সাহিত্য সংবাদ (ভিডিওসহ) >> তীরন্দাজে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অনুবাদ প্রকাশিত হবে

0
303
সাহিত্য সংবাদ (ভিডিওসহ) >> তীরন্দাজে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অনুবাদ প্রকাশিত হবে
“তীরন্দাজ তোমাদের অনুবাদ প্রকাশের জন্য উন্মুক্ত করা হলো”
– বলেছেন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত তীরন্দাজ সম্পাদক কবি মাসুদু্জামান
[তীরন্দাজ রিপোর্ট]
১১ এপ্রিল। বৃহস্পতিবারের অপরাহ্ন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পঞ্চম তলার একটা ক্লাসরুম। এই ক্লাসরুমে জড়ো হয়েছে ইংরেজি বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের অসংখ্য শিক্ষার্থী। উপস্থিত ছিলেন ডিন প্রফেসর হামিদুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের প্রধান রাকিবুল হাসান খান আর সহকারী অধ্যাপক অনুবাদক নাহিদ কায়সার। উপলক্ষ ‘মিরর’ (MIRROR) নামের একটি দ্বিভাষিক (ইংরেজি থেকে বাংলা এবং বাংলা থেকে ইংরেজি) পত্রিকার উদ্বেধন ঘটবে এখানে আর শিক্ষার্থীরা পাঠ করবে তাদের অনূদিত লেখা। দ্বিভাষিক বলতে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি রচনা থেকে যেমন বাংলায় অনুবাদ করেছে, আবার তেমনি বাংলা লেখারও ইংরেজি অনুবাদ করেছে। হ্যাঁ, মিররে অন্তর্ভুক্ত সব অনুবাদই শিক্ষার্থীদের। তবে এই শিক্ষার্থীদের অনুবাদে সার্বিক পরামর্শ দান আর দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন শিক্ষক নাহিদ কায়সার। নাহিদ একাধারে শিক্ষক আবার অনুবাদকও। ইতিপূর্বে তাঁর অনুবাদ তীরন্দাজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অসম্ভব শিক্ষার্থী-অন্তপ্রাণ পরিশ্রমী এই শিক্ষক জানেন কীভাবে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে হয়। কীভাবে শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাকে উস্কে দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে হয়। এই অনুষ্ঠানে সেটাই লক্ষ করা গেছে। শিক্ষার্থীদের কী প্রাণবন্ত সব উজ্জ্বল মুখ- আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষায় চঞ্চল আর উন্মুখ। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরাই ছিল অনুষ্ঠানটির আয়োজক। কিন্তু তত্ত্বাবধানে সারাক্ষণ ব্যস্ত ছিলেন তাদেরই প্রিয় শিক্ষক নাহিদ কায়সার। পিনপতন স্তব্ধতা আর মাঝে মাঝে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো টানা চলে অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা একে একে তাদের অনুবাদ পাঠ করে। যেসব শিক্ষার্থী অনুবাদ করেছে তারা হলো- মোস্তাফিজুর রহমান, খালিদ মাহফুজ, হুমাইয়ারা আক্তার হিমু, শামিম আল মামুন, মুমতাহনিমা্ তাসনিম নাতাসা, নুসরাত, চিন্ময় চাকমা, সানজিদা নাজনিন, সুস্মিতা ঘোষ, জান্নাতুল মাওয়া জেনি, তারিন সুলতানা, ঈশতির রাদীয়া ঈশাত, কামরুল হাসান পলাশ, কাজী সিয়াম, কথা দোলা রড্রিক, শাহরিয়ার হোসেন শিহাব, সানজিদা রহমান দৃষ্টি, মুজিবুর রহমান, সোহাগ হোসেন, আফসানা জেরিন শায়েরী, ইন্দু চাকমা, নূর রায়হান খান, ফারিয়া বিনতে খালেক, জান্নাতুল বাকিয়া সুইটি, সুমাইয়া বিনতে মাহবুব, তাহমিনা, রাজিয়া সুলতানা, মাহমুদুল আলম সুমন, উম্মে ফারিহীন সুলতানা রিমু, সাঈম হোসেন শুভ, ফাইরুজ অনিকা, মোনালিসা প্রামাণিক, নুসরাত শারমিন মীম, জাহিদ হাসান, তারেক হাসান, লিজা খাতুন, শান্ত দেওয়ান, রহমত উল্লাহ ভুঁইয়া, আসিফুল ইসলাম আসিফ ও রাইসা মালিহা। এই শিক্ষার্থী অনুবাদকদের মধ্যে প্রায় সব শিক্ষার্থী অনুবাদকই তাদের অনুবাদ পাঠ করে শোনায়।
