শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৭৯]

0
179

পর্ব ৭৯

-হ্যাঁ। ইয়াহিয়া খান বললেন, Kill three million and the rest will eat of our hands.
-সত্যিই? তাই বলেছিলেন?
মনস্বিতার হাতে অপারেশনের ধকল, পুরো শরীর জুড়ে সেই আগ্রাসনের মত্ততা এখনো প্রবল। সারারাতের নির্ঘুম আহত নাজুক শরীরটাতেও বীভৎস এক তাণ্ডবের কথা ভেবে এই মুহূর্তে শিরশির করে ওঠে। সে এখানে-সেখানে নানা লোকের মুখে শুনেছিল শেখ মুজিবুর রহমান আবেগের বশবর্তী হয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সংখ্যা তিরিশ লক্ষ বলেছিলেন, বিরুদ্ধাচরীরা হামেশাই এসব কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লক্ষ বাঙালি প্রাণ দিয়েছে কথাটি কেউ কেউ তো মানতেই চায় না। কিন্তু আজ এ কী শুনছে সে? সত্যিই তাহলে তিরিশ লক্ষ বাঙালিকে ওরা এভাবে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে হত্যা করেছিল? ব্যান্ডেজবাধা আহত হাতটা দিয়েই তমালকৃষ্ণের হাতটা চেপে ধরে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকায় তার চোখে;
-তিরিশ লক্ষ মানুষহত্যার অর্ডার!
-হুম। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ শুরুর পূর্বমুহূর্তে চারজন কমান্ডারের মধ্যে তিনি এ নির্দেশটি দিয়েছিলেন।
-কমান্ডারদের মধ্যে?
-হ্যাঁ। জেনারেল হামিদ, জেনারেল রাও ফরমান আলী খান, ব্রিগেড কমান্ডার আরবাব, জেনারেল খাদিমের উপস্থিতিতে। টিক্কা খানের সাথে আগেই একান্তে কথা হয়েছিল। এরাই ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের গভীর রাতে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ পরিচালনা, তারও আগে থেকে গণহত্যার পরিকল্পনার কাজে নিয়োজিত ছিল। নয় মাস ধরে গণহত্যা এবং যুদ্ধের সময় পরিকল্পনা ও কামান্ডের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।
-পরিকল্পিত ভাবে এত এত মানুষ হত্যা! এমন নৃশংস কাজটি কি এতটা সহজ ছিল?
-হ্যাঁ। সম্ভব ছিল। বহু আগে থেকেই এর বীজটা ওরা বুনতে শুরু করে দিয়েছিল। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সশস্ত্র বাঙালিদের নিয়েই প্রথম দিকে পাকিস্তানী সামরিক জান্তারা ভীত ছিল। সাধারণ বাঙালিকে নিয়ে তাদের তেমন ভয় ছিল না। ভেবেছিল সেনারা বিদ্রোহ করলে বিপাকে পড়বে পাকি-স্তান আর্মি। কারণ পাকিস্তানের মাত্র দশটি ব্যাটেলিয়ান, সাথে আর্টিলারী, ইঞ্জিনিয়ার্স ও সিগন্যাল ইউনিট ছিল যার সব মিলে দশ হাজার পশ্চিম পাকিস্তানি সেনা। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের চারটি নিয়মিত আর্মি ব্যাটেলিয়ান ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের সমর্থনপুষ্ট পুরো রেজিমেন্টাল সেন্টারের বারো হাজার আর পূর্বপাকিস্তান রাইফেলসের সেনা সব মিলে এক লক্ষ মুজাহিদের বাঁধার সামনে পড়তে হবে। আর তাই একদিকে বাঙালি সেনাদের পূর্ব বাংলার এপ্রান্ত থেকে সে-প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছিল বদলি করে করে। অন্যদিকে প্রত্যেকটি সেনানিবাসে পাকিস্তানি সেনা-সংখ্যা বৃদ্ধি করা চলছিল। কেন বলতো?
-ওদের শক্তিবৃদ্ধি করতে আর বাঙালি শক্তিকে ছত্রভঙ্গ করতে?
-একদম তাই। ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর নানা সমস্যায় পড়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। কারণ বাঙালির কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীই তখন আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়ায়। অবাঙালিদের চলাফেলা খাওয়া দাওয়া দৈনন্দিন জীবনযাপনই দুর্বিসহ করে তোলে সাধারণ বাঙালিরা।
-কেমন?
