শাপলা সপর্যিতা > সম্পর্কটি শুধুই জৈবিক >> ধারাবাহিক উপন্যাস [পর্ব ৪৬]

0
198

পর্ব ৪৬

সেদিন মনস্বিতার মুখদর্শন হয়নি। কিন্তু তার হেঁটে চলে যাবার ছায়াটি যেন গাঁথা হয়ে গেছে টুলটুলের বুকের দ্বিধান্বিত বিস্রস্ত জমিটাতে। বুকের গভীরে কর্ষিত জমিতে তখনো রোপন হয়নি কোনো চারাগাছ। লাঙল দেয়ার পর বিক্ষিপ্ত উত্তাল জমিনে যেমন নতুন করে চারা ফলানোর উপযুক্ততা তৈরি হবার জন্য কিছু সময়ক্ষেপন চলে, ঠিক সেরকম সময়টিতে মনস্বিতার দীর্ঘ-দীর্ঘ পায়ের ছায়া পড়ে গেছে। দিক ভুল করে দিয়ে চলে গেছে কী টুলটুলের আকাশে উড়ে চলার গতি! মাথার ভেতর কেন পা দুটি অমনি স্থির আচঞ্চল বসে রয়েছে টুলটুল ভেবে পায় না। নাকি ওগুলো দীপারই পা! মনস্বিতার গতিতে কি ছুটে চলেছে টুলটুলের মনের আকাশে দীপার পা দুটোই! মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে ওঠে টুলটুলের। নিজের মনের তল খুঁজতে লাগে নীরবে। কিন্তু রেহাই পায়না। মুক্তি নেই তার। মনের গহীনে স্ত্রস্তগতি ওই দু’টি পা ক্ষণে ক্ষণে পদ্মফুলের মতো যেন ফুটে ওঠে আঁধারের বুক চিরে চিরে।
মনস্বিতাটা যে কী একটা! ফারুক নিজের মনেই ভাবতে থাকে। অদ্ভুত এক চরিত্র মনস্বিতার। অতটা সহজ আর স্বচ্ছ্ব ওর চরিত্র। সব সহজে চেনা যায়। বোঝা যায়। যেন-বা দেখাও যায়। একটু গোলমেলে হলে খেলতো ভালো। সব পড়ে ফেললে তেমন করে জমেনা খুব একটা। ওকে ধোকা দেয়া যতটা সহজ ঠিক ততটাই সহজ শাসন করা। না হলে এই যে সেদিন কী আক্রোশটাই না ঝারলো ফারুক। কই কোনো রা নেই। ঝগড়া নেই। চিৎকার চেঁচামেচি নেই। বাড়ি থেকে বের হতে নিয়ে আবার ফিরেই এলো। ফারুকের জাতও রইলো। আবার পৌরুষেও পড়লো না কোনো কলঙ্কের দাগ। এই ভরসন্ধ্যায় কোথায় গেল মেয়েটা! দু’বার কল করেছিল ফারুক। বলল ফিরছি। ফিরবে তো অবশ্যই। কিন্তু গেছেটা কোথায় কে জানে! একা একা শূন্য ঘরটাতে ঘুরপাক খেতে খেতে ফারুক এইসব এলোমেলো ভাবনা ভাবতে থাকে। হঠাৎ তার মাথায় ভেসে ওঠে তমালকৃষ্ণ রাজ চক্রবর্তীর মুখটি। সাথে সাথে মাথার চুলগুলোতে সজোরে খামচি দিয়ে বসে দু’হাতের দশটি আঙুল।
-ওই কুত্তার বাচ্চাটার সাথে আবার বের হয়নি তো আজ!
