সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় > তিনটি কবিতা >> জন্মদিন স্মরণ

0
286

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় > তিনটি কবিতা >> জন্মদিন

শূন্যের আড়াল থেকে একটি মুখ ভেসে আসে
ঈষৎ ফেরানো, পুব দিকে
শূন্য থেকে যেমন শিশির, কিংবা চাতকের ডাক
বাকি চরাচরে কেউ নেই
শুধু সে-ই দেখে, যার আঙুলে কলম।
ওকে কি বিশ্বাস করা যায়?
শব্দের নির্মাণে কিছু মিথ্যে তো থেকেই যায়
যা আসলে সত্যের যমজ
শূন্য কি কিছুর জন্ম দিতে পারে? তবু যেন আসে
অলীক খড়িতে আঁকা মুখখানি, কপালে অলক
শুধু পুব দিকটাই স্থির সত্য, সমস্ত দিকেরা সেটা জানে।
এখন দিন না রাত্রি? অথবা কুয়াশা
হঠাৎ ভাঙলে ঘুম যে- কেন সময়ের ভ্রম
দু’দিকের জানলা সেল্ফ, আলো কিংবা অন্ধকার
দু’রকম নীল
হাতে যে কলম নিয়ে বসে আছে তার বুকে
দুঃখ ভাঙা সারাৎসার, সে যাই-ই খুঁজুক
সাদা পৃষ্ঠা অক্ষর শব্দাবলী ছাড়া আর
কিছুই দেবে না।
ফুলের বাগানে রাত্তিরবেলা লুকিয়ে আছে একটা চোর
আকাশে মৃদু জ্যোৎস্না আর পাতলা মেঘের খেলা
রাত্রে-ফোটা ফুলগুলির তীব্র গন্ধ দিয়ে
ওকে সম্মোহিত করা যায় না?
চোর হলেই কি তার থাকবে না সৌন্দর্য বোধ?
দিন-দুপুরে একটি পাঁচ বছরের বালিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল একদল মুখোশধারী
ওরা মুখোশ পরেছে, পরুক, কিন্তু পাঁচ বছরের কোনও শিশুর
মুখের হাসি কি ওরা দেখে নি?
সেই হাসি মুছে দিতে গিয়ে ওদের বুক কাঁপবে না?
তোমার হাতে তলোয়ার থাকলে তোমার শত্রুরও একটা থাকবে
তারপর মুখোমুখি হবে লড়াই
এটাই তো মানুষের নিয়ম
যারা পিছন দিক থেকে আঘাত হানে,
নিরস্ত্রকে পুড়িয়ে মারে
তারা কি মানুষ?
জনসংখ্যা যত বাড়ছে ততই মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে?
এইসব ভেবে ভেবে আমাদের শুধু মন খারাপ হয়
একলা গাছের নিচে বসে কেউ একজন বাঁশি বাজাচ্ছে
তার দিকে চেয়ে থাকি!
মা, তোমাকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি
এইসব আত্মঘাত শুরু হল কবে থেকে?
মা মানে অবশ্যই নিজের মা নন।
সে মধ্য আফ্রিকার এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী, বাইবেলের ইভ নন মোটেই
আমাদের দু’পেয়েদের আদি জননী
তারপর তো তোমার বংশধারা ছড়িয়ে পড়ল আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য
থেকে নানাদেশে
সকলের মনের মধ্যে হিংসা কে জুড়ে দিল বল তো?
বাঘ-সিংহরা পরস্পরের ঘাতক হয় না

[সংকলিত]