শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৭৪]

0
131

পর্ব ৭৪

-আমি একটু কাজে ব্যস্ত আছি। আজ কালপরশুর মধ্যে সম্ভব হবে না। কিন্তু কী দরকার?
ফোনের ওপাশ থেকে ফারুক বলে;
-তোমার সাথে দেখা করা দরকার। ঠিক আছে, সময় করে জানিয়ো কবে দেখা করতে পারবে।
-জানাবো।
ফোনটা রাখে। দিন যায়। দিনের পর দিন যেতে থাকে। মনস্বিতার আর মনে থাকে না ফারুককে দেখা করার সময় জানাতে। বাড়িতে ফিরে দলিলটা জায়গামতোই পেয়ে যায়। সেটা ব্যাংকের লকারে রাখা যায় কি না, ভাবে। এমন কোনো সুবিধে কি লকারে আছে? তার জানা নেই। জানতে হবে। কাল সকালেই নভেনকে কল করে জেনে নেবে। সুযোগ থাকলে লকারেই রেখে দেবে দলিলটা। তাহলে শৈলরাজ যদি তার বাড়ির ঠিকানাও পেয়ে যায় দলিল পাবে না। এই বাড়িতে কেন যে অরক্ষিত মনে হয় দলিলটাকে। এই দলিলটার ওপর নির্ভর করছে মাধবী এবং টুলটুলের মতো দুটো মানুষের আশ্রয়, দুটো শেকড়হীন মানুষের অধিকার। তমালকৃষ্ণের বিশ্বাস ভরসা এবং উত্তরাধিকার। সময় গড়িয়ে চলে। কোনোদিন মনস্বিতার তমালকৃষ্ণকে তার বাড়িতে নিয়ে আসতে ইচ্ছে করে খুব। কিন্তু মাধবীর কথা ভেবে সাহস করে না বলতে। আবার ও-বাড়িতে যেতেও কেমন বাঁধো বাঁধো ঠেকে। মাধবীর ছোঁয়াছুঁয়ি জাতভেদ, পূজাঅর্চনা, তাকে কেমন অপৃশ্য করে তোলে ওই বাড়িটাতে। ফোনে কথা হয়। তমালকৃষ্ণ মনস্বিতাকে দেখতে ডাকেন। আসি-আসি যাই-যাই করেও অনেকদিন পার হয়ে গেলে মনস্বিতা তমালকৃষ্ণকে দেখতে যায়। গল্প হয়। নানাকথায় তমালকৃষ্ণের মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। টুলটুল মাধবী দুজনই সে আলোর প্রভা টের পান। কোনো কোনোদিন মনস্বিতা একটা চাকরির চেষ্টায় এখানে-সেখানে অ্যাপ্লাই করে। ডাক এলে ইন্টারভিউ দিতে যায়। একাকীত্ব আর নিঃসঙ্গতা উপভোগ করে। বিছানায় শুয়ে পড়লে তার জানালা গড়িয়ে জোৎস্না এসে পড়ে। শব্দহীন নির্বাক স্তব্ধ ঘরটা আবার কখনো কফিনের মতো লাগে। জানালা গলে জোৎস্নার আলো ঢুকে পড়ে পুরো মেঝে ছড়িয়ে ঘর আলো করে। সে-সব রাতে মনস্বিতা নিজের ঘরের আলোটা জ্বালে না। অন্ধকারে আকাশের তীব্র জোৎস্নার প্রপাত তার ঘরে ঢুকে এত উজ্জ্বল করে তোলে, মনে হয় কোন স্বয়ংপ্রভ এসে ঢুকে পড়েছেন তার ঘরে। দুহাতের অঞ্জলিতে আলো ধরতে চেষ্টা করে মনস্বিতা। বোঝার চেষ্টা করে এই কী সেই যে পুড়ে ছারখার করেছিল তুড় পাহাড়। এ কী ঈশ্বর নাকি কেবলই আলো। অঞ্জলিতে ভেসে ওঠে নিজের মুখের মতো কোমল ছো্ট্ট একটি মুখ। তারই মতো ডাগর কালো চোখ একমাথা ভরা