-যেমন ধরো সেনানিবাসে তাজা সবজী-ফল-মুরগি এসবের সরবরাহ পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়।
-আচ্ছা!
-স্থানীয় ঠিকাদার ও দোকানদাররা সশস্ত্র বাহিনীকে নতুন রেশন সরবরাহ করতে অস্বীকার করে। বুঝলে? ফলে কি হলো, খেয়ে তো বাঁচতে হবে? আলু পেঁয়াজের মতো নিত্য ব্যবহার্য খাবারগুলোও আনতে হলো পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিমানে করে। বোঝো, হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে খাবার আনতে হতো। এটাও তখন এতটা সুবিধার ছিল না। কারণ ঝামেলাটা আরও আগেই পাকিস্তান লাগিয়ে রেখেছিল ভারতের সাথে।
-এখানে ভারত কী করবে?
-শোনো, তাহলে আর একটু পেছনে যেতে হয়। ১৯৭১ সালের ৩০ জানুয়ারি। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমান। ২৬ জন যাত্রী আর ৪ জন ক্রু নিয়ে রওনা হয়। কাশ্মিরের শ্রীনগর থেকে যাবে জম্বু। বিমানটি চালাচ্ছিলেন পাইলট কাচরু। তাতে যাত্রীর ছদ্মবেশে ঢুকে পড়েছে আগেই দুই জন কাশ্মিরি বিচ্ছিন্নতাবাদী। বিমান আকাশে উড়ে যাবার আধাঘণ্টা পরই যাত্রীদের মধ্য থেকে কালো কাপড়ে মুখ বাঁধা দুজন উঠে দাঁড়ায়। একজন পাইলটের মাথার কাছে রিভলবার ঠেকিয়ে বলে;
-চালো, লাহোর চালো।
-কী বলছেন?
রিভলবারের ট্রিগারে হাত রেখে পাইলটের মাথায় আরও একটু জোরে চেপে ধরে;
-জ্যায়সা কি ম্যয় ক্যাহতা হু এ্যায়সা কারো।
অন্যজন যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলে;
-তুম সাব সুনো, এ হাওয়াই জাহাজ লাহোর ম্যায় উৎরেঙ্গে।
যাত্রীরা তটস্থ।
-কিউ কিউ?
ভয় পেয়ে যাত্রীরা হৈ চৈ চেচামেচি শুরু করে দেয়।
-তুম সমঝে নেহি সাক্তে হো, বিমান হাইজ্যাক হুয়া হ্যায়। ইস ওয়াক্ত বিমান পাকিস্তান কি কবজে মে হ্যায়।
-বাট, শুনো, কিউ? তুম দুনো ইয়ে কিউ কাররাহে হো? ইয়াত্রিও কে লিয়ে কেয়া আপরাধ হ্যায়?
-চোপ সালা হিন্দু কা বাচ্চা।
-কিউ গালি দে রাহে হো তুম? কিউ? কিয়া ম্যায়নে কুচ গালাত কাহা?
কথা শেষ হতে না হতেই লোকটির মাথায় বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করে ছিনতাইকারী। তিনি তার সিটে পড়ে যান। অন্যরা পরিস্থিতি দেখে প্রাণের ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে। অসহায় যাত্রীরা ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমুঢ়। কোনোভাবেই গোপন খবর পাঠানো সম্ভব হয় না কারো কাছে। পাকিস্তানের পত্রপত্রিকা থেকে শুরু করে সরকারি নেতা ও রাজনীতিকেরা বিমান ছিনতাইকারী দুজনকে আনন্দের সাথে বরণ করে নেন মুক্তিযোদ্ধা বলে। ভু্ট্টো নিজে লাহোর এয়ারপোর্টে চলে যান অভিনন্দন জানাতে;
-সোয়াগাত হ্যায় মেরা নওজোওয়ান, সোয়াগত। আজ পাকিস্তান কো আপ য্যায়সে বাহ্দুরী কি আজাদী পছন্দ চিনহেচুরকে পার ফাখরাহে।
ভুট্টোর এমন উস্কানি পেয়ে সমস্ত যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আনন্দ উদযাপন করে পাকিস্তানিরা।
মনস্বিতা এ কাহিনি শুনে বিস্মিত;
-হায়, হায়, কী বলছেন?