আজকাল জিহ্বার লাগাম টানতে পারে না খুব একটা। নিজের পছন্দের বাইরে কিছু চলে গেলেই গালি গালাজ বের হতে শুরু করে মুখ দিয়ে। তাই তমালকৃষ্ণের নাম মনে হতে পায়ের রক্তটা লাফ দিয়ে মাথায় উঠে পড়ে ফারুকের। এই এক ঝামেলা। রক্তটা বড়ই পাতলা। কারণে অকারণে লাফ দেয়। যখন তখন যা তা অবস্থা ঘটে যায় তাতেই। এ কারণেই মনস্বিতার স্থিতধী চরিত্রের কাছে প্রায়ই কেমন ম্রিয়মান লাগে ফারুকের নিজেরই। মনস্বিতার কী সুন্দর ঠান্ডা মাথা। ঠান্ডা রক্ত। শত অত্যাচারেরও কী অদ্ভুত অচঞ্চল তার গতি! এসব ভাবতে ভাবতেই কলিং বেলটা বেজে ওঠে। কিন্তু মাথাটা এই মুহূর্তে ঠান্ডা রাখাটাও খুব জরুরি। গতরাতেই যা ঘটিয়েছে তারপর আরও কিছু ঘটে গেলে বলা যায়না দড়িটা ছিঁড়ে গেলেও যেতে পারে। আরও বার দুই বেল বাজলে দরজা খুলতে যায় ফারুক। মনস্বিতা সেদিনের পর থেকে ফারুকের চোখে চোখ রেখে তাকায়নি আর। ফারুক কী পুড়ে যাবে মনস্বিতা তার চোখের দিকে তাকালে? যে স্তব্ধতা ভেতরে উত্তাল, মনস্বিতার সকল অবশেষ, তা কি ফারুক জানে আদৌ! কেন মনস্বিতা তাকায় না তার দিকে! এসব ভাবতে ভাবতে দরজা খুলে দিয়ে সরে দাঁড়াতেই হন হন করে মনস্বিতা নিজের ঘরের দিকে আগায়। পেছন পেছন ফারুক এগিয়ে যায়। কিন্তু এমন ঠান্ডা স্থির মানুষটা কোথায় গেছে প্রশ্ন করতে কী আজ খানিকটা কেঁপে উঠছে ফারুক! নাকি এ তার কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ!
-ধ্যাৎ।
নিজেকে নিজেই ধিক্কার দেয় ফারুক।
-অনুতাপ হবে কেন? অনুতাপের কী আছে। ফারুকের বউ হয়ে সে পরপুরুষের সাথে বেলেল্লাপনা করে বেড়াবে আর তার শাস্তি দেবে না সে। কোথায় রইলো তবে তার স্বামীত্ব!
নিজেকে এমনি বুঝিয়েসুজিয়ে বেডরুমের দিকে উঁকি দিয়ে দেখে ততক্ষণে মনস্বিতা হাত মুখ ধুয়ে বের হয়ে এসেছে। আবার বেডরুম থেকে বের হয়ে রান্নাঘরের দিকে এগোয়। খেতে তো হবে! সুস্থ থাকারও তো দরকার। এমনিতেই মেয়েটির জন্য ধকল গেছে শরীরের ওপর দিয়ে অনেক। আট মাসের গর্ভস্থ সন্তানটিকে জন্ম দেবার পর যাবতীয় শারীরিক ক্ষরণ কিংবা যাতনাগুলো যত সহজে একজন মা মানিয়ে গুছিয়ে নিতে পারে, সে তো আর তার ভাগ্য নয়। মৃত সন্তানের মুখটি বুকে আগলে রেখেই নিজেকে নিজের দেখে যেতে হবে মনস্বিতার, এ তার জানা হয়ে গেছে। মনস্বিতা অসুস্থ হলে ফারুক তার যত্ন করবে এ প্রত্যাশায় বালি ছিটিয়ে ভাতের চালটা ধুয়ে চুলায় চড়ায় মনস্বিতা। নীচু হয়ে গ্যাসের চুলায় আগুন দিতে দিতে গড়িয়ে পড়ে তার হাঁটু অবধি লম্বা ঘনকালো চুলগুলো। ফারুকের ইচ্ছে করে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে মনস্বিতাকে। কিন্তু ও জানে না এই গুমোট অন্ধকারের জমাট বরফ থেকে তখন কি আগুন জ্বলে উঠবে কি না। নিজেকে নিজেই বলে :
-ক্যান বাপ। গিয়ে ওর পা দু’টি ধরে পড়ে থাক না। দোষ তো আর কম করিসনি। একটি শিক্ষিত মার্জিত রুচিশীল নারী যত্ই তোর বউ হোক, তার বুকের উপর উঠে বসে শ্বাসরোধ করে ধরতে তো তোর এতটুকু লজ্জা হলোনা। আর এখন পায়ে ধরতে খুব লজ্জা হচ্ছে? নিজের মুখ দেখ গিয়ে। আয়নার সামনে দাঁড়া।
তাই করবে নাকি? ঠিক হবে এমন করে মনস্বিতার পা জড়িয়ে ধরা? শত হোক নারী। তুচ্ছ! স্বামী ছাড়া যার আর কোনোই ভরসা নেই। তার পায়ে ধরবে ফারুক। হাহ্।
-হাহ্। না না। মনস্বিতা দোষ করেছে। আমি তার শাস্তি দিয়েছি।
-তুই কে রে শাস্তি দেবার। তুই কি স্ত্রীর যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছিস? এটা তোর দোষ নয়?
