সুলতানা আজীম > প্রেমের অন্তরালে >> মুক্তগদ্য

0
1792
মানুষ কাজে বাঁচে না। বাঁচে প্রেমে। মানতে পারছেন না? কেনো নয়? প্রফেশন বা পেশা, যাই হোক, তা কী সব সময় সুখী করছে আপনাকে? হয়তো না। কাজ করতে বাধ্য আপনি, তাই করছেন। কারণ, খেতে হবেই। দিতে হবে সব বিল। জীবন এবং সংসার চালাতে, প্রচুর টাকারও প্রয়োজন। একঘেঁয়ে লাগছে প্রতিদিন একই কাজ। ক্লান্ত করে তুলছে একঘেঁয়েমি। তৈরি হয় অনেক সমস্যা। যা চাচ্ছেন, যেভাবে চাচ্ছেন, হচ্ছে না সব কিছু সেভাবে। আসছে হতাশা, বার বার। ভালো লাগছে না কিছুই আর। জীবনের জন্যে কাজ। কিন্তু কাজের জন্যে তো জীবন নয়। অনুভব করছেন তবুও, জীবন শেষ হচ্ছে কাজের জন্যেই।

এরকম সময়ে, যখন খাচ্ছেন ঘুমাচ্ছেন, করছেন অনেক কিছু, তবুও ভালো লাগছে না কিছুই। দখল করেছে আপনাকে শূন্যতা, আর বিষন্নতা। তখন একজন, যাকে ভালো লাগে খুউব, যদি বলে আপনাকে- ‘ভালোবাসি’। কী করবেন? বলবেন না, ‘ভালোবাসি তোমাকেই আমি’। পালিয়ে যাবে, শূন্যতা আর বিষণ্নতা দূরে,অনেক দূরে। তৈরি হতে থাকবে, স্বপ্ন। নুতন নুতন স্বপ্ন। দুষ্টু স্বপ্ন। মিষ্টি স্বপ্ন। রোম্যান্টিক স্বপ্ন। কতো কতো কতো স্বপ্ন। আর? স্বপ্নগুলো পূর্ণ হতে থাকলে, সৃষ্টি হবে স্মৃতি। দুষ্টু মিষ্টি রোম্যান্টিক স্মৃতি। এতো এতো এতো স্মৃতি। অস্থির হবেন ছুটে যেতে ‘তার’ কাছে, কাজের শেষে। এই যে ‘তার’ কাছে যাবার অস্থিরতা, আর প্রতিদিন তাকে দেখার ব্যাকুলতা, এই অনুভ‚তিই প্রেরণা দেয় আপনাকে কাজের। এই অনুভ‚তিই বাঁচায় আপনাকে। দেয় প্রচণ্ড শূন্যতায়, মধুর পরিপূর্ণতা। ভীষণ বিষণ্নতাকে পরাজিত করে, আনে, প্রবল প্রসন্নতা। এরকম তীব্র, এই ধরনের আর কোন অনুভূতি হয় না। প্রতিটি সুস্থ মানুষের জীবনে, এই অনুভূতি থাকে। থাকেই। মানছেন তো? সত্যকে অস্বীকার করতে পারেন কেউ। কিন্তু তার বিপরীতে মিথ্যে বলা যাবে হয়তো, কিন্তু প্রতিষ্ঠিত করা যাবেনা। প্রেম ছাড়া জীবন, পরিপূর্ণ হয় না। যত রকম অনুভব এবং অনুভূতি হয় মানুষের, প্রেমের অনুভূতি অন্যতম গুরত্বপূর্ণ তার মধ্যে।

‘প্রেম’এক অনুভূতির নাম। ‘প্রেম’এক ভয়ঙ্কর মধুর নেশার নাম। কতো কতো ধরনের নেশা থাকতে পারে মানুষের। থাকেও। জীবন জুড়ে স্থায়ী হয়ে যায়, অনে-ক নেশা। কিন্তু প্রেমের নেশার স্থায়ীত্ব সবচেয়ে কম। এটাই সৃষ্টি করে, দুর্ভাগ্য। ভাগ্য, দুর্ভাগ্য প্রিয় শব্দ নয় আমার। ব্যাবহার করলাম তবুও। এই দুর্ভাগ্যের জন্যে দায়ী নন, কোন প্রেমিক-প্রেমিকা। একেবারেই নন। তবুও দায়ী করেন তারা, একে অন্যকে। করেন, এ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানেন না বলে। নারী-পুরুষ নন কেবল, সমকামীরাও একে অন্যের প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করবেন, যদি খুব ভালো লেগে যায়, বিপরীত মানুষটিকে। কিন্তু এই আকর্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কেনো হবে না? সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে এর। সে ব্যাখ্যা লিখবো নিশ্চয়ই। তার আগে, বাস্তবতা থেকে নেয়া কিছু প্রমাণ দিতে পারি। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, বুঝতে, সমস্যা হবে না তাহলে।