-শোনো, এর ফলে ভারত তার আকাশসীমা পাকিস্তান বিমানের জন্য নিষিদ্ধ করে দেয়। তাতে করে পাকিস্তানি বিমানগুলোকে ঘুরে শ্রীলংকার আকাশসীমার ওপর দিয়ে প্রায় এক হাজার দুশো মাইল অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করে পূর্বপাকিস্তানে আসতে থাকে।
-আচ্ছা। ভারতের সাথেও বৈরীতাতে ভুট্টো বরাবরই তাহলে এক পা এগিয়ে ছিল?
-হুম। এর ফলে কিন্তু পাকিস্তানি যুদ্ধ পরিকল্পনাবিদরা যুদ্ধচলাকালিন একটা দারুণ ঝামেলায় পড়ে যায়। মার্চের প্রথমেই পূর্ব পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গভর্নরের পদ থেকে ভাইস এডমিরাল আহসানকে সরিয়ে লেফটেনন্টে জেনারেল টিক্কা খানকে নিযুক্ত করা হলো।
-টিক্কা খান? হ্যাঁ, ছোটবেলায় নানা কথায় আমি মায়ের মুখে এর নাম শুনেছি বহুবার। মা বলতেন কসাই টিক্কা।
-এই টিক্কা খানকে কেন এখানে পাঠানো হয়েছিল জানো?
-খুলে বলুন তো?
-জেনে নাও জেনে নাও। তোমরা এই প্রজন্ম অনেকেই ভালো করে জানো না বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাস। নিজের অতীত নিজের শেকড় না জানলে দাঁড়াবে কিসের ওপর? দেশকে ভালোবাসবেই-বা কী করে আর দেশকে গড়ে তুলবেই বা কী করে?
-বলুন না?
-পাকিস্তানের বেলুচ প্রদেশে এক অভ্যুত্থান ঠেকাতে এই টিক্কা খান নির্মম পাশবিকতার সাথে নিরস্ত্র বালুচদেরকে হত্যা করেছিলেন। নারী এবং শিশুদেরকেও কেটে কুচি কুচি করেছিলেন নির্মম এবং অনুপাতবিহীন ভাবলেশহীন পাশবিকতায়। তোমার মা ঠিকই বলেছিলেন। তাই তাকে ডাকা হতো ‘বুচার অব পাকিস্তান’।
-বেলুচিস্তানের কসাই?
-তাহলে বুঝতেই পারছ এই কসাইকে কেন পূর্ব পাকিস্তানে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করার জন্য টিক্কা খান ছাড়া আর কেউ নির্ভরযোগ্য ছিল না। তখন পূর্ব পাকিস্তান অলরেডি জ্বলছে। এই কসাইকে পূর্ব পাকিস্তানে নিয়োগ দেয়াতে স্বাভাবিকভাবেই বাঙালি অশনি-সংকেতটা বুঝতে পেরে আরও তটস্থ হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতিও গভর্নর হিসেবে টিক্কা খানকে শপথ পাঠ করাতে রাজি হলেন না। অন্যদিকে ৬ মার্চ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩৫০ জন বন্দী পালিয়ে গেল। গুলিতে নিহত হলো সাত জন। ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু যখন লক্ষ জনতার সামনে রেসকোর্সের ময়দানে ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে উড়ে আসছিলেন ঢাকায় লেফটেনন্টে জেনারেল টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী। প্লেনটি যখন ল্যান্ড করার জন্য খুব নিচ দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল তখন তারা দুজনই স্বচক্ষে দেখেন লক্ষ মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ দিচ্ছেন। ইয়াহিয়া সরকার ভেবেছিল এই দিনই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন। আর তখনই রক্তগঙ্গা বইয়ে দেবার জন্য সভাস্থলের অদূরে গোলন্দাজ কামান বসানো হয়েছিল। গোলাবর্ষণের নির্দেশ দেবার জন্য একটি পর্যবেক্ষক হেলিকপ্টার উড়ছিল বঙ্গবন্ধু ও সাত লক্ষ মানুষের মাথার ওপর রেসকোর্স ময়দানকে ঘিরে। তখনো পশ্চিমাশক্তি পুরোপুরি রেডি নয়। পূর্ব পাকিস্তানকে সামরিক শক্তি দিয়ে পদানত করবার মতো যথেষ্ট সেনা সমাবেশ করা যায় নি এখানে তখনো। অস্ত্র