শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৮৩]

0
168

পর্ব ৮৩

১৯৭২ সাল। ১৫ জুলাই। রাত তিনটা বেজে তিরিশ। কলকাতার এন্টালির ১৭০/এ মিডল রোড। তিনতলা বাড়ি। তার পেছনের প্রাচীর ঘেঁষে চলে গিয়েছে শিয়ালদহ-বালিগঞ্জ ট্রেন লাইন। পুলিশ অফিসার ও আর্মড সিপাই মিলিয়ে মোট চৌদ্দজন দিয়ে পুরো বাড়িটিকে ঘিরে ফেলা হয়েছে এমনভাবে যে মনে হবে প্রচুর লোকবলে চারপাশ দিয়ে বাড়িটি ঘেরা। দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা অফিসার রুনু গুহনিয়োগী একাই ঢুকবে বাড়ির ভেতর। পুলিশ অফিসার সচী এমনভাবে প্রাচীরের ওপর দাঁড়ালো যাতে ওপর থেকে বাড়ির ভেতরের সবটাই দেখা যায়। দরকারে ফোর্স ভেতরে পাঠানো সম্ভব হবে তাহলে।
-ঠক ঠক ঠক
বাড়ির বাইরের দরজায় কড়ার নাড়ার শব্দ তোলে নিয়োগী।
-কে? কে এল এই শেষ রাতের অন্ধকারে?
অনেক্ষণ কড়া নড়ে। ভেতর থেকে নিরুপায় হয়ে একজন তিরিশ পঁয়ত্রিশ বছর বয়সের লোক এসে দরজা খোলেন;
-কাকে চাই?
রুনুর একটি ধাক্কায় লোকটি ছিটকে পড়ে দূরে। রুনুর লক্ষ্য তখন দীপক বিশ্বাসের কথামতো পেছনের ঘরটির প্রতি। সেদিকেই হাঁটে সে। লোকটি উঠে আবার রুনুর পেছন পেছন হাঁটৈ;
-আপনি কে? কাকে চাইছেন আমায় বলবেন তো? বলুন না কোথায় চলেছেন আপনি? ভেতর বাড়িতে কেন চলেছেন?
এখন কোনো কথায় কান দেবার সময় নয়। রুনুর চোখ এই মুহূর্তে শকুনের মতো বাড়ির শেষ ঘরটির দিকে।
-আহ্‌, ঘরের দরজা খোলা। বাহ বাহ বেশি বেগ পেতে হবে না তাহলে।
মনে মনে ভাবে রুনু। আর ভাবতে ভাবতেই ঘরে ঢুকে পড়ে। একজন বৃদ্ধ লোক দেয়ালের দিকে মুখ করে শুয়ে আছেন। রুনু পেছন পেছন আসতে থাকা লোকটিকে জিজ্ঞেস করে;
-এ কে?
-আমার দাদু।
রুনু বিছানার পাশটিতে গিয়ে বসে। রোগে রোগে জীর্ণ পাংশু লোকটির গায়ে হাত রেখে ডাকে;
-দাদু? দাদু?