এরই ফাঁকে ফাঁকে প্রধান অতিথি কবি ও তীরন্দাজ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুবাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কথা বলেন এবং কীভাবে অনুবাদ করতে হয়, সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেন। প্রথমেই তিনি ঘোষণা করেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন অনুবাদ তীরন্দাজ ওয়েবজিন নিয়মিতভাবে প্রকাশ করবে। এর জন্যে তিনি শিক্ষক নাহিদ কায়সার এবং বিভাগীয় প্রধান রাকিবুল হাসান খানকে অনুরোধ জানান। এখানে বলা প্রয়োজন, রাকিবুল নিজে একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক। একসময় তিনি “কাঠখড়” নামে একটা লিটিল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করতেন। এই অনুষ্ঠানেই ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সঙ্গে তীরন্দাজের অনুবাদ করা ও প্রকাশের সূত্রে সম্পর্ক স্থাপনের অঙ্গীকার করা হয়। তীরন্দাজ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান এবং অনুবাদ প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক নাহিদ কায়সার পরস্পর এই প্রস্তাবটি দেন এবং শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকেরা তাতে সম্মতি প্রকাশ করেন। এখন থেকে নিয়মিতভাবে তীরন্দাজে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুবাদ প্রকাশিত হবে। বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন শিক্ষক নাহিদ কায়সার।
নাহিদ কায়সার অনুষ্ঠানে জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের দ্বারা বিশেষ বিশেষ বিখ্যাত লেখককের অনুবাদ করিয়েছেন। অনুবাদের মূল রচনাগুলিতেও বৈচিত্র্য ছিল- সফোক্লিস, শেক্সপীয়র থেকে জাহানারা ইমামের রচনাও তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে অনুবাদ করিয়েছেন। ভবিষ্যতে অন্য অনেক লেখকের আরও বেশি লেখা শিক্ষার্থীরা অনুবাদ করবে। তাঁর বক্তব্য থেকেই জানা গেল, এই সম্পূর্ণ কাজটি শিক্ষার্থীরা নিজেরাই করেছে। মিরর পত্রিকাটির প্রকাশনাসহ সার্বিক কাজও করেছে তারা, নিজেদের অর্থায়নে। মিরর পত্রিকার সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছে তারা হলেন- সম্পাদক : নাহিদ কায়সার, সহ-সম্পাদক : মোতাহার হোসেন সজিব, ঈসাতির রাদিয়া; সমন্বয়ক : মুন্না সরওয়ার, জাহিদ হাসান, লিজা খাতুন, আবদুল্লাহ জুবায়ের; কভার ডিজাইন ও অঙ্গসজ্জায় : সায়েম হোসেন শুভ।
নববর্ষের কয়েকদিন আগের এই অনুষ্ঠানটি বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল। অনুবাদের মতো একটা নিরস কাজও যে কতটা প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সেটা প্রমাণ করেছে। ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও এর আগের বছর এরকম একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সবমিলিয়ে বলা যায়, এই তরুণ অনুবাদকদের মধ্য থেকেই একদিন দেশখ্যাত কিছু অনুবাদক উঠে আসবে বলে আশা করা যায়।
এই রিপোর্টের সঙ্গে অনুষ্ঠানের একটা সম্পাদিত ভিডিও যুক্ত করা হলো। পাঠকেরা সেটি দেখলেও ধারণা করতে পারবেন, অনুষ্ঠানটি কতটা প্রাণবন্ত ছিল।

ভিডিওটিতে বিস্তারিত দেখুন

Watch the Video of the Program

https://www.youtube.com/watch?v=-cpYJZ__AI8