গোলাবারুদও পুরোমাত্রায় এসে পৌঁছায়নি পূর্ব পাকিস্তানে। তাই পূর্ব পাকিস্তানে নিজেদের যুদ্ধশক্তি একটি নির্দিষ্ট লেভেলে উন্নিত করতে সময় নিচ্ছিলেন জেনারেল ইয়াহিয়া খান। আর ওই কাজটুকু ঠিকঠাক মতো শেষ করতেই তিনি ছলনার আশ্রয় নিয়েছিলেন। ১০ তারিখ গোলটেবিল বৈঠকে সব দলের নেতাদের ডেকে দেখাতে চেয়েছিলেন যে সমস্যা সমাধানে তখনো তিনি আন্তরিক। ১৫ মার্চ তার ঢাকায় আসা আর শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনাটাও ছিল লোকদেখানো। কারণ তখনো পাকিস্তানি সেনাদের প্রয়োজনীয় রসদ পর্যাপ্ত পরিমাণে জোগাড় হয় নি। এসে পৌঁছায়নি যথেষ্ট গোলাবারুদ। কিন্তু বাঙালি এতটাই ফুঁসছিল যে যেকোনো মহূর্তে আক্রমণ করে বসলে ওরা বিপাকে পড়ে যাবে। তাই চলছিল সময়ক্ষেপণ। অন্যদিকে ২৩ মার্চ খুব সকাল বেলাই জেনারেল টিক্কা খান রাও ফরমান আলী খান ও খাদিম আলীকে ডেকে বলেন,
-ওহ, কুস হো রায়া হ্যায়, তৈয়ারি-মৈয়ারি করো?
বাঙালি সেনাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিতে শুরু করেছিল অনেক আগে থেকেই, কারণ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ করবে এটা তারা ধরেই নিয়েছিল। জয়দেবপুরে অলরেডি বেঙ্গল রাইফেলস পরিদর্শনে গিয়ে ব্রিগেড কমান্ডার আরবাব সড়ক প্রতিবন্ধকতার সামনে পড়েন। এবং প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ জয়দেবপুর থেকেই শুরু হয়ে যায়। ২৫ মার্চের আগে আগে ঢাকা ব্রিগেডের মেজর খালেদকে ব্রিগেড মেজর থেকে সরিয়ে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি করা হয়। ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ায় বাঙালি সেনারা বুঝতে পারছিলেন না কি করবেন। পশ্চিম পাকিস্তানের নির্দেশ পালন করবেন নাকি দেশের স্বার্থে বিদ্রোহ করবেন। সেনাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ বন্ধ করে দিচ্ছিল একের পর এক দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে। কিন্তু তাতে রফা হয়নি। বাঙালি সেনারা ভেতরে ভেতরে একা একাই নিজেদের মধ্যে সমঝোতা মজবুত করে নেন। ঠিক এমন সময় দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর কেএম সফিউল্লাহর সেনানিবাসের বাসায় আসেন ঢাকা বিগ্রেডের ব্রিগেড মেজর খালেদ;
-তুমি তো বুঝতেই পারছ, বাঙালি সশস্ত্রদের অস্ত্রহীন করার পরিকল্পনা চলছে?
-হুম।
-তাহলে আমাদের করণীয় কী।
-অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিয়েছি অস্ত্র পরিচালনার জন্য। অস্ত্র সমর্পণের জন্য তো নয়?
-তাহলে কী করতে চাও তুমি?
-তুমি কী করতে চাও? আমি তো কোনো অবস্থাতেই ওদের হাতে অস্ত্র দেব না।
-কি করবে তুমি? এখানে ভাবাভাবির কোনো অবকাশই নেই। আমার কাছ থেকে অস্ত্র নিতে হলে তাদের বলপ্রয়োগ করতে হবে।
-হুম। আচ্ছা। আমি তোমার কাছে এই উত্তরটাই পাব ভাবছিলাম।
অন্যদিকে মার্চের প্রথম থেকেই বাঙালি সেনারা ছত্রভঙ্গ হলেও নিজেদের প্রস্তুত করতে শুরু করেছিলেন সামগ্রিকভাবেই। মার্চের প্রথম থেকেই বাংলায় অসহযোগ। জনগণকে সমর্থন জানায় বাঙালি সরকারি কর্মকর্তারাও। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে জনগণ রাজপথে। ইপিআর এবং পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হলো;
-চালাও গুলি।
-নো স্যার।
-নো?