-তা কেন হবে? মনস্বিতা চাকরিবাকরি করা অর্থনৈতিকভাবে একটি স্বাধীন জীবন চায়।
-তার মানে কি এই যে তোর আর তোর সংসারের ভাত-চাল থেকে শুরু করে সন্তান জন্মানোর সব খরচই তাকে টানতে হবে। আর তুই পায়ের ওপর পা তুলে বছরের ১০ মাস ঘুরে বেড়াবি! তাছাড়া শাস্তির কথা যে বলছিস, তুইই কি নিশ্চিত তমালকৃষ্ণের সাথে মনস্বিতা অভিসারে গেছিল! কি প্রমাণ আছে তোর কাছে?
বার বার তমালকৃষ্ণের নামটা মনে ভেসে উঠতেই মাথাটা বিগড়ে চলে ফা্রুকের। তাই ওসব থেকে নিজেকে ফেরাতে আর মনস্বিতাকে তার দিকে মনোযোগী করতে শেষ অস্ত্রটাই প্রয়োগ কর সে।
-শুনেছ?
-হুম। বল।
ইচ্ছে করেই সে নামটা উচ্চারণ করে কোনো কারণ ছাড়াই।
-মনস্বিতা!
-শুনছি।
-আমার চাকরি হয়েছে।
মনস্বিতার চোখটা কি খানিকটা জ্বলে উঠলো আনন্দে! ফারুক দেখতে পায় না। এবার মনস্বিতা পেছন থেকে সামনে ঘুরে দাঁড়ায়। ঠিক ফারুকের চোখে চোখ রেখে উচ্চারণ করে :
-যাক। বাঁচা গেল। আমার চোখ দুটোও বাঁচল। তোমারও। এবার পুরোদমে মন দিয়ে কাজ শুরু করো।
ফারুক মনস্বিতার চোখে-মুখে আনন্দের কোনো লেশমাত্র খুঁজে পায় না। কিংবা গতরাতের ঘটনার জন্য রাগ কিংবা কোনো অপাংক্তেয় ঘটনার বিন্যাস নেই কোথাও। যেন সব খুব স্বাভাবিক। গতানুগতিক চলছে সকল। এতদিন পর ফারুকের চাকরি হওয়ার আলাদা কোনো রেশ নেই এ সংসারের চৌহদ্দিদে। ফারুক খুব চায় মনস্বিতা হেসে কুটিকুটি হোক আগের মতো, বলুক :
-সত্যি! সত্যি চাকরি হয়েছে। ব্যাস। আর কোনো চিন্তা নেই। এবার একটু গুছিয়ে চলবো বুঝলে! কত টাকা স্যালারি? বোনাস টোনাস দেবে তো? গাড়ি পাবে? ছুটি-ছাটা পেলে দূরে কোথাও বেড়াতে চলে যাব, ঠিক আছে? বলনা, ঠিক তো?
কিন্তু না। তেমন কথা আর মনস্বিতার মুখে সরে না। মনস্বিতার মনোযোগ আকর্ষণ করতে ফারুক আবার বলে :
-কাল থেকেই জয়েন করতে বলেছে।
-করো।
-স্যালারি ৬০ হাজার টাকা।
-বাহ্। হবেই তো। তোমার অভিজ্ঞতা নিয়ে তো কারো কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়া বয়সের তুলনায় তোমার অভিজ্ঞতাও বেশ।
-শোনো, ঠিক করেছি একটা ব্যাংক লোন নেব। চাকরির পাশাপাশি আরও কিছু ব্যবসা-বাণিজ্য করবো।
-স্যালারির এগেনেস্টে লোন?
