ধের মারাত্মক পরিশ্রমগুলোকে, আহত রক্তাক্ত ঘাগুলোকে নিজের রক্তাক্ত পিঠে আর বুকে লুকিয়ে রাখতে চেয়েছে সেই থেকে যেন সেই যোগের সুতোটা ছিন্ন হয়েছে। বাবাকে মাকে কখনো বলতে পারেনি নিপীড়নের মর্মন্তুদ ইতিহাস। ঠিক এমনি সময়েই তমালকৃষ্ণের আবির্ভাব মনস্বিতার জীবনে। তাই কোথায় যেন একটা ছায়া টের পায় মনস্বিতা তমালকৃষ্ণের একার ব্যক্তিগত জীবনে। কোথায় একটা মায়া জড়িয়ে থাকে কন্যাসম স্নেহে। কিন্তু টুলটুল? এ কে? কেনই বা এর দিকে আজ মনস্বিতা এমন করে তাকিয়ে ছিল? এতটাই বিহ্বল কেন হয়ে পড়েছিল আজ? নিজের মনের এই সব দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মাঝে নির্বাক হয়ে বসেছিল। টুলটুলের পাশ দিয়ে হেঁটে এসে মনস্বিতাকে প্রশ্ন করতে করতে তমালকৃষ্ণ রাজচক্রবর্তী আবার বসেন মনস্বিতার মুখোমুখি।
-টুলটুলের সাথে কথা হলো?
নিজের ভেতর এক অস্থির অলঙ্ঘনীয় অথচ দুর্বার আবেগের আতিশয্যে তখনো বিহ্বল মনস্বিতা। ঘোরটা কাটিয়ে ওঠা মুশকিল হয়ে ওঠে। এড়াতে চায়।
-আমি এখন যাই?
মনস্বিতার কথাটি বোধ করি তমালকৃষ্ণের কানে যায়নি। টুলটুলের প্রসঙ্গ টানেন।
-ছেলে আর মার সাথে আমার এ জীবনে আর আদর্শে মিলল না জানো তো?
তমালকৃষ্ণের মুখে বর্ষার আগমনে মেঘাদ্র আকাশের ঘনকালো অন্ধকার মনস্বিতা ঠিক দেখতে পায়। তার এই কথায় হঠাৎই ভাবনার অন্তরে মনের একটু আগের বিব্রত পরিস্থিতিটা যেন কেটে যায় ভেতরে ভেতরে।
-দীপা ওর জীবনটা তছনছ করে দিয়ে গেছে। হিংস্র পশুর মতো ভয়াল একটা অবস্থা নিয়ে ঘুরছে টুলটুল তুমি কি জানো?
মনস্বিতাকে এমন প্রশ্ন করায় বেশ অবাক চোখে তাকায় সে তমালকৃষ্ণের চোখের দিকে। সোজা দৃষ্টিতে প্রক্ষিপ্ত প্রশ্ন। তাতে তমালকৃষ্ণ হেসে ফেলেন।
-হা হা। তুমি কি করে জানবে। তাইতো। তাইতো।
নিজের বোকা বোকা প্রশ্নে তমালকৃষ্ণ বেশ খানিকটা বিব্রত বোধ করেন। হেসে সেটাকেই হালকা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মনস্বিতাও হেসে ফেলে। মুহূর্তেই একটু আগের পরিবেশের ভারটা হালকা হয়ে আসে। মনে মনে খুব একটা পরিতৃপ্তি বোধ করে। বুঝতে পারে তার দৃষ্টির ভাষা পড়তে এ স্নেহময় মানুষটির তেমন অসুবিধে হচ্ছে না আজকাল। কিন্তু কি সহজ তিনি। কি বেদনার্ত হৃদয়ে নিবিষ্ট রয়েছেন এখনো সংসারের দায়িত্বে। বিশেষত তিনি তো আসতে চাননি এখানে। ঠিক এমনি ভাবছে যখন মনস্বিতা তখনই তিনি আবার বলতে শুরু করেন সেই কাহিনী আবার।
-শোনো, আমি কিন্তু তখন আসতে চাইনি বাংলাদেশে। ছেলেটির বয়স কত হবে তখন, টুলটুলের?
