হামীম ফারুক > শূন্য গেলাশ >> ছোটগল্প

0
165
মনসুর বেরুবে। শার্ট গায়ে চড়িয়ে হাতা গুটোচ্ছে। তাহের সাহেব ডাকলেন, বাইরে যাস?
হ্যাঁ।
কোথায়?
এইতো।
শুধু এইতো বললে কিছু বোঝা যায়না। তাহের সাহেব কিছুক্ষণ পুত্রকে দেখেন। আর প্রশ্ন করলেন না। ভেতরে হাঁক দিলেন, কই, বাজারের ব্যাগটা দাও।
মনসুর একটু ইতস্ততঃ করে দরজা খুলে বেরিয়ে এল।
হেঁটে গুলিস্তান এসে একটা টেম্পোতে উঠে পড়ে সে। এক হাতে হ্যান্ডেল ধরে দু পায়ে কোন মতে জায়গা করে নিল গেটে। এক ফাঁকে হাত চলে যায় গালে। খোঁচা খোঁচা দাড়ি লাগছে হাতে।
সকালের টেম্পো, তাই বেশ ভিড়। বিপদজ্জনকভাবে বাইরে শরীরটা হেলে আছে মনসুরের। গেটের কাছে থাকায় পুরো পথ উঠতে নামতে হলো ওকে। সাইন্স ল্যাবরেটরীতে এসে একেবারেই নেমে পড়ল সে। ফুটপাতের কাছে দোকান। একটা বেনসন লাইট কিনল। দাম চাইল তের টাকা।
মনসুর অবাক হয়ে বলল, কেন?
দাম বাড়ছে।
কাল রাতেও আমি কিনেছি বারো টাকায়।
দোকানি বাঁকা হাসি হেসে বলল, সেইটাতো কাইল রাইতের কথা।
মনসুর বলল, একরাতের ভেতর দাম বেড়ে গেল?
দোকানি আরেকজনকে ভাংতি টাকা দিতে দিতে বলে, আরে ভাই সেইডা আমারে জিগান ক্যান। পাশের দোকানেও তো তের টাকায় বেচতাছে।
মনসুর ঠান্ডা গলায় বলল, আমি তোমাকে এই টাকাটা বেশি দেবনা।
তাহলে আমার সিগারেট ফেরত দ্যান। বলে দোকানি উঠে দাঁড়ায়।
তার ভঙ্গিতে এমন কিছু ছিল, মাথায় রক্ত চড়ে যায় মনসুরের। সে তার জামার কলার ধরে টেনে নিচে নামায়। মাটিতে পড়ে যায় লোকটি। আশপাশ থেকেও লোকজন এগিয়ে আসে।
প্রতিবাদের ধরনে লোকটি ততক্ষণে কুঁকড়ে গেছে। মনসুর হাতের সিগারেটটি তার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে নেমে আসে রাস্তায়।
হেঁটে আসতে আসতে মাথা ঠান্ডা হতে থাকে মনসুরের। দুদিন বৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগে সাপ্লাই কম দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
বলাকা বিল্ডিংয়ের সামনে এসে দাঁড়ায় মনসুর। পুরনো বইয়ের দোকানগুলোর পাশে একটি ছোট ঘড়ি মেরামতের দোকান। আলোর নিচে বসে কাজ করছেন বুড়ো কারিগর। শুকনো প্যাঁকাটির মতো শরীর। ঝুঁকে বসে কিছু একটা করছিলেন। চোখ তুলে মনসুরকে দেখেন, আইছেন।
মনসুর হাত থেকে ঘড়িটা খুলে এগিয়ে দেয় বুড়োকে।
হাতের স্ক্রু, কাঁটা রেখে ঘড়ির চাবি ঘুড়িয়ে কিছু পরখ করেন তিনি। বলেন, তাহলে বেইচাই দিবেন?
হ্যাঁ।
মনসুর টাকাগুলো নিতে নিতে ভাবছিল বছর দুই আগের কথা। সিকো কোর্য়াটজটা তাকে দিয়ে বড় আপা বলছিল, এই নেয় মনু, তোর ভাল রেজাল্টের গিফট।
২.