সঙ্গে সঙ্গেই তড়াক করে উঠে বসেন চারু মজুমদার।
এটুকু বলার পর ভেতরে উথলে ওঠা আবেগের নিয়ণ্ত্রণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ঢুকরে কেঁদে ওঠেন তমালকৃষ্ণ রাজ চক্রবর্তী।
-হায় কমরেড। কমরেড…
যেন এইমাত্র ঘটনাটি ঘটেছে, চারু মজুমদার ধরা পড়লেন তমালকৃষ্ণের সামনেই যেন, একজন মনপ্রাণ নিবেদিত গেরিলা নক্সালের সামনেই। সহ্য করতে পারছেন না তিনি এই পরাজয়। সকলেই জানে, এবার কী ঘটবে। অত্যাচার এখন করা হবে, নিদারুণ শারীরিক অত্যাচার। আর মৃত্যুর হাত থেকে ফেরানো সম্ভব নয়। খুন করে ফেলা হবেই চারু মজুমদারকে যত দ্রুত সম্ভব। রোগে শোকে জর্জরিত মানুষটিকে মেরে ফেলতে পুলিশের খুব একটা কষ্ট কিংবা ঝামেলাও করতে হবে না। কিন্তু চারু মজুমদার নির্ভীক।
রুনু যখন চারু মজুমদারকে তার নিজের পরিচয় দিলেন তখন তিনি পাশের ছেলেটিকে বললেন
-আমাকে প্যাথিড্রিন ইনজেকশনটা দাও।
রুনুর বাঁধা।
-উহু চারুবাবু, না। যা যা ওষুধ পত্তর প্রয়োজন তার সব এবার থেকে আমাদের ডাক্তারই দেবে। আমি আপনাকে গ্রেফতার করতে এসেছি।
তমালকৃষ্ণ রাজ চক্রবর্তী আবার কথায় যোগ দেন;
-এটা কি আর বুঝতে চারু মজুমদারের বাকি আছে! নকশালদের মধ্যে তখন রুনুর নাম বিস্তর পরিচিত।
তমালকৃষ্ণের চোখের কোল বেয়ে তখনও জল ঝরছে। মনস্বিতা হতবিহ্বল। একটি বৃক্ষের কেটে নেয়া ডালের গোড়া চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে যুগ যুগ ধরে ভেতরে সঞ্চিত বিক্ষত বেদনার উন্মুল হাহাকার। প্রাণ খুলতে শুরু করেছিল একদিন যে বৃক্ষ তারই কাছে। এই বন্ধপ্রাণের বন্দী যাতনার অবশেষই কী ঘটতে চলেছে আজ! বুকের নিভৃতে কেন যে এক দুর্দমনীয় শঙ্কা ধেয়ে আসে মনস্বিতার! যা বলতে চায় না যা ভাবতে পারে না যে ভবিষ্যতের কথা কল্পনায়ও আনতে চায় না মনস্বিতা এ বৃক্ষের ভেঙে পড়া কেন আজ আকারে প্রকারে সে সব কথাই বলে চলেছে! হৃদয় মন্থন করা এক বিপন্ন যাতনা কেন মনস্বিতাকেও আমূল নাড়িয়ে দিচ্ছে আজ! প্রিয় কমরেডের ধরা পড়ার কাহিনী বলতে গিয়ে এতটা বিমুঢ় হয়ে পড়লেন তমালকৃষ্ণ আর মনস্বিতার বুকের ভেতরটায় রিনরিন করে ব্যথা বেজে উঠলো! এও সম্ভব! এতকাল আগের কাহিনী। একজন জীবন সংগ্রামী যিনি, জীবন যাকে এতটুকু ক্ষমা করে নি, এতটা রুক্ষ্ণতা এতটা ভালোবাসাহীন ‍রুঢ় জীবন যার, তার হৃদয়ের অতলে কেবল এক নির্ঝরিনি সতত বর্ষে! আহা। মনস্বিতার ইচ্ছে করে নিজের হাতে তমালকৃষ্ণের  চোখের জল মুছিয়ে দিতে। তার হাতে