একা একাই প্রশ্ন করেন। আবার নিজের মনে মনে কিছু একটা গণনা করে বলেন :
-সাত আট মাস হবে হয়তো। সরোজ দত্তকে ধরে নিয়ে গেল। মোহন বাগান টেন্টের পেছনের ময়দানে গুলি করে হত্যা করা হলো। এতো বলেছিলাম তোমাকে?
বিষয় বদলাতে শুরু করেছে বুঝতে পারে। মনস্বিতা তমালকৃষ্ণের চোখে-মুখে তারুণ্যের দীপ্তি আর বোধের সামগ্রিকতায় মিশে যাওয়া তীর্যক বেদনার আভাস পেতে শুরু করে দিয়েছে ততক্ষণে। বড় বিপন্ন সে বেদনার বিস্মরণ। কারণ তমালকৃষ্ণের যন্ত্রণার এই রূপ মনস্বিতা আগেও দেখেছে।। সে জানে তমালৃকষ্ণের সে বেদনার রং ঘনকালো। তিনি নকশাল। মনে এখনো ধারণ করে আছেন সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ। সুষম সমাজবণ্টনের স্বপ্নে বিভোর মানুষটি স্বপ্নভঙ্গের যাতনায় যখন ক্ষুব্ধ, পলায়নপর। তখনই স্ত্রী মাধবীর তাকে প্রথম সন্তানের হন্তারক হিসেবে ঘোষণা দিলেন। কৃষ্ণভক্ত শর্মার সাথে তিনি যখন কমরেড চারু মজুমদারের দলিল নিয়ে জীবনের প্রচণ্ড শংকা নিয়ে চড়ে বেড়াচ্ছেন নেপালের ভয়ানক সীমান্তে। ধরা পড়ে পচে মরছেন জেলে। বের হয়ে আবার হাঁটছেন তিব্বতের সীমান্তে। দীর্ঘ দীর্ধ দিনরাত বরফের জমে যাওয়া ফুলে ওঠা পা নিয়ে, ক্ষুধার্ত পেটে কেবল ছাতু খেয়ে কখনো উপোস করে প্রহরীদের সতর্ক দৃষ্টি ভেদ করে চলেছেন পিকিংয়ের উদ্দেশ্যে নিজের জীবনটা হাতে রেখে তখনই স্নায়বিক চাপ নিতে না পেরে প্রথম সন্তানটিকে আর পৃথিবীর আলো দেখাতে পারেননি মাধবী। সে যন্ত্রণা মিলেমিলে রক্তাক্ত এক স্রোতস্বিনী নদী হয়ে চিরকাল দুরন্ত বেগে প্রবাহিত হয়ে চলেছে তমালকৃষ্ণের পূর্বাপর জীবনে। এ থেকে তিনি পালাতে পারেননি। তিনি একে ধারণ করতে পারেননি। পারেননি মাধবীকে যথাযথ জবাব দিতে। বরং নিজের বুকে অনন্ত বেদনার আগুন বয়ে চলেছেন একা। কেন যে মনস্বিতাকে তিনি পরম জেনেই এসব বলতে থাকেন। আরো আগে তিনি বলেছেন তাকে সে ইতিহাসের খানিক। মনস্বিতার মনে হয় তমালকৃষ্ণ এই অনন্ত জাগরূক বেদনাকে ধারণ করতে ক্লান্ত হতে হতে মনস্বিতাকে আশ্রয় করেন। খুব নিঃসঙ্গ প্রিয়সঙ্গ কামনায় অধীর মানুষটি বড় অসহায়। পরিবারের তিনটি মানুষের মধ্যে তিনিই বোধ করি সবচেয়ে একা। নিকটজনের থেকে দূরতম কোনো পরিবৃত্তে বসবাস করেন একা। ভীষণ একা। মনস্বিতার ভালোলাগে তমালকৃষ্ণের এই দুরন্ত ইহিহাস শুনতে। মনে হয় সে যেন নিজেই যাপন করছে এই দারুন ইতিহাস। এছাড়াও, এই মহূর্তে মনস্বিতা খানিক রেহাই পেতে শুরু করে কিছুক্ষণ আগের টুলটুলের সামনে পড়ে গিয়ে উদ্ভুত তাৎক্ষণিক