গবেষণা শুরু করার আগে, অনেক আগে ‘প্রেম বিষয়টি নিয়ে ভাবনায়, খুব দ্বন্দ্ব কাজ করতো আমার ভেতরে। রহস্যময় মনে হতো এই ব্যাপারটি, অন্য অনেক বিষয়ের মতো। এরপর প্রফেশনাল কারণে, ছড়িয়ে পড়লাম, চারটি মহাদেশের বিভিন্ন দেশে। পরিচিত হতে থাকলাম, বিচিত্র ভাষা, বৈচিত্র্যময় সংষ্কৃতি আর মানসিকতার অজস্র মানুষের সাথে। ভাষা সংষ্কৃতি আর মানসিকতার অমিল থাকলেও, মিলও থাকে মানুষের সাথে মানুষের। অনুভূতির সাথে অনুভূতির এবং অনুভবের। পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তের। মিলে আর অমিলের মানুষগুলোর প্রেম অনুভূতিও, একইরকম প্রায়। পার্থক্য যেটা তা হলো মানসিকতার। প্রেম, কীভাবে গ্রহণ করছেন, কীরকম আচরণ করছেন তারা বিপরীত মানুষটির সাথে, তা নির্ভর করে অনেকটা, প্রতিটি স্বতন্ত্র ব্যক্তির চিন্তাচেতনা, স্বভাব এবং মানসিকতার ওপর। যে ব্যাপারটিতে রয়েছেন সবাই, একটি বৃত্তে, তা হচ্ছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়। সেটা তো জেনেছি, বুঝেছি পরে। মানে, গবেষণার পরে।

তার আগে বলতে চাচ্ছি, ‘মার্লিনার ’ সর্ম্পকে। আমার বন্ধু ছিলো সে। টিনএজড এই মেয়েটি। প্রশ্ন করেছিলাম একদিন ওকে, ‘‘আগে অলিভারের জন্যে অস্থির থাকতে তুমি, আর এখন ভালোবাসো স্টিভেনকে। কী করে সম্ভব?’’

‘‘ওটাই সত্যি ছিলো তখন, এখন এটাই সত্যি। দুটো, দুই সময়ের সত্যি। কোনটাই মিথ্যে নয়। অলিভারের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছিলাম, কিছু কারণও ছিলো তার।’’ জবাব দিয়েছিলো সে। মাত্র ১৪ বছরের এই মেয়েটি।

‘‘স্টিভেনের ওপর যদি কোন কারণে আগ্রহ হারিয়ে যায়, ওকেও কী ছেড়ে দেবে তখন?’’ দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিলো আমার।

‘‘অবশ্যই’’, সুষ্পষ্ট জবাব ছিলো মার্লিনার।

জেনে, বুঝে, যুক্তি, তর্ক করে নিজের সাথে, গ্রহণ এবং বর্জন করতে শেখা মানুষ আমি। কোন কারণেই, স্থির সিন্ধান্তে না আসা পর্যন্ত কোন কিছু গ্রহণ করি না। করি না বর্জনও। অগ্রহণযোগ্য তো নয়, মার্লিনার কথাগুলো। প্রেম আর ভালোবাসাতো, প্রধানত ভালো লাগার দায়ে আবদ্ধ। ভালো লাগার পরিমান কমে আসলে, অনন্ত অসীম হয়ে উঠতে পারে না, ভালোবাসা।

ইওরোপে আমার আর একটি অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছি এখন। ট্যাবুমুক্ত এই সমাজে, পাঁচ-ছয় বছরের একটি শিশু যদি তার মা বাবাকে বলে, ‘‘স্ট্যানলি বা স্যান্ডির সাথে প্রেম হয়েছে আমার। আমি তাকে ভালোবাসি।’’
মা বাবা তখন তার প্রেমিক বা প্রেমিকাটির সর্ম্পকে আগ্রহ দেখান। জানতে চান। কদিন পরে শিশুটি যদি বলে, ‘‘ওর ওপর আমার রাগ হচ্ছে, এখন আর ওকে ভালোবাসি না।’’ খুউব আদর করে মা-বাবা জানতে চান, ‘‘কী হয়েছিলো? কাকে ভালোবাসবে তুমি এখন?’’ সহানুভূতি প্রকাশ করেন সন্তানের প্রতি। কিছুদিন পরে শিশুটি যদি বলে, অন্য একজনকে ভালোবাসে সে। তখনও মা বাবা, দাদু, নানু, খালা, মামা, ফুপুরা সমান আগ্রহ দেখান। শিশু তাকে কোন গিফ্ট দিতে চাইলে, তা কিনে দেন। শিশুটির সাথে পরিচিত হয়ে আদর করেন তাকেও। এভাবে, প্রেম প্রেম খেলার ভেতরেই বিকাশ ঘটতে থাকে শিশুর প্রেম-উপলদ্ধির। অন্যান্য শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের মতো। অন্যতম জরুরি এক অনুভূতির, সুস্থ সঠিক বিকাশ হিসেবে।