-বাঙালির ওপর আর গুলি চলবে না।
-হাও ডেয়ার ইউ বাঙালি কা বাচ্চা।
বাঙালি পুলিশ বাঙালির ওপর গুলি চালাবার নির্দেশ মানবে না মুখের ওপর জাবাব দিলে এরাও অসহযোগে সশ্রদ্ধ এটা বুঝে গেল পাকিস্তান আর্মি। দুই জন বিক্ষোভরত তরুণকে নিজের হাতে গুলি করে হত্যা করার পর আবার মিছিলে রাজপথ ছেয়ে গেল। প্রতিবাদে শ্লোগানে রাজপথ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল। কারফিউ ভঙ্গ করে শত শত মানুষ রাজপথে। অন্যদিকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্লোগান দিতে দিতে একটি দল চট্টগ্রামের প্রায় কেন্দ্রের দিকে আগালে ২০ বেলুচ রেজিমেন্টের একটি দল মিছিলে গুলি করে। পাশের গরিব বাঙালিদের কুঁড়ে ঘর টিনের ঘর সব পুড়িয়ে দেয়। জীবন্ত পুড়িয়ে মারে শিশু ও নারীদের। শ’খানেক মানুষ তারা গুলি করে মারে। হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ আর আগুনেপোড়া মানুষের জায়গা দেয়া যাচ্ছিল না সেদিন। ২০ বেলুচ রেজিমেন্টের সেনারা বহু লাশ গোপনে সরিয়ে ফেলে যাদের পরিচয় কিংবা নাম আর কখনো জানা যায় নি। মুহূর্তে খবর সারা শহরে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম। আইনশৃঙ্খলার মারাত্বক বিপর্যয় ঘটে। সেনা অফিসার রফিকুল ইসলামের বাসায় গোপনে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে সাবধানতার সাথে জড়ো হয় জুনিয়র কমিশনিং অফিসার ও নন কমিশনিং অফিসাররা;
-পাকিস্তানিদের আঘাত করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান আপনারা।
-স্যার, প্রস্তুতির ধরন কেমন হবে?
-ইপিআর এবং অবাঙালি সেনাদের তালিকা করুন। তাদের কর্মস্থল আর বাড়ির ঠিকানা লিখে রাখুন। আমার নির্দেশ পাওয়ামাত্রই অবাঙালি সেনাদের পরাজিত করে বন্দি করতে পারেন এমনভাবে চোখে চোখে রাখুন। জওয়ানগণ সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নিন। আর ক্যাপ্টেন হারুন, কাপ্তাইয়ের সামরিক সকল কাজ সংক্ষিপ্ত করে চট্টগ্রামে এসে আমার সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিন।
গোপনে পূর্বপাকিস্তানের সেনারা প্রস্তুত। তাদের দরকার মাটি, মানুষ নয়। তারা প্রকাশ্যেই বলে দিয়েছিল;
-মুঝে আদমি নেহি চাহিয়ে মুঝে জামিন চাহিয়ে, জমিন।
তুমি ভাবতে পারো? পাঁচ পৃষ্ঠায় ষোল পরিচ্ছেদের লিখিত নীলনকশা করা হয়েছিল? কি করে মানুষ খুন করবে। কি করে নারীদের ধরে নিয়ে ক্রমাগত ধর্ষণের মাধ্যমে জননাঙ্গ নষ্ট করে দেবে যাতে তারা আর কোনোদিন সুস্থ বাঙালি সন্তান জন্ম দিতে না পারে। বাঙালি মায়ের গর্ভে পাকিস্তানি সন্তানের জন্ম দিতে দিনের পর দিন ক্যাম্পে রেখে এক-একজন নারীকে ধর্ষণ করা হবে, ভাবতে পারো এমন পরিকল্পনার কথা? ভবিষ্যতে যেন কোনোদিন বাংলাদেশ মেধার যোগ্যতায় মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা্র সব পরিকল্পনা করা হয়।
-এভাবে নিজেদের স্বার্থে হাজার হাজার মাইল দূরে এই পূর্ব পাকিস্তানে এসে একা পশ্চিম পাকিস্তানিদের পক্ষে সম্ভব ছিল?