ধানমন্ডির তিন নম্বরে থাকে জিনিয়া। মনসুরকে রিক্সা থেকে নামতে দেখে উঠে দাঁড়ায় সিকিউরিটি। গেট খোলা। মনসুর আগেও বারকয়েক এসেছে এ বাসায়। দারোয়ানটা চেনে ওকে। মনসুর একটু হেসে ভেতরে ঢুকে যায়। ক্যানোপির নিচে জিনিয়ার বাবার গাড়ীটা নেই। শুধু ছাই-রঙা একটা হোন্ডা লীড। ভ্রূ কুঁচকে যায় মনসুরের। হোন্ডাটা আফসানের।
কাঠের রেলিং দেয়া সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসে মনসুর। ওদের আয়ার সাথে দেখা হয়। মনসুরকে দেখে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, আফা বসার ঘরে।
দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ায় মনসুর। ভেতরে সোফায় আফসান ও আরেকটি ছেলে বসে আছে। মনসুরকে দেখে হাত বাড়িয়ে হাহা করে উঠল আফসান, দোস্ত তুই?
মনসুর ভেতরে ঢুকে ঘরের মাঝখানে এসে দাঁড়ায়। নরম কার্পেটে পা ডুবে যায় ওর। বলল, হ্যাঁ এলাম। তোরা কখন এলি?
আমরাও এখন।
জিনিয়া ঘরে ঢোকে। ওর পরনে জিনস, গায়ে আকাশী ঢিলে জেন্ট শার্ট, গলার কাছে একটি বোতাম খোলা। মনসুরকে দেখতে পায় সে, আরে তুইও এসেছিস?
মনসুর হাসল।
আফসান পাশের ছেলেটিকে দেখিয়ে বলে, এর সাথে বোধ হয় পরিচয় হয়নি। ও শাহাদাত খান। দুর্দান্ত কবিতা লেখে।
জিনিয়া চোখ তুলে বলে, পোয়েট? আই লাইক দেম। আপনার কোনো বই বেরিয়েছে?
শাহাদাত লাজুক ভঙ্গিতে বলল, নাহ্। এখনো বই বের করি নি। শাহাদতের মাথায় ঝাঁকড়া চুল। চোখে পুরু লেন্সের চশমা। ক্লিন শেভড। মনসুর দেখছিল।
এ সময় জিনিয়ার মা ঢোকেন। পেছনে খাবারের ট্রে হাতে আয়া। জিনিয়ার মা মোটাসোটা সুখী বয়স্ক ভদ্রমহিলা। বললেন, বসো বসো, ভালো আছোত সবাই। জানোতো আমার আবার থাইরয়েডের সমস্যা। তোমাদের খালু বলছিলেন, একবারেই সিঙ্গাপুরে গিয়ে ট্রিটমেন্টটা করে আসতে। তা তোমরা ভালো আছোত? অনেকদিন আসোটাসোনা। জিনি তোমাদের কথা প্রায় বলে। ওতো সামনের অক্টোবরে লন্ডন চলে যাবে। বলেনি তোমাদের? সিলি। ওর আব্বার ইচ্ছে, লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে এমএসটা করে আসুক। আমি বলি কি, এসব ঝামেলার দরকার কি। হাতে ভাল ছেলে আছে। পড়াশুনোতো হলো। বিয়েটা সেরে ফেলুক মেয়ে।
জিনিয়া হাসতে হাসতে বলে, ইশ্ তোমার রানিং কমেনট্রিটা একটু থামাও না মা। বেচারাদের অবস্থা দেখেছ?
মনসুররা এতক্ষণ হাঁ হাঁ জী জী করছিল। এবার ওরাও হেসে ফেলল। ভদ্রমহিলা কথা বেশি বলেন ঠিকই, ওদের স্নেহও করেন খুব।
তিনি খাবারের ট্রেটা ওদের এগিয়ে দিতে দিতে বললেন, তোমরা কিছু নিচ্ছনা যে। নাও নাও। এই ছেলেকে তো চিনলাম না।
আফসান শাহাদাতকে দেখিয়ে বলল ও আমার বন্ধু। এই প্রথম এসেছে।
আচ্ছা আচ্ছা। তোমাদের সাথেই পাস করেছে?