মিহিকালো চুল শ্যামবর্ণ মুখ তুলতুলে হাত ছিপছিপে ঠোঁটে তাকে মা বলে ডেকে ওঠে। এই কঠিন কফিনের ডালাটা তখন ভেঙে ফেলতে ইচ্ছে করে। প্রচণ্ড জোরে আঘাত করেও পারে না মনস্বিতা। ছুঁতে চেষ্টা করে প্রিয়তর প্রাণপ্রিয় শরীর। পারে না কিছুতেই পারে না। নিস্তব্ধ ঘরটা সে-রাতে কঠোরতম নিঃসঙ্গতায় আগ্রাসী হতে থাকে, রাত বাড়ার সাথে সাথে। একজন কথা বলার মানুষের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এমনি কোনো চৈত্রের পূর্ণিমা রাতে ছাদের বাতাস মাতাল হয়ে ওঠে। তীব্র বেগে বয়। বুক খালি করা শূন্য-শূন্য পৃথিবীতে হু হু শব্দে যেন লক্ষ্ লক্ষ দিকভ্রষ্ট মাতাল ছুটে আসছে অষ্ফুট যাতনার তীব্র জ্বালাময় অন্ধকার নিয়ে, এই এত এত আলোর মাঝে। সেই পৃথিবী গিলে খাওয়া তুমুল হাহাকারের ভেতর হঠাৎ ছাদের ফ্লোরে শুকনো পাতার খস্-খস্ শব্দ হলে মনে হয় ওদিকে কেউ হাঁটছে। কোনো অশরীরী। কেবল দুটো পা। গাছের পাতা মাড়িয়ে বাতাসের প্রাবল্য এড়িয়ে দামাল শব্দের তুফান সরিয়ে, কে? কে হাঁটে মনস্বিতার এই একলা জীবনের তুমুল নিঃসঙ্গ রাতে? কে ও? মনস্বিতার ভয়-ভয় করে। সেই সেই রাতগুলো পোহনোর প্রভাতগুলোও বড় ম্রিয়মান, বড় নিষ্প্রভ। নেই নেই স্বরে যেন ফুটতে থাকে সেদিনের সুবেহসাদিকের রেখা। ছাদের গাছে শিউলির ঘ্রাণ সেদিন একা, সতৃষ্ণ মনস্বিতার জন্য। কিন্তু সেদিন মনস্বিতার বড় বিস্বাদ লাগে সব। সেই দিনগুলোতে আর একটু আলো ফুটে উঠলেই মনস্বিতা বের হয় ঘর ছেড়ে। এখানে-সেখানে হেঁটে বেলা পার করে। একা একা কোনো একটা রেস্টুরেন্টে বসে দুপুরের খাবার খায়। খাবারের অর্ডার দিলে বয় অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। বয়ের উৎসুক দৃষ্টি তার মতো একজন নারীর পাশে হয়তো একজন দশাসই পুরুষকে আশা করে। তারপর আবার গোধূলি নামলে ফিরে আসে নিজের ঘরে। ছাদের নরম নরম আলোয় চড়ুইগুলো এক্কাদোক্কা খেলে। নরম তুলতুলে শরীর, ছোট্ট পা, কী যে সুন্দর লাফিয়ে লাফিয়ে খেলা করে। মনস্বিতার মন ভালো হয়ে যায়। লালমাইয়ের কোলে সুবিশাল বেলকনির সেই চড়াইগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। তখন অত সুন্দর ঝাড়াবাছা চাল পাওয়া যেত না। বাবা বাজার থেকে চাল আনতেন। মা বাড়ান্দায় বসে কুলায় চাল ঝাড়তেন। তার যে খুদ উড়ে-উড়ে পড়তো, তাই খেতে আসতো অনেকগুলো চড়ুই। আজ সে দিন নেই। মনস্বিতা তাই রোদ ঝলমলে দিনের শুরুতেই কিছু চাল ফেলে রাখে ছাদের উঠোনে। চড়ুই আসে। খুটে খায়। সারাদিন খুটে-খুটে সন্ধ্যা