-মোটেও সম্ভব ছিল না।
-তাহলে?
-তাদের সাহায্য করতো অক্সিলারী ফোর্স?
-অক্সিলারি ফোর্স?
-হুম। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এই হত্যাযজ্ঞে অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে কাজ করেছে বাংলাদেশ তথা পূর্ব পাকিস্তানের রাজাকার, আল বদর, আল শামস্ ও পাকিস্তান আর্মড ফোর্সের সকল সদস্যরা। কার বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো জওয়ান ছেলে আছে। কার বাড়ির ছেলেরা ইতিমধ্যে মুক্তিযুদ্ধে গেছে, কার ঘরে সমত্ত কন্যা আছে যাকে ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা যায়, কোন বুদ্ধিজীবীর বাড়ি কোথায় তার নাম ঠিকানা এসবই পাকিস্তানিদের চিনিয়ে দেখিয়ে কখনো সাথে করে বাড়ি নিয়ে গিয়ে কখনো অন্য কোথাও যেতে হবে বলে বাড়ি থেকে বাঙালি মুক্তিসেনাদের স্ত্রী বোন ভাই বাবাকে মাকে বের করে নিয়ে গিয়ে খুন করতে সাহা্য্য করেছিল বাংলাদেশের কিছু দেশদ্রোহী। পরিকল্পিতভাবে একটি জাতি বা গোষ্ঠীকে নির্মূল করার জন্য হত্যা এবং নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার প্রথম পদক্ষেপ এটা। আর এই কাজে সর্বোত সহায়তা করেছিল বাংলাদেশেরই কিছু লোক। হুম। এটাই সত্যি।
-আপনারা তখন কী করছিলেন? মানে নকশালরা?
-আমরা তখন ভারতে বসে সতর্ক দৃষ্টি রাখছি পূর্ব বাংলার মুক্তিযুদ্ধের প্রতি। কারণ এদিকে পশ্চিম বাংলায় ইন্দিরা সরকার প্রায় কব্জা করে ফেলেছেন নকশাল আন্দোলনকে। অন্যদিকে পূর্ব বাংলায় মুক্তিযুদ্ধের কাল গননা শুরু হয়ে গেছে। ভারত তথা পশ্চিম বাংলায় এর ছায়া কিংবা প্রভাব কেমন হবে এসব ভাবনা স্বভাবতই পশ্চিম বাংলায় জনমানুষের মনেও রাজনীতিকদের মনে তো অবশ্যই আসন গেড়ে বসেছিল। কমরেড চারু মজুমদারও এই বিষয়টি নিয়ে ভাবনায় পড়েছিলেন। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত নাক গলাবে এটা স্বাভাবিকভাবেই কমরেড চারু মজুমদার মেনে নেন নি। কিন্তু সকল বিপ্লবীদেরকে একটি কথা বলেছিলেন;
-আপনারা এখানেই থাকুন আর পূর্ব বাংলায় যান আপনাদের সংগ্রাম করতে হবে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বাদ দিয়ে আপনারা সম্মানিত জীবনযাত্রা ফিরে পাবেন না।
কথাটি শোনার সাথে সাথেই মনস্বিতার চোখ চকচক করে ওঠে। এই কী সেই সময়! ভাবতে ভাবতেই প্রশ্নটি করে বসে;
-আপনি কি তখনই পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এসেছিলেন?
তমালকৃষ্ণ হঠাৎ যেন একটা হোঁচট খান। কথার খই ফুটছিল যে মুখে সেখানে কালো মেঘের ছায়া ঘনায়। নীলবিষে যেন ভরে ওঠে দিনের আকাশ। স্তব্ধগতি তমালকৃষ্ণ রাজচক্রবর্তীর বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে। খুব বিমর্ষ তমালকৃষ্ণ মাথা নাড়েন;
-নাহ। সে আর হলো কই?
-হুম।
– এ হলে তো তবু ক্রমপরাজিত এই তমালের কপালে বীর বলে একটি ছোট্ট তিলক অন্তত আঁকা থাকতো। মৃত্যুতে দেনা শোধ করার একটা সুযোগ হতো!
