সিলভিয়া প্লাথের চিঠি >> টেড হিউজকে লেখা >> তর্জমা : রাজিয়া সুলতানা

0
200

সিলভিয়া প্লাথের চিঠি >> টেড হিউজকে লেখা

“কিন্তু আমার একটা অদ্ভুত ব্যাপার আছে – সম্পূর্ণ একা হলে আমি একধরনের সুখ, আনন্দ উপভোগ করি। তুমি যে আমার ঈশ্বর, আর আমি তোমার তপস্বিনী। প্রতিরাতে আমি জানালা মেলে ধরে বাইরের দিকে ঝুঁকে নক্ষত্রের মেঘমালা দেখি, ভেজা প্রকৃতির গন্ধ নিই আর তোমার সঙ্গে কথা বলি।”

বুধবার সকাল, অক্টোবর ৩, ১৯৫৬

প্রিয়তম টেডি,

এখন অনেক সকাল, তবু ঝকঝকে অলৌকিক সহজ নীলাভ একটা দিন। স্থানে স্থানে জলপাই রঙের সবুজ পাতাগুলোর মাঝখানে গোলাপি রঙের তারাফুল ফুটে আছে। শুঁটি থেকে চকচকে উজ্জ্বল রঙের চেস্টনাট বাদামগুলো ফেটে বের হচ্ছে (সন্ধ্যের পর ওগুলো কুড়িয়ে আনব) আর দাড়কাকগুলো উজ্জ্বল হালকা ধাতব পাতের মতো শব্দ করে চলেছে। আমি নিজের সঙ্গে, তোমার সঙ্গে একটানা কথা বলতে বলতে পেটি কারি থেকে সোজা হাঁটা দিই। কিন্তু লোকজনের চিৎকার-চেঁচামেচি, গাড়িগুলো একটার পেছনে আরেকটা পাল্লা দিয়ে ছুটছে। গতির তোড়, লোকজনের ভিড় আর ঘেঁষাঘেঁষিতে ব্যথা পেয়ে পাগলের মতো একরকম চিৎকার করতে করতে বাসায় ফিরি। গত চারমাস ধরে আমার হাড় আর মজ্জার গভীরে সমগ্র সত্তায় শুধু একটাই সচেতন ডাক। সে তুমি। তোমার ভেতরে তোমার সঙ্গে আমি থাকতে চাই। এই নৈঃসঙ্গ্য আর একাকীত্বের পূর্ণ হাহাকারে তুমিই আমার একমাত্র স্বস্তি আর সম্পূর্ণ নিরাপদ আশ্রয়। তুমিহীন এখানে আমি ঊষর মরুভূমির তীব্র দহনে জর্জরিত। কিন্তু তারপরও দ্যাখো তোমার মতো চমৎকার কেউ একজন (পিটার রেডগ্রোভ) মিষ্টি একটা চিঠি পাঠিয়েছে – লিখেছে আমাদেরকে পেয়ে কতোই না খুশি তারা আরও বলেছে যে কোনো সময় ইচ্ছে হলেই যেন চলে যাই সেখানে। আমি তো এর জন্যেই দেয়ালে মাথা ঠুকে মরছি। এখন তো লোকজনের মধ্যে কাজকর্ম নিয়েই আছি। কিন্তু এখানে ব্যবসাবাণিজ্য বেশি সুবিধের নয়। পরিসর খুব ছোট। গুরুত্ব দেয়া হয় কম। আমার মতো কাউরো চোখে ক্ষুদ্র ধূলিকণার মতো। ব্যাংকারের দিকে তাকিয়ে আমি হাসলাম, উনিও আমাকে অনেক আগ্রহ নিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন। লয়েড আমাকে কতটা মিস করেছে তা বলল। বলল এ গ্রীষ্মে বৃষ্টিতে নাকি জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল আর আমার মতো ভাগ্যবতী নাকি আর কেউ নেই। যখন কাজের কথায় ফিরলাম তখন পরামর্শ দিয়ে বলল আমি তোমার ওখানে ডলার রাখার জন্য একটা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারি। জটিলতা এড়ানোর জন্য বললাম যে তুমিও অ্যামেরিক্যান। তুমি চেকগুলো স্বাক্ষর করে জমা দেয়ার সময় লিখবে ‘মিস সিলভিয়া প্লাথের অ্যাকাউন্টে জমা দেয়ার জন্য।’ তোমার নাম লেখা থাকলে কেউ সেগুলো ক্যাশ করতে পারবে না। এর পরের গ্রীষ্মে আমি সেগুলো আমার নামে ব্যাংকে জমা দেব।