লেগে থাকুক এ শতাব্দীর একজন নির্ভীক বিপ্লবীর চোখের জলের ছায়া। যে কখনো যুদ্ধ দেখেনি, যোদ্ধা দেখে নি, যে কখনো ভালোবাসা দেখে নি, যে কখনো কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার ভারে ভারাক্রান্ত নয়, আজ তমালকৃষ্ণের বিগলিত আত্মার সন্তাপ সেই মনস্বিতাকে ক্রমাগতই যেন নিয়ে চলেছে এক উন্মার্গ অধীর জীবনবোধের শেষলগ্নে। যেখানে সে দেখেছে অনাগত মৃত সন্তানের জন্য অধীর পিতার বুকের গভীরে তরতাজা ক্ষত থেকে দীর্ঘ দীর্ঘ কাল ধরে গড়িয়ে পড়া রক্ত। দেখেছে মূর্তমান সন্তানের অবহেলা কিংবা অসম্মানের যন্ত্রণার প্রতাপ গভীর বিষাদে ক্ষয়ে চলেছে একটি জীবনের প্রদীপ। যে ব্যথা কখনো উচ্চারিত হয়নি সন্তানের সামনে স্ত্রীর কাছে, সেই অশেষ ব্যথার বিশেষ তিনি কি দিয়ে চলেছেন মনস্বিতাকে। তিনিই কী তবে তার পূর্বজন্মের অধীশ্বর। আরও এক জন্মে কী তবে তিনিই ছিলেন তার জনক! কিংবা এই কী তবে সত্যি তমালকৃষ্ণের সেই সাতমাস বয়সের মৃত সন্তানটিই আজ দ্বিতীয় জন্মে মনস্বিতা! ভেবে ভেবে কূল পায় না মনস্বিতা। মুসলিম ধর্মে পুনর্জন্ম বলে কোনো কথা নেই। মনস্বিতা ঘোর আস্তিক। কিন্তু এ কথাতো সব ধর্মেই স্বীকৃত আত্মা অবিনশ্বর! তবে কেন সে নতুন করে দেহ ধরতে পারে না? পারে কি! হতেও তো পারে এও ভিন্নার্থে আর এক পুনর্জন্ম। আবার তমালকৃষ্ণ ধর্মাধর্মের ক্ষুরধার পথ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন, আজন্ম নাস্তিক তিনি। তবে কেনই বা তাকে ঘিরে এই মহামায়াজাল। এ কি ছলনা? এ কি মোহ। না না। ছলনা নয়। কেন তার যাপিত জীবনে মনস্বিতার এই গ্রহণ! এ মায়ার অন্য কোনো রূপ। এ মায়ার ভিন্ন কোনো আয়োজন। হ্যাঁ, তমালকৃষ্ণের জীবনের এই মেঘাদ্র দিনগুলো আবার ভরে উঠবে আলোয় আলোয়! কিন্তু, তমালকৃষ্ণের যাতনা কেন বা টুলটুলকে স্পর্শ করে না! এখনও কেন সে এতটাই দিকভ্রান্ত! বাবার পাশে বসে আনমনা! কেন সে আদরে-যত্নে পরমতম স্নেহে বাবার চোখের জল মোছায় না! মাধবী কোথায়! তিনি কি জানেন পাশে বাস করা মানুষটির এতসব নিভৃত বেদনার খোঁজ! না। তিনি জানেন না। দিনের প্রথম প্রহরে মধ্য-দুপুরে রাত্রি-নিশিথে মাধবী নিভৃতে নিজের বেদনার পূজা করেন। একাকী ধ্যানে স্বর্গারোহন করেন উচ্চতম জাতগোত্রে। ন্যূনতম জাতভেদে তিনি অঅনুমিত। তমালকৃষ্ণের মতো মানবদেবতা তার কাছে বড়ই অপাংক্তেয়। মাধবী হয়তো আর কোনোদিনই বুঝবেন না বুকের ভেতরে যে ঈশ্বর বিরাজে সেই কায়াহীন দেবাদিদেবের চেয়ে