বিব্রতকর অস্বস্তি থেকে। ভুলে গেছে রাত কত হতে চলল। ভুলে গেছে ফারুকের অফিসে শো-কজ নোটিসের কথা। ভুলে গেছে সে নিজেও আজই চাকরিটাও হারিয়েছে। ভুলে গেছে তার মুখের ওপর ফারুকের বন্ধ করে দেয়া দরজাটার শব্দের তীব্রতাও। কিছুটা সময় এতসব জটিল ক্রুর দংশনের হাত থেকে বেঁচে থাকা যেন এক নতুন আলোর ভোরের মতো আনন্দ। উন্মুখ হয়ে ওঠে তমালকৃষ্ণের জীবনের বাকি ইতিহাস জানতে।
-হ্যাঁ হ্যাঁ বলেছিলেন। আমার মনে আছে।
তমালকৃষ্ণের মুখ উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। কেউ একজন তাহলে আছে এখনো তার বেদনার ধারণ করার জন্য অঞ্জলি পেতে। হ্যাঁ, এ সেই। তার প্রথম সন্তান। হতেই হবে। উজ্ব্ল হয়ে ওঠে তার দুই চোখ। ভীষণ এক দুরন্ত নদীর মতো প্রবাহিত হতে থাকে বেদনা হৃদয় থেকে হৃদয়ে। তার মন্থন দুজনেরই গভীরে নীরবে প্রবিষ্ট হতে হতে দূরীভূত হতে থাকে দুজনেরই প্রাত্যহিক জীবনের যাতনাগুলো আপাতত।
-চারু মজুমদারও পালিয়ে আছেন। জানোতো?
-হুম। একসাথেই তো দেবীপ্রসাদ চট্টপাধ্যায়ের বাড়িতে লুকিয়েছিলেন। সরোজ দত্ত ধরা পড়লেন। ময়দানে ছেড়ে দিয়ে তাকে পেছন থেকে গুলি করে মেরে ফেলা হলো, বলেছিলেন। কিন্তু চারু মজুমদার?
-আসলে কি জানো, দেবীপ্রসাদের বাড়িতে চারু মজুমদার যখন লুকিয়ে আছেন তখন তিনি খুব অসুস্থ। রক্তবমিও করতেন মাঝে মাঝে। সরোজ এখানে থাকতেন না। কিন্তু তারা দুজনকে আলাদা করা যেন সম্ভব হতো না। তাই প্রতিদিনিই তাকে দেখতে কমরেড সরোজ দত্ত আসতেন। আর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে নিহত হলেন।
-আচ্ছা।
-১৯৬৯ সাল। এদিকে বাংলাদেশে তীব্র গণআন্দলোন। মাধবী অস্থির। বাবার বাড়িতে রেখে আসি তাকে। টুলটুল তখন মাধবীর গর্ভে। সে কোনো অবস্থাতেই বাবার বাড়িতে থাকতে স্বস্তি বোধ করছে না। সে বাংলাদেশেই আসবে জেদ করছে। ওদিকে মাধবীর বাবার কথা তো জানোই আমার আর মাধবীর মধ্যে সব সম্পর্ক শেষ করার সব চেষ্টাই করেছেন এক সময়। মাধবীর কংগ্রেসি বাবা জানিয়ে দিলেন তিনি আর মাধবীকে এভাবে তার কাছে রাখতে পারবেন না নীতিগত কারণেই। আমি তখন পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। নকশালদের ধরপাকড় চলছে। নকশালদেরকে জেলে হত্যা গুম খুন একটানাই চলছে। পার্টিলাইন বিধ্বস্ত। বড় বড় নেতারা ধরা পড়ে যাচ্ছেন। কমরেড চারু মজুমদার মাস খানেক এখানে মাস খানেক সেখানে করে করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ অবস্থার মধ্যেই টুলটুলের জন্ম হয়।
-সেটা কত সাল?