জঘন্য একটা নাস্তা খেয়েছি আজ। মনে হলো মধুটা নষ্ট; তাই দিয়ে সাদা পাউরুটি টোস্ট করে খেয়েছি (ইয়াক!) সঙ্গে ছিল নেসক্যাফে কফি। স্নান সেরেছি আগেই কিন্তু বাথরোবটা এখনও গায়ে। ওরা নিয়মিত ব্রেকফাস্টটা আগামীকাল থেকে আবার শুরু করবে। আমি যেভাবে তোমাকে মিস করি সেইটা রক্ত আর প্রাণহীন একটা হাস্যকর শব্দ যেন – অদ্ভুত! হিসহিস শব্দ করতে থাকে। আমি এর আগে কখনো এভাবে অনুভব করি নি। আমাদের দোকলা জীবনের কাহন হবে এই যে, তুমি আর আমি শুধু ঝগড়া করবো, খুনসুটি হবে আমাদের, বিবাদ হবে, মারামারি করব দুজনে – এইসব বিরক্তিকর অনুভূতির বন্যায় ভেসে যাবো দুজনে। আমার সমস্ত জীবন, অস্তিত্ব, শ্বাস-প্রশ্বাস, চিন্তা-চেতনা, আহার-নিদ্রায় গত কয়েকমাসে কীভাবে যে আমি তোমার সঙ্গে দারুণভাবে একাত্ম হয়ে গেছি – সে কথা প্রকাশের ভাষা আমার নেই। এ যেন আমার শরীরে অসংখ্য নরম, মোলায়েম আবেগপ্রবণ কর্ষিকা তোমার শরীরের সঙ্গে যুক্ত। সহসাই আমার মন ছাড়া অন্যগুলোর সঙ্গে সেই সংযোগটা টলে গেছে, আলগা হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সুন্দর ডিমপোছে সিরকা মেশালে যেমন, তেমনটি হচ্ছে আমার ক্ষেত্রে। আজকাল মানুষ আমাকে প্রভাবিত করছে, আমি আক্রান্ত হচ্ছি। আমি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছি, মনোযোগ দিচ্ছি আবার অন্যমনস্কও হচ্ছি। আর জানো, একটা কর্ষিকাও কিন্তু বাকি নেই! সবগুলো জায়গা মতন ঠিকঠাক আছে; কীভাবে আমি নিজেকে গুটিয়ে রেখেই সবার সঙ্গে মিশতে পারি দেখে নিজেই অবাক হই। গতরাতে নিউম্যানহ্যাম কলেজে প্রথম রাতের খাবার খেতে বসেছি – এমন সময় তিনটা মেয়ে ফিরে এল। ওদের একজনকে আমি চিনি। খেতে খেতে দ্রুত ওদের আলাপচারিতা শুনছিলাম। ভয়ানক কষ্টের সেই সংলাপ : “আমি সবসময় ভাবতাম ওরা চায় বা আশা করে, যে কোনো কাজে মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা ভালো করবে, জানো? এটা একটা কথা হলো? তার মানে হচ্ছে মেয়েরা সবসময় ছেলেদের পিছে পড়ে থাকবে! ওহ! ভাবতে পারো?” কিন্তু তোমরা তো সত্যটা জানো। বাস্তবে ঘটছে ঠিক এর উল্টোটা। মেয়েদের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে প্রতিযোগিতা বেশি আর ওরা নিচে পড়ে থাকার ভয়ে আতংকে থাকে।“