শুরু হয় প্রেম এবং সেক্স বিষয়ে স্কুলের পড়া, ক্লাশ ফোর থেকে। শিশুর যৌন-অনুভূতি উন্মেষের শুরুতেই। স্কুলের নির্দিষ্ট শিক্ষকই নন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা বিশেষজ্ঞরাও, এ বিষয়ের পজেটিভ, নেগেটিভ দিক সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন। সব ধরনের মেডিকেল ‘টেস্ট ’ও করা হয়। প্রেম এবং সেক্স বিষয়ে তার সুস্থ পরিবৃদ্ধি হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত হবার জন্যে। যদি সমস্যা থাকে কোন শিশুর, চিকিৎসাও শুরু করা হয় তখনই। প্রসাশনের পক্ষ থেকে, নির্দিষ্ট ডাক্তারের অধীনে। নিয়মিত।

শিশুবয়স থেকে টিনএজ পর্যন্ত যে প্রেম, তাতে বিবেচনার চেয়ে আবেগ কাজ করে বেশি। সেজন্যেই, এই সময়ের প্রেমের স্থায়ীত্ব আরও কম। পৃথিবীর কোন কিছুই (মৃত্যু ছাড়া। জিন ম্যানুপুলেইট করে মৃত্যু ঠেকানোরও চেষ্টা হচ্ছে।) যদি আ্যাবসলিউট বা অবিনশ্বর না হয়, তো প্রেম অবিনশ্বর হবে কেনো? প্রেম, দুজন মানুষের হৃদয়কে, কিছু সময় একত্রে ধরে রাখতে পারে কেবল। প্রেম অনুভ‚তির তীব্রতা থেকে, তবুও একজন অন্যজনকে বলে, ‘‘তুমি আমার চিরদিনের, জন্ম-জন্মান্তরের’’ ধরনের বাক্য। বলে কেন? বলে, অজ্ঞানতা থেকে। ভয় থেকেও। ‘তাকে’ হারানোর ভয়। প্রেম সর্ম্পককে স্থায়ী করার, অলিখিত চুক্তি আর নিশ্চয়তা পাবার উপায় হিসেবে। যখন সে এসব কথা বলছে, বুঝতে পারছে না, যাকে এত ভালো লাগছে আজ, পরিবর্তনের অনিরুদ্ধ ধারায়, মনের চাহিদা বদলে গেলে, কাল তাকে আর ভালো লাগবে কিনা। এক মিনিট পরে কী ঘটবে, তা জানার উপায় যেখানে মানুষের নেই, সেখানে ‘তুমি আমার চিরদিনের’, এই নিশ্চয়তা দেবার অনেক বা অল্প পরে, সর্ম্পকের ভাঙন অনিবার্য হয়ে উঠলে, একজন অন্যজনকে কী বলে? মিথ্যেবাদী, ভণ্ড, প্রতারকসহ এরকম যত শব্দ রয়েছে, সবই কী ব্যবহার করে না? করে অবশ্যই। করে হয়তো, এর চেয়েও খারাপ অনেক শব্দ ব্যবহার। ভেতরের সব ঘৃণা বের করে দিতে, এসব শব্দ টনিকের মতোই কাজ করে তখন। বিক্ষত মনটাকে সুস্থ করে তুলতেও, একই রকম কাজ করে এই শব্দগুলো।