নামায়। আবার কোনো কোনো ভোর ঘরের দরজা খুলে ছাদে নেমে আসে। এই ছাদটা মানুষের চেয়ে ঢের ভালো সঙ্গী। তার একাকী জীবনের আশ্রয়। তার বদ্ধজীবনের খোলা দরজা। শীত আসি আসি। ছাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আজ যে অস্তায়মান কুসুমরঙ সূর্য়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে, কদিন আগেও ঠিক এইসময়ে তা তেজে গণগণ করতো। ছাদের রেলিংটা গড়িয়ে ভেতরে ঝুলে আছে শিউলিগাছের ডাল। তাতে একটি রাতের আয়ু নিয়ে জন্ম নেয় হাজার হাজার শিউলি। সারাটা রাত তোলপাড়। সেই সব দিনে মনস্বিতার মন শরীর দুলে-দুলে ওঠে। মনে হয় কেউ এসে শিউলির মালা খোঁপায় জড়িয়ে দিক। শিউলির সুবাস ছোটবেলার শিউলিফুলের মালাগাথা দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। মনস্বিতা এখনো শিউলি কুড়ায়। মালা গাঁথবে কী? কার জন্য গাঁথবে, তাই ভাবে। ঋতুর পালাবদল দ্যাখে সন্ধ্যার আকাশে ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। শীতের কুয়াশায় কনকনে ঠান্ডায় জমে-জমে চাঁদ দেখে। মাঝে মাঝে টুলটুল আসে। টুলটুলের সাথে বন্ধুস্থানীয় একটা বোঝাপড়া হয় নিজেরই অজান্তে। শীত যায়। তুমুল বর্ষার দিনে ধুমল বৃষ্টি এলে বাইরে যায়। খোলা ছাদে মন খুলে ভেজে। আহা বৃষ্টি, সেই প্রথম জীবনে…
-ফারুক ঝুম বৃষ্টি এসেছে। চলো চলো ভিজি।
-কি? এই মধ্যরাতে বৃষ্টিতে ভিজবে?
ফারুকের দৃষ্টিতে এমন বিদ্রুপ, সে বুঝতে পারে না কিছুই।
-হ্যাঁ কেন?
ফারুক এমন একটা ভঙ্গি করে, মনস্বিতা যেন ছোট একটা বাচ্চার মতো বিরাট কিছুর আবদার করে বসেছে।
এই স্মৃতিগুলো বৃষ্টির জলে ধুযে মুছে যাক। না তা হয় না। ফারুকের মুখ ভাসে মনের পর্দায়। শূন্য ঘরে ফারুকের হাঁটা চলা দেখে। মধ্যরাতে ফারুকের ঘরে একজন মনস্বিতার মৃত শব চোখের ভেতর কেমন যেন নড়েচড়ে ওঠে। মৃত মনস্বিতার পঁচেগলে যাওয়া শরীরটা দেখে বমি আসে। হন্তারকের ছায়ায় এতটা কাল মরে পড়েছিল মনস্বিতার যৌবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনগুলো।
এমনি করে আরও আরও দিন যায়। কী আশ্চর্য একটি দিনও মনস্বিতার মনে পড়ে না কবে যেন ফারুক বলেছিল দেখা করতে চায়। একদমই ভুলে গেছে। ঠিক কোনো এক মাধবীরাতের শেষ সীমানায় ফারুক ফোন করে আবার;
-তুমি কি একটু সময় করতে পারবে? দেখা করা দরকার।
হঠাৎ মনে পড়ে মনস্বিতার তাইতো। চলে গেছে প্রায় বছর খানেক। নিজের ভেতর তাড়া অনুভব করে;
-হ্যাঁ। বল।
-আমি কি তোমার বাসায় আসবো? নাকি কোনো রেস্টুরেন্টে বসবে?