আমার মেজাজ এমন খারাপ হয়েছিল, যে কারণে আমি আমার লম্বা সাদা চুল টেনে ছিঁড়েছি, গালের ভাঁজে নখর বসিয়েছি। ঢেঁড়শ দিয়ে বানানো পাকোড়ার ওপর ধূসর সবুজ রঙের কাস্টার্ড ঢেলে দিয়ে তা বর্জন করে কলেজ লাইব্রেরিতে চলে গেছি।
গতকাল আমার কেমন গেছে তুমি জেনে অবাক হবে। জঘন্য একটা দিন গেছে কাল। সোমবার চলে গেল। শুধু রাগ নয় একরকম অসুস্থ হয়ে পড়ি সোমবার চলে গেলে। একসঙ্গে এত কাজ পড়লে হতবুদ্ধি হয়ে যাই একেবারে। আমার বাইকের নতুন টায়ার আর টিউব কিনতে হলো। তিন সপ্তাহ ধরে ঘড়িটা মেরামত করতে দিয়েছি ওপরের দোকানে স্যামুয়েলের কাছে তার কোনো খবর নেই। যে ক্লিনারে কাপড় ধুতে দিয়েছি, দেখলাম আমার স্কার্টের ভাঁজের প্লেট খুলে আবার লাগাতে হবে। এমন খারাপ অবস্থা। ক্লিনারের মহিলা বললেন সকালে ব্রেকফাস্টের জন্য যেন দুধ ছাড়া কফির অর্ডার দিই। কারণ, দুধ-কফির দাগ কাপড়ে লেগে গেলে আর ওঠে না। সভ্য, ভদ্র হয়ে আমি শুধু শুনে যাই। কেন জানি না, ক্লিনার থেকে শুরু করে ব্যাংকার, মদ-ব্যবসায়ী – সবাই আমাকে তাদের ব্যবসার ঘোরপ্যাঁচ ব্যাখ্যা করতে চায়। ভাবছি আমি নিজেই বাণিজ্যের বইয়ের ঘোরপ্যাঁচ ধরনের একটা লেখা লিখে ফেলবো।
ব্যাংকের কাজ সারলাম, ডিনার ড্রেস প্রতিযোগিতার জন্য একটা পোস্টার অর্ডার কিনলাম। অসংখ্য চিঠি ডাকে ছাড়লাম – ওদের কথামত নতুন ‘বুক অ্যালাউন্স’-এর দাবি জানালাম।
সমুদ্রযাত্রার জন্য দিনক্ষণ চাইলাম। যত তাড়াতাড়ি রওনা হবো, তত বেশি সময় পাব লেখালেখির জন্য। স্টুপিড পাসপোর্ট অফিসে জানিয়ে দিলাম – ওদের কাছে এখনও আমার পাসপোর্টটা রয়ে গেছে। কিন্তু ছোট্ট একটা অফিসিয়াল চিরকুট পাঠিয়েছে যাতে লেখা – “মিসেস সিলভিয়া হিউজেস” মনে হলো কেউ সেটা খুলে পড়েছে। ভেতরে লেখা –‘নী প্লাথ’। আমি অনেক অনুরোধ করে লিখেছি যেন ওটা আবার আমার মেইডেন নামে মেইল করে পাঠানো হয়। মিস অ্যাবোট আর তিরিক্ষি মেজাজী মিলানেকে জিজ্ঞেস করলে ওদের সাহস নেই স্বীকার করবে ওরা চিঠিটা খুলেছে। আমি খুশি খুশি একটা ভাব নিয়ে বিনয়ের সঙ্গে সাপের মতো হাসি দিয়ে ওদের চোখে তাকিয়ে বলব – ‘কীরকম নির্দোষ সংশয় দ্যাখেন তো’। আমার প্রিয় প্রফেসর টিউটর মিস মরিসের সঙ্গে দেখা হলো আজ। সুন্দর করে নিজেকে প্রকাশ করতে পারেন না অথচ কত সুইট উনি। আমার লাইব্রেরি কার্ডে সই করে দিলেন। গ্রেপভাইন পত্রিকায় আমার কবিতা প্রকাশিত হওয়ার জন্য আমাকে অভিনন্দন জানালেন। ‘পোয়েট্রি’ থেকে আসা আমার চিঠিটা খুলে খুশিতে কী