কখনো কখনো মাটির মানুষও দেবতার রূপ পরিগ্রহ করতেই পারে যদি পূজারী সে আয়োজন করে তুলতে পারে। মাধবী জানেন না, তার বিগ্রহে আসন পেতে বসে থাকা মাটির দেবতার পূজোর চেয়েও অনেক বেশি স্পর্শাকাঙ্ক্ষায় উন্মুখ তারই ঘরের দেবতা। তারই প্রাণস্পর্শে হতে পারতো যা সজীব উজ্জ্বলতর। হায়, মানুষে ঈশ্বরের সর্বোৎকৃষ্ট বসবাস, এ কথাটি জানেন না যে পূজারী তার পূজার অর্ঘ্য বৃথা পড়ে রয় কালের নিরন্তর বহমান পথের ধুলোতে। এতটুকু প্রেমস্পর্শ জন্ম দিতে পারে যে নতুন আলোর স্বর্ণাভা তারই বঞ্চনায় কিংবা প্রপঞ্চে কি প্রাপ্ত হবে ধর্মাচারের ইপ্সিত ফলাফল! এ কি পাপাচার নয়? এ কি অধর্ম নয়? এখন নিরব চারিধার। শুনশান পৃথিবীর প্রতিটি শব্দকণা নিস্তরঙ্গ। অনাদি কালের যত ব্যথা ঝুরঝুর শব্দে ঝরে পড়তে থাকে বিকেলের পড়ন্ত আলোতে। মনস্বিতা খুব নিভৃতে কান পেতে শুনতে পায় তার চিৎকার। বর্ষার জলে ধুয়ে মুছে নিকোনো আলোর কণারা আজ আরও শানিত। ধার চকচকে। মনস্বিতার ভাবনার আড়ালে ততক্ষণে তমালকৃষ্ণ শার্টের কোণা দিয়ে নিজের চোখের জল মোছেন। টুলটুলের শব্দ কালের নিঃশব্দতার গাঢ় আচ্ছাদনটা ভেঙে চুরমার করে দেয়;
-পুলিশ চারু মজুমদারকে নিয়ে কী করলো তারপর?
ঘটনার আবহ পুরোপুরি বদলে যায়। তমালকৃষ্ণের হৃদয় চিরে জর্জর, একটা দীর্ঘশ্বাস এতক্ষণের জমাট স্থির অটল আবেগ আর সময়কে গলিয়ে একেবারে তরল করে দেয়। মনস্বিতার ভাবনার জালটা ছিঁড়ে শত টুকরা হয়ে ভোকট্টা ঘুড়ির পাতলা সূতোর মতো অনস্তিত্ব, উন্মূল। বন-বাঁদার পেরিয়ে আকাশ বাতাস উড়িয়ে পাহাড় পর্বত ছাড়িয়ে ধ্যানস্থ হয় এক অনঙ্গ আদিম সভ্যতার কিনারে। তমালকৃষ্ণ ততক্ষণে নিজেকে সামলে নিয়ে ভাবলেশহীন। নিরুত্তাপ নিরুদ্বেগ তার কণ্ঠ।
-পুলিশ একটা সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল। সেখানে সাদা শার্ট পরে কমরেড সাংবাদিকদের সামনে বসেছিলেন হাসিমুখে। সাংবাদিকদের চারু মজুমদারকে প্রশ্ন করা বারণ। কেবল দেখে চলে যাবেন প্রমাণ স্বরূপ যে দুর্ধর্ষ বিপ্লবী চারু মজুমদারই গ্রেফতার হয়েছেন। এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই। এরই ১২ দিন পর তাঁর কন্যাকে ডেকে পাঠিয়েছিল পুলিশ;
-আচ্ছা। তার কন্যা? কন্যাকে কেন?
টুলটুলের কথায় আর একবার হাতের তালুতে নিজের চোখে লেগে থাকা অবশিষ্ট জল মুছে তমালকৃষ্ণ নির্বিকার উত্তর দেন;
-অনিতা তার মা ও ছোট ভাই এসেছিল কমরেডের মৃতদেহ বুঝে নেবার জন্য।
-মানে কি?