জী না। ও ইংরেজি বিভাগের। বলল আফসান।
ও, তা তুমি এখন কোথায় আছো বাবা?
শাহাদাত কান চুলকে বলল, জী আমি একটা পত্রিকায় জয়েন করেছি। সাব-এডিটর।
তা বেশ বেশ। তো মনসুর এমন মুখ হাড়ি করে আছো কেন? কিছু হয়েছে নাকি?
মনসুর হেসে বলল, না তো খালাম্মা।
আচ্ছা, তোমরা গল্প করো। আমি একটু বাগানটা দেখে আসি। যা ফাঁকিবাজ হয়েছে লোকজন।
চলে গেলেন তিনি।
জিনিয়া হাঁফ ছেড়ে বলল, বাপরে।
ঘরের কোণে সাউন্ড সিস্টেম। জিনিয়া উঠে গিয়ে চালু করে দিল। চড়া সুরে বেজে উঠল, ওয়েক মি আপ বিফোর য়ূ গো।
মনসুর গায়কটিকে ঠিক ধরতে পারে না। বলল, কে গাইছে?
জিনিয়া ঠোট গোল করে বলে, ও তোদের পছন্দ হবে না। একটু পুরনো। জর্জ মাইকেল। মাই ফেভারিট।
আফসান চোখ বন্ধ করে শুনতে শুনতে বলল, ফ্যান্টাসটিক তো।
শাহাদাত খান বসে টেবিলে রাখা একটা টাইমের পাতা উল্টোতে থাকে। চোখ তুলে আফসানের দিকে তাকিয়ে হাসে।
মনসুর উঠে দাঁড়ায়। তার হঠাৎ কেমন ফাঁকা লাগে।
জিনিয়া তাকিয়ে বলে, আরে উঠছিস কেন?
মনসুর প্যান্টের সাইড পকেটে হাত ঢুকিয়ে বলল, নারে কাজ আছে। তুই একটু শুনবি?
জিনিয়া অবাক হয়। সেই সাথে আফসানরাও। মনসুর বারান্দায় এসে পকেট থেকে টাকাগুলো বের করে। বেশ কিছু নোট তার দিকে বাড়িয়ে ধরে বলে, ইয়ে… তোর টাকাটা। ফেরত দিতে একটু দেরি হয়ে গেল।
জিনিয়া বিস্মিত হয়ে বলে, আমি চেয়েছিলাম?
না, তবুও…।
জিনিয়া অনিচ্ছুক ভঙ্গিতে টাকাগুলো নেয়।
মনসুর সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছিল। পেছন থেকে জিনিয়া ডেকে ওঠে, মনসুর?
মনসুর ফিরে তাকায়।
তোর ঘড়িটা কোথায়?
মনসুর অপ্রস্তুত হতে গিয়ে হেসে ফেলে, ওটা নেই।
জিনিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে মনসুরের দিকে তাকিয়ে থাকে। ঘড়িটা মনসুরের খুব প্রিয় ঘড়ি ছিল, জানে সে। তার মুখ থমথমে হয়ে ওঠে। কিছুটা রাগী গলায় বলে ওঠে, তুই একটা রামছাগল। বলে ঘরে ঢুকে যায় জিনিয়া।
ঘরের ভেতর তখন আরো চড়া সুরে বাজছে- ওয়েক মী আপ বিফোর য়ূ গো।
৩.