যে একটা চিৎকার দিয়েছিলাম। মিসেস মিলানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন। গতকাল ছিল ধূসর, মৃত একটা দিন; আমার পাকস্থলীতে আটকে ছিল একেবারে। আমি মানুষের দিকে কঠোর স্থির জ্বলন্ত দৃষ্টি দিয়ে তাকাতে পারি এখন, তখন ওরা ভয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। ফোন করে ঠিকানাটা জেনে নিয়ে ড. ক্যাপলানের কাছে চেকটা পাঠিও কিন্তু। আজ সকালে আবারও সেই একই বিল পেলাম কমপ্লিমেন্টসহ। বিলটা দিয়ে দিলাম। যাই ঘটুক না কেন লন্ডনে গিয়ে তুমি কিন্তু ওনার সঙ্গে দেখা করবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমি খুঁতখুতে, অ্যামেরিক্যান, বোঝোই তো। তোমার জ্যাকেট আর স্যুট পাঠানোর জন্য শিগগিরই দর্জির কাছে যাব। লন্ডনে এগুলো পরে যেও কিন্তু। মি. কার্নি রস আর আমি তোমার পোশাক দেখে খুশি হতে চাই। প্রশংসা করতে চাই। তোমাকে ওখানে দেখার জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে আছি। জানি একাকীত্ব আমাকে ছাড়ছে না। কিন্তু আমাকে লেখালেখি, পড়াশোনা আর আঁকাআঁকির মধ্যে ডুবে থেকে সান্ত্বনা খুঁজে নিতে হবে। আমার জন্য তা হবে মঙ্গলজনক। কিন্তু প্রথম এই দুই তিন সপ্তাহ পার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তোমার অনুপস্থিতির কথা ভাবি যখন তখন তোমার সঙ্গে থাকার আনন্দগুলো আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু আমার একটা অদ্ভুত ব্যাপার আছে – সম্পূর্ণ একা হলে আমি একধরনের সুখ, আনন্দ উপভোগ করি। তুমি যে আমার ঈশ্বর, আর আমি তোমার তপস্বিনী। প্রতিরাতে আমি জানালা মেলে ধরে বাইরের দিকে ঝুঁকে নক্ষত্রের মেঘমালা দেখি, ভেজা প্রকৃতির গন্ধ নিই আর তোমার সঙ্গে কথা বলি। তুমি যেখানেই থাকো আর যাই করো না কেন আমি সম্পূর্ণ নিবিষ্টচিত্তে তোমার ওপর আমার মনকে নিবদ্ধ করি। তুমি চলে যাবার আগের উইকেন্ডে দেখা হলে খুব ভালো হতো। এরপর আমার কাজের একটা সুন্দর রুটিন দাঁড়িয়ে যাবে। তুমি এলেও সমস্যা হবে না কোনো – আমি ততদিনে সন্ন্যাসজীবনে অভ্যস্ত হয়ে যাব।
চসারের ছয়টা সমালোচনামূলক বই এনেছি লাইব্রেরি থেকে। সেইন্ট অগাস্টিন আর সেইন্ট পলের ফিলোসফির ওপর বইগুলো আর এগুলো পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো বই আনতে পারব না। কী হাস্যকর ব্যাপার দ্যাখো! পত্র বা লেখার ওপর অনুবাদের সঠিক কোনো কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। বই-ব্যবসায়ীরা এমনভাবে আমার দিকে তাকায় যেন আমি একটা পাগল। বুঝলে?