-না না। বাসায় এসো।
ফারুক যখন বাসায় আসে তখন আগস্ট মাস। তুমুল ঝড়বৃষ্টির প্রাবল্য প্রকৃতিতে। সেদিনও আকাশ ঘন কালো। নিজের ঘরের দরজার শিটকিনিটা খুলে দিয়ে ছাদের মাটিতে পা রেখে দরজায় চৌকাঠটাতে বসে একমনে দ্রুতবেগে উড়ে চলা কালো মেঘগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিল মনস্বিতা। সেই যে কবে থেকে নানা ঋতুতে আকাশের নানা রং প্রকৃতির নানা গন্ধ শুঁকে শুঁকে বড় হয়েছিল, আজও তা মনস্বিতার পিছু ছাড়েনি। মনে পড়ে যায় ঝুম বৃষ্টি এলেই কলাভবনের সেই বৃদ্ধ বট। সে আর তার কবি। তখন রাজনীতির হাওয়া গরম। কবি খুব ব্যস্ত। তবু বৃষ্টির গান শুরু হলে কবি চলে আসতো মনস্বিতার কাছে। মনে পড়ে, সেদিনও রিমঝিম বৃষ্টির হালকা তোড়ে দৌড়ে বটের গভীর পাতার নিচে আশ্রয়। সেই প্রথম বুকের গভীর নিঃশ্বাস শুনতে পাওয়া দু’জনের। ঠোঁটে ঠোঁট। রক্তে আগুন। বৃষ্টির দারুণ তোড়। বৃদ্ধ বটগাছটা ওদের ধারণ করতে পারছিল না। ঝুম বৃষ্টিতে আধোভেজা দুজন যুবক যুবতী। ভিজছিল গায়ের কাপড়। গাছের ডালে কাক। পায়ের নিচে সবুজ ঘাস। শুধু ভিজছিল না মন। সতৃষ্ণ আবেগের উন্মার্গ কামনা, বস্তুগত জৈবিক বোধ। তারপর আধো প্রেম আধো জয় আধো পরাজয়ের মধ্যেই বৃষ্টির প্রগাঢ় আস্ফালন। আর বটের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব ছিল না। কোনোমতে একটা রিক্সা ডেকে উঠে পড়েছিল দু’জনে। বৃষ্টির কাছে পরাজয় মেনে ফেলে দিয়েছিল রিক্সার হুড। বৃষ্টিকে স্বাগত জানিয়ে মুখর ভিজে ভিজে কোথায় হারিয়ে গেছিল, এখন আর মনে পড়ে না। কেবল বৃষ্টি এলেই দিকভ্রান্তি। মেঘলা আকাশে বাতাসের উতল আহ্বান আজও ঠিক তেমনি। কী আশ্চর্য়। বহুকাল তো মনস্বিতার এসব কথা মনে পড়ে না। একটা জোয়াল কাঁধে কত-কত-কত যে দিন ধরে চষে বেড়িয়েছিল চাষের যোগ্য জমি তৈরি করতে। ঘাড়ে ঘা হয়ে গেছে। কিন্তু জমি তৈরি হয়নি। তাই ততদিন মনেই পড়েনি কোনো সুখের মুখ। মনে পড়েনি গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া কবির রক্তাক্ত শরীরটাও…
-তুমি এখানে?
হঠাৎ চমকে ওঠে মনস্বিতা। কথাটা বলতে বলতে ততক্ষণে ফারুক মনস্বিতার সামনে রাখা চেয়ারটাতে বসে পড়ে;
-ভেতরে বসো। এখানে বৃষ্টি আসতে পারে।
-না থাক। আমার হাতে তেমন সময় নেই। চলে যাব। তোমাকে একটা কাগজ দেখাবার আছে।
-কাগজ?