-১৯৭০।
-আপনার শ্বশুর জায়গা দিলেন?
-না তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মাধবী আর টুলটুলকে নিয়ে আমার চলে যেতে হবে তার বাড়ি থেকে।
-এই অবস্থায়? বাবা হয়েও…।
হঠাৎ তমালকৃষ্ণ খুব জোরে হেসে ওঠেন।
-হা হা। তুমি বুঝবে না। এ বড় মারাত্মক খেলা। রাজনীতির মতো কূটনীতি আর কূটকৌশল পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই মা গো।
তমালকৃষ্ণ রাজচক্রবর্তীর মুখে মা শব্দটি কেমন শিহরণ জাগায় মনস্বিতার মনে। একদিকে সেদিনে ছোট্ট টুলটুলকে নিয়ে তমালকৃষ্ণ আর মাধবীর অস্তিত্বের সংকট প্রবলতর রূপ ধারণ করছে তার ইতিহাস, তমালকৃষ্ণের অসহায় অবস্থা আর অন্যদিকে মনস্বিতা আর তমালকৃষ্ণের এতদিনকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের সব দেয়াল ভেঙে একটা নামরূপে স্বীকৃতি, এক অসাধারণ মনোদৈহিক আনন্দে ভাসতে থাকে মাধবী। খুব অনুভব করে আজ এই মুহূর্তে ফারুকের এখানে থাকা বড় দরকার ছিল। মনে মনে বলে ওঠে মনস্বিতা।
-ফারুক। তোমার জন্য বড় করুণা হয় আমার। পৃথিবীর নারী-পুরুষের মধ্যে জটিল জৈবিক সম্পর্কের বাইরেও আরও কিছু জৈবিক সম্পর্কও থাকে ফারুক। অদৃশ্য যার বন্ধন। মানুষের স্বাভাবিক চোখ যাকে ধরতে পারে না। ধরতে লাগে মন। সেই মন যা ধর্ম সমাজ সংসার ভূখণ্ড দেশ রক্ত আত্মা সবকিছুকে ছিঁড়ে খুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয় দূরে। এমন এক জৈবিক সম্পর্ক এটি।
ফারুকের প্রতি মনস্বিতার এই তীব্র অযাচিত ক্ষোভ জেগে থাকে নীরবে গভীরে ছড়িয়ে দিয়ে তীব্র ঘৃণার ডালপালা। খুব দ্রুতই সে ফিরে আসে আবার তমালকৃ্ষ্ণের প্রাসঙ্গিক কথায়।
-মাধবীর কংগ্রেসি বাবা আমাকে সাফ জানিয়ে দিলেন মাস ছয়েকের মধ্যে ব্যবস্থা করে মাধবী আর টুলটুলকে নিয়ে তার বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে।
-কি বলছেন? তিনি সময় বেঁধে দিলেন। এই ছোট্ট বাচ্চাটিকে নিয়ে চলে যেতে। নিজের কন্যার এই দুর্বিপাকেও।
-হুম। বললেন ছেড়ে যেতে।
-আপনি কি করলেন তখন?
-আমি নকশাল আন্দোলনকে দু’পায়ে মাড়িয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিই।
তমালকৃষ্ণকে কেমন অদ্ভুত দেখায় তখন। মনস্বিতা নির্বাক। চেয়ে থাকে তমালকৃষ্ণের রোষতপ্ত এক অচেনা রূপের দিকে। কী এক অজানা দহন সেখানে। আগুনের লকলকে জিভ কেবল পুড়িয়ে ছাই করে চলেছে চেতনার আদিগন্ত। আকাশ ভরে উঠেছে এ কোন্ হাহাকারে। মনস্বিতা যেন ঠিক নিজেরই শরীরে টের পায় তমালকৃষ্ণ রাজচক্রবর্তীর বুকের গভীর ব্যথা ভেতর থেকে উঠে আসা সে যন্ত্রণার তুমুল প্রজ্জ্বলন।
[চলবে]
পূর্ববর্তী পর্বের লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-47/

পরবর্তী পর্ব আসছে