-হুম।
-এটা মনে হয় ঠিক হবে না। লোন নিয়ে ব্যবসা করাটা আমার ঠিক সিদ্ধান্ত মনে হয় না।
-আরে তুমি জানো না, শত শত কোটি টাকা লোন নিয়ে মানুষ ব্যবসা করছে।
-সে যারা করছে, করুক। তুমি সংসারটার দায়িত্ব নাও। আমাকে একটু মুক্তি দাও। আমি আর আত্মীয় স্বজন লোকজনের সামনে মুখ দেখাতে পারছি না।
-কেন?
-বাহ্ম জোয়ান স্বামী। ঘরে বসে-বসে খায় আর স্ত্রী রাত-দিন পরিশ্রম করে সংসার চালায়, এটা কি তোমার জন্যই সম্মানের?
-পারোও তুমি মনস্বিতা। চাকরিও করতে চাও আবার লোকজন কি বলে তারও হিসেব করো।
-চাকরি করতে চাওয়া মানে এই নয় যে সোমত্ত স্বামী ঘরে বসে থাকবে আর অন্তঃসত্তা স্ত্রী তার নিজের খাবার বাড়িভাড়া চিকিৎসার সব ব্যয় নিজের জীবন বাজি রেখে বহন করবে। চাকরি করতে চাওয়া মানে এই নয় যে স্ত্রী হসপিটালের ফি শোধ করতে শেষ পয়সাটুকু কেচে নিয়ে বের করে দেবে।
ফারুকের গলার স্বর বদলাতে থাকে।
-এই মনস্বিতা, কি চাও তুমি বলতো?
-এখনো বোঝনা কি চাই?
-না। বুঝিনা। তুমি বল।
-তুমি প্রথম মাসের বেতন পাওয়া পর থেকে সংসারের যাবতীয় খরচের টাকা আমার করা লিস্ট অনুযায়ী আমার হাতে তুলে দেবে।
-ওহ্, তাই বলো। টাকাই তোমার মূল লক্ষ্য?
-হুম। যদি তোমার বিবেক তাই বলে তো তাই।
-বেশ, লিস্ট করে দিও।
এভাবে মাস দুই তিন। অফিসে নানা সমস্যা। অ্যাসিসটেন্ট মেয়েটি ড্রাগ অ্যাডিকটেড। যখন তখন ছুটি চায়। ফারুকের অনুমতি ছাড়া সে বাড়ি চলে যেতে পারে না। নেশার তাল উঠলে অফিসে বসে থাকতে পারে না। বার বার ছুটি চায়। মিটিংয়ে থাকলে বার বার ফোনে মেসেজ পাঠাতে থাকে।
-স্যার, খুব দরকার। বাড়ি যাব?
-না, তুমি বসো। আমি আসছি।
এই করে করে মেয়েটি অস্থির। ফারুককেও অস্থির করে তোলে। মনস্বিতা সব শোনে। তারপর বলে :
-তুমি কেন ওকে বসিয়ে রাখো।
-ওর কাউন্সিলিং দরকার।
-কাউন্সিলিং? তুমি করবে?
-হুম। বোঝানোর চেষ্টা আর কী।
-একটা পুরোপুরি নেশায় আসক্ত মেয়েকে পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোই ঠিকঠাক মতো ধরে রেখে ঠিক করতে পারেনা। পালিয়ে যায়। আরও কত কী করে। আর তুমি ওকে ছুটি না দিয়ে ধরে রেখে কাউন্সিলিং করে ঠিক করবে?
-আরে তুমি বুঝবে না।
-কি বুঝবো না? এখানে বোঝাবুঝির কিছু নেই। তুমি তোমার ইমিডিয়েট বসকে জানাও সব।
-এটা করলে মেয়েটির চাকরি যাবে।
-সেটা অথোরিটি বুঝুক।
-কি বল?
-আর ওকে বোঝাতে গিয়ে যদি তোমার চাকরি বিপন্ন হয়?