‘বিয়ে’ প্রথা মেনে করা, রেজিস্ট্রেশন অথবা ধর্মীয় দলিলটিও, কোনো শক্তিময় ভূমিকা রাখতে পারে না, এ ব্যাপারে। এই প্রথার নিয়ম এবং অনুমতি মেনে, একত্রে বাস করা জীবনও হয়ে ওঠে একঘেঁয়ে এবং বিরক্তিকর, একসময়। সুদীর্ঘ সময় ধরে যৌথ জীবন যাপন করা মানেই, প্রেমের মাধুর্যে স্নাত আকর্ষণীয় জীবন নয়। অনেক রকম দায়-দায়িত্বের জটিল শেকলে আবদ্ধ হয়ে, একত্রে থাকার ক্লান্তিকর অভ্যেস মাত্র।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে, অধিকাংশ নারী পুরুষের সবরকম পরনির্ভরশীলতাও, একই সংসারের বৃত্তে আবদ্ধ হয়ে থাকার অন্যতম কারণ। আর একটি প্রধান কারণ হচ্ছে, সমাজ। ওসব দেশের অধিকাংশ মানুষ, ভীত থাকেন সমাজের ভয়ে। কারণগুলো কী? সমাজ কী তাদের দায়িত্ব নিয়েছে, তাদের জীবনের এবং সবকিছুর? তারা কী নির্ভরশীল সমাজের ওপর, সব দিক থেকে? না। অবশ্যই নয়। তাহলে? সমাজ কী বলবে, কারণ এটাই। এই সমাজ কারা? হতে পারে, বাড়ির কাছের সেলুনের নাপিত অথবা মুদি দোকানদার। হতে পারে পাড়ার মাস্তান। হতে পারে যে কোন ক্রিমিনাল, মানে সব ধরনের দুর্বৃত্ত। হতে পারে এলাকায় বসবাস করা কোন অধ্যাপক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমলা মানে যে কোন পেশার কেউ। হতে পারে নিজেদের আত্মীয়রা। এমনকি বাড়ির কাজের লোকদেরও ভয় করেন তারা। যদিও, প্রায় কিছুই লুকানো যায় না, গৃহশ্রমিকদের কাছে। প্রতিদিনের যা কিছু বিরোধ, সহিংসতা, তা ঘটে গৃহশ্রমিকদের সামনেই। তবুও ভয়, যদি তারা বলে দেয় ‘সমাজ’কে। এই সমাজ, যারা তেমন কোন দায়িত্ব নেয় না অন্য কারো, সমীহও করে না, যখন অন্যায় কাজ করে নিজেরা, তবুও ভয় তাদেরকে। এই ভয় থেকেই তারা করেন আত্মপ্রতারণা। প্রতি মুর্হূতে আত্মপ্রতারণা করে, একে অন্যকে ঠকিয়েই হয়তো, টিকে থাকে তাদের বিবাহিত জীবন।

যে বিবাহিত জীবনে নেই কোন রকম শান্তি, মর্যাদা এবং সুখ, খুব আয়োজন করে উদযাপন করেন তারা, দুর্বহ দুঃসহ সেই বিয়ের, অসুস্থ বার্ষিকী। প্রতি বছর। সুখী না হলেও, সুখের অভিনয় করে, সমাজকে দেখানোর অদৃশ্য অলিখিত আইন তো আছে। আছে সমাজকে সন্তষ্ট করার অনির্বায দায়িত্ব। ভণ্ড সমাজ, ভণ্ডামী দেখে এবং দেখিয়েই সন্তষ্ট থাকে। সমাজের এরকম অলিখিত অদৃশ্য আইনগুলোর শক্তি এবং আধিপত্য অ-নে-ক বেশি, অন্য যে কোন লিখিত জরুরি আইনের চেয়ে। শ্রেণিহীন মানুষ হয়েও, একটি শ্রেণির কথাই লিখছি আমি এখানে, যারা উচ্চ এবং মধ্যবিত্ত। এরা প্রায় সবাই মেনে চলেন, সমাজকে পরিতৃপ্ত করার অদৃশ্য কপট আইন। ভণ্ড-কুপমণ্ডুক সমাজবাসীরা নিয়ন্ত্রিত হন এসব মনগড়া আইন দিয়ে, নিজেদের ভণ্ডামোর প্রয়োজনে। আত্মহনন হয়ে যায়, এদের প্রতি মুর্হূতের অভ্যেস। হয়ে যায় যে, তাও বুঝতে পারেন না তারা। বুঝতে পারেন না, স্বভাব অন্তর্গত হয়ে যাবার কারণে। বুঝতে পারেন না, ভণ্ডামো অসততা আর কপটতা, কতো কতো কতো ধরনের হয়, হতে পারে। সুখী বিবাহিত জীবনের অভিনয়ে পারর্দশী এরা। যে অভিনয় করে টিকে থাকেন তারা, তা ক্লাসিক্যাল কোনো অভিনয় নয়। খুবই নিম্নমানের সস্তা অভিনয়। যে অভিনয় দেখিয়ে, ভণ্ডরাও সন্তষ্ট করতে পারে না আসলে, সমাজের অন্য ভণ্ডদের।
[চলবে]