মনস্বিতা প্রশ্নটি এভাবে করা ঠিক হয়নি ভেবে মনে মনে কষ্ট পায়। টুলটুলের সেদিকে ভ্রূক্ষেপও নেই। সে খুব মনোযোগে শুনছিল ইয়াহিয়া-ভুট্টোর পরিকল্পনা। মনস্বিতা নিরব। তার একটা সূক্ষ্ণ সচেতন অনুভব পর্যবেক্ষণ করছিল টুলটুলকে। দেখলো, খানিক সময়ের অবকাশে মনোযাতনার যে আভাসটুকু খেলে গেল বাবার মুখের ছায়ায় তা যেন টুলটুলের গ্রাহ্যসীমার একেবারে বাইরেই রয়ে গেলে। একি অবহেলা? নাকি বাবার একটি ভুলের শাস্তি এই আজীবন তার প্রতি তুচ্ছতা! টুলটুলই প্রসঙ্গান্তরটা মনে করে দেয়;
-২৫ মার্চ কী হলো সেটাই বল?
তমালকৃষ্ণ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেন। খানিক আগের কালো অন্ধকার যেন আলোর রোশনাই দিয়ে ভরে তুলতে চান। তাতেই নদী তার পূর্ণ জোয়ারের ভরাবেগ ফিরে পায়;
-২৫ মার্চ। প্রত্যেকটি সেনা ছাউনিতে বাঙালি আর পাকিস্তানি সৈন্য সংখ্যা সেট করা হয়ে গেছে ১:৩ ১:৪ ১:৫ কোথাও বা ১:৬ অনুপাতে। ইয়াহিয়া কাউকে কিছু না জানিয়ে গোপনে সন্ধ্যায় পূর্ব পাকিস্তান ছাড়লেন। সেনাবাহিনীর অশুভ গতিবিধি ততক্ষণে প্রকাশ্য। প্লেনে চড়ে বসবার আগে ভুট্টো গেলেন এক সংক্ষিপ্ত সফরে যেখানে পূর্ব পাকিস্তানে জনগণের ওপর পাকিস্তানি সেনাদের হামলা খুন জখম আর নারকীয় ধ্বংস ও হত্যার চিহ্ন রয়েছে। তারপর চড়ে বসলেন প্লেনে। তিনি খুব সন্তষ্ট চিত্তে করাচি ফিরলেন। ফিরেই সদম্ভে ঘোষণা করলেন;
-পাকিস্তান বাচ গ্যায়া হ্যায়।
২৫ মার্চ, রাত আটটা। শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি। ৩২ নম্বর গলিতে একটি রিক্সা খুব দ্রুতগতিতে এসে ঢুকে পড়ে। বাড়িতে ঢুকতে গেলে প্রহরীর বাঁধার মুখে পড়ে;
-তুমি কে?
-আমি খবর নিয়ে এসেছি।
-হুম।
-বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করা দরকার আমার।
-কেন? কি খবর?
-আমি একটি চিরকুট বহন করছি সাথে। সাবধানে তাঁর কাছে পৌঁছে দিতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
-আমাকে চিরকুটটি দেখাও।
খুব সাবধানে চিরকুটটি নিজের মুঠোয় রখে প্রহরীকে অনুনয় করে রিক্সাচালক;
-দয়া করুন। আমাকে তাঁর কাছে যেতে দিন।
প্রহরীর তাকে বিশ্বাস করার মতো কারণ হয়তো ছিল লোকটির চোখে। কিছুক্ষণ তার চোখে তাকিয়ে থেকে দরজা ছেড়ে দাঁড়ায়। শেখ মুজিবুর রহমান চিরকুটটি পড়েন। তাতে বাংলায় লেখা;
-কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার বাসভবনে আক্রমণ করতে চলেছে পাকিস্তান আর্মি।
চিরকুটটি পড়েন শেখ মুজিবুর রহমান। খুব ধীরস্থির তিনি। তবু গম্ভীর। সম্মতিসূচক মাথা নাড়েন।
-হুম।
শেখ মুজিবুর রহমান তার আশে-পাশে এবং যোগাযোগে থাকা সকল প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ট সহযোগীদের গা ঢাকা দেবার নির্দেশ দিলেন।
-নেতা, আপনি?
-আমি আমার বাড়িতেই থাকবো।
-এখানেই?