জিনিয়াদের বাসা থেকে বেরিয়ে হাঁটতে থাকে মনসুর। বৃষ্টি হয়েছিল। এখন রোদ উঠেছে। চারদিক ঝকঝকে দেখাচ্ছে। হেঁটে ঝিগাতলায় এল সে। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে ঠিকানাটা দেখে নেয় একবার। বারকয়েক এদিক ওদিক করতেই ড. রাজিয়া আহমেদ লেখা নেমপ্লেটটি পেয়ে যায় সে।
লাল সিরামিকের বাড়ি। মূল গেটটি বন্ধ। একধারে ছোট এন্ট্রান্স, খোলা। ছাগল দাড়ি, মাথায় কিস্তি টুপি দেয়া একজন লোক বেরিয়ে এল। মনসুরকে একটা লম্বা ছালাম দিয়ে নিজেই জিজ্ঞেস করে, ইন্টারভিউ দিতে আইছেন নি?
মনসুর মাথা নাড়ে।
লোকটা টুপি খুলে ভেতরে ফু দিয়ে আবার পরে নিল। বলল, যান গেট দিয়া সোজা ঢুকি যান। বেগম সাব ড্রয়িং রুমে বসি আছে। বহু ক্যানডিডেট।
মনসুরকে দেখে ডা. রাজিয়া আহমেদ চোখ থেকে চশমা নামালেন। আপনিও কি অ্যাপলিকেন্ট?
জী?
বসুন।
মনসুর বসতে বসতে খেয়াল করে, পোশাকে-আশাকে তাকে ভদ্রস্থ দেখাচ্ছে না। শার্টটি ময়লা। দাড়িও কাটা হয়নি। ডা. রাজিয়া আহমেদ একটু ক্লান্ত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করেন, আপনার নাম?
মনসুর ইকবাল। মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। পল-সাইন্স। একবারেই বলে ফেলে মনসুর।
রাজিয়া আহমেদ হাসলেন মনসুরের বলার ভঙ্গি দেখে। বললেন, আপনার সাবজেক্ট পলিটিক্যাল সাইন্স। কিন্তু আপনাকে তো ম্যাথ করাতে হবে।
মনসুর বলল, আমি ম্যাথ করাতে পারব। সাবসিডিয়ারিতে অংক ছিল আমার।
এ সময় তার পাশে ফোন বেজে ওঠে। রাজিয়া আহমেদ ফোন ধরেন। কিছুক্ষণ হাঁহুঁ করে তারপর ফোন রেখে দিয়ে বলেন, ঠিক আছে, আপনাকে পরে জানাবো। অনেক ধন্যবাদ।
মনসুর ঘাড় গুঁজে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। বোধ হয় এটাও হল না, ভাবে সে।
শাহবাগ এভিনিউতে এসে সিনোরিটা রেস্তোঁরায় ঢোকে মনসুর। পেটের ভেতর ডাবল মার্চ শুরু হয়েছে। রেস্তোঁরার ওপরে ছোট্টমত একটা প্যাসেজ। কাঠের সিড়ি বেয়ে উঠে, এক কোণে বসে পড়ল সে। বেশ গরমও পড়েছে। কিছু খাওয়া দরকার।
পাশের টেবিলে দুই তরুণ টেবিল চাপড়ে আলাপ করছে। একজন বলছে, ফ্রয়েডের সবকিছুই ফ্যান্টাসি। অপরজন হাত নেড়ে জানায়, নাহ্, মানতে পারলাম না, তার হাইপোথেসিসের জোরালো ব্যাখ্যা আছে। মনসুর ঘাড় তুলে দেখে ওদের। একজনের চোখে গোল্ডরিমের চশমা। অপরজনের হালকা দাঁড়ি গোফ। মনে মনে হাসে সে। আঁতেল।
খাবার এসে যায়। ভেজিটেবল রোলসে কামড় দেবে মনসুর, দেখতে পায় সমরকে। হাত তুলে সমরকে ডাকে। সমরের উশকোখুশকো চুল, কাঁধের রঙতুলির ব্যাগ। সেটি একপাশে রেখে সে বসে চেয়ারে। তারপর বলল, কিরে খাচ্ছিস?
হ্যাঁ, তোর জন্য বলি?
বল্।
মনসুর অর্ডার দেয়। পাশের টেবিলের গোল্ডরিম ও হালকা দাড়ির আলোচনা ফ্রয়েড থেকে সার্ত্রে এসেছে। সার্ত্র যে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে উচিত কাজ করেছিল, এ বিষয়ে দুজনেই একমত হতে যাচ্ছে।
মনসুর রোলসে কামড় দিয়ে বলল, কোথেকে এলি?
সমর খেতে খেতে বলল, এই নিউমার্কেট থেকে। দোকানে কিছু ছবি বিক্রি করে এলাম।
মনসুর হেসে বলে, তাহলে তো ভালই হল।
সমর ভ্রূ তুলে বলল, কি ভাল হল?
মনসুর সমরকে লক্ষ করে। ওর উজ্জ্বল মুখটি অনেক ম্লান হয়ে গেছে। জিজ্ঞেস করে, তোর চাকরিবাকরি কিছু হল সমর?
সমর মাথা নিচু করে খাওয়া সারে। পকেটে থেকে রুমাল বের করে মুখ মোছে। তারপর তাকায় মনসুরের দিকে। বলল, নাহ্ ঢাকায় তো কিছু হল না। দিনাজপুরের একটি কলেজে চারুকলার শিক্ষক নেবে। হয়তো সেখানেই চলে যাব।
যেভাবে এসেছিল সেভাবেই ঝড়ের গতিতে নিচে নেমে যায় সমর।
মনসুর ওর চলে যাওয়া দেখে। পাশের দুই তরুণ এবার বাম-রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গরম বিতর্কে নেমে গেছে।
৪.
রাতে শোবার আগে পারিবারিক বৈঠকে মনসুর জানায়, আব্বা, আমি ঠিক করেছি ব্যবসা করব। চাকরিবাকরি আমার পোষাবে না।
তাহের সাহেব বিস্মিত হন, কিসের ব্যবসা করবি তুই?
ধরো যদি হাঁস মুরগীর খামার থেকে শুরু করি, তাহলে কেমন হয়?
বেশ, কিন্তু হাঁস মুরগীর খামার করতেও টাকা লাগে। সেটা তোকে দেবে কে?
ধরো যদি কোন ব্যাংকের কাছে লোন চাই।
তাহের সাহেব হাসেন। বললেন, হ্যাঁ, এখন নানারকমের লোন পাওয়া যায়। কিন্তু তুইতো ব্যবসার কিছুই বুঝস না।
কিছুক্ষণ কথা সরেনা মনসুরের মুখে। সে ব্যাপারটি ভেবে দেখেনি। ইউনিভার্সিটিতে সে যোগ দেবে এমনটাই কথা ছিল। কিন্তু কিছুই হলো না। ভাল রেজাল্ট করেও এখনো কিছু হয়নি তার। সরকারি চাকরিতে ঢুকবে না এমনটাই ভেবে রেখেছিল। এখনতো বয়সও পেরিয়ে গেছে।
মকসুদা বেগম বাপ-ব্যাটার কথা শুনছিলেন। স্বামীকে সুপুরি ভেঙে দিতে দিতে মনসুরের দিকে তাকিয়ে বলেন, আমি কই কি মনু, তুই মালয়েশিয়া নয়তো দুবাই যাওনের চেষ্টা কর। এতজনে গেছে আর তুই যাইতে পারবি না?
তাহের সাহেব স্ত্রীকে বাধা দিয়ে বলল, তোমার কী মাথা খারাপ হইছে?
থামো তুমি। তোমার মাথায়ও এখন কিছু নাই। ক্ষেপে ওঠে মাকসুদা বেগম, নিজের দেশে কাম নাই তো পোলাগুলো যাইবো কই? স্বামী-স্ত্রীতে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
কদিন ধরে এই ঘরের বাল্ব ফিউজ। তাই ঘর অন্ধকার। মনসুর বিছানার কাছে এল। পাশে ঘাড় কাঁৎ করে শুয়ে আছে ছোট ভাই। বোধ হয় ঘুমোচ্ছে। তার পানির তেষ্টা পায়। হাতড়ে হাতড়ে টেবিলের কাছে যায়। তারপর অন্ধকারে ফাঁকা, জলশূন্য গেলাশের দিকে হাত বাড়ায়।