-হাহ্। তোমার না আর বাস্তব বুদ্ধি হলো না।
-বেশ।
দিনে দিনে মেয়েটির মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। বস হিসেবে ফারুকের বশ্যতা সে স্বীকার করতে বাধ্য নয়। ক্ষিপ্ত বিধ্বস্ত হয়ে উঠতে লাগলো ফারুকের চাকরি-জীবন। অফিস। সাথে সংসার। প্রতিমাসের মতো সেদিনও মনস্বিতার সংসার খরচের লিস্ট দেখালো ফারুককে। বাড়িভাড়া বিদ্যুৎ বিল পানি ও গ্যাসবিল দুধওয়ালা ময়লা ওয়ালা বাড়ির কাজের বুয়া সব মিলিয়ে খরচ বিশ হাজার পাঁচশত টাকা। কিন্তু ফারুক গুনে দেখলো মোট টাকার হিসেবটা হলো বিশ হাজার তিনশো টাকা। আগে-পিছে কিছু না ভেবেই বলে :
-তুমি তিনশো টাকা বাড়িয়ে লিখেছ কেন?
-কই নাতো?
-হ্যাঁ, যোগ করে দেখ।
মনস্বিতা যোগ করে দেখলো সত্যিই তাই। তেমন কিছু না ভেবেই বলে।
-হুম, তিনশো টাকা বেশি হয়েছে। যোগের ভুল।
-হুম। তা নয়। তুমি বোধহয় প্রতি মাসেই এভাবে বাড়িয়ে বাড়িয়ে টাকা নাও আমার কাছ থেকে।
-মানে? কি বলতে চাও তুমি?
-মানে স্পষ্ট। হিসেবের গড়মিল করে তুমি বাড়তি টাকা নাও।
-কি বললে?
-ঠিক বলেছি।
মনস্বিতার রাগ চরমে উঠে যায় সেদিন। সামলাতে কষ্ট হয়। পারে না। তাই বলে বসে :
-সংসারটা এতদিন কী করে চলেছে, অ্যাঁ? আমি তোমার কাছে কত টাকা পাই কখনো হিসেব করে দেখেছো? আমি যদি সব দাবি করে বসি?
-আরে ধুর। রাখো তো। কদিন সংসার চালিয়েছ, তাতেই অত ভাব দেখাচ্ছো? কত টাকা তুমি খরচ করেছ এযাবত? সব দিয়ে দেব।
-হুম। যে তিনশো টাকার হিসেবে ভুল ধরে, সে দিয়ে দেবে লক্ষ টাকা। এও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে! আর কে চেয়েছে তোমার কাছে টাকা?
-যাও যাও। কটা বছর সংসারের খরচ করে এমন ভাব হয়েছে তোমার।
বলতে বলতে বের হয়ে যায় ফারুক। কোথায় যায় কাউকে কিছু বলার প্রয়োজন বোধ করে না। বাড়ির কাজের মেয়ে এলে কাপড়গুলো ধুতে দেবার আগে প্যান্টের পকেটে জরুরি কিছু আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে দেয় মনস্বিতা বরাবর। আজও তেমনি ফারুকের প্যান্টটা নিয়ে পকেটে হাত দিল। ধাতব কিছু একটা আটকে গেল হাতে। ওটা চেপে ধরে টেনে বের করলো মনস্বিতা। হাতে উঠে এলো একটি গলায় পড়ার চেন। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারে না মনস্বিতা। নতুন নয় চেনটি। বেশ ব্যবহৃত। সোনার চেন। কম করে হলেও দু’ ভরির মতো হবে। বর্তমান বাজার-দরে প্রায় এক লক্ষ টাকা। নিজের মনেই প্রশ্ন জাগে :
-গলার চেন? কার?
অস্থিরতা আজ যেন চরমে অবস্থান করতে থাকে। ফারুক ফিরে আসবার অপেক্ষা করবার মতো স্থিরতা আজ নেই তার। ফোন করে। ফোন বন্ধ। আবার ফোন করে, ফোন বন্ধ। আবার আবার আবার…
-দ্য ফোন ইউ ডায়াল্ড ইজ সুইচড অফ…।
[চলবে]
পূর্ববর্তী পর্ব [৪৫] পড়ুন নিচের লিংকে ক্লিক করে

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-38/

পরবর্তী পর্ব ৪৭

http://www.teerandaz.com/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%9f-39/