-না। আপনাকে ছাড়া আমরা পালাতে পারি না। আপনিও চলুন। ওরা আপনাকে হাতের মুঠোয় পেয়ে গোপনে হত্যা করবে।
-না। তা হয় না। আমি পালালে এই বাঙলা নিরাশ্রয় হয়ে পড়বে। বাংলার মাটি রক্তসমুদ্রে রূপ নেবে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নেতা বলে আমার মাথার দাম ধার্য করবে। বিশ্বের কাছে আমি আর বাঙালি জাতি চিরকাল কপালে কলঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকবে। আমি তা হতে দিতে পারি না।
-ইয়োর এক্সিলেন্স…
হাতের ঈশারায় থামতে বলেন;
-আমি শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির বন্ধু। বাঙলাকে বিপদের মুখে রেখে আমিতো পালাতে পারি না। আপনারা দ্রুত সরে পড়ুন। যে যার সুবিধামতো নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
সকলেই দূরে থেকে খোঁজ খবর রাখছিলেন বঙ্গবন্ধুর। তারা বার বার টেলিফোন করে পরিস্থিতি এবং বঙ্গবন্ধুর অবস্থার খোঁজ নিচ্ছিলেন গৃহভৃত্যের কাছে। গৃহভৃত্য হ্যাঁ-হু-র বাইরে কথা বলছিল না;
-হ্যাঁ। বল নেতা ঠিক আছেন তো?
-হুম। ওরা এখনো আক্রমণ করে এসে পড়েছে?
-না।
-আচ্ছা সাবধানে থেকো। আর নেতার প্রতি নজর রে…
কথা শেষ হয় না। প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে ঘুমন্ত বাঙালি অকস্ম্যাৎ জেগে উঠে বিস্মিত। রাতে অন্ধকার গোলাগুলির শব্দে রাতের আকাশ বিস্ফারিত চোখ। কিছু বিরতি দিয়ে আবার গুলি আর মর্টারের শব্দ। রাত তখন দেড়টা কী দুইটা। টেলিফোন লাইনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দুটি জীপ ও কয়েকটি ট্রাক ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। পঙ্গপালের মতো বঙ্গবন্ধুর বাড়ির বাগানে জড়ো হয়। বাড়ির ছাদ ও ওপরতলার জানালা লক্ষ করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। ওপর তলার শোবার ঘর থেকে বঙ্গবন্ধু নেমে এলেন। শান্ত তিনি। ধীর তার পদক্ষেপ। সেনাদের দিকে তাকালেন। সে চোখে কী ভাষা ছিল! পাকিস্তানি সেনা কি পড়তে পেরেছিল বাঙালির পিতার চোখের ভাষা! সে কাহিনি জানা যায় নি আজও। তবে সেনাটি খুব ভদ্রভাবে বলেছিল;
-আমার সঙ্গে চলে আসুন স্যার।
বঙ্গবন্ধু নির্ভীক। কথা বাড়ান না, পা বাড়িয়ে দেন। তিনি গাড়িতে উঠে বসার সাথে সাথেই দেখতে পান এলোপাথারি গুলিতে নিচের তলার সবগুলো জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে। আসবাব বিছানাপত্র ও বইয়ের আলমারি দেয়ালের ঝোলানো ছবি ভেঙেচুরে তছনছ করা চলছে তখনো। এর মধ্যে কোন একটি বিশেষ কিছুর দিকে নজর পড়ে পাকিস্তানি সেনার। নিচু হয়ে বসে পড়ে। হাতে তুলে নেয় একটি তৈলচিত্র। হালকা রূপালি ফ্রেমে বাঁধানো চীনের চেয়ারম্যান মাও সেতুংয়ের স্বাক্ষর করা একটি ছবি দিকে তাকিয়ে রক্তাভা ধারণ করে সেনার চোখ। ছবি থেকে সেনার চোখ সোজা অনুসরণ করে গাড়িতে বসে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের চোখ, যেখানে বাঙালি জাতির পথপ্রদর্শক এক নির্ভীক নায়কের উজ্ব্বল চোখের দৃষ্টিতে আত্মবিশ্বাসের বিচ্ছুরিত আলোর দ্যুতি! চোখ কি খানিক ধাঁধিয়ে গিয়েছিল পাকসেনার? বঙ্গবন্ধুর চোখের প্রখরতা ক্ষণিকের জন্য এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় করেছিল কি পাকিস্তানি সেনার বুক!
-ড্রাইভার, আগে বাড়ো।

[চলছে]

 

পূর্ববর্তী (৭৮) লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-68/

পরবর্তী লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-70/