-হ্যাঁ, এটা দেখ।
বলতে বলতে এ-ফোর সাইজের চেয়েও বড় একটা নীল রঙের কাগজ বের করে সামনে ধরে। মনস্বিতা বড় বড় অক্ষরগুলো পড়ে;
-তালাক-নামা।
চোখে পড়ে তারিখটা। ১৬ নভেম্বর। আজ সেপ্টেম্বর। মানে ন’ মাস আগের কথা। অলরেডি মুসলিম বিবাহের তালাক দেবার পর মিউচুয়ালের যে তিনমাস থাকে, তাও পেরিয়ে গেছে। অস্ফুটে উচ্চারণ করে;
-তারও পরে আরও ছ’মাস শেষে? বাহ্। তুমিতো বেশ কায়দাকানুন জানো।
-আরে নাহ্। আমার উকিল নোটিশটা পাঠিয়ে দিয়েছিল তোমার বাবার বাড়ির ঠিকানায়।
-মানে? ওই বিয়ের রেজিস্ট্রিতে তোমার বাড়ির ঠিকানা লেখা ছিল তো। আমি জানতাম না। উকিল লিখে দিয়েছে।
-আচ্ছা। আচ্ছা।
-আমি বিয়ে করছি।
মনস্বিতা বিস্মিত হয়। সেই ফারুক!
-কাকে বিয়ে করছ?
-ওই এমপিও-ভুক্ত কলেজের এক শিক্ষিকা।
-তাকে খাওয়াবে কি?
-সেই আমাকে খাওয়াবে।
-বাহ্, বেশ তো!
-তো, তোমার উকিল আর কাজী বলেনি যে তালাক দেবার আগে দেনমোহরের টাকা শোধ করে দিতে হয়?
-হ্যাঁ। বলেছে।
বলে একটা ক্রূঢ় হাসি হেসে ফারুক বলে –
-দেব, দেব। আমার একটা চাকরি হয়ে গেলে সব দিয়ে দেব। মনস্বিতা হাসে। ফারুক আর বেশি সময় বসে না। চলে যায়। ফারুকের চেহারায় আজ বেশ সুখী-সুখী একটা ভাব। ভেঙে-পড়া গালে নতুন মাংসের জোড়া লেগেছে। কাপড়চোপড় দামী। পায়ের জুতো জোড়া সেই আগেরই মতো চকচকে। মনস্বিতা মৌন হয়ে ভাবে;
-যাক, তাহলে ফারুক আরও এক বৃক্ষের ছায়া পেয়ে গেছে!
তবু বুকের ভেতরটাতে কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে। কতক্ষণ এভাবে বসা, ঠাহর নেই। হবে ঘণ্টা দুয়েক। কেন যে এভাবে বসে আছে নিজেও জানে না। ততক্ষণে বড়-বড় ফোটায় বৃষ্টি নামে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জলে ভরে ওঠে তার সামনেই ছাদের উঠোন। টুপটুপ বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় ধুয়েমুছে যেতে থাকে তালাকনামার সব অক্ষর। চোখের সামনে ঝাপসা দেখা যায় সব। হঠাৎ আজই আসতে হলো? মনস্বিতা দূরে ছাদের দরজা সরিয়ে টুলটুলকে আসতে দেখে। ভ্রূক্ষেপ নেই বৃষ্টিতে কোনো। ভিজে ভিজেই আসছে সে। মনস্বিতা ওঠে না। সেও ভিজতে থাকে কাগজের অক্ষরের সাথে। টুলটুল এসেই কাব্য করে;
-আকাশের নিচে বসিয়া বিরলে, একা?
তক্ষুনি মনস্বিতার মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে
-হাতে আমার ভাঙনের চিঠি।

[চলবে]

পূর্ববর্তী পর্বের (৭৩) লিংক 

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-63/

 

পরবর্তী পর্বের (৭৫) লিংক আসছে