আজ একটা কাজ শেষ করেছি। আর লন্ড্রি, টুকিটাকি কেনাকাটা এসব তো আছেই। কয়েকটা ‘নেশনস্’ পত্রিকা পড়েছি নিউনাম লাইব্রেরিতে। তোমার কবিতা না খুঁজে থাকতে পারি নি। পেয়েও গেছি এই পত্রিকায়। ওয়াইজগাই চার্ডির লেখা ভয়ানক কয়েকটা ছদ্ম-কবিতাও পেলাম। গতবছর কবিতাপাঠের প্রতিযোগিতায় উনি আমার কবিতার ভূয়শী প্রশংসা করেছেন, সম্পাদকদের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে দুটো কবিতা ছাপতেও সাহায্য করেছেন। তাই আমি তার নিন্দাই বা করি কীভাবে। দ্য নেশনস্ পত্রিকার জন্য ভালো কবিতা খুব দরকার। রবার্ট হিলিয়ারের ‘দ্য ভিকটিম’ কবিতা – না, না ওটা তো নিউ ইয়র্কার এ ছাপা হয়েছে। একটা পাখি নিয়ে কবিতাটা, হামিংবার্ড, অলীক ফুল দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে জানালার কাচের দিকে উড়ে যায় – “সে আঘাত করে শূন্যকে, প্রচণ্ড সে আঘাত”(কবিতাটার শেষ লাইন)। নিউ ইয়র্কারের সাহিত্য সম্পাদক একটা মানসিক রোগী। কবিতাগুলো দুইরকম – অতিরিক্ত ভয়, আবেগ আর প্রেমের কবিতা। কখনো খুব স্থির, কখনও ছন্দাসিক, কখনও ছন্দহীন আবার কখনো ঘূর্ণাবর্ত যেন, হাস্যকর, বুদ্ধিদীপ্ত। কখনো আবার অন্য খবর থেকে উদ্ধৃতি দেয় ওরা। “রোড টু বার্সেলোনা” স্পেনের এই গল্পটা পড়ে মেজাজ খুব খারাপ হয়েছে। আমি “অসন্তুষ্ট মেয়র” নামে একটা গল্প লিখব, দেখি ওটা ওরা ছাপায় কি না। ছোট ছোট এপিসোড নিয়ে হবে গল্পটা – ওরা এরকমই চায়। আপাতত আর কোনো খবর নেই। দ্য আটলান্টিক মান্থলি’র সম্পাদক এডওয়ার্ড উইকসকে চিঠিসহ কয়েকটা কবিতা পাঠাব। নভেম্বরে গ্রেভইয়ার্ডে ছাপানো কবিতার ব্যাপারে উনি লিখেছিলেন, তারই জবাব দেয়া হবে তাহলে। ছয়টি কবিতা যাওয়াতে মনে হচ্ছে আমার ঘাড় থেকে পোয়েট্রি ম্যাগাজিন একটা অ্যালব্যাট্রস উঠিয়ে নিয়েছে যেন। ওই কবিতা ছয়টা আমার জন্য এক আশীর্বাদ। কবিতাগুলো প্রেমের, তোমাকে নিয়ে লেখা। এখন এগুলোর জন্য মহিলা গীতিকার খুঁজতে হবে, যে প্রেমের জয়গান করে আর পছন্দ করে সবুজের সমারোহ – বুদ্ধিবৃত্তিক, অতিন্দ্রীয় ছদ্ম-পুরুষের মতো নয়, ক্যাথলিন রেইন যেমন। অথবা টিজডেল, পার্কার, মলে বা জয়ের মত, তিক্ত- টক আনন্দের। একজন মেয়েমানুষের আসল জায়গা হচ্ছে তার স্বামীর বিছানা। মহান সাহিত্যকর্মের উন্মেষ ঘটে বিশুদ্ধ, বিশ্বস্ত আর সৃষ্টিশীল আনন্দময় বিছানা থেকে। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া আমার জীবন বুদ্ধিবৃত্তিক তপস্বিনীর মতো। তুমি ছাড়া আমার আর কারুরই প্রয়োজন নেই। এখন শুধু কাজ কাজ আর কাজ করতে চাই। এ বছর আমার একাকীত্ব দৌড়ে পালাবে। তোমার চিঠি কী যে ভালো লেগেছে! এর অনেকটাই আমি কাজে লাগাব, মনে হয় আর্টিকেলটা প্রসবের সময় হয়ে গেছে; মাঝে মাঝে ওটার নড়াচড়া টের পাই, বের না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় আছি। তোমাকে প্রচণ্ডরকম ভালোবাসি—

ইতি — তোমারই একান্ত সিলভিয়া