-হুম। তারা যখন বাবার মৃতদেহ দেখতে যান তখন শবদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে। ঠিক তখনই মিনিট পাঁচ ছয়ের মতো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যখন বিদ্যুৎ ফিরে আসে ততক্ষণে শবদেহ গাড়িতে তোলা হয়ে গেছে। পা থেকে মাথা অবধি সাদা কাপড়ে ব্যন্ডেজ করা শরীর।
টুলটুল কথার মাঝখানে থামায়।
-দাঁড়াও দাঁড়াও। পা থেকে মাথা অবধি মানে? মুখও?
-হ্যাঁ, মুখও ব্যান্ডেজ করা। মুখ খুলতে দেয়া হয় নি। মৃতদেহ কন্যা এবং তার মা শিলিগুড়িতে নিয়ে আসতে চাইলে অনুমতি দেয়া হয় না। শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় মৃতদেহ। মর্গ থেকে কেওড়াতলা শ্মশান পর্যন্ত শবদেহের পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাপড় বাঁধা ছিল।
-কেন?
-এখনো তুমি সেটা বুঝতে না পারলে আমার আর কী বলার থাকে টুলটুল?
-শবদেহ ফার্নেসে ঢোকানো হলো পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাপড় বাঁধা অবস্থাতেই। পুরো পশ্চিমবঙ্গ স্থবির। একজন বিপ্লবীও আওয়াজ তোলে নি কোনো। কেউ দাঁড়িয়ে থাকে নি পথের ধারে। কেউ বলে ওঠেনি শবদেহ নিয়ে যাবার পথের পাশে, ‘কমরেড সালাম, লাল সালাম।’

মৃতদেহ সৎকার হয়ে গেলে আমি আর থাকি না ওপারে। এবার মাধবীর কথামতো গন্তব্য আমার নির্ধারিত। আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি। টুলটুলের বয়স দশ মাস। আমার বুকে হু হু শূন্যতার করাল গ্রাস। আমি বিপ্লবী পরাজিত। সন্তান হন্তারকের দায় কাঁধে নিয়ে আমি মাধবীর কাছে সামাজিক একটি সাইনবোর্ড। আমি বাংলাদেশী। এখানে এসে দেখি দীর্ঘ দীর্ঘ কালের দূরত্বে আমার শেকড় উৎপাটিত। আহ…
তমালকৃষ্ণ বুকে হাত রাখেন। মুখ ভরা বেদনার রিনরিন। শরীরটা কেমন দুমড়ে-মুচড়ে উঠছে তার। মনস্বিতার চোখের সামনে নীল হয়ে আসে ভরবিকেলের রোদের আকাশ। মরিয়া হয়ে মনস্বিতা চিৎকার করে ওঠে,
-দয়া করুন। দয়া করুন। আমাকে দলিলটা নিয়ে আসতে দিন। আপনি একটু শান্ত থাকুন। সব ঠিক হয়ে যাবে। সব ঠিক হয়ে যাবে। টুলটুল তাড়াতাড়ি অ্যাম্বুলেন্সে কল করুন।
তমালকৃ্ষ্ণ স্থির। চোখের দৃষ্টি অনির্ধারিত হবার আগে আগে মনস্বিতার ব্যান্ডেজে বাঁধা হাতটি একবার ধরেন। একটি কথাই বলে যান তিনি,
-দলিলটা থাকুক তোমার কাছে। আমার উত্তরাধিকার।
ঘরের ভেতর থেকে ঠিক তখনই পর্দার আড়াল সরিয়ে উঁকি দেন মাধবী। শেষ কথা ক’টি তার কানে বারুদের মতো আগুন ধরিয়ে দিয়ে পোড়াতে পোড়াতে নেমে যায় বুকের গহনে। সে আগুন শিরায় শিরায় পৌঁছে গিয়ে উন্মাতাল করে তোলে সকল দিশা। তমালকৃষ্ণ ততক্ষণে শান্ত। সমাহিত। অচঞ্চল।

(চলবে)

পূর্ববর্তী পর্বের (৮২) লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-72/

পরবর্তী পর্বের (৮৪) লিংক

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-74/