হেনরী স্বপন >> কবিতাভাবনা ও কবিতা চতুষ্টয়

0
265
Labonno Prova

হেনরী স্বপন >> কবিতা চতুষ্টয়

জন্ম : ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫।
পেশা : বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত।
প্রকাশিত গ্রন্থ : কীর্তনখোলা, মাটির বুকেও রৌদ্র জ্বলে; দুটোই মিনি পুস্তিকা; বাল্যকাল ও মোমের শরীরে আগুন; জংধরা ঝুলি; কাস্তে শানানো মোজার্ট।
সম্পাদনা : জীবনানন্দ (কবিতাপত্র, অধুনালুপ্ত)।

কবিতা ভাবনা

যে ভাবনায় আমার শরীর থেকে সুলিপির অজস্র ভার কমতে থাকে
কবিতা নিয়ে কথা বলার অনেক বিপদ। কবিতাভাবনা তো আরও সংকটের। কী হলে কবিতা হবে? কী, না থাকলে কবিতা হবে না, কোনও কবি তা বলতে পারে না। কারণ কবিতা বহুরূপী এবং প্রকৃত শিল্পের কোনো সর্বজনীন সংজ্ঞা হয় না। … এরপরও রয়েছে, কবিতা আবিষ্কারের হৃদয়াবেগ। সচেতন মনের আকুতি, যে ভাষায় প্রকাশ পেতে থাকে, উৎসারিত সেই ধ‍্যানের মধ্যেই আমার কবিতা সৃষ্টির দ‍্যুতি মুর্ত/বিমুর্ত হতে হতে অমূর্তে পৌঁছে দেবার সেই ভাষা হয়ে ওঠে। আমি হয়তো এই ভাষাকে সাজিয়ে এই উৎকৃষ্ট সামঞ্জস্যে কবিতা বানাই। যত্রতত্র কবিতাই লিখি নিজের তাগিদে। যদিও জানি, যা লিখতে চাইছি, সে লেখাতো আজ পর্যন্ত লিখে উঠতে পারিনি। সেই কবিতাটি লেখাও সম্ভব নয়। হয়তো নিজের ভেতর নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া যায়। ফলে প্রতিনিয়ত আমার শরীর থেকে সুলিপির অজস্র ভার কমতে থাকে। যে কবিতার খোঁজে আমাকেও নিয়ত অতলের দিকে যাত্রা করতে হয় অবিরত…

 

কবিতা চতুষ্টয়

তামাক চাষ করে লোকে
যে প্রতিমা : শিরিষ দেখেও
মনে হয়েছিল-
শালের জঙ্গলে বাঘ থাকা ভালো।
সমস্ত বধির মানুষের কানে ভয়ঙ্কর গর্জনের ধাক্কায় খুলবে
অভিমানে ভেজানো কপাট
জানালায় আলো এসে ছায়া পড়বে শিকারি
মানুষের বর্শা হাতে!
খুলির ফসিলে জমে থাকা বরফ প্রোথিত যুগ যুগ নগ্ন আদিগন্ত মাঠে
মরুভূমি চষে…
উঁচু উঁচু পাহাড় দাঁড়ানো সম্ভোগে তামাক চাষ করে
– লোকে
ওরে না-কী? পক্ষীর পালকে
দেশ ভাগ করে নেয়া
ধানের বিকেল এখন উঠোনে হচ্ছে মাড়াই
দুধেল জোছনায় ধোঁয়া-রাতের ড্রাইভিং
পরি হয়ে ওড়ে…
পল্লবী তো পাতার শুকনো শীৎকারে সংক্রান্তির মা এসে লাগে-
দেয়ালের পুরনো গাঁথুনি
ক্ষয়ে ক্ষয়ে উঠে গেলে
মনে হয়-
অবয়ব জুড়ে একটি ছায়াবাড়ি হয়ে আছো দেহের অভয় ঘেরা-
ছায়া ভৌতিকের
মায়ায় জড়ানো
এখানে কেটেছে- বসন্তের দিন
এখানে রয়েছে ভাঙনের ইতিহাস
দেশ ভাগ করে-
তারপরে…
এই দেশ- ভাগ করে নেয়া
ভালোবাসা-
বিস্বাদ পেতে
ছায়া যদি চুমু খেয়ে বিষাদ পেতো
ছড়াতো না;
বৃক্ষের সন্নিকটে; বিষন্নতায়
মাটির অভিকর্ষ বেদনা বুঝে শূন্যতায়
নগ্ন উচ্চতা খুলে দাঁড়াব
ঘিরে ধরবে উত্তাপহীন বিড়ালের নরম পশমে
বিমুর্ত পাথর জুড়ে
বুনোবাঘের হুঙ্কারে জ্যোৎস্নার আলো শুধু
কেঁপে উঠেছিল-
রাতঘুমের কোমল বিছানায় ক্লান্ত,
বেদনায়ও উজ্জ্বল জোয়ারে ভেসে গেছে
মায়াবিনি চোখের ইশারা বিচ্ছুরিত
জেগে ওঠা চরগল্প যে নদীর কিনারে জমেছে জেলিফিস- শীতের শরীর
কুঁচকানো রেখে।
আগুন জোয়ারে ভেসেছিলে
উনুনে আঁচ খুঁজছি?
যেখানে দাঁড়িয়ে মনে হবে অন্ধকারের পাশে
রাত্রির শরীর খুলে আছো-
অজন্তার গুহা গোপন ছায়া পড়ে
থাকবে- হাওয়ায়…
আগুনে তাকিয়ে ব্যর্থ ইশারার মানে খুঁজছি, যেদিকে
পরস্পরের চোখ ছিল বহুদিন অন্ধ আগুনের ডগায়
‘টেক-টাইল’ ছোঁয়ায় পরাজিত হয়ে থাকো-
খোলা পথের মত ছড়িয়ে বিচূর্ণ
নিয়ম হতে দেখলে; আড়চোখে-
দূরের ক্ষেতের বকগুলো জলের শব্দের সুর শুনে
নিমগ্ন ধ‍্যানের আসনে বুদ্ধের গায়ে
শ্যাওলার ঘ্রাণ মনে পড়ে
ধূর্ত শিকারি ছিলে, চাহনি কুহকের আলোয়-
বহুদিন মিশে,
আগুন জোয